আজ অনেকদিন পর লিখতে বসলো যায়শা।হুম অনেকদিন, বাবা মারা যাবার পর থেকে যেন লেখা লিখিটা বন্ধই হয়ে গিয়েছিল।
অনেক চেষ্টা করেছিল আবার নতুন করে জীবনটাকে সাজিয়ে গুছিয়ে নিতে।কিন্তু তা আর শতচেষ্টা করেও যেন হয়ে উঠলো না।জীবনটা যেন থমকে আছে এখনও।
ধীরে ধীরে করে নিজেকে যেন আলো থেকে চারদেয়ালের অন্ধকারে নিয়ে যাচ্ছিলো।
আজ কয়েক বছর ধরে যেন সূর্যের সাথে আড়ি দিয়ে সখ্যতা গড়ে তুলেছে রাতের অন্ধকারের সাথে।
আর তাইতো সকালের সূর্যের আগমনের সাথে সাথে ঘুমোতে যায় আর সন্ধ্যার পর ঘুম থেকে উঠে তার সেই একাকীত্ব জীবন আর রাতের অন্ধকারের সাথে সখ্যতা।
আজকাল তার দৈনন্দিন জীবনই যেন শুরু হয় রাতের অন্ধকারের আগমন বার্তার সাথে।
বৃষ্টিতে ভেজা হয়না অনেকদিন,হয়ে উঠেনা সকালের কুয়াশাচ্ছন্ন আলোতে হেঁটে আসা।
পার্কের সেই ব্রেঞ্চটিতে বসে খাওয়া হয়না বাদাম বন্ধুদের সাথে।
ধীরে ধীরে সকল চেনা মুখগুলো যেন অচেনার ভিড়ে হারিয়ে যাচ্ছে দিন দিন।
যেসকল বন্ধুদের সাথে দেখা না হলে দিনটাই শুরু হতো না,সেইসব বন্ধুরা আজ আর একটা খবরই নেয়না দেখা করা সে তো অনেকদূর।
কোথায় যেন হারিয়ে গেলো চিরচেনা সেই মুখগুলো।
ঠিক সেই মুহূর্তে কোথাও থেকে যেন এক পশলা বৃষ্টির মতো ভিজিয়ে দেয়ার জন্য সাদা মেঘ হয়ে খুশির বার্তা নিয়ে আগমন হয় নীলের।
একগেয়ে জীবনটাকে আবার নতুন করে রাঙিয়ে দিতেই যেন তার আগমন।
ঘরের অন্ধকার থেকে টেনে হিঁচড়ে বের করে আবারও সূর্যের আলোর সাথে পরিচয় করিয়ে দিলো।
ঘর থেকে বের হয়ে সূর্যের আলোর সাথে সাথে হিমেল হাওয়াটা যখন আমার শরীর স্পর্শ করলো মনে হলো আমি উড়ছি,আমি উড়ছি সাদা মেঘের সাথে ঐ নীল আকাশে।
খুব জড়িয়ে ধরতে বলতে ইচ্ছে করছিল নীলকে কোথায় ছিলে তুমি এতদিন? কেন আরও আগে এলেনা আমার জীবনে?
কিন্তু বলতে গিয়ে বলা হলোনা কথাগুলো।
ধীর পায়ে এগিয়ে গিয়ে হাতটা ধরলো যায়শা,নীলের কাঁধে মাথা রেখে দুজনে শেষ বিকেলের আলোয় ঝিলের পানিতে সূর্যের প্রতিচ্ছবিটার সাথে সাথে নিজেদের না বলা কথাগুলো হয়তো নিরবতার সাহায্যে বুঝিয়ে দিচ্ছে একে অপরকে।
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই জুন, ২০১৫ সন্ধ্যা ৭:৫৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




