somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমাদের একটাই রাজু ছিলো

০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০০৭ সকাল ৮:১৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

রাজশাহী থেকে কিছু একটা না করলেই নয়- এই ভাবনা তাড়িয়ে ফেরার কারণেই বের করেছিলাম দৈনিক উপচার। কিন্তু খুব বেশিদিন টেকা হলো না মালিকদের মারামারিতে। উপচার থেকে যখন ফিরেছি, যখন ঠিক করেছি, আর কোনো স্থানীয় কাগজে চাকরি নয়, তখন রাজুর সঙ্গে পরিচয়। স্পষ্ট মনে নেই, কার মাধ্যমে পরিচিত হয়েছিলাম। খুব সম্ভবত কামরুজ্জামান শাহীনের মাধ্যমে।
আমার সঙ্গে প্রথম পরিচয়েই রাজু জানালো, তার স্বপ্ন অনেক বড় সাংবাদিক হবার। কাজেই একটা কাজ চাই তার। প্রথম পরিচয়ে লম্বা একহারা গড়নের প্রায় কালো বর্ণের এই ছেলেটি আমার আশা জাগালো। সহযোগিতা করলাম সাধ্য মতো। উপচারে কাজ শুরু করলো।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকদের এপক্ষ-সেপক্ষের কাহিনীতে রাজুও একটি পক্ষ নিলো। শিবিরের দখল করার কারণে যে প্রেসক্লাবটি ছেড়ে অধিকাংশ সাংবাদিক বাইরে থাকেন রাজু সেই প্রেসক্লাবেই ঘর বাধলো। আমার সঙ্গে তার সুতোটা ছিঁড়ে গেলো কখন যে, টেরও পাইনি। বিয়ের পর রাজুর সঙ্গে হুট করে দেখা রাস্তায়। রিকশা থামিয়ে রাজু, সামনে দাঁড়ালো, শিবলী ভাই, বিয়ের খাবার খাওয়াবেন না? একটি পেস্ট্রি কেক খেয়ে পরম তৃপ্তির ভান করে বলেছিলো, যাক বিয়ের খাওয়াটা হলো। উজ্জল যখন আজকের কাগজ ছেড়ে দিয়ে আমার দেশে ঢুকলো, তখন রাজু এলো আজকের কাগজে কাজ করতে চায় বলে। আমি সাধ্যমতো করলাম। কিন্তু কী কারণে জানি, ও আজকের কাগজে শেষতক কাজ করলো না। আমার সন্তান রোদকে কোলে নিয়ে ওর মায়ের পরীক্ষার সময় গণযোগাযোগ বিভাগের বাইরে ঘুরে বেড়াচ্ছি। কোত্থেকে রাজু এসে হাজির। শিবলী ভাই, দেখি দেন চাচ্চুকে দেন। আমার ছেলে আবার কারো কোলে যায় না। রাজু হাত দিতেই চিৎকার। রাজু বলে গেলো, শিবলী ভাই, আপনি যেমন আপনার ছেলেও তেমন!
আমাদের এই একটাই রাজু ছিলো। হাজার দূরত্ব থাক, যোগাযোগের সুতোটা ছেঁড়া থাক, তারপরেও বছরে দু'চারবার অন্ততঃ দেখা হতো, কথা হতো। রাজু, আমাদের একটাই রাজু, আমাদের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক পরিবারের একটা অংশ ছিলো। বৃহস্পতিবার রাতে আমাদের সেই একটাই রাজু মারা গেছে অকালে। মাত্র 23 বছর বয়সে জন্ডিসে ভুগে তাকে কাটাতে হয়েছে সব মায়া। ভাষা বিভাগের মাস্টার্সের ছাত্র রাজুর মৃতু্যর খবর দুপুরে প্রথম দিলো উজ্জল। আমি খুব স্বাভাবিকভাবেই মৃতু্য সংবাদ গ্রহণ করি। এটাও করেছি। মাঝে মধ্যে মনে হয়, কেনো যে এমন হয়। তারপরেও ঠিকঠাক মতো চলি। আমি স্বাভাবিক ভাবে মৃতু্যর খবরটা গ্রহণ করলেও কেনো জানি আমার দুর্বল স্মৃতিগুলো বারবার রাজুকে হাতড়ে বের করতে চাইছে। আমাদের যে একটাই রাজু ছিলো!

রাজুর পুরো নাম- সাজেদুর রহমান, শেষ পর্যন্ত খবরপত্রে কাজ করতো।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

অদৃশ্য অসুখের দৃশ্যমান সংকট: দ্বৈত বাস্তবতার প্রভাব

লিখেছেন বাঙালী ঋষি, ২৬ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১২:০৭



আধুনিক সভ্যতা একটি মৌলিক বিশ্বাসের ওপর দাঁড়িয়ে আছে—যা পরিমাপযোগ্য, সেটাই বাস্তব। চিকিৎসাবিজ্ঞানের অভূতপূর্ব অগ্রগতি এই বিশ্বাসকে আরও শক্তিশালী করেছে। আমরা জানি কীভাবে শরীরের অসুখ নির্ণয় করতে হয়, কীভাবে তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

মেড ইন বাংলাদেশ ।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৬ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:২২


দেশপ্রেমের সংজ্ঞাটা আমাদের দেশে ঋতুভেদে বদলায়। তবে ২০২৪-এর জুলাই পরবর্তী সময়ে আমরা এক নতুন ধরনের সিজনাল দেশপ্রেম দেখলাম। একে বলা যেতে পারে "রিটার্ন টিকিট দেশপ্রেম"। যারা দেশে বিদেশে আরাম-আয়েশে... ...বাকিটুকু পড়ুন

মুখোশ খুলে গেছে ও আয়না ভাঙ্গা শুরু হয়েছে!

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২৬ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ৮:৫৬

মুখোশ খুলে গেছে ও আয়না ভাঙ্গা শুরু হয়েছে!

image upload problem

বাংলাদেশে একসময় খুব জনপ্রিয় একটা পরিচয়-“আমি সুশীল”, “আমি নিরপেক্ষ”, “আমি কোনো দলের না”। এই পরিচয় ছিল আরামদায়ক, নিরাপদ, সম্মানজনক। এর... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের কৃষি আধুনিকায়ন রোডম্যাপ: একটি পূর্ণাঙ্গ নীতিপত্র রূপরেখা : পর্ব -১ ও ২

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ২৬ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১০:১১


প্রস্তাবিত রূপরেখা: কৃষিকে জীবিকানির্ভর খাত থেকে প্রযুক্তিনির্ভর, জলবায়ু-সহনশীল
ও বৈশ্বিক বাজারমুখী বাণিজ্যিক শিল্পে রূপান্তরের জাতীয় কৌশল প্রস্তাবনা ।

বাংলার মাঠে প্রথম আলোয়
যে ছবি আসে ভেসে
কাঁধে লাঙল, ঘামে ভেজা মুখ
কৃষক দাঁড়ায় হেসে।

সবুজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনি ধার্মিক না মানুষ?

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৬ শে এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৩:০৮

ধার্মিক হওয়া কোনো কাজের কথা নয়।
ধার্মিক হওয়া সহজ। বিজ্ঞানী হওয়া সহজ কথা নয়। পিএইচডি করা সহজ কথা নয়। সেই তুলনায় কোরআন মূখস্ত করা সহজ। জন্মগত ভাবে আমি বাপ মায়ের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×