somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নর্স মিথলজি – ১ (থর – Thor)

২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৬ রাত ১১:০৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
নরওয়ে, সুইডেন, ফিনল্যান্ড, ডেনমার্ক আর আইসল্যান্ড – এই পাঁচটি স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশের পৌরাণিক কাহিনীগুলোকে আমরা নর্স মিথলজি হিসেবে জানি।
থরঃ-


নর্স মিথলজির সবচেয়ে বিখ্যাত দেবতাদের মধ্যে থর একজন। তার নামের অর্থ বজ্রধ্বনি। তিনি একাধারে বজ্র, বিদ্যুৎ, ঝড়, ওক গাছ, শারীরিক শক্তি, মানবজাতির সুরক্ষা এবং পবিত্রকরণ অনুষ্ঠান, আরোগ্য ও উর্বরতার দেবতা। মেঘের গর্জনের এ দেবতা বিখ্যাত হয়ে আছেন তার যোদ্ধা পরিচিতির জন্য। দৈত্যদের আক্রমণ থেকে এসির দেবতাদের রক্ষা করার দায়িত্ব খুব ভালোভাবেই পালন করেন তিনি।
নর্স পুরাণে থর হলেন একজন হাতুড়িধারী দেবতা। জার্মানিক পুরাণ ও প্যাগানিজমে থরের অনুরূপ দেবতার নাম নাম পাওয়া যায়। তারা হল- ইংরেজিতে Þunor এবং জার্মান ভাষায় Donar (রুনিক লিপিতে þonar)। শব্দটির উৎস সাধারণ জার্মানিক *Þunraz শব্দটি, যার অর্থ “ঝড়”।
শারীরিক সামর্থ্য ও সাহসের দিক থেকে থর অন্য প্রায় সবার উপরে রয়েছেন। সাথে যুক্ত হয়েছে তার অসাধারণ হাতিয়ার এক হাতুড়ি। এর নাম মিওনির বা বজ্রপাত।
ভাইকিং যুগেও থর খুব জনপ্রিয় দেবতা ছিলেন। সেই সময় স্ক্যান্ডিনেভিয়ায় খ্রিস্টধর্ম প্রচারের কাজ চলছিল। সেই অবস্থাতেও থরের প্রতীক হাতুড়ি “জলনির” মানুষ গর্বের সঙ্গে ধারণ করত এবং থরের নর্স প্যাগান ব্যক্তিগত নামটির বহুল ব্যবহার তাঁর জনপ্রিয়তার পরিচয় বহন করছে। আধুনিক যুগেও সারা জার্মানিক অঞ্চলের লোককথায় থরের উল্লেখ পাওয়া যায়। বিভিন্ন স্থাননামে থরের উল্লেখ আছে। “থার্সডে” (বৃহস্পতিবার) কথাটি “থর’স ডে” বা “থরের দিন” কথাটি থেকে এসেছে। প্যাগান যুগ থেকে প্রচলিত থরের নামাঙ্কিত নামগুলির প্রচলন এখনও আছে।


নর্স পুরাণে স্ক্যান্ডিনেভিয়ার প্রচলিত পুরাণকথায় থর সম্পর্কে আরও অনেক গল্প ও তথ্য আছে। এই সূত্র থেকে থরের চোদ্দোটি নাম পাওয়া যায়। জানা যায়, তিনি সোনালি চুলবিশিষ্ট দেবী সিফের স্বামী এবং জটুন ও জার্নসাজার প্রেমিক। তাঁর চোখদুটিকে ভয়ানক বলা হয়েছে। তাঁর মাথার চুল ও দাড়ির রং লাল বলে উল্লেখ করা হয়েছে। থরের ঔরসে সিফের গর্ভে তিনি এক দেবী (সম্ভবত ভালকিরি) ব্রুনরের জন্ম দেন। জার্নসাজার গর্ভে জন্ম নেন থরের সন্তান মাগনি। তিনি মনিরও পিতা, তবে মনির মায়ের নাম জানা যায় না। দেবতা উল্লর তাঁর সৎপিতা। একই সূত্র থেকে জানা যায় তিনি ওডিন ও পৃথিবী দেবী জোরগিনের সন্তান। ওডিনের সূত্রে থরের অনেকগুলি ভাই আছে। থরের দুই পরিচারক জালফি ও রোস্কভা। তিনি দুই ছাগলে টানা গাড়িতে ভ্রমণ করেন। তাঁর তিনটি বাসস্থান। থর হাতে ধরে থাকেন জলনির নামে একটি পাহাড়-ভাঙা হাতুড়ি। তিনি বেল্ট ও লোহার হাতমোজা পরে থাকেন। তাঁর গ্রিনারভোল নামে এক কর্মচারী আছে। থর জরমুনগান্ডার নামে এক বিশাল সাপের দ্বারা ভয়ংকর যুদ্ধে তাঁর শত্রুদের হত্যা করে থাকেন।
হলিউডের কল্যাণে থর ও আরেক দেবতা লোকির দ্বন্দ্বের কথা আমরা সবাই জানি। কিন্তু থরের সবচেয়ে বড় শত্রু হলো সাগরের এক সাপ। ইয়রমুনগার্ড নামের এ বিশালকায় ড্রাগন মিডগার্ড বা মানবসভ্যতাকে পেঁচিয়ে রয়েছে। মিথলজি অনুযায়ী থর ও ইয়রমুনগার্ডের মধ্যে দুইবার বড় যুদ্ধ হয়। দ্বিতীয় যুদ্ধে তারা একে অন্যকে হত্যা করেন। এর মধ্য দিয়ে ধ্বংস হয়ে যায় মহাবিশ্ব।
তথ্যসূত্রঃ উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন বাংলা ব্লগ
মিথ সম্পর্কে আরও তথ্য আমার ব্লগে
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৬ রাত ১১:১২
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দেশ ভ্রমনঃ মেহেন্দীগঞ্জ উলানিয়া_জমিদার বাড়ি

লিখেছেন মৌন পাঠক, ০২ রা আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫৭

আপনি যদি ঢাকায় থাকেন, তবে কোনো এক বিকেল কিংবা সন্ধ্যায় চলে যান সদরঘাটে। সেখান থেকে উলানিয়াগামী কোনো একটি লঞ্চে উঠে পড়ুন। লঞ্চের ম্যানেজারের সঙ্গে কথা বলে এক পাশের একটি কেবিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

I Have a plan / মুচলেকা দিয়ে যাওয়া এবং মুচলেকা দিয়ে ফেরত আসা সরকারের রাষ্ট্র ‼️

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ ভোর ৫:৪৬





ওয়াশিংটন – যদিও তিনি এমন একটি নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসেছেন যার বৈধতা নিয়ে ব্যাপক প্রশ্ন রয়েছে, এবং শক্তিশালী মহলের প্ররোচনায় যাদের হস্তক্ষেপ কখনোই সন্দেহের বাইরে ছিল না, তারেক... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড় কাউকে জয়ী হতে দেয় না

লিখেছেন মুনতাসির, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:১১




আমরা প্রায়ই বলি, অমুক এভারেস্ট জয় করেছেন, তমুক কে-টু জয় করেছেন, অমুক অন্নপূর্ণা জয় করেছেন। শব্দটি এতটাই প্রচলিত যে আমরা আর ভাবিই না—আসলে কি পাহাড়কে জয় করা যায়?

আমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

এনসিপিকে মারছে কেন? (অথবা) এনসিপি মার খাচ্ছে কেন?

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:৪০


(ইহা নাকি এনসিপিকে পিষিয়ে মারবে!)

এনসিপিকে মারছে কেন (?) অথবা এনসিপি মার খাচ্ছে কেন? প্রশ্ন দুটো হলেও আদতে প্রশ্ন একটাই উত্তরও একটাই। বিগত ১৫/১৬ বছর অর্থাৎ খুনি হাসিনার আমলে যাহারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

জুলাই আন্দোলনের সম্ভাবনাময়, রৌদ্রোজ্জ্বল মুখগুলো ডানপন্থার অনুরাগী হচ্ছে! দায় কার?

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০৩



জুলাই আন্দোলনের অন্যতম সেই আইকনিক ফটো--যেখানে দেখা যাচ্ছিল একটা ভার্সিটির ফাস্ট কি সেকেন্ড ইয়ারের মেয়ে পুলিশের গাড়ি আটকাচ্ছে, ওর ভার্সিটির এক বড় ভাইকে পুলিশের গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×