somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পালাবদল

১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ রাত ১২:৫২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


১.
আমার ছানাটা ইদানীং জানালার গ্রিল ধরে দাঁড়ানো শিখেছে। শুধু দাঁড়িয়ে থাকে না - হাঁটাহাঁটি করে , লাফায়। এই বুঝি পড়ে যাবে একটু অসতর্ক হলেই। আমি সব সময় সতর্ক থাকি, পড়তে গেলেই ধরে ফেলবো। ছানাটা সেটা বুঝতে পারে তাই মাঝে মাঝে 'বাববাব' বলে হাত ছেড়ে দেয়, রীতিমতো লাফিয়ে পড়ে । আমি চট করে ধরে ফেলি। মাঝে ধমক দেই- "এটা কি করছিস বীরব্রতী? পড়ে যাবি তো? ব্যাথা পাবি শেষমেশ !"

ছানাটা যেন খেলে আর প্রতিউত্তর দেয়, "না পড়বো না! তুমি পড়তে গেলেই ধরবে।"

"তোর কি ধারণা আমি সবসময়ই তোকে ধরবো?"

ছানাটা লাফায় আর বলে,"হ্যাঁ ! কারণ তুমি তো বাবা!!"

"বুঝলি বীরব্রতী, আমি একদিন বুড়ো হবো । তখন আর তোকে ধরতে পারবো না। তোর দাদাকে দেখছিস না, এখন আর নিজে নিজে ঠিকমত চলতে পারে না। বাবারা ক্রমশ বুড়ো হতে থাকেন কারণ, বাবারা বুড়ো না হলে তো ছেলেরা বড় হয় না।"

ছানাটা হঠাৎ লাফানো থামিয়ে দেয়। কিছুক্ষণ চুপ থেকে যেন বলে, "আমার বড় হতে ইচ্ছা হয় না বাবা ।"

"আমারো ইচ্ছা হতো নারে ব্যাটা!"

ছানাটা হাত বাড়িয়ে আমাকে ধরতে চায়। আমি শক্ত করে হাতটা ধরি । আমাদের জানালা দিয়ে অনেকখানি আকাশ দেখা যায়। সেই নীল আকাশে কালো মেঘ জমতে থাকে। আকাশের সাথে সাথে বদলাতে থাকে সময়। বর্ষা যায়, গ্রীষ্ম আসে। ঋতু পাল্টায়। বছর যায়। এভাবেই ছেলেরা বড় হতে থাকে আর বাবারা ক্রমশ বুড়ো হন।

২.
প্রতি ভোরে যখন আমি বাচ্চার দুধ বানাতে উঠি তখন আব্বা চা খেতে উঠেন । লাঠিতে ভর দিয়ে হেঁটে আসেন। আমি জানি উনার রাতে ঘুম হয়না ঠিক মত। প্রোস্টেট গ্লান্থের সমস্যাটাও বেড়েছে। বারবার ওয়াশরুমে যেতে হয়। সারা জীবন নিজেই চা বানিয়ে খেয়েছেন বলে কাউকে ডাকতে চান না। ভোরে আমার সাথে দেখা হয় বলে চা টা আমাকেই দিতে বলেন। ভোরের চা টা আমিই বানিয়ে খাওয়ায়।

সেইদিন বীরব্রতী ভোরে উঠেনি দুধ খেতে। আমারো ঘুম ভাঙ্গেনি। আব্বা একাই উঠেছিলেন চা খেতে। কাউকে ডাকেন নি। চা বানিয়ে রেখে ওয়াশরুমে যেতে গিয়ে পড়ে যান। বুকের নিচে লাঠি পড়াতে বুকে প্রচন্ড ব্যাথা পান তিনি। সেই সাথে কলার বোন ভেঙে যায়। তিনি যখন পড়ে যান তখন আমি ধরার জন্য ছিলাম না।

৩.
বীরব্রতী ওর দাদাকে বিছানায় শুয়ে থাকতে দেখে প্রতিদিন। কিন্তু হাঁটতে দেখে না। শুয়ে থাকা দাদাকে দেখতে দেখতে ওর বড় হবার ইচ্ছাটা হয়তো আরো কমতে থাকে। কিংবা কে জানে- বাবাকে ধরার জন্যেও হয়তো সে বড় হতে চাই!

৪.
"হাতটা শক্ত করে ধরো তো বাবা! ভয় নেই পড়বা না।"



সর্বশেষ এডিট : ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ রাত ১:৩০
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বেল পাকলে কাকের কী?

লিখেছেন অনিকেত বৈরাগী তূর্য্য , ২৫ শে মে, ২০২২ সকাল ১১:১৫

বন্ধু বান্ধব বিয়ে করছে। কিন্তু তাদের মনে অনেক দুঃখ। কত আশা ছিল সুন্দরী মেয়ে বিয়ে করবে অথচ জুটছে মোটা, কালো সব মেয়ে। বর্ণবৈষম্য হয়ে যাচ্ছে মনে হয়। তবে এটা কিন্তু... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছাত্র রাজনিতি বন্ধ করতে হবে। বিশ্বের সভ্য কোন দেশেই ছাত্রদের লাঠিয়াল বাহিনি হিসেবে ব্যবহার করেনা।

লিখেছেন নতুন, ২৫ শে মে, ২০২২ সকাল ১১:২৭



দেশের ভবিষ্যত নেতা তৌরির কারখানা হিসেবে অনেকেই ছাত্ররাজনিতির দরকার আছে বলে ধারনা করে। কিন্তু বর্তমানে ছাত্ররাজনিতিকদের কাজে বোঝা যায় সময় এসেছে বাংলাদেশে ছাত্ররাজনীতি বন্ধ করার। ছাত্ররা বর্তমানে রাজনিতিক দলের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সত্যিকারের দেশপ্রেম কী?

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ২৫ শে মে, ২০২২ দুপুর ১:২৬


বাংলাদেশে দেশপ্রেম বলতে আওয়ামীলীগের ক্ষেত্রে ভিন্ন মতের বিষোদগার করা, মাইকে গলা ফেটে বঙ্গবন্ধু গুনকীর্তন গাওয়া, বঙ্গবন্ধু কন্যার গুনকীর্তন করা, জাতীয় দিবসগুলোত ফুলদিয়ে শ্রদ্ধা করা এবং ভিন্নমতকে রাজাকার, দেশবিরোধী... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতিচারণঃ নজরুল

লিখেছেন জাদিদ, ২৫ শে মে, ২০২২ দুপুর ২:১৮


ছবি সুত্রঃ shadow.com

নজরুলের মাহযাবঃ
আমি সাধারনত পাগল, ছাগল এবং আঁতেল এই তিন শ্রেনীর মানুষ দেখলেই সাথে সাথে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করি। কিন্তু অনেক সময় তা সম্ভব হয় না, নুন্যতম ফরমালিটির... ...বাকিটুকু পড়ুন

এত বড় কবি কেন দারিদ্রতা থেকে মুক্তি পেলেন না?

লিখেছেন সোনাগাজী, ২৫ শে মে, ২০২২ রাত ১০:৪০



বাংগালীরা পড়তে ও লিখতে জানতেন না, যারা সামান্য লেখাপড়া জানতেন, তাঁদের বড় অংশ ছিলেন দরিদ্র, যাদের সামর্থ ছিলো, তারা বই কিনতো না; এই কারণে, কবির তেমন আয় ছিলো না। তখনকার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×