কিছুসংখ্যক মানুষের জন্য সকল মুসলিম জাতিকে গালাগালি করা বা নবী (সঃ)কে,বা আল্লাহ্ কে গালমন্দও করারও কোন যুক্তি অন্তত আমি খুঁজে পাই না।
ছোটবেলা স্কুলে পড়াকালীন অবস্থায়ও অনেক ধর্ম ভেদাভেদ দেখেছি।ধর্ম ক্লাসের সময় হিন্দু বা অন্য ধর্মের ছাত্রদের নিজের ক্লাসরুম ছেড়ে অন্য রুমে গিয়ে পড়তে দেখেছি।সেটাতে কি আমার কোন ভুল ছিল যে আমি মুসলিম ছাত্র?
না, সেটা ছিল আমাদের সমাজের কিছুসংখ্যক মানুষের তৈরি ব্যবস্থা।
নিজের ইসলাম ধর্ম ক্লাস ফেলে কত যে হিন্দু ধর্ম ক্লাস করেছি তার হিসেব নেই।
তার জন্য যে নাস্তিক হয়ে গেছি বা আমার ধর্মের প্রতি আমার ভালোবাসা কমেছে তা কিন্তু নয়।
আমাদের ধর্মই আমাদের শিখিয়েছে যে নিজের ধর্মের পাশাপাশি অন্য ধর্মকে সম্মান করো।
কারো ধর্ম নিয়ে কুটুক্তি করোনা।
আমার ধর্ম শান্তির ধর্ম।
তাই বলে আমি এটা অস্বীকার করবোনা যে কিছুসংখ্যক মানুষের জন্য আমার ধর্ম আজ লাঞ্ছিত হচ্ছে সবসময়।
ঐ মানুষের জন্য কি আপনি আমার ধর্মকে লাঞ্ছিত করবেন?
আল্লহু আকবর বলে হত্যা করা হোক কিংবা জয় মা কালী বলে হত্যা করা হোক দুইটা কাজই ঘৃণিত।
আজ আমি জয় মা কালী বলে কাউকে হত্যা করলে কি আপনি হিন্দু ধর্মকে দোষারোপ করবেন?
কেন করবেন?এতে ধর্মের দোষ কোথায়?
আমার ধর্মের কিছু আগাছা আছে যে বা যাহারা মানুষের ধর্ম ভীরুতাকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যাবহার করে তাদের কাজ হাছিল করছে,সেখানে আমি কি করে আমার ধর্মকে দোষারোপ করবো বলেন?
কোন এক কুত্তার বাচ্ছা বললো যে মা ফাতেমা (আমাদের নবীর কন্যা ) নাকি এইজনমে তার স্ত্রী হয়ে জন্ম নিয়েছেন।
এবার আপনি বলেন, এই কুত্তার বাচ্ছাটাও মুসলমান, এই কুত্তার বাচ্ছার আসরেও অনেক মুসলমান মানুষ যায়। কি বলবো বলেন?
এদেরকে কি আমি মুসলমান বলবো?এদের দ্বারা সঙ্গটিত কোন কাজের দায়ভার কি আমার ধর্ম নিবে?
কেন নিবে?
আজ অনেকদিন দেশের বাইরে আছি।মিশেছি পৃথিবীর সভ্য জাতির মানুষের সাথে।
যাদেরকে সবাই আইডল মনে করে।
এই সভ্য জাতির মানুষদের মধ্যেও কিন্তু অনেক অসভ্য ইতর শ্রেণীর মানুষ বসবাস করে।
তাই বলে ঐ কিছুসংখ্যক ইতর শ্রেণীর মানুষের জন্য কি আমরা তাদের ইতর বলি?
না বলি না।
যুক্তরাজ্যের এমন অনেক পলিটিশিয়ান আছেন যাদের বিরুদ্ধে ‘শিশু ধর্ষণ’ এর মতো ঘৃণ্যতম কাজের মামলা চলছে বা অনেকের ইতিমধ্যে শস্তিও হয়েছে।
তাই বলে কি এদেশের সকল পলিটিশিয়ানদের আমরা খারাপ বলি?
না বলি না।
কারণ তারা সবাই এক না।
পৃথিবীর প্রতিটি দেশে,প্রতিটি সমাজে,প্রতিটি ধর্মে ভালো-খারাপ মানুষ রয়েছে,ভালো-খারাপ রীতিনীতি রয়েছে।
তাই বলে কি সব দেশ,সব সমাজ,সব ধর্ম বা রীতিনীতি খারাপ?
না খারাপ না।
কিছু আগাছা সকল দেশে,সকল ধর্মেই ছিল,আছে এবং থাকবে হয়তো।
আমাদের উচিত ধর্ম বা দেশকে দোষারোপ না করে সেই আগাছা পরিষ্কার করা।
আর তার জন্য দরকার কঠিন শাস্তি ব্যবস্তা।এগিয়ে আসতে হবে আমাদের সবার,বাধ্য করতে হবে সরকারকে,যাতে করে ঐ সকল হারামীর বাচ্চারা আর কোন জীবনকে খুন করতে না পারে।
একটা ছোট্ট উদাহরণ দেই।
যখন অভিজিৎ দা কে হত্যা করা হয়,সেইদিন বিকেলে আমার এক কলিগের সাথে এটা নিয়ে আলোচনা করছিলাম,তখন এক পর্যায়ে সে আমাকে বলল যে,আল্লাহ্ নবীকে নিয়ে কুটুক্তি করেছে,আমাদের ধর্মকে নিয়ে খারাপ কথা লিখেছে।ভালো হয়েছে খুন হয়েছে।
তখন আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম যে,আচ্ছা আমিতো জানি আমাদের ধর্মে বা অন্য সব ধর্মে বলা হয়েছে যে জীব হত্যা পাপ তাইলে তুমি কেমনে বলো এই কথা যে ভালো হয়েছে?
তখন সে আমাকে বলল হাদীসে নাকি বলা আছে ব্লা ব্লা।
আমি জিজ্ঞেস করলাম দেখাও তো হাদীসটা।
তখন কিছু বলেনি।
আমি তাকে সেই মুহূর্তে একটা কথাই বললাম যে তোমাদের মতো কিছু মুসলমানদের ঐ সংখ্যক হারামী কিছু মানুষ ব্রেইন ওয়াশ করে দিয়ে যেকোন হত্যা বা বোমাবাজী করাতে পারবে।আর তোমাদের মতো মানুষদের জন্যই আজ আমার ধর্মকে মানুষ গালি দেয়।
যাইহোক আমি আপনার সাথে একমত যা বলেছেন তা সত্য কথা।
তারপরও আমি মনে করি আস্তিক-নাস্তিক,মুসলমান বা অন্য ধর্মের যেই হোক না কেন,হত্যা বা বোমাবাজীতে ধর্মের হাত নেই।
যা আছে সেটা হলো কিছুসংখ্যক লম্পট,হারামী,কুত্তার বাচ্ছাদের নিজের স্বার্থ উদ্ধার করার জন্য ধর্মকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা।
যদি ভুল বলে থাকি ক্ষমা করবেন।
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই আগস্ট, ২০১৫ সকাল ৭:১২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


