somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

শেখ এম উদ্‌দীন
আমার ব্লগ আমার বাসার ড্রয়িং রুমের মত, আমি এখানে যেকোনো কিছু দিয়ে সাজাতে পারি আপনার পছন্দ না হলে বলতে পারেন আমার কোন আসবাবটির অবস্থান বা ডিজাইন আপনার পছন্দ হয় নি এবং কেন হয় নি। তবে তা অবশ্যই ভদ্র ভাষাতে। ভাষার ব্যবহার করতে জানা অনেক বড় একটি গুন

অল্প পুজি বেশি রুজি!

০৪ ঠা নভেম্বর, ২০১৭ সন্ধ্যা ৬:১০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আপনি কি স্বাধীন দেশে পরাধীন নাগরিক হয়ে বসবাস করতে করতে ত্যাক্ত বিরক্ত? আপনি কি অকাজ, কুকাজ কিংবা গুকাজের স্বীকৃতি চান? তাহলে আর দেরি না করে একটা কালো বা লাল বাদে অন্য যেকোনো কাপড়ের মাঝে “খালেদা জিয়া ভয় নাই রাজপথ ছাড়ি নাই” এই ধরনের লেখা লিখে কিছু ছবি তুলে সযত্নে রেখে দিন।এটা রাজপথে করতে হবে এমন কোন কথা নাই কারন রাজপথে করতে গেলে উনার ভয় না থাকলেও আপনার নিজের ভয় থাকতেই পারে। নিজে বাঁচলে কার নাম তা কি বলা লাগবে?

প্রশ্ন করতে পারেন এই ছবি দিয়ে কি হবে?

ছাত্র অবস্থাতে রাজনৈতিক প্রোগ্রামে পাতি এবং কো-পাতি নেতাদের দেখতাম সামনের সারিতে দাড়িয়ে ছবি তোলা নিয়ে টেংরি ভাঙ্গা ভাঙ্গি চলত! তখন এর মজেজা বুঝবার পারি নি। একবার বাংলাদেশের কোন এক দলের সর্বোচ্চ পর্যায়ের নেতাদের সাথে স্মৃতিসৌধে ফুল দিতে গেলাম। আমাদের কয়েকজনকে দায়িত্ব দেয়া হল ফুল দেয়ার মুহূর্তে ক্যামেরা ক্লিক করার সময় নেতার মুখের সামনে যেন কেউ না এসে পরে এবং ফুলের তোড়ার বারটা বাজিয়ে নিজের চাঁদবদন দেখানো লোকজনের করাল গ্রাস থেকে এই বর্ষীয়ান নেতাকে বাঁচানো। কারন সামনের সারির লোভে পরে কেউ হয়ত নেতাকেও মাটিতে ফেলে দিতে পারে, আর ঐ ভিরে একবার মাটিতে শুয়ে পরলে ঐ বয়সের ব্যক্তির কবরে শোয়া ছাড়া গতি নাই!

ওইদিন তওবা করছিলাম রাজনীতি আমার দ্বারা হবে না! কারন নেতাকে বাঁচাতে গিয়ে ওখানে অনেক সিনিয়র মানুষরে অকথ্য ভাসা ব্যাবহার করে প্রথম সারিতে আসা হতে বিরত থাকতে হয়েছিল।

সে যাই হোক কৌতূহল বশত এমন এক পরিশ্রমী নেতাকে জিজ্ঞেস করলাম ফুল দিতে এসে এভাবে সামনের সারিতে যাওয়ার জন্য এত ফালাফালি কেন? উত্তরে উনি বলেছিলেন “দল ক্ষমতাতে গেলে এই ছবির মোজেজা জানতে পারলে আপনিও আমার ঘাড়ে উঠে হলেও সামনের সারিতে দাড়াতে যেতেন। আরে মিয়া দলের এই দুর্দিনে আমি সামনে ছিলাম সুতরাং দলের সুদিনে দলও আমাকে ঠেলে শীর্ষ ধনী বা সম্মানী না করলে দল করে কি লাভ?” মজলুম জননেতা মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানির রাজনৈতিক আদর্শে উজ্জীবিত এক পরিবারের সন্তান হিসেবে রাজনিতিকে টাটা গুড বাই বলতে এই মন্তবের চেয়ে ভালো ঔষধ আর কি হতে পারে?

এখন প্রশ্ন করতে পারেন এই ঘটনার সাথে প্রারম্ভিক আলোচনার যোগসূত্র কোথায়?

কোথায় আবার, এই যে ছবি তুলে রাখলেন এরপরে বি এন পি ক্ষমতাতে এলেই ধরা কে সরা জ্ঞান করে চলবেন, টেণ্ডারবাজি করতে কেউ বাধা দিলেই তাকে ডাণ্ডা মেরে ঠাণ্ডা করে দিবেন, যে কারো নাকে মুখে ঘুষি বসিয়ে দিবেন হোক সেটা শিক্ষক সমতির মিটিং কিংবা সদরঘাটের কুলিদের শৃঙ্খলা আনয়নের মিটিং। এমন যা খুশী তা করতে কি আপনার মন চায় না? যদি চায় তাহলে আর দেরি না করে এখনি ব্যানার এর অর্ডার দেন।

ও ভুলেই গিয়েছিলাম ছবি কিন্তু এখন ভুলেও ফেসবুকে আপলোড দিবেন না কারন তাইলে .........
ছবি সযত্নে রেখে দিয়ে উপরে উল্লেখিত অকাজ, কুকাজ, গুকাজ করার পরে ফেসবুকে আপলোড দিয়ে বলবেন দলের দুর্দিনে আমি ছিলার আর আজ আমার এই সামান্য গুকাজের জন্য আমাকে এভাবে হেনেস্তা করা হচ্ছে। আর যান কোথায় দেখবেন অনলাইনে আপনার হাজার হাজার অনুসারিরা সেই ছবির মাধ্যমে আপনার অদূরদর্শী কুকাজকে নো-বেল কমিটির নিকট পর্যন্ত নেয়ার ব্যবস্থা করে দিবে আর আপনি সেই রিপোর্ট নিয়ে দলের হাইকমান্ডের নিকট থেকে গুকাজ কে সুকাজ এর স্বীকৃতি সম্বলিত আপনার নিজের বা অন্য কারো সনদ ফেসবুকে আপলোড দিয়ে বলবেন “মানির মাণ আল্লাহ্‌ রাখে”। ও আরেকটা পরামর্শ হজ্জের মৌসুম হলে হজ্বটা সেরে আসতে পারেন কারন এতে আলহাজ্ব এর সাথে সাথে নমিনেশন পাওয়াটাও সুদৃঢ় হবে কারন অলরেডি গুকাজে পারদর্শিতার জন্য আপনি সকলের চেয়ে একধাপ আগিয়ে।


বিদ্রঃ আপনি আওয়ামীলীগের পক্ষের হলে আপনার জন্য এক বালতি সমবেদনা। কারন দল ক্ষমতা থেকে নামা না পর্যন্ত এই সুবর্ণ সুযোগ আপনার হাত ছাড়াই রয়ে যাবে। ☹
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০১৭ সন্ধ্যা ৬:৪১
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সী পার্ল এবং চারপাশ

লিখেছেন রোকসানা লেইস, ০৮ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:১৪


খুব ভোরে ঘুম ভাঙ্গল। সূর্য তখনও জাগেনি। ব্যালকুনিতে গিয়ে বসলাম কিছুক্ষন। সামনে সাগর আপনমনে ঢেউ তুলে নাচছে। একজন মানুষও নাই সাগরপাড়ে। এমন নিরিবিলি সাগরপাড়ই চেয়েছিলাম। যেখানে পুরোটাই আমার থাকবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ড. ইরফান আল-হোসাইনীর রহস্যজনক মৃত্যু - জীবনের চেয়ে কোনো সম্পর্ক বড় নয়

লিখেছেন এমএলজি, ০৯ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:৪০

= ড. ইরফান আল-হোসাইনীর রহস্যজনক মৃত্যু - জীবনের চেয়ে কোনো সম্পর্ক বড় নয় =

বিশ্বখ্যাত আমেরিকান বহুজাতিক প্রযুক্তি কোম্পানি এনভিডিয়া (NVIDIA)-তে কর্মরত, বুয়েটের প্রাক্তন শিক্ষার্থী এবং অত্যন্ত সম্ভাবনাময় তরুণ বিজ্ঞানী ড.... ...বাকিটুকু পড়ুন

জলসার আসর

লিখেছেন নিচু তলাৱ উকিল, ০৯ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১২:১০

রঙ্গিন শহররের বুকে তাম্বু টাঙিয়ে বসিয়েছি জলসার আসর।
ধর্মীয় বয়ানের ফাঁকে;
গলির মাথায় বেজে উঠছে উলুধ্বনি।
এদিকে তুমি আর আমি ডুবে আছি কলকির ধোঁয়ায়।
নোনতা ঘামের ব্যবচ্ছেদে পুটিমাছের বুক চিরে মেখে দিয়েছি পাঁচ প্রহরের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছোট গল্পঃ শেষ জীবনে

লিখেছেন সামিয়া, ০৯ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:৩৯



ঘুমিয়ে থাকা একজন মানুষ কখনো কখনো জেগে থাকা একজন মানুষের চেয়ে অনেক বেশি ভালো থাকতে পারে? কথাটা শুনতে অদ্ভুত। কিন্তু বয়স হলে মানুষ অনেক অদ্ভুত কথাই বিশ্বাস করে চিন্তা... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাষ্ট্রপতি পদে আনভীর সোবহানকে দেখতে চাই।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৯ ই আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪২


সায়েম সোবহান আনভীর। এক বিশাল বিজনেস টাইকুন, বসুন্ধরা গ্রুপের যোগ্য কান্ডারী। আহা, কী তার ব্যক্তিত্ব! দেখতে যেমন সুন্দর, চরিত্রও যেন মাশাআল্লাহ্ ফুলের মতো পবিত্র। আর বসুন্ধরা গ্রুপের কথা তো... ...বাকিটুকু পড়ুন

×