
এখনো আমাদের নিম্ন ও মধ্য বিত্ত পরিবারের বাবা মায়েরা ছেলে-মেয়েদের লেখা-পড়া শেখায় এক বুক আশা নিয়ে যে, একদিন লেখাপড়া শিখে তারা বড় চাকুরী করবে, সংসারের হাল ধরবে, তাদের কষ্টের দিন শেষ হবে। বাবা হিসেবে যে স্বপ্ন বুকে লালন করে এসেছে এতোদিন, আর্থিক সামর্থের অভাবে যা পুরণ করা সম্ভব হয়নি, তা ছেলে এবার পূরণ করবে।
এ ক্ষেত্রে সব ছেলেই যে ব্যর্থ হয়, তা না। কোন কোন ছেলে বাবা মায়ের এসব স্বপ্ন পূরণ করতে সফলও হয়। আর এসব কথা মাথায় রেখেই লেখা-পড়া শেষে একজন ছেলে শুরু করে তার কর্ম জীবন। আর সেটা অবশ্যই চাকুরী দিয়ে। কারণ নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলেরা লেখাপড়া শেষে ব্যবসার মতো একটা ঝুঁকিপূর্ণ পেশায় নামতে চায় না, তাছাড়া ব্যবসার জন্য যে পুঁজি দরকার, সেটা তার পরিবারও সার্পোট দিতে পারে না। যার ফলে চাকুরী দিয়েই শুরু হয় তার কর্ম জীবন।
আর চাকুরী মানে যদি শুধু মেধা ও মনন দিয়ে সৎ ও নিষ্ঠার সাথে কাজ করে যাওয়া হতো, তাহলে কোন সমস্যা ছিলনা। অফিস যেন এক যুদ্ধ ক্ষেত্র । এখানেও আছে নোংরা পলিটিকস, কাদা ছোড়াছড়ি, বেতন ও পদ নিয়ে আছে চামচামি, আছে মালিক পক্ষ্যের বৈষম্য; আর এসব যুদ্ধে তারাই বার বার সফল হয়, যাদের মুখে আছে ঘড়াভর্তি তেল, অনভিজ্ঞ হাত দুটোর ফাঁকিবাজি সত্ত্বেও নিজেকে ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে দেখানোর ক্যারিসমা। মালিক পক্ষও এটাই চায়। তার মানে বলা যায়, বাঙালি শুধু তরকারিতেই তেল-মসলা বেশি খায় না, চামচামিটাও খুব আয়েশ করে খায়।
অথচ একজন নিষ্ঠাবান ও কর্মঠো মানুষ এগুলো করতে পারেনা বলেই তাকে পিছিয়ে পড়তে হয় তার ন্যায্য প্রাপ্য থেকে, বঞ্চিত হতে হয় পদে পদে। এভাবে ছোট ছোট ক্ষোভ জমা হতে হতে একদিন চাকর কাম চাকুরী নামক এই পেশাটার উপরই ঘৃণা জন্মায়। মনে হয়, ধুর, শালার চাকুরীটাই আর করব না। কিন্তু এটা ভাবা বা বলা যত সহজ চাকুরীটা ছেড়ে দেওয়া ততটা সহজ না। তার জন্য ভাবতে হয়, আকাশ পাতাল ভাবতে হয়।
তবে এ অসম্মান থেকে বেরিয়ে আসার একটা পথ সব সময়ই খোলা থাকে, সেটা হলো বর্তমান চাকুরীটা ছেড়ে দিয়ে নতুন কোথাও উচ্চ পদে জয়েন করা। কিন্তু কথায় আছে, ঘর পোড়া গরু সিদুরে মেঘ দেখলে ভয় পায়। কারণ নতুন কোন অফিসেও সে যে কাজের পাশাপাশি যথাযত সম্মান পাবে, তার গ্যারান্টি কি ? সেখানেও তো ঘড়া ঘড়া তেল নিয়ে বসে থাকতে পারে চামচা মিয়ার বড় ভাইয়েরা !
এতো গেলো জায়গা মত তেল দিতে না পারা ব্যর্থ চাকুরীজীবীদের হাহাকার, দুঃখ, হাল, হকিকত; যথা সম্মান ও পদ প্রত্যাশানুযায়ী না পাওয়া । এরকম অারো ভিন্ন ধরনের উদাহরণ দেওয়া যায় বড় বড় কিছু ব্যবসায়ীর ক্ষেত্রে, যারা শুধু সম্মানের আশায় রাজনীতির গার্বেজে ময়লা ঘাটতে নামে, কাড়ি কাড়ি টাকা খরচ করে নমিনেশন কিনে, প্রথমে সংসদ সদস্য এবং পরে মন্ত্রী হওয়ার আশায় । তাদের অনেক টাকা থাকার পরও একটা সময় মনে করে সম্মানটাও খুব জরুরী। যদিও এ সম্মানটা আরো অনেক ভাবেই অর্জন করা যায়।
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই অক্টোবর, ২০১৮ বিকাল ৪:৩৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



