ঘটনা ১ঃ কবি নজরুল তার মৃত্যু ক্ষুধা নাটকের সত্ত্ব বিক্রয় করে ছিল কয়েক কেজি চালের বিনিময়ে।
পরে তিনি বলেছিলেন আমি আজ চালের বিনিময়ে আমার সৃষ্টি বিক্রয় করছি কিন্তু এমন এক দিন আসবে যেদিন আমাকে বা আমার সাহিত্য নিয়ে আলোচনা করার জন্য হাজার টাকা খরচ করা হবে এবং ঐ অনুষ্ঠানে বক্তারা এসকল বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে যেয়ে টেবিল চাপরে ভেঙ্গে ফেলবে। উনি ভাগ্য গননা করে কিংবা চাপাবাজি করে এ কথা বলেন নি। স্রষ্টা মাত্রই তাঁর সৃষ্টি কর্মের মূল্য বুঝে যা কোন মাথা মোটা ব্যাক্তির দ্বারা বুঝা সম্ভব নয়। উনি উনার সৃষ্টিকর্মের মূল্য বুঝেই এমন মন্তব্য করেছিলেন।
ঘটনা ২ঃ জামাল নজরুল ইসলাম (জন্ম ফেব্রুয়ারি ২৪, ১৯৩৯ - মৃত্যু মার্চ ১৬, ২০১৩) বাংলাদেশের একজন বিশিষ্ট পদার্থবিজ্ঞানী, গণিতবিদ, জ্যোতির্বিজ্ঞানী, বিশ্বতত্ত্ববিদ ও অর্থনীতিবিদ। তিনি মহাবিশ্বের উদ্ভব ও পরিণতি বিষয়ে মৌলিক গবেষণার জন্য বিশেষভাবে খ্যাত। ড. ইসলাম মৃত্যুর আগ পর্যন্ত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রিসার্চ সেন্টার ফর ম্যাথমেটিকাল এন্ড ফিজিকাল সায়েন্সের এর গবেষক এবং চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এর একজন সিন্ডিকেট সদস্য ছিলেন। বিএসসি শেষে ১৯৫৭ সালে ইসলাম কেমব্রিজে পড়তে যান। কেমব্রিজের প্রায়োগিক গণিত ও তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞান থেকে আবারও স্নাতক ডিগ্রি (১৯৫৯) অর্জন করেন। তারপর এখান থেকেই মাস্টার্স (১৯৬০) ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৬৪ সালে এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই প্রায়োগিক গণিত ও তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞান বিষয়ে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৮২ সালে এসসিডি (ডক্টর অফ সায়েন্স) ডিগ্রি অর্জন করেন। ২০১৩ সালের ১৬ মার্চ তিনি মৃত্যুবরণ করেন (সুত্রঃ উইকিপিডিয়া)। দুর্ভাগ্যের বিষয় এই পণ্ডিত ব্যাক্তির নাম আমি তাঁর মৃত্যুর পরে জেনেছি!!
ঘটনা ৩: কবি রফিক আজাদের মৃত্যুর পরে তাঁর জন্য শোকে টাইমলাইন ভেঙে পড়েছে। কিন্তু এই কবি জীবিত থাকতে আমরা কত জন তাঁর খোঁজ নিয়েছি? তাঁর উনুনে হাড়ি চরেছে কিনা কজনা জানে?
বাংলাদেশ এমন এক দেশ, যে দেশে জীবিত গুনির রাজনৈতিক লবিং না থাকলে কেউ তাঁকে চিনবে না। কিন্তু মারা গেলে তাঁকে নিয়ে ব্যাবসা করতেও কেউ পিছপা হবে না।
সময় বদলায় কিন্তু বাঙ্গালী বদলায় না। সুযোগ সন্ধানী বাঙ্গালী সর্বদা হুজুগে মেতে থাকতেই ভালবাসে।
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই মার্চ, ২০১৬ দুপুর ২:৫৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


