somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পৌনে এক সের

০৯ ই জুলাই, ২০১০ রাত ৯:১৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণঃ আপনি যদি আমাকে চেনেন এবং আমার স্কুলের শিক্ষক হয়ে থাকেন - দয়া করে এই পোষ্ট পড়বেন না, পড়লেও গালিগালাজ করবেন না - চুপিসারে মাইনাস দিয়ে চলে যাবেন।

আমি তখন স্কুলে পড়ি, পড়ি বলাটা ঠিক যুতসই হবে না, সঠিক হবে - আমি তখন স্কুলে যাই। স্কুলে গিয়ে পড়াশোনা করতে কার ভালো লাগে, দুই একজন এর হয়ত ভালো লাগতো কিন্তু আমার যে লাগতো না সেই ব্যাপারটা নিশ্চিত। স্কুলের গল্প করাতে তাই আমি কখনও পড়ালেখার জিনিসটা খুঁজে পাই না। যা হোক, প্রসঙ্গ দীর্ঘায়িত না করে মূল ঘটনায় চলে আসি।

ক্লাস সিক্সে পড়ার সময় আমাদের স্কুলে একজন নতুন শিক্ষক এলেন। আমাদের স্কুলের ট্রাডিশন ছিল, প্রায় সব শিক্ষকের একটা দুইটা করে নিক নেম থাকতো..। যেমনঃ এমব্রোস, জিদান, হারকিউলিস, বস, স্কয়ার, হাফ লেডি - এইসব। নিকনেমের এমন জোয়ার ছিল যে, এই পোষ্ট লিখার সময় ওই শিক্ষকের নামই মনে করতে পারছি না। তবে নিকনেম মনে আছে - হারকিউলিস। হারকিউলিস স্যার প্রথমদিন ক্লাসে এসে কেন জানি আমার উপর প্রচন্ড ক্ষেপে গেলেন। ক্লাসে অন্য ছেলেদের তুলনায় আমি মোটেও বেশি দুষ্ট ছিলাম না, কিন্তু আমার উপর তিনি কেন ক্ষেপলেন সেটা আজো আমার কাছে বোধগম্য নয়। এরপর থেকে আমাদের ক্লাসে আসলেই উনি সবসময় আমাকে নিয়ে ঘাটাঘাটি করতেন। আমার বিরাট সমস্যা হয়ে গেল - অন্য কেউ ক্লাসে পড়া শিখে না আসলেও কিছু হতো না, কিন্তু আমি না শিখে আসলে নিশ্চিত মাইর। আমি নরমালি হোম ওয়ার্ক ফাঁকি দেওয়ার চেষ্টা করতাম। হোমওয়ার্ক আমার কাছে মনে হতো জগদ্দল পাথ্থর। মাঝে মাঝে এইসব কারনে মাইর টাইর খেতাম কিন্তু বাসায় কেউ বলে দিবে সেটা মাথায় আসতো না। সুতরাং বাসায় নিশ্চিন্ত মনে থাকতাম। একদিন কি হলো - হারকিউলিস স্যার আমার আব্বাকে বলে দিলেন যে আমি বাসায় পড়ালেখা করি না। আমার বাবার ধারণা ছিল - আমি বাসায় প্রচুর পড়ালেখা করি। সন্ধ্যার পর (সন্ধ্যার এক ঘন্টা পর) বাসায় ফিরে আমি তো সুন্দরমত টেবিলেই বসে থাকি। বই খাতা আমার সামনে থাকে। হারকিউলিস স্যার আমার বাবাকে বলার পর উনি একদিন চুপিসারে আমার পেছনে গিয়ে দেখেন আমি স্কুলের বই এর ভেতর লুকিয়ে লুকিয়ে হুমায়ূন আহমেদ এর আমার ছেলেবেলা পড়তেছি। যদিও এই ঘটনার পর আমার বাবা আমাকে কিছু বলেন নাই কিন্তু আমার মা ক্ষেপে গিয়ে আমার পিঠে কয়েকটা বেত (কাঠের লাকড়ি) ভেঙ্গে ফেললেন। আমি কানতে কানতে ঠিক করলাম - হারকিউলিসরে শিক্ষা দিতে হবে।

তখন টিভিতে জাহিদ হাসান এর একটা নাটক চলতো - নাটকের নাম মনে নাই। সেই নাটকের মধ্যে জাহিদ হাসান নিজের কাছে নিজেই চিঠি পোষ্ট করতো। আমিও চিন্তা করলাম - হারকিউলিসরে জব্দ করতে হবে। আমি পোষ্ট অফিসে গিয়ে খুঁজে বের করলাম - আমার স্কুলের আশেপাশের এলাকায় চিঠি বিলি করে কোন পোষ্টম্যান। তার সাথে খাতির জমাইলাম। তারপর তারে একদিন সংগে নিয়ে গিয়ে হারকিউলিস স্যার কে চিনিয়ে দিয়ে আসলাম। একটা চিঠি যাইতে কতদিন লাগে সব খোঁজ খবর নিয়ে আমি আমার কাছে একটা চিঠি লিখলাম। চিঠির মধ্যে বিভিন্ন রকম উপদেশ। ভালো করে লেখাপড়া করবা, খেলাধুলা করবা, শরীরের প্রতি যত্ন নিবা এইসব। লিখে আমার ঠিকানায় (স্কুলের ঠিকানা) পোষ্ট করে দিলাম। আর পোষ্টম্যানকে বলে দিলাম কয়টার সময় গেলে হারকিউলিস স্যার আমার ক্লাস এ যাইতে থাকবে।

পোষ্টম্যান যথারীতি হারকিউলিস স্যারকে পেয়ে আমার চিঠিটা স্যার এর হাতে দিয়ে আসলো। স্কুলের ঠিকানায় যে কোন ছাত্রের চিঠি আসতে পারে সেটা স্যার এর মাথায়ই ছিল না। তাও আবার তার শত্রু ছাত্রের নামে। একটু পর উনি আমাদের ক্লাসে এসে হাজির। এসে আমাকে বলে - এই তোর নামে চিঠি এসেছে, নিয়ে যা। আমি চিঠি নিতে গেলাম। গিয়ে দেখি - আমার চিঠি খোলা। আমি বললাম - স্যার চিঠি খোলা কেন? স্যার কয় চিঠি খোলাই ছিল। আমি বললাম - খোলা থাকবে কেন, চিঠি কি খোলা থাকে? স্যার বলে - চিঠি খোলা থাকলে আমি কি করবো? আমি নাছোড়বান্দা - না স্যার চিঠি খোলা থাকার কথা না। এইদিকে ক্লাসের সব পোলাপাইন আমার কাহিনী দেইখ্যা ভ্যাবাচ্যাকা খাইয়া গেছে। স্যার বলে - তাহলে মনে হয় পোষ্টম্যান খুলছে। আমি দৌড় দিয়া সোজা হেড স্যার এর রুমে। আমার পিছন পিছন হারকিউলিস স্যার আইসা হাজির। আমি হেডস্যার এর রুমে গিয়া বললাম - স্যার আমার ব্যক্তিগত চিঠি খুইলা পড়ছে। স্যার বলে, সে পড়ে নাই, পোষ্টম্যান তাকে নাকি খোলা চিঠিই দিছে। আমি আবার বাইর হইতে গেছি - হেডস্যার বলে কই যাস? আমি বললাম - স্যার পোষ্টম্যানরে ডাইকা আনি। আমি দৌড়াইয়া গিয়া পোষ্টম্যানরে ডেকে আনলাম। পোষ্টম্যান আইসা বলে - চিঠি তো বন্ধ করা ছিল। আমিও হেড স্যার এর দিকে তাকাইয়া বললাম - স্যার এই চিঠি আমি এখনও পড়ি নাই। আপনি স্যার খুইলা দেখেন এর ভিতরে কি কি লেখা আছে। আমি বলি আপনি মিলান। এই চিঠি স্যার আমি লিখছি আর নিজ হাতে পোষ্ট করছি - চিঠি পোষ্ট করার সময় চিঠি বন্ধ ছিল - আমার বন্ধুরা দেখছে। আমার বন্ধুরা সবাই একযোগে বললো - হ্যা তারা দেখছে চিঠি বন্ধ ছিল।

এর মধ্যে আরো কয়েকজন শিক্ষক চিল্লাচিল্লি শুনে এসে গেছেন। তাদের মধ্যে একজন আমাকে মাইর দিয়ে দিলেন - বললেন - তোর সাহস তো কম না - নিজের কাছে নিজে চিঠি লিখস। আমি মাইর খাইয়া দৌড়াইয়া বাসায় আইসা গেলাম। হেডস্যার আমার বাসায় ফোন করে ঘটনা বলার কারনে সেইদিন বাসায় আরেকবার প্রচন্ড মাইর খাইতে হইছিল কিন্তু আর কোনদিন হারকিউলিস স্যার আমাকে ক্লাসে পড়া জিজ্ঞেস করেন নাই:P।
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই জুলাই, ২০১০ রাত ৯:৩৮
১১টি মন্তব্য ৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সেই মেয়েটিকে খোঁজ....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০১ লা নভেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৩৫



সেই মেয়েটিকে খোঁজ....

ফরাসি ভাষায় বহুল প্রচলিত একটি বাক্য- Cherchez la femme। অর্থাৎ, ‘সেই মেয়েটিকে খোঁজ’।

ফরাসি লেখক আলেকজান্ডার ডুমা (Alexandre Dumas) ১৮৫৪ সালে তাঁর উপন্যাস Les Mohicans de Paris-এ... ...বাকিটুকু পড়ুন

তাহসিফের মৃত্যু: খাতা আর টাওয়ার খুললেই যেসব প্রশ্নের উত্তর মেলে

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০১ লা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:২৩



তাহসিফের মৃত্যু: খাতা আর টাওয়ার খুললেই যেসব প্রশ্নের উত্তর মেলে-

বিমান বাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির মৃত্যু এখন রহস্যের আরেক নাম। ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় জুনিয়র বন্ধু... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইয়াংসান থেকে জুলাইয়ের নতুন বন্দোবস্ত

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০২ রা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১:৩৯



Youngsan সিউলের ভিতরে আমেরিকান একটি মিলিটারি বেইস। মিলিটারি বেইসের ভিতরে বার্গার কিং, KFC, Macdonald সব আছে। কোরিয়ান ভিতরে সামরিক ঘাঁটি হলে ও মিলিটারি বেইসের ভিতরে প্রধান কারেন্সি ইউএস ডলার।... ...বাকিটুকু পড়ুন

দারিদ্র্য কি মানুষকে মহান করে তোলে?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০২ রা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১:৪৬


হুমায়ূন আহমেদ। বাংলাদেশের শেষ জনপ্রিয় লেখক। তিনি ছিলেন একাধারে একজন গুণী লেখক ও নাট্যনির্মাতা। হুমায়ূন আহমেদ সমুদ্রবিলাস নামে একটি নাটক নির্মাণ করেছিলেন। সেখানে একজন শিক্ষক ছিলেন, নাম চ্যালেঞ্জার। তাঁর... ...বাকিটুকু পড়ুন

DNA — ঈশ্বর এবং প্রশ্ন ?

লিখেছেন দানবিক রাক্ষস, ০২ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:১২



১. ক্ষুধা
পৃথিবীর জনসংখ্যা বাড়ছিল, বাড়ছিল মানুষের খাদ্যচাহিদা; কিন্তু সীমিত জমিতে প্রচলিত পদ্ধতিতে সেই চাহিদা পূরণ করা কঠিন হয়ে উঠছিল।
মানুষ নির্বাচিত প্রজনন ও বিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণার মাধ্যমে এমন ব্রয়লার মুরগির জাত তৈরি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×