somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ভারতীয় সমর্থক সুধীর এবং আমাদের বিজয় উদযাপন।

২৩ শে জুন, ২০১৫ দুপুর ১২:৫৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমাদের দেশের কিছু মানুষের অনন্দ প্রকাশের ভঙ্গি মাঝে মাঝে খুবই ভয়ংকয় হয়। ২০১১ সালের বিশ্বকাপে বাংলাদেশ আয়ারল্যান্ডকে হারানোর পর এলাকার আনন্দ মিছিলে আমরা কয়েক বন্ধু সামিল হয়েছিলাম। সেই অভিজ্ঞতা ছিল ভয়াবহ। মিছিল যখন এলাকার সরু রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিল কিছু ছেলেপেলের আচরন দেখে হতবিহ্বল হয়ে গিয়েছিলাম। ছেলে গুলি সামনে যাই পাচ্ছে তাই পারলে গুরিয়ে ফেলতে চাচ্ছে। নির্মানাধীন বাড়ির সামনে টিনের বেড়াকে কয়েকটা ছেলে এমন ভাবে লাথি মারতে থাকলো যেন এই টিনের বেড়াটাই আয়ারল্যান্ড এবং এদেরকে গুড়িয়ে ফেলতে হবে। মাঠে সাকিব তামিমরা যাই করেছে এবার এই টিনগুলিকে ধংস না করলে আমাদের বিজয় পরিপূর্নতা পাবে না। প্রচন্ড বিধংসী শব্দে এলাকার মানুষ ভয়ে সবাই ফেল ফেল করে তাকিয়ে রইলো। মিছিলকে বাহবা জানাবে দুরের কথা সবাই তাদের বাড়ির দেয়াল আর গেইট নিয়ে চিন্তায় পরে গেল। ব্যাপারটা খুবই দৃষ্টিকটু লাগছিল আমাদের কাছে। নিজের এলাকা এবং সাথে আরো দুইজন বন্ধু ছিল বলে মিছিলের সামনের দিকে গিয়ে দারালাম। ছেলেগুলি যেন গেইটে লাথি না মারতে পারে সেদিকে খেয়াল রাখলাম। মিছিল মহল্লা ঘুরে গিয়ে পৌছলো মেইন রোডে এবার আমাদের লক্ষ্য মিরপুর স্টেডিয়ামের কাছে যাওয়া, সেখানে নিশ্চই এমন উশৃংখল ছেলেপেলে থাকবেনা আনন্দ উদযাপনটা সুন্দর ভাবে করতে পারব। বাসে করে মিরপুর ১ পর্যন্ত যেতে পেরেছিলাম তারপর হেটে স্টেডিয়ামে দিকে রওনা দিলাম। চারদিকে শুধু মানুষ আর মানুষ সবাই স্লোগান দিচ্ছে বাংলাদেশ বাংলাদেশ এবং হই হই রই রই আয়ারল্যান্ড গেল কই। স্টেডিয়ামের কাছে গিয়ে দেখি ভুভুজেলা প্রায় ৫০ ভাগ মানুষের হাতেই। চারদিকের সব রাস্তাই বন্ধ এবং লোকে লোকারন্য। কেউ আর স্টেডিয়ামের কাছে যেতে পারছেনা। অনেকেই গাড়িতে পতাকা নিয়ে মোটর সাইকেলে চরে পতাকা নিয়ে এসেছে মিছিল করতে করতে। মিরপুর এলাকায় প্রচুর বিহারীর বাস হওয়ার এধরনেরউদযাপনে সবাই মহরমে যেমন ঢোল দল বেধে ঢোল বাজায় ঠিক সেই ঢোল গুলিই দল বেধে সবাই বাজাচ্ছে। কিছুক্ষন এই দৃশ্য দেখে নিজেরা স্লোগানের সাথে নেচে গেয়ে এবার বাসায় ফিরায় মনোযোগ দিলাম।

কিছু দুর এগিয়ে দেখি বিব্রতকর পরিস্থিতি। কয়েকটা বড় বড় গ্রুপে ভুভুজেলা বাহিনী। যেসব মোটর সাইকেল এবং পাইভেট কারে মেয়েদের উপস্থিতি আছে সেখানেই হামলে পরছে এই ভুভুজেলা বাহিনী। চারপাশ দিয়ে ঘিরে রাস্তা আটকিয়ে মেয়েগুলির কানের সামনে চলছে দলবেধে ভুভুজেলা বাজানোর প্রতিযোগিতা। মেয়েগুলিকে এমন ভাবে অমানুষিক অত্যাচার করছিল যেন এরা আয়ারল্যান্ড থেকে এসেছে। লক্ষ্য করলাম মেয়েদের এমন ভাবে নির্যাতন করতে পেরে ছেলেগুলি বেশ হিরুইজমে ভুগছে। ওদের বিশাল গ্রুপের সামনে গিয়ে কিছু বলার আর সাহস হয়নি। এধরনের অসভ্য উদযাপন সহ্য করতে না পেরে দ্রুতই বাড়ি ফিরে আসি। তার পর থেকে অনন্দ মিছিলে আর যাওয়া হয়নি।

এবার আসি সুধীরের কথায়। সুধীরকে শারিরীক নির্যাতন করা হয়নি এটা অবশ্য ঠিক এবং এক্ষেত্রে ভারতীয় মিডিয়া একটু বেশিই বাড়িয়ে বলেছে। কিন্তু সুধীরকে যে মানষিক ভাবে নির্যাতন করা হয়েছে তা কেন আমরা এরিয়ে যাচ্ছি? সুধীরের সাথে কিধরনেরর আচরন করা হয় তাতো টিভিতে খেলা চলাকালীন সময়েই দেখা যায়। সুধীরের দিকে ক্যামেরা নিলেই চারপাশ থেকে আমাদের দেশী দর্শক সুধীরকে একদম ঢেকে ফেলে।


পুলিশ আপ্রান চেষ্টা করে সুধীরকে উত্যক্তকারীদের হাত থেকে রক্ষা করছে।


সিএনজিতে উঠার পরেও উত্যক্তকারীরা তাদের প্রতিভা দেখিয়ে যাচ্ছে।

ইন্ডিপেন্ডেন্ট টিভিতে সুধীর এবং সেসময় ডিউটিতে থাকা পুলিশের সাক্ষাতকার। এই লোক কিভাবে রিপোর্টার হল?


বাংলাদেশের টাইগার দর্শক সোয়েব, ভারতের সুধীর, পাকিস্তানের চাচা এবং শ্রিলংকার নাম না যানা সেই প্রতিবন্ধি দর্শক তারাতো সেই দেশকেই রিপ্রেজন্ট করে। এখন কেউ যদি আমাদের সোয়েবের সাথে কোথাও খারাপ আচরন করে সেটাতো গোটা দেশের দর্শকদের সাথেই করা হল। এসব বিষয় কবে বুঝবো আমরা?

নিজেদের দোষগুলি যদি প্রতিবার আমরা এড়িয়ে যেতে থাকি তাহলে আমাদের জন্য কঠিন ভবিষ্যৎ অপেক্ষা করবে।

লেখাটি আগে প্রকাশিত হয়েছে এখানে।
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে জুন, ২০১৫ দুপুর ২:৩৮
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ডিস্কভারি অব ইন্ডিয়া

লিখেছেন রাজীব নুর, ০২ রা অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:০৪



১৯৪৭ সালটা সমস্ত বাঙ্গালীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
দেশবিভাগের বছর শেখ মুজিব কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ইসলামিয়া কলেজ থেকে বিএ ডিগ্রী লাভ করেন। ভারত ও পাকিস্তান ভাগ হওয়ার সময়ে কলকাতায় হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার মহাজাগতিক ভাবনাকে এআই আমার সেরা পোষ্ট হিসাবে সাব্যস্ত করেছে

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০২ রা অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:১২



মহাজাগতিক ভাবনা

মহাজগতের প্রথমের পূর্ব অবস্থান শূন্য। কারণ প্রথমের পূর্ব অবস্থান শূন্যই হয়ে থাকে।শূন্য অবস্থানে সীমাদাতা না থাকায় তাতে যা হবে তা’ অসীম হবে।সকল অসীম একত্রে মিলে এক হবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

সালমান মুক্তাদিরের বিরুদ্ধে এ্যাকশান নিয়ে সরকার কি বার্তা দিচ্ছে?

লিখেছেন আফনান আব্দুল্লাহ্, ০২ রা অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:০৫

সালমান মুক্তাদির দেখি জঘন্য মানুষ। ওয়াইন, ওম্যান আর ওয়েল্থ – পুরুষ নষ্টের এই তিন ডব্লিউ-ই তার অস্থিমজ্জা ও লিভারে ঢুকেছে



এদিক-ওদিক ব্যাপক আম-লিচু করে বেড়িয়েছে। নিজের স্টুডিওতে আজেবাজে শুটিং করেছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিনয়: মুমিনের এক অনন্য মহৎ গুণ; কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে একটি বিশ্লেষণ

লিখেছেন নতুন নকিব, ০২ রা অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৫

বিনয়: মুমিনের এক অনন্য মহৎ গুণ; কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে একটি বিশ্লেষণ

ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

ভূমিকা

মানুষের প্রকৃত সৌন্দর্য তার বাহ্যিক চেহারা, ধন-সম্পদ বা সামাজিক মর্যাদায় নিহিত নয়। বরং তাঁর চরিত্র,... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার দিনগুলি আর ফিরবে নারে || সহেলিয়া ও সোনারুর কণ্ঠে নতুন ভার্সন

লিখেছেন সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই, ০২ রা অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:৩০

আমার দিনগুলি আর ফিরবে নারে
যারে হারাইয়াছি মায়ের কোলে
আর কি ফিরা পাবো তারে

মন যে আমার কান্দে সদাই
ফিরা যাইতে সোনার শৈশবে
হায়রে কোথায় আমার ঘুড্ডি নাটাই
খেলার সাথি কই সবে

কে যে আমায় নিত্যি ডাকে
ঘুমের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×