somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ফটোগ্রাফি করতে গিয়ে - ৩

১৪ ই মার্চ, ২০১৩ রাত ২:৩৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

[১ম পর্ব]

[২য় পর্ব]

[২৫শে ফেব্রুয়ারি প্রকাশ করার জন্য ই লেখা। কিন্তু কাজ ও পারিপার্শ্বিক চাপে দেরি হয়ে গেলো প্রকাশ করতে]

আজ ২৫শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৩। এই লিখাটা যখন লিখছি এর মাঝে ৪ বছর পেরিয়ে গেছে এবং ঠিক এই সময়ে আমরা আরেকটা উত্তাল সময়ের মুখোমুখি। শুধু পার্থক্য ২টা বিপ্লবের চরিত্রের। সেই ২০০৯ এর ২৫শে ফেব্রুয়ারির কথা এই জন্য টানলাম এখানে কারন সেদিন এর একটা ছোট ঘটনা আমাকে আজ এই পাগলামির জগত ফটোগ্রাফিতে পা রাখতে উতসাহিত করেছে। সেদিন কি হয়েছিল তা সবাই ভালো জানেন তাই আর ওই প্রসঙ্গ না টেনে ওই বিপ্লবে আমার নতুন এক “আমি” হয়ে জন্মানোর ঘটনাটা বলার লোভ সামলাতে পারছিনা। সেদিন ছিল বুধবার। সেদিন সকালে এক বৈষয়িক কাজে আমরা সবাই নারায়ানগঞ্জ জুডিশিয়াল কোর্টের উদ্দেশে সকাল সকাল রওনা করি। আমরা ঢাকা ছাড়ার কিছু আগে থেকেই আত্মীয় দের উদ্বেগজনিত ফোন আমরা কোথায় [কারন আমাদের বাসার ১০০ গজ এর মধ্যেই পিলখানা ... আমাদের জানালা দিয়ে পিলখানা দেখা যায়] এবং আমাদের অবস্থান জেনে নিয়ে সবাই মানা করা শুরু যেন আমরা বাসায় না ফিরি কারন ততোক্ষণে পিলখানা ও পার্শ্ববর্তী এলাকা রণক্ষেত্র হয়ে গেছে। আম্মু ছিল আমাদের সাথে আম্মু ও বাসায় ফেরার ব্যাপারে দোনোমনো করলেও শেষপরযন্ত ঠিক ভাবেই বাসায় ফিরি আমরা। সেদিন বিকেলে যখন খবর পেলাম আর্মি ট্যাঙ্ক নেমেছে তাও আমার বাড়ির সামনে। কি যেন একটা ভুত চাপল ক্যামেরা হাতে পথে নেমে গেলাম। ট্যাঙ্ক এর ছবি তুল্লাম ... আমার ভাই সম্রাট রহমান আমাকে ওভার ব্রিজ টা মাথায় রাখতে কেন বলল বুঝি নাই তখনো। কিন্তু যখন দেখলাম সেনা-বাহিনি অহেতুক ঝামেলা এড়াতে দৌড়ান দিচ্ছে ... ততক্ষনে আমার ভাই ওর নিজের দেখানো পথে ওভারব্রিজ এ আর আমি তার পিছু পিছু । এভাবেই সেদিন একটা বিরাট ক্ষতির হাত [সেনা-বাহিনি সবার ক্যামেরা ভেঙ্গে দিচ্ছিল] থেকে রক্ষা পেলাম ... দৌড়ের মধ্যে ব্রিজ এর উপর থেকে কিছু স্ন্যাপ নিলাম। বাসায় ফেরার পর ফেসবুক এ আপলোড করলাম। সেদিন রাতেই বিবিসি বাংলার শওকত হাশমী সাহেব আমাকে নক করেন আর আমার ছবির বিনিময় এ আমাকে ফটোগ্রাফার এর কাজ করার [বিবিসির হয়ে] প্রস্তাব দেন। স্বভাবত আমি কুমড়ার মতো তাকায় ছিলাম অন্তত ১ ঘণ্টা [তাও তব্দা সহযোগে] কারন তখন আমি ছবি তোলার কিছুই জানিনা ... বিন্দুমাত্র ইচ্ছা ছিলনা ... আর আমার ক্যামেরা তখন ছিল Sony Cybershot S-650 … এই ক্যামেরা আর খুদ্র জ্ঞান নিয়ে আর যাই হোক ফটোগ্রাফি হয়না ... এই ভেবে আমি সেই প্রস্তাব নাকচ করে দেই।

প্রিয় পাঠক, আপনারা যারা আমার লিখাতে [যদিও মাত্র ২টা ই প্রকাশিত] আমার অহঙ্কারের লেশ পান ... তাদের কাছে আমার বিনীত অনুরোধ যদি একটু ধরায় দেন। আমি আমার সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনা গুলো নিজের ভাষায় বলতে চেষ্টা করি মাত্র। উপরের ঘটনাটার বর্ণনা কোন অহঙ্কার নয় আমার ... কারন এর পর যারা এই ঘটনা শুনেছে সবাই তিরস্কার করেছে এতোবড় একটা সুযোগ হারালাম বলে ... পরে যখন আমার শিক্ষক জনাব রাজিবুল হোসেন স্যার বলেছেন আমার সিদ্ধান্ত ই ঠিক ছিল তখন খুব মন প্রশান্ত হয়েছে। সেই ইতিহাস অনেক বড় এক কালো দাগ রেখে গেলেও আমার জন্য একটা পোকা রেখে গেছে আমার মাথায়। যার তাড়নায় শত প্রবঞ্ছনা সত্ত্বেও আমার পথচলা [ক্যামেরা হাতে]। আমার এই ফটোগ্রাফির হাটি হাটি পা পা এর ইতিহাস অন্য কোন ব্লগ এ লিখবো আজ এমনি ই দরকারের চাইতে বেশি ভুমিকা দিয়ে ফেলেছি বলে ক্ষমাপ্রার্থী।

এখন সরাসরি চলে আসি মূল লিখা ও আজকের প্রেক্ষাপটে । আজ ২৫শে ফেব্রুয়ারী, ২০১৩। আমার লিখার মূল বিষয় গনজাগরন ও এর সাথে আমার জড়িয়ে পড়া। গনজাগরনের বিস্তারিত আর লিখতে চাচ্ছিনা। কেননা সেটা যে কোন সচেতন মানুষ মাত্র ই জানেন [শুধু বাংলাদেশ না আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও]। এই আন্দোলনের শুরুর দিন থেকে যখন ই সময় পাই আমি চলে যাই ক্যামেরা হাতে আন্দোলনের বিভিন্ন অংশের ছবি তুলে আমি আর অ্যালবাম এ আপলোড করি। পুরপুরি নিজ উদ্যোগেই করি কারন বিশ্ববাসির কাছে জানানো দরকার আমাদের বর্তমান চাওয়া। [আগ্রহীরা আমার অ্যালবামে ঢু মারতে চাইলে দেখে আসতে পারেন ... লিঙ্ক যথারীতি লিখার শেষে] । এই আন্দোলন চলাকালিন শুধু আজকের দিনটা স্মরণীয় করে রাখার জন্য তড়িঘড়ি এই ব্লগ টা লিখলাম ... আন্দোলনে শাহবাগ চত্বর বা আশে-পাশে বিভিন্ন ছবি তোলার কাজের সময় ঘটে যাওয়া মজার ঘটনা ... যা মনে পরলে নিজেই নিজের মনে হেসে উঠি ।

ঘটনা – ১
আমার অ্যালবাম এর ছবি চেয়ে এবারো অনেক আবদার ও ব্যাবহারের অনুমতি চেয়ে এসএমএস এর বন্যায় আমার অনুমতি ছাড়া ছবি ব্যাবহারের জন্য উন্মুক্ত করে দিলাম [২টা ঐতিহাসিক ঘটনাই আমাকে ছবি তোলার দিকে টানছে ... পাঠক খেয়াল করেছেন কি???] । যাই হোক এমন সময় আমার ফেসবুক ফ্রেন্ডলিস্টের একজন যাকে ফেসবুক জীবনে একবার ও অনলাইন পাই নাই ... কোথেকে যেন ভুস করে উদয় হল ... আর পরল তো পরল আমার ঘারেই ... কি আর করা বিশাল কথোপকথন ... সেই চ্যাট লগ টাই এখানে তুলে দিলাম ...

ফরেন থেকে – মামা আপনি কি সাংবাদিক??? [অন্য একটা পরিচয়ে এই অস্ট্রেলিয়াবাসি ভদ্রলোক আমাকে মামা ডাকে ... আমিও তাই ডাকি।]

আমি – না তবে ফটোগ্রাফার বলতে পারো যদি চাও।

ফরেনার – আচ্ছা আমাকে একটা ইনফো দিতে পারেন প্লিস ?? [ইংলিশবাজি শুরু হচ্ছে]

আমি – অবশ্যই ইনফো ... বল মামা তোমাকে কি দিতে পারি???

ফরেনার – আচ্ছা আমাকে কি বলতে পারেন শাহবাগ এ কি ফেস্টিবল হচ্ছে???

আমি – কোন বল??? [বুঝতে পারি নাই বেটার প্রশ্ন কারন ততদিনে আমার তোলা ছবিও বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে গেছে ... এমনকি অস্ট্রেলিয়া তেও]

ফরেনার – না মানে বেংলা আকাদেমি তে বুক ফেস্টিবলের পাশে ই শাহবাগ এ কি ফেস্টিবল এটা ??? [বেটা ছাগু নিশ্চিত হইয়া গেছি ততোক্ষণে]

আমি – হ বুঝছি ... এইডাও একটা ফেস্টিবল ... বুক ফেস্টিবল এর মতন ই ... রাজাকার গুলিরে লইয়া আমাদের চা খাওয়ার ‘টি – ফেস্টিবল’ খুশি???

ফরেনার – না মানে আমি জানতে চাই এটা কি ঠিক হচ্ছে??? এই বিচার তো কোর্টে হবে আপনারা কোর্টে প্রটেস্ট করেন ...

আমি – আমরা ট্রাইব্যুনাল বানায় দিছি ওখানে অপরাধ প্রমানিত।

ফরেনার – একটা তো বেকসুর আই হার্ড ... [হালা কত বড় ভিজা বিলাই সাজতে আসছিলো বুঝলেন???]

আমি – বাকি গুলির ১টা তেই ৩৪০ টা গণহত্যার অপরাধ প্রমানিত ... আরও শুনতে চাও???

ফরেনার – না মানে ইয়ে ... আমি বলতেছিলাম এটা পার্লামেন্ট এ রিসল্ভ করা যায় না??? আপনারা পার্লামেন্ট এ যান??? হোয়াই রোড ব্লক??? [বেটার ইংলিশ এর দৌড় এইটুক ই]

আমি – তাইলে পার্লামেন্ট আমরা নিরবাচিত করছি কি তোমার [টুউউট] ফালাইতে??? নাকি রাজাকারদের গুলি???

ফরেনার – মামা প্লিস ডোন্ট গেট মি রং ... আসলে একটা পিক্স এ দেখলাম একটা বেবি কে গলায় - পিঠে “রাজাকারের ফাসি চাই” ব্যানার লাগিয়ে ঘুরা হচ্ছে ... এটা কি ঠিক হচ্ছে??? ওর কি ‘ডেথ’ ; ‘রাজাকার’ ; ‘ফাসি’ ... এগুলি বুঝার টাইম আসছে??? আপনি ই বলেন আপনার সনতান থাকলে তাকেও কি রাইমস না শিখিয়ে এসব শিখাতেন??? তাও এই বয়সে??? [রেল লাইনের মতন টানা প্রশ্নবান আসল প্রসঙ্গ ঘুইরা আমাকে বেক্তিগত আক্রমন ... যদিও আমি এখনো বিয়ে করি নাই ... এই লোক এটা জানে না]

আমি – অবশ্যই এই বয়সে না ... এই বয়সে কেন শিখাবো??? আমার কোন ঠ্যাকা পড়ছে???

ফরেনার – ইউ গট ইট নাউ ম্যান ... সো আপনার মত কি এই ব্যাপারে???

আমি – আমার সন্তান যখন একেকটা বুইরা ধামরা হইয়া আমার এই ছবি দেইখা ই আমারে জিগাবে “ড্যাড হোয়াই ডিড ইউ অল এয়রেঞ্জ দিস কাইন্ডা ফেস্টিবল???” তখন ইতিহাস বর্ণনা করব... খুশি???

[বেটা তৎক্ষণাৎ অফলাইন]

ঘটনা – ২
আন্দোলনের এক দিন বন্ধু মাহিব একরাম সহ শাহবাগ প্রজন্ম চত্তরে গেলাম। ওখানে ওর ই আরেক ফটোগ্রাফার কাজিন এর সাথে পরিচয়। সেদিন আমার ভূত চাপছে “বার্ডস আই” স্ন্যাপ নেওয়ার। উশখুস লাগতেছে কোন ছাঁদে উঠার জন্য। পিজি হাসপাতালের ৮ তলা ছাঁদে উঠবো ঠিক করে কাজিন সৈকত ভাই কে নিয়ে পিজির গেট এ গেলাম যেহেতু আমার সাথে আইডি কার্ড [সাইবারট্রন এর ফটোগ্রাফার হিসাবে] আছে অহরহ যাওয়ার বুদ্ধি হয়ে যাওয়াতে আমরা ২ ভাই খুশি। দিনের আলোয় ইচ্ছামতো ছবি তুলে নিচে নামলাম ক্লোজ শট নিতে ... তাও নিলাম। সন্ধার পর আবার ছাঁদে উঠতে ইচ্ছা হল আলোর মিছিল এর ছবি নেওয়ার জন্য। বিনা বাধায় ৮ তলা ছাদের দরজায় যেতেই দেখলাম বিপত্তি। হসপিটালের ডাক্তাররা পর্যন্ত ছাঁদে উঠতে পারছেন না নিরাপত্তার কারনে। আমি একটু ভয় পেলাম কারন আমিও কোন সংবাদ মাধ্যমের সাথে জরিত না। তবুও সাহস করে দরজা ধাক্কা দিতেই এক বডি বিল্ডার পুলিশ এসে হাজির [বাংলার ইতিহাসে বডি বিল্ডার পুলিশ আমি এই প্রথম দেখি]

পুলিশ – কি চাই???

আমি – ২-৪ টা ছবি নিবো [আমার গলায় সাইবারট্রন এর ফ্রিল্যান্সার এর কার্ড]

[আমি বিনা বাধায় প্রবেশাধিকার পেয়ে গেলাম ... এবার ডাক্তার ৪ জনের পালা]

পুলিশ – আপনারা কি চান?

ডাক্তার – ছবি তুলতে ...

পুলিশ – দেখি ক্যামেরা?
[৪জন বহু খুঁজে পেতে একটা মিনি ক্যামেরা বের করলো]

পুলিশ [ফিক করে হেসে দিয়ে] – এই ক্যামেরা দিয়া কি হইবে??? [আমি হাসি চাপতে চাপতে সরে গেলাম]

ঘটনা – ৩
আমার চেনা একটা ব্যাবসায়ি গ্রুপ [প্যাসিফিস্ট ভয়েজার] ... উনাদের সাথে বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় বা নিষ্ক্রিয় ভাবে আমি থাকি বা থাকার চেষ্টা করি। এই গ্রুপের প্রধান টুটুল ভাই এর চিন্তাধারা বা কার্যক্রম গুলি ই এর জন্য দায়ী।

সেদিন ও ছবি তুলতেছি এমন সময় একটা স্লোগান আমার কানে খটকার মতো বিধল “জামাত – শিবির রাজাকার ... এই মুহূর্তে বাংলা ছাড় ... শুভ ভাই এর আগমন ... শুভেচ্ছা স্বাগতম” মুহূর্তে ক্যামেরা থেকে চোখ সরিয়ে স্লোগান অনুসরন করে গিয়ে দেখি টুটুল ভাই রা সেদিন সদলবলে আন্দোলনে অংশ নিতে এসেছেন। উনাদের স্লোগান টা কিছুক্ষণের জন্য আমাকে স্তব্ধ করে দিয়েছিল। [রাজাকারের বাংলা ছাড়ার সাথে আমার আগমন ক্যামনে যায়??? এটা চিন্তা করে]

ঘটনা – ৪
যেহেতু কোন প্রেম করি নাই তো পারিবারিকভাবে আমার বিয়ের জন্য পাত্রি খোজা হচ্ছে। সেদিন খুব পরিচিত সুত্র ধরে এক ঘটক বাসায় হাজির। আলাপ পরিচয় এর পর কথা বার্তা বলে বিদায় করলাম। পরদিন আমি যখন শাহবাগ আন্দোলনে মূল মঞ্চে তখন আমার ফোন বেজে উঠলো। অচেনা নাম্বার রিসিভ করলাম ।

- শুভ বাবাজি চিনছ আমি তোমার চাচা অইদিন আসছিলাম?

আমি – জী চাচাজি ঠিক চিনেছি ক্যামন আছেন?

- ভালো ... তা বাবাজি তুমি কি বাসায় আছো?

আমি – না চাচাজি একটু বাইরে [তখন ই মাগরিব নামাজের বিরতির পর স্লোগান শুরু হইছে “জামাত-শিবির রাজাকার ... এই মুহূর্তে বাংলা ছাড়]

- বাবাজি আমি তুমার সাথে পরে কথা বলি [বেচারা আমার ফোন ছেড়ে দিলো ... মনে হয় আমার কেস ও ... কারন এরপর আর উনার কল পাই নাই ...]

ঘটনা – ৫
আমার তোলা ছবি ও বিভিন্ন পোস্টের কারনে আমার অবস্থান যে গনজাগরনের সপক্ষে তা আমার সাইবার জগতের সব বন্ধুই জানেন। মেসেজ বক্সে বিভিন্ন নামকরা মডেল দের [অবশ্যই ফেক আই ডি] দিয়ে নানা রকম হুমকি ধামকি ... এমনকি দেশ – বিদেশি ফোনেও হুমকি “যেভাবে নাম্বার পাইছি সেভাবে তোমারেও পাওয়া আমাদের জন্য ব্যাপার না” ... এরই মাঝে এক ছাগুর সাথে হঠাত কথোপকথন ...

ছাগু – ভাই কেমন আছেন?

আমি – ভালো ... আপনি??? [প্রোফাইল ঘেঁটে দেখলাম উনার ইতিহাস আর সিউর হলাম ছাগু]

ছাগু – আপনি কই থাকেন?

আমি – বাসায়

ছাগু – বাসা কই?

আমি – এলাকায়

ছাগু – এলাকা কই?

আমি – শহরে

ছাগু – শহর কই?

আমি – একটা দেশে

ছাগু – দেশ কই?

আমি – পৃথিবীতে ... পৃথিবী কই তাও জানতে চান???

ছাগু – আপনি কি আমার সাথে ফাইজলামি করতেছেন?

আমি – না না কি যে বলেন আমি ঠিক ঠাক আপনার সব কথার উত্তর দিলাম

ছাগু – ভাই আপনি তো বিরাট পাগল ... জলদি পাবনা ভর্তি হন...

আমি – জী ভাই অবশ্যই ... কিন্তু গায়ে পরে অচেনা লোকের বাড়ির ঠিকানার জন্য যে / যারা উঠে পরে লাগে তারা তো ছাগল ... যেহেতু আমার বাসা নিয়ে আদেখলাপনা দেখাইছেন আমি শিউর আপনি জায়গামত মানে খোয়ারেই আছেন।

ছাগু – [একটু রাগত] আমি জানতে চাইছি আপনি কোথায় থাকেন এটা কি আমার অপরাধ???

আমি – না না ভাই অপরাধ হবে কেন??? আপনি যদি আমার কোন ধরনের শ্যালক হইতেন তাহলে আপনাকে এখনি আমার ঠিকানা দিয়ে বাসার দরজা খুলে আপনার বোন সহ আপনার পথ চেয়ে দাড়ায় থাকতাম ... রিকশা ভাড়া দিবার জন্য ।

ছাগু – [বেটার আরেকটু ডোজ বাকি আছে এখনো] নাহ মানে এই প্রথম শুনলাম কেউ বাসায় থাকে ...

আমি – ঠিক ই শুনছেন ভাই ... জীবনে প্রথম কোন মানুষের সাথে কথা বললেন ... মানুষরা বাসায় ই থাকে ... ছাগলরা খোঁয়াড়ে থাকে বলে যখন ই শুনে কোন মানুষ বাসায় থাকে তখন ই কাটা ছাগলটার মতো তড়পাতে থাকে ।

[বেটা অফলাইন]

ব্যাপারটা কি আমি খুব রসাত্মক ভাবে দেখছি ??? নাকি একটা ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছি বলে বিচ্ছিন্ন ঘটনাগুলো আমার কাছে রসাত্মক হয়ে ধরা দিচ্ছে ??? যাই ই হোক এই আন্দোলনে আমি দেখেছি মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ... যার যা কিছু আছে ... যে যেভাবে পারছে সেভাবেই আন্দোলনে গতি আনার রসদ দিচ্ছেন ... কিছু রিকশাওয়ালা যখন ই শুনে আমি শাহবাগ যাবো কোন দরদাম করেনা পৌঁছানর পর জা দেই কোন দ্বিমত করেনা [২বার এমনি ইই নিয়ে গেছে আমাকে ... কারন আমি নাকি ক্যামেরা দিয়ে দুনিয়াকে দেখাচ্ছি] ... এক চা ওয়ালা যার সাথে দেখা হলে প্রথম চা ও সিগারেট ফ্রি [এক ই কারন] ... সেই মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ সহ ছাত্ররা যারা আমাদের জন্য কিছু করতে পারলে ... এমনকি এক কাপ চা খাওয়াতে পারলেও খুশি ... সেই ভিখারিনি যেঁ তার সারাদিনের সম্বল দিয়ে চিরা মুড়ি গুর কিনে এনে রোজ আন্দোলনকারীদের দিয়ে জান ... আমি কি তাদের এই অবদান কে হালকাভাবে উপস্থাপন করলাম না তো??? বা করার চেষ্টা করলাম তো??? এতো ত্যাগ এত প্রানের জাগরন ... অন্তত এটা আমি বলতে পারি শাহবাগে নতুন এক বাংলাদেশের জন্ম হয়েছে ... এই জন্ম আমাদের বিজয়ের ... আজ আমরা সেই ১৯৭১ এর মতো প্রান খুলে “জয় বাংলা” বলতে পারি ... এটা যে কোন দলীয় স্লোগান নয় আমরা তা আরেকবার প্রমান করতে পেরেছি ... আমাদের বিজয় সুনিশ্চিত ... জয় বাংলা ... জয় প্রজন্ম ...

আমার প্রতিটা লিখা একটু দীর্ঘ হয়ে যায় ... মনে হয় কীবোর্ড পেলে খেয়াল থাকেনা ... শুধু কথার ফুলঝুরি ছুটে ... যারা এই পর্যন্ত পড়তে পেরেছেন [মানে এখনো আছেন] ... অনেক ধন্যবাদ ... পরবর্তী লিখা প্রকাশ হবার আগ পর্যন্ত ভালো থাকুন ...

শুভ রহমান

শাহবাগে তোলা আমার ছবির এ্যালবাম এর ফেসবুক লিংক




সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই মার্চ, ২০১৩ রাত ২:৪৩
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মিথ্যাবাদী কাউবয় "ট্রাম্প" এবং ইরান যুদ্ধের খবর

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ২৪ শে মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১:৫৯


দিনের শুরুটা হলো ট্রাম্পের মিথ্যা দিয়ে। তিনি লিখলেন: "ইরানে সামরিক হামলা পাঁচ দিনের জন্য বন্ধ রাখা হচ্ছে, যা আলোচনার সাফল্যের ওপর নির্ভর করবে।" পরে জানা গেলো, ট্রাম্প যথারীতি মিথ্যা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার হারিয়ে যাবার গল্প

লিখেছেন রানার ব্লগ, ২৪ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৫:৩২

তোমাকে আমি কোথায় রাখি বলো,
চোখের ভিতর রাখলে
ঘুম ভেঙে যায় বারবার,
বালিশের নিচে রাখলে
স্বপ্নে এসে কাঁদো।

তুমি কি জানো
আমার এই শরীরটা এখন
পুরোনো বাড়ির মতো,
দরজায় হাত দিলেই কেঁপে ওঠে,
জানালায় হাওয়া লাগলেই
তোমার নাম ধরে ডাকে।

আমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

মানব সভ্যতার নতুন অধ্যায়

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ২৫ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৩:০৭


আজ মানব জাতির নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো।
তারিখঃ ২৪ শে মার্চ, ২০২৬
সময়ঃ বিকাল ৪টা, (নর্থ আমেরিকা)
আমেরিকার কংগ্রেস স্বীকার করে নিল ভীন গ্রহের প্রাণীর অস্তিত্ব। স্বীকার করে নিল পৃথিবীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজ সেই বিভীষিকাময় ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস।

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ২৫ শে মার্চ, ২০২৬ ভোর ৫:৫৫

আজ সেই বিভীষিকাময় ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস।
আজ সেই বিভীষিকাময় ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস। ১৯৭১ সালের এই কালরাতে Operation Searchlight নামের বর্বর অভিযানের মাধ্যমে পাক আর্মি নিরস্ত্র বাঙালির উপর ইতিহাসের জঘন্যতম... ...বাকিটুকু পড়ুন

ওয়ান-ইলেভেন: স্মৃতিহীন জাতির হঠাৎ জাগরণ!

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২৫ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ৮:৩০

কাভার- সরাসরি আপলোড না হওয়াতে!!


ওয়ান-ইলেভেন: স্মৃতিহীন জাতির হঠাৎ জাগরণ!

জেনারেল মাসুদের গ্রেপ্তার হতেই হঠাৎ দেখি-
সবাই একসাথে ওয়ান-ইলেভেন-কে ধুয়ে দিচ্ছে!

মনে হচ্ছে, এই জাতির কোনো অতীতই নেই।
বাঙালির স্মৃতিশক্তি আসলেই কচুপাতার পানির মতো-এক ঝাপটায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×