মনের গুনে কেহ মহাজন হয়
আপনি দেখবেন যে ,সকলপ্রকার অনিয়মের জন্য নিজের দোষ শোধরানোর মত সৎ মনোভাব, খুব কম লোকের আছে ।কিন্তু কেন ?কারন
সব কিছু যে মনের মত হয় না ।
আমরা যা ভাবি তার সবকিছু আন্তরিক হয় না।মন সবকিছু সমানভাবে গ্রহন করে না ।মানুষের মন সবচেয়ে সংবেদনশীল যন্ত্র ।কিছু কিছু পরিস্থিতি মনের উপর সরাসরি প্রভাব ফেলে –মনের স্বাভাবিক গতি হারিয়ে যায় ।
অস্থিরতা ,হীনমন্যতা আমাদের নিত্যদিনের কর্মশালা ।আমরা ভাবি,কল্পনা করি – কখনও ইতিবাচক কখনও নেতিবাচক ।ইতিবাচক ভাবনাগুলো আমাদের শান্ত করে , ধৈর্যশীল , দৃঢ় ও নিজের প্রতি ট্রাস্ট হতে শেখাই ।নেতিবাচকতা আমাদের সমস্ত প্লান নস্যাৎ করে –অস্থিরতা ।হতাশার অতল গহব্বরে (অতলান্তিক) নিয়ে যায় ।পালানোর কোন পথ খুঁজে পায় না ।
আসলে কি –মন এবং ধ্যান এক না হলে সবকিছু মনের মত হয় না ।আমাদের চাওয়ার সাথে গভীর অন্তঃকরণের সংযোগ দরকার।
মন কি ?এটা বলার আগে ধ্যান কি?ধ্যান সম্পর্কে একটু কড়চা করি ।
উদ্দেশ্যের সাথে লক্ষ্যপূরণের মনছবি – দৃশ্যপটায়ন যোগ করার নাম ধ্যান ,সহজ কথাই আমি যা চায় তা কল্পনা করা । অন্তঃকরণের মাধ্যমে চর্ম্ম চক্ষুর ভিতরে তার ছবি আঁকা ।কারন শিকারীর শিকারে দুই চোখ লাগেনা । লক্ষ্যভেদ করার সময় একচোখ বন্ধ রেখে গুলি ছোড়া লাগে।আর শিকারী এ কাজ দৃঢ়তার সাথে করে।
তেমনি ধ্যানযোগীকে হতে হয় একমুখি ,আর লক্ষ্য পূরণের জন্য সীমাহীন আত্মপ্রত্যয়ী ।রঙ তুলি হাতে নিয়ে শিল্পী প্রথমে শুধুই কল্পনা বা অন্তরচক্ষুর দার open করেন ।পরে তার একটা দৃশ্যপট ফুটিয়ে তোলেন ,তার পর আঁকাজোকা ,ঘসা মাজা,ভিম হারপিক এই আর কি ।শেষ করি লালনের (সাঁইজী ) একটা গান দিয়ে ।
মন বিবাগী বাগ মানে না রে।
যাতে অপমৃত্যু হবে তাই সদায় করে।।
কিসে হবে আমার ভজন সাধন
মন হল না আমার মনেরই মতন
দেখে শিমুল ফুল
সদাই বেয়াকুল
(মনকে) বুঝাইতে নারি জনম ভরে।।
মনের গুনে কেহ মহাজন হয়
ঠাকুর হয়ে কেহ নিত্য পূজা খায়
আমার এই মনে তো
আমার করলে হত
দুকূলো হারাইলাম মনেরই ফেরে।।
মনের মত মনকে পেলাম না
কিরূপে আজ করি সাধনা
লালন বলে, আমি
হলাম পাতালগামী
কি করিতে এসে, গেলাম কি করে।।
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে নভেম্বর, ২০১৫ রাত ১০:৪৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




