somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রোকসানা লেইস
স্রোতের অজানা টানে সমুদ্র বালিয়াড়ি বেয়ে বোহেমিয়ান- গৃহকোন, জীবন যাপন ফেলে চলে যায়। তুমি দুহাত বাড়িয়ে আলিঙ্গনে বাঁধতে চাও জোছনা গলে হারিয়ে যায় সুখ । আছড়ে পরা ঘূর্ণিজল মনে বাজায় অচেনা সবুজ দিগন্ত ..

শিমুল ফুলের কাছে শিশির আনতে গেছে সমস্ত সকাল

০৫ ই আগস্ট, ২০২১ ভোর ৪:১৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

উনত্রিশ বছর তার জীবন সময়ে মাত্র দশ বছর তার কাব্য জীবন। সৃজনশীল আধুনিক কবি হিসাবে আজও তিনি বিখ্যাত। এত অদ্ভুত সুন্দর চিন্তা। চিত্রকল্প একটা লাইন পরে হাজার ভাবনায় ডুবে যাই বারেবারে তাঁর লেখা পড়ে। একসময় মুখস্ত ঠোঁটস্ত ছিল সব কবিতা। এত্ত সুন্দর করে মানুষ কি ভাবে লিখতে পারে। এত ব্যাপ্তী চিন্তার। অথচ খুব অল্প সময় পেলেন তা প্রকাশ করার। তবে যা রেখে গেলেন, লিখে গেলেন তা অতুলনীয়। এখনো তেমন করে কাব্য ভাণ্ডারে তাঁর উজ্জ্বল উপস্থিতি বাংলা সাহিত্যে রয়ে যাবে।


ঝিনুক নীরবে সহো

ঝিনুক নীরবে সহো, ঝিনুক নীরবে সহে যাও
ভিতরে বিষের বালি, মুখ বুজে মুক্তা ফলাও!
এই দুটো লাইন যেন ছিল আমাদের বাইবেল। কথায় কথায় একে তাকে আমরা ঝিনুক নীরবে সহো বলেই শান্তনা দিতাম। কিন্তু নীরবে সওয়ার মাঝে বিষের বালি থেকে যে মুক্ত ফলানো সম্ভব সেটা যেন মনে ততটা বিস্তৃতি পেত না তখনও। মুখস্তর মতন কাব্য বলে যাওয়ায়। কিন্তু যত দিন গেলো অভিজ্ঞতা বাড়ল বুঝতে পারলাম। কি অসাধারন কথা বলে গেছেন। বিষের বালি থেকে মুক্ত গড়ে উঠবে। উপভোগ করলাম দেখলাম কত চোখের সামনে । মানুষ মুক্ত গড়ছে বিষের বালি থেকে। সম্ভব কবির বলে যাওয়া মিথ্যা নয়

বনভূমিকে বলো

বনভূমিকে বলো, বনভূমি, অইখানে একটি মানুষ
লম্বালম্বি শুয়ে আছে, অসুস্থ মানুষ
হেমন্তে হলুদ পাতা যেরকম ঝরে যায়,
ও এখন সে রকম ঝরে যাবে, ওর চুল, ওর চোখ
ওর নখ, অমল আঙুল সব ঝরে যাবে,
বনভূমিকে বলো, বনভূমি অইখানে একটি মানুষ
লম্বালম্বি শুয়ে আছে, অসুস্থ মানুষ
ও এখন নদীর জলের স্রোতে ভেসে যেতে চায়
ও এখন মাটি হতে চায়, শুধু মাটি
চকের গুঁড়োর মতো ঘরে ফিরে যেতে চায়,
বনভূমিকে বলো, বনভূমি ওকে আর শুইয়ে রেখো না !

ওকে ঘরে ফিরে যেতে দাও। যে যাবার
সে চলে যাক, তাকে আর বসিয়ে রেখো না।
হয়তো খুব অল্প বয়সে অসুস্থ হয়ে যাওয়ায় জীবনের সুখের চেয়ে অসুখের কথা তার বেশি মনে হতো। কল্পনার বাহনে চড়ে অনেক পৃথিবী ভ্রমণের ইচ্ছে হলেও নিরবে বনভূমির মাঝেই শব দেহের শুয়ে থাকা যেন জীবনের বাস্তবতা। অথচ মন ঘরে ফিরতে চায় মন উড়ে জীবনের সুখ পেতে চায়। কেমন এক আঁধার জড়িয়ে ধরে এ কবিতা পড়ার পর। মন খারাপের বৃষ্টি নামে। চকের গুঁড়োর মতনও সে যদি ফিরে আসতে পারত সংসারে। আহা।


তোমার চিবুক ছোঁব,কালিমা ছোঁব না

এ ভ্রমণ আর কিছু নয়, কেবল তোমার কাছে যাওয়া
তোমার ওখানে যাবো, তোমার ভিতরে এক অসম্পূর্ণ যাতনা আছেন,
তিনি যদি আমাকে বলেন, তুই শুদ্ধ হ’ শুদ্ধ হবো
কালিমা রাখবো না!

এ ভ্রমণ আর কিছু নয়, কেবল তোমার কাছে যাওয়া
তোমার ওখানে যাবো; তোমার পায়ের নীচে পাহাড় আছেন
তিনি যদি আমাকে বলেন, তুই স্নান কর
পাথর সরিয়ে আমি ঝর্ণার প্রথম জলে স্নান করবো
কালিমা রাখবো না!

এ ভ্রমণ আর কিছু নয়, কেবল তোমার কাছে যাওয়া
এখন তোমার কাছে যাবো
তোমার ভিতরে এক সাবলীল শুশ্রূষা আছেন
তিনি যদি আমাকে বলেন, তুই ক্ষত মোছ আকাশে তাকা–
আমি ক্ষত মুছে ফেলবো আকাশে তাকাবো
আমি আঁধার রাখবো না!

এ ভ্রমণ আর কিছু নয়, কেবল তোমার কাছে যাওয়া
যে সকল মৌমাছি, নেবুফুল গাভীর দুধের সাদা
হেলেঞ্চা শাকের ক্ষেত
যে রাখাল আমি আজ কোথাও দেখি না– তোমার চিবুকে
তারা নিশ্চয়ই আছেন!

তোমার চিবুকে সেই গাভীর দুধের শাদা, সুবর্ণ রাখাল
তিনি যদি আমাকে বলেন, তুই কাছে আয় তৃণভূমি
কাছে আয় পুরনো রাখাল!
আমি কাছে যাবো আমি তোমার চিবুক ছোঁবো, কালিমা ছোঁবো না!।

শুধু চিবুককে ঘিরে পৃথিবী ঘুরে আসা এই যে বিশাল চিত্রকল্প তিনি আঁকতে পারতেন। এর কোন তুলনা হয়না। শুধু পাঠে মুগ্ধ হই আর নিবেদিত হই। বুদ হয়ে রই তার কাব্য শব্দ ভাণ্ডারে নিমগ্ন মুগ্ধতায়।


আমি অনেক কষ্টে আছি

আমার এখন নিজের কাছে নিজের ছায়া খারাপ লাগে
রাত্রিবেলা ট্রেনের বাঁশি শুনতে আমার খারাপ লাগে
জামার বোতাম আটকাতে
অমন কেন যত্ন করে লাগিয়ে দিতে?
অমন কেন শরীর থেকে
আস্তে আমার ক্লান্তিগুলো উঠিয়ে নিতে?
তোমার বুকের নিশিথ কুসুম
আমার মুখে ছড়িয়ে দিতে?


জুতোর ফিতে প্রজাপতির মতন তুমি উড়িয়ে নিতে?
বেলজিয়ামের আয়নাখানি কেন তুমি ঘরে না রেখে
অমন কারুকাজের সাথে তোমার দুটি চোখের মধ্যে রেখে দিতে?
রেখে দিতে?
আমার এখন চাঁদ দেখতে খারাপ লাগে
পাখির জুলুম, মেঘের জুলুম, খারাপ লাগে

কথাবার্তায় দয়ালু আর পোশাকে বেশ ভদ্র মানুষ
খারাপ লাগে,
এই যে মানুষ মুখে একটা মনে একটা
খারাপ লাগে
খারাপ লাগে
মোটের উপর আমি এখন কষ্টে আছি,
কষ্টে আছি বুঝলে যুথী
আমার দাঁতে আমার নাকে, আমার চোখে কষ্ট ভীষণ
চতুর্দিকে দাবী আদায় করার
মতো মিছিল তাদের কষ্ট ভীষণ
বুঝলে যুথী,
হাসি খুশী উড়নচন্ডী মানুষ
আমার তাইতো এখন খারাপ লাগে
খারাপ লাগে
আর তাছাড়া আমি কি আর যীশু না হাবিজাবি
ওদের মতো সব সহিষ্ণু?
আমি অনেক
কষ্টে আছি কষ্টে আছি কষ্টে আছি ।।

অথবা যদি বলি
দেখা হলো যদি আমাদের দুর্দিনে
আমি চুম্বনে চাইব না অমরতা!
আমাদের প্রেম হোক বিষে জর্জর
সর্পচূড়ায় আমরা তো বাঁধি বাসা।

ইংরেজি সাহিত্যের ছাত্র আবুল হাসানের সাথে প্রেম সে সময়ের বিখ্যাত সুন্দরী এবং গুণী নারী সুরাইয়া খানমের। যার প্রেম পাওয়ার জন্য অনেকেই উন্মুখ সে ভালোবাসে কৃষকায় রুগ্ন ছেলেটিকে। রুগ্ন বা কৃষকায়ার ভিতরে জাগোয়ার শক্তি বা উদ্দিপ্ত আলোর শিখা তা হয়তো একজন সুরাইয়া খানম আবিস্কার করেছিলেন।
যে প্রেম অনেক দূর এগিয়ে যাবে না হাতধরাধরি করে তা হয় তো বুঝতে পেরেছিলেন ক্ষণজন্মা কবি । তাই তো তিনি প্রতিক্ষণের কষ্ট তবু উড়িয়ে দেন, বলেন আমি চুম্বনে চাইব না অমরতা! আমাদের প্রেম হোক বিষে জর্জর। সর্পচূড়ায় আমরা তো বাঁধি বাসা।
একবার একটি গল্প শুনেছিলাম, সায়ীদ স্যারের কাছে।
সে সময় বাংলা একাডেমির বইমেলা চলছে। আমার প্রথম কবিতার বই প্রকাশ পেয়েছে সেবার। প্রতি দিন বইমেলায় যেতাম। আর রাত আটটায় দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফিরার পথে বটতলায় আমাদের আডডা জমে উঠত। আসলে অনেক বড় কবিরা এক সাথে গল্প আড্ডায় মেতে উঠতেন। আমি বলা যায় সর্ব কনিষ্ঠ। তাদের গল্প শুনতাম।
সেখানে থাকতেন আব্দুল্লাহ আবু সায়ীদ, মহাদেব সাহা, নির্মলেন্দু গুণ, রফিক আজাদ,রুদ্র মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ, আনিসুল হক সে সময়ে বিটিভির জনপ্রিয় টেলিভিশন উপস্থাপক ছিলেন। পরে ঢাকা উত্তরা সিটি কর্পোরেশনের প্রথম মেয়র নির্বাচিত হন। আনিসুল হক এক একটা প্রশ্ন করতেন আর এক একজন তার উত্তরে নানান মজার গল্প বেরিয়ে আসত। গল্প বেশি করতেন আবু সায়ীদ, নির্মলেন্দু গুণ, রফিক আজাদ।
সায়ীদ স্যার যদিও তিনি আমার সরাসরি স্যার না উনাকে আমি চিনি অন্যদের স্যার হিসাবে আর নিজে বিটিভির জনপ্রিয় অনুষ্ঠান চতুরঙ্গের উস্থাপক হিসাবে উনাকে চিনি।
গল্পটা ছিল এমন। তখন সবারই তরুণ বয়স। একটা লেখা লিখে বন্ধুদের সাথে শেয়ার না করা পর্যন্ত মনে শান্তি হয় না।
এমন অবস্থায়। আবুল হাসান একটা কবিতা লিখেছেন। পরদিন প্রেমিকাকে দিবেন। কিন্তু তার আগে কবিতাটা বন্ধুদের দেখিয়ে নেয়ার জন্য হন্যে হয়ে খুঁজছেন সবাইকে। হাঁটতে হাঁটতে উনার পায়ের চটির শুকতলা খুলে পরছে। বন্ধুদের দেখা পাচ্ছেন না। সে সময় তো আর এমন ফোনে যোগাযোগের সুযোগ ছিল না।
যা হোক এক সময় মধুর কেন্টিনের সামনে দেখা হলো। সবাই নানা কথা বলায় ব্যাস্ত। আবুল হাসান এক সময় সবাইকে থামিয়ে দিয়ে নিজের কবিতাটি শুনাতে চাইলেন। সবাই মনেযোগ দিয়ে অপেক্ষা করছেন সদ্য লেখা পদ্য খানী শোনার জন্য।
সার্টের বুক পকেট থেকে ভাঁজ করা কাগজ বের করে আবুল হাসান পড়ছেন অনেক আবেগ তাড়িত হয়ে। এদিকে বন্ধুরা কেউ হাসি চাপতে পারছেন না। পড়া শেষ করে সবার মতামত চাইছেন।
আর সবাই হো হো করে হেসে উঠছেন।
বেচারা বুঝতে পারছেন না বন্ধুরা এমন করছে কেন।
উনার কবিতার লাইন ছিল এমন তুমি আমার ভালোবাসা সারমেয়। এবং বেশ অনেক বার নানা ভাবে সারমেয় শব্দটি ভালোবাসা সরূপ ব্যবহার হয়েছে।
পরে বন্ধুরা বললেন। এই কবিতা দিলে প্রেমিকা চটি খুলে মারতে বাকি রাখবেন না। আর প্রেম ছুটে যাবে তাতক্ষনিক।
সারমেয় শব্দের অর্থ জেনে নিজেও অনেক হাসলেন। তবে শব্দটি ভীষণ ভালো লেগেছিল তাই কবিতায় ব্যবহার করেছিলেন জানালেন।
আসলে বাংলা ভাষায় অনেক শব্দ কঠিন। আর সব সময় ব্যবহার হয় না বলে অর্থ জানাও মুশকিল।




গোলাপের নীচে নিহত হে কবি কিশোর

গোলাপের নীচে নিহত হে কবি কিশোর আমিও ভবঘুরেদের প্রধান
ছিলাম ।
জোৎস্নায় ফেরা জাগুয়ারা চাঁদ দাঁতে ফালা ফালা করেছে আমারও
প্রেমিক হৃদয় !
আমিও আমার প্রেমহীনতায় গণিকার কাছে ক্লান্তি
সঁপেছি
বাঘিনীর মুখে চুমু খেয়ে আমি বলেছি আমাকে উদ্ধার দাও !
সক্রেটিসের হেমলক আমি মাথার খুলিতে ঢেলে তবে পান করেছি মৃত্যু
হে কবি কিশোর
আমারও অনেক স্বপ্ন শহীদ হয়েছে জীবনে কাঁটার আঘাত সয়েছি
আমিও ।
হৃদয়ে লুকানো লোহার আয়না ঘুরিয়ে সেখানে নিজেকে দেখেছি
পান্ডুর খুবই নিঃস্ব একাকী !
আমার পয়ের সমান পৃথিবী কোথাও পাইনি অভিমানে আমি
অভিমানে তাই
চক্ষু উপড়ে চড়ুইয়ের মতো মানুষের পাশে ঝরিয়েছি শাদা শুভ্র পালক !
হে কবি কিশোর নিহত ভাবুক, তেমার দুঃখ আমি কি বুঝি না ?
আমি কি জানি না ফুটপাতে কারা করুণ শহর কাঁধে তুলে নেয় ?
তোমার তৃষ্ণা তামার পাত্রে কোন কবিতার ঝিলকি রটায় আমি কি
জানি না
তোমার গলায় কোন গান আজ প্রিয় আরাধ্য কোন করতলও হাতে লুকায়
আমি কি জানি না মাঝরাতে কারা মৃতের শহর কাঁধে তুলে নেয় ?
আমারও ভ্রমণ পিপাসা আমাকে নারীর নাভিতে ঘুরিয়ে মেরেছে
আমিও প্রেমিক ক্রবাদুর গান স্মৃতি সমুদ্রে একা শাম্পান হয়েছি
আবার
সুন্দর জেনে সহোদরকেও সঘন চুমোয় আলুথালু করে খুঁজেছি
শিল্প ।
আমি তবু এর কিছুই তোমাকে দেবো না ভাবুক তুমি সেরে ওঠো
তুমি সেরে ওঠো তোমার পথেই আমাদের পথে কখনও এসো না,
আমাদের পথ
ভীষণ ব্যর্থ আমাদের পথ

সেরে উঠা হলো না প্রেমিকা এবং পৃথিবীর সৌন্দর্য ছেড়ে ক্ষণজন্মা কবি চলে গেলেন জন্ম চার আগস্ট ১৯৪৭।
মৃত্যু ছাব্বিশ নভেম্বর ১৯৭৫। মৃত্যুর পরে তাকে দেয়া হয় বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ১৯৭৫ সালে। একুশে পদক ১৯৮২ সনে।
কবি চলে গেছেন রেখে গেছেন তার অসাধারন ভাবনার ভাণ্ডার ।
আমার লেখা মূখ্য নয় আসুন কবিকে স্মরন করি আজ তার জন্মদিনে। এবং পড়ি তার কিছু কবিতা । হারাই ভাবনার চিত্রকল্প জল্পনার পৃথিবীতে তাকে ঘিরে।
উদিত দুঃখের দেশ

উদিত দুঃখের দেশ, হে কবিতা হে দুধভাত তুমি ফিরে এসো!
মানুষের লোকালয়ে ললিতলোভনকান্তি কবিদের মতো
তুমি বেঁচে থাকো
তুমি ফের ঘুরে ঘুরে ডাকো সুসময়!
রমণীর বুকের স্তনে আজ শিশুদের দুধ নেই প্রেমিক পুরুষ তাই
দুধ আনতে গেছে দূর বনে!
শিমুল ফুলের কাছে শিশির আনতে গেছে সমস্ত সকাল!
সূর্যের ভিতরে আজ সকালের আলো নেই সব্যসাচীরা তাই
চলে গেছে, এখন আকাল
কাঠুরের মতো শুধু কাঠ কাটে ফল পাড়ে আর শুধু খায়!
উদিত দুঃখের দেশ তাই বলে হে কবিতা, দুধভাত তুমি ফিরে এসো,
সূর্য হোক শিশিরের ভোর, মাতৃস্তন হোক শিশুর শহর!
পিতৃপুরুষের কাছে আমাদের ঋণ আমরা শোধ করে যেতে চাই!
এইভাবে নতজানু হতে চাই ফলভারানত বৃক্ষে শস্যের শোভার দিনভর
তোমার ভিতর ফের বালকের মতো ঢের অতীতের হাওয়া
খেয়ে বাড়ি ফিরে যেতে চাই!
হে কবিতা তুমি কি দ্যাখোনি আমাদের ঘরে ঘরে তাঁতকল?
সাইকেলে পথিক?
সবুজ দিঘীর ঘন শিহরণ? হলুদ শটির বন? রমণীর রোদে
দেয়া শাড়ি? তুমি কি দ্যাখোনি আমাদের
আত্মহুতি দানের যোগ্য কাল! তুমি কি পাওনি টের
আমাদের ক্ষয়ে যাওয়া চোখের কোণায় তুমি কি বোঝোনি আমাদের
হারানোর, সব হারানোর দুঃখ – শোক? তুমি কি শোননি ভালোবাসা
আজও দুঃখ পেয়ে বলে, ভালো আছো হে দূরাশা, হে নীল আশা?




সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই আগস্ট, ২০২১ দুপুর ১২:০০
১০টি মন্তব্য ৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আওয়ামীলীগ ও তার রাজনীতির চারটি ভিত্তি, অচিরে পঞ্চম ভিত্তি তৈরি হবে।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ০১ লা মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৩


বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজনীতি মূলত চারটি বিষয়ের উপর মানুষের কাছে জনপ্রিয়তা পায়।
প্রথমত, মানুষ মনে করে এ দলটি ক্ষমতায় থাকলে স্বাধীনতার সার্বভৌমত্ব রক্ষা পায়। এটা খুবই সত্য যে ১৯৭১ সালে আমাদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ১৯০

লিখেছেন রাজীব নুর, ০১ লা মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৯



আমাদের ছোট্র বাংলাদেশে অনেক কিছু ঘটে।
সেই বিষয় গুলো পত্রিকায় আসে না। ফেসবুকেও আসে না। অতি তুচ্ছ বিষয় নিয়ে মানুষ মাতামাতি করে না। কিন্তু তুচ্ছ বিষয় গুলো আমার ভালো... ...বাকিটুকু পড়ুন

কঠিন বুদ্ধিজীবী

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০১ লা মে, ২০২৬ রাত ৮:৪৪




বুদ্ধিজীবী হওয়া এখন খুব কঠিন কিছু না- শুধু একটু সুন্দর করে কথা বলতে পারলেই হলো। মাথার ভেতর কিছু আছে কি নেই, সেটা বড় বিষয় না; আসল বিষয় হলো,... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেষ বিকেলের বৃষ্টি

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০১ লা মে, ২০২৬ রাত ১০:৩৭


বিকেলের শেষে হঠাৎ বৃষ্টি নামলে
জানালার ধারে দাঁড়িয়ে ছিলে চুপ,
তোমার ওমন ঘন মেঘের মতো চুলে
জমে ছিল আকাশের গন্ধ,
কদমফুলের মতো বিষণ্ন তার রূপ।

আমি তখন পথহারা এক নগর বাউল,
বুকের ভেতর কেবল ধোঁয়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

মরহুম ওসমান হাদীর কারণে কবি নজরুলের জনপ্রিয়তা বেড়েছে?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০২ রা মে, ২০২৬ দুপুর ২:৫৯


ইনকিলাব মঞ্চের জাবের সাহেব মাইকের সামনে দাড়িয়ে যখন বললেন , শহীদ ওসমান হাদীর শাহাদাতের উসিলায় নাকি এদেশের মানুষ আজ কবি নজরুলের মাজার চিনতে পারছে, তখন মনে হলো... ...বাকিটুকু পড়ুন

×