somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

প্রথম ভালোবাসা আর আমি

২১ শে আগস্ট, ২০১৬ রাত ৯:৫৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


সে অনেক আগের কথা। কথাটা আগের হলেও স্মৃতিটা পুরোনো হয় নি। সে ছিল আমার প্রথম ভালোবাসা। প্রথম ভালোবাসার দিনগুলোতে কখন বাস্তবতাটাকে নিয়ে ভাবার সময় পাওয়া যায় না। সে আর্টসের ছিল আর আমি সাইন্সের খুব ভাবুক টাইপের মানুষ ছিলাম। সবকিছুতে সাইন্স খুজে বেড়াতাম। ভালোবাসার প্রথমদিনগুলোর কোনো এক রাতে সে জিজ্ঞাসা করেছিল।
-তোমার কাছে চাঁদ কেমন লাগে?
-চাঁদ চাঁদের মতোই লাগে। চাঁদ আবার কেমন লাগবে?
-আচ্ছা জানো,চাঁদের বুড়ি নাকি এক সময় আমাদের মতো রাতে প্রেম করতো।
-ধুর,চাঁদের বুড়ি নিয়ে এখনো আছো?? চাঁদেতো অক্সিজেনই নেই। তাহলে চাঁদে বুড়ি থাকবে কিভাবে?
-আরে আছে তো। সে বুড়ি নাকি তাকে খুব ভালোবাসতো। কিন্তু এখন সে একা খুব। তার এখন কেমন লাগতে পারে?
-আম্মম্মম,জানি না।
-কেন জানো না?? এইটাতো কমন সেন্স। সে এখন রাতে একাই থাকে।
-হেহ,বিনা অক্সিজেনে কারো বেঁচে থাকা অসম্ভব এইটা কমন সেন্স। জানো??
-তুমি না একটুও রোমান্টিক না।
-আমি রোমান্টিক না হলে তুমি আমার সাথে প্রেম করো কিভাবে??
-জানি না
-আচ্ছা,মানলাম চাঁদের বুড়ি সত্য। তাহলে চাঁদের বুড়া কোথায়??
-সেটাইতো। কিন্তু চাঁদের সেই বুড়ি নাকি তাকে অনেক ভালোবাসতো।
-তাই নাকি? তুমি আমাকে কেমন ভালোবাসো??
-চাঁদের বুড়ির চেয়ে বেশি।
-তাহলে আজ থেকে তুমিই আমার চাঁদের বুড়ি।
এরপর থেকে তাকে চাঁদের বুড়ি বলে ডাকতাম। ঠিক চাঁদের মতোই রাতে তার সাথে দেখা হতো। কোনো রাতে যখন রাতে চাঁদ উঠতো না দেখা যেত সেই রাত ২টা বা ৩টার সময় ফোন দিয়ে চাঁদ দেখাতো। যেখানে সে চাঁদ দেখে মুগ্ধ হয় সেখানে আমি ভাবি চাঁদের অন্ধকার সাইডের কথা। সেখানে কি থাকতে পারে। যেখানে রাতে সে তারা দিয়ে ছবি আঁকতো সেখানে আমি তারা দিয়ে আলোর সমীকরণ আঁকতাম। তার আর আমার চিন্তাভাবনা আকাশ পাতাল পার্থক্য থাকলেও আমরা একই ছিলাম। কিন্তু বাস্তবতা নিয়ে কখনো ভাবি নি।
প্রতি শুক্রবারে আমরা ঘুরতে যেতাম কোথাও না কোথাও। সপ্তাহের একটা দিনই ছিল আমার জন্য রিলিফ। আর সেও উন্মুখ হয়ে থাকতো শুক্রবারের আশায়। এক শুক্রবার বৃষ্টি হচ্ছিল। তবুও সে দেখা করবে। এদিকে আমার জ্বরের কথা সে জানতো না। তার মন খারাপ হবে ভেবে জানাই নি। কিন্তু তবুও বৃষ্টিতে ভিজেও তার সাথে দেখা করতে গিয়েছিলাম। সেদিন সে খুব রাগ করেছিল। বলেছিল,আজকে এই শরীর নিয়ে কেন আসছো? আমি উত্তর দিয়েছিলাম,আগামী শুক্রবার পর্যন্ত তোমাকে না দেখে থাকা আমি সহ্য করতে পারতাম না। সেদিন সে সারা বিকেল আমার কাঁধে মাথা রেখে বসে ছিল। তাকে বারবার করে বলেছিলাম যে আমার জ্বরের ভাইরাস তার শরীরে যেতে পারে। সে একবারো শুনে নি। সে বিকেলেরই কথা। শেষ পর্যায়ে সে জিজ্ঞাসা করেছিল,আমি যদি কোনো এক শুক্রবার হতে দেখা করে বন্ধ করে দেই তাহলে তোমার কি হবে?
হয়তো বাস্তবতাটাকে সে তুলে ধরতে চাইছে। সে প্রশ্নের উত্তর আমি আর দিতে পারি নি। শুধু এক পলক তার দিকে তাকিয়ে ছিলাম। সত্যিই এক শুক্রবার হতে আর তার সাথে দেখা হয় না। তাকে আর চাঁদের বুড়ি বলে ডাকতে পারি নি। সে আজ অন্য কারো সাথে বসে চাঁদ দেখছে। আর আমি সেই চাঁদের বুড়া হয়ে চাঁদের বুড়িকে খুজছি। এখন আর সমীকরণ মাথায় আসে না। মাথায় শুধু চাঁদের বুড়ি। শুনেছি এখন নাকি সে আমাকে ছাড়া খুব ভালো আছে। কিন্তু সে কি একবারও আমার আর্তনাদ শুনেছে? নাহ,শুনেনি। শুনাতেও চাই না। শুধু এতোটুকুই তাকে জানাতে চাই,যেখানে আছে সে,যার সাথেই আছে তারা যেন ভালো থাকে। আমার চাঁদের বুড়ি কখনোই একা থাকবে না। কারণ সে অনেক সুন্দর। সে আসলেই সুখটাই ডিজার্ভ করে। আমাকে না।
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে আগস্ট, ২০১৬ রাত ৯:৫৪
৩টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গোকুলে বাড়িছে সে

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৫৪

গোকুলে বাড়িছে সে

পরিস্থিতি যতই ঘোলাটে হচ্ছে, ততই স্পষ্ট হয়ে উঠছে- ক্ষমতার অন্দরমহলে অস্বস্তি বাড়ছে। একের পর এক বক্তব্য, ভিডিওবার্তা, ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ দেখে মানুষের মনে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগছে- এত অস্থিরতার কারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ রক্ত ঋণ

লিখেছেন ইসিয়াক, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৫৪




আমাদের পরিবারে সাব্বির নামটা উচ্চারণ করা নিষিদ্ধ । সাব্বির ভাইয়া আব্বুর প্রথম সংসারের একমাত্র সন্তান আর আমরা দুই ভাই -বোন তার দ্বিতীয় সংসারের।
সাব্বির ভাইয়ার মা... ...বাকিটুকু পড়ুন

ক্ষমতা আসলে কত দিনের?

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ২৩ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:৩৬

একটি ১২ ঘণ্টার প্যারোল, একটি শেষ বিদায় এবং ক্ষমতার অনিত্যতার নির্মম শিক্ষা

“পুলিশ ভাই, আমাকে তো এখনই নিয়ে যাবেন, আমি দুই মিনিট ফ্যামিলির সঙ্গে কথা বলি?”

কারাগার থেকে বের হওয়ার সময় ডা.... ...বাকিটুকু পড়ুন

কোথাও একটা ভুল হচ্ছে!

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৩ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ৯:৪২

একটা ছোট নৌকা পাল তুলে পাড়ি দিচ্ছে-
অনন্ত নক্ষত্রবীথি।
পেরিয়ে যাচ্ছে- গ্রহ নক্ষত্র, মহাজাগতিক উল্কা।
দূরে কোথাও সংঘর্ষ হচ্ছে।
ধীর, অতি ধীর তার গতি। নৌকায় কয়েকজন মানুষ!
একটি শিশু,... ...বাকিটুকু পড়ুন

পড়ালেখার গুরুত্ব

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ২৩ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৫৫



পড়ালেখার গুরুত্ব কি, আর কেনো পড়ালেখা করতে হবে? আমার মনে হয় উত্তর সকলের কম বেশি জানা আছে। কিন্তু আমরা বাস্তবে কি করছি? আমাদের দেশে মনে হয় ছাত্রছাত্রীদের পড়ালেখার আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

×