somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

‘কালের আয়নায় প্রশান্ত মৃধার ছোটগল্প: জীবনবোধ ও শিল্পরূপ’

২২ শে নভেম্বর, ২০১৪ সন্ধ্যা ৭:০৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

পর্ব- ১

কাল নিরবধি প্রবহমান। নদীর স্রোতের মতোই তা বহমান। জলের জলত্বই যেমন তার ধর্ম, আগুনের অগ্নিত্বই যেমন তার ধর্ম ঠিক তেমনি গতিশীলতাই কালের ধর্ম। অখণ্ড সময় বা কালের সমষ্টিকেই আমরা বলি মহাকাল। এই মহাকালের ঘূর্ণাবর্তে অনেক সৃষ্টিই ম্লান হয়ে যায় কালের গর্ভে । আবার অনেক সৃষ্টিই টিকে থাকে। সৃষ্টির অমোঘ নিয়মে হারিয়ে যায় ব্যক্তিসত্ত্বা কেবল টিকে থাকে ব্যক্তির সৃষ্টিশীল কর্ম। এই জন্ম এবং হারিয়ে যাওয়ার খেলা প্রাগৈতিহাসিক কাল ধরে চলে আসছে। ক্ষণ জীবনের অধিকারী হয়ে অনেকেই ঠাঁয় করে নিয়েছে ইতিহাসের সোনার পাতায়। নিজের সৃষ্টিশীল কর্মের মাধ্যমে মহাকালের বিমূর্ত পাতায় ব্যক্তিমানসও বেঁচে থাকে শতাব্দীর পর শতাব্দী।

সংস্কৃতির মধ্য দিয়েই আমরা বেঁচে থাকি, বেঁচে থাকতে চাই। তবে সুস্থ সংস্কৃতির মধ্য দিয়ে আমরা যেমন সুস্থভাবে বেঁচে থাকি তেমনি অপসংস্কৃতির মধ্য দিয়েও চলে আমাদের আত্মার তথা অস্তিত্বের নিরন্তর পীড়ন। ভাইরাস যেমন খালি চোখে দেখা যায় না তেমনি অপসংস্কৃতির অনুপ্রবেশও সহসাই আমরা অনুভব করতে পারি না। এই সংস্কৃতিরই এক বিরাট শাখা, সৃষ্টিশীল শাখা সাহিত্য। যেখানে মানুষ সুস্থ হওয়ার, ভালভাবে বেঁচে থাকার মন্ত্রনা পায়।

বিশ্বজোড়া সংস্কৃতির মিথস্ক্রিয়ার ঘটনা ঘটে চলছে নিত্য। সৃষ্টিশীল ব্যক্তিবর্গের মাধ্যমেও সংস্কৃতির পরিবর্তন আসতে পারে, পরিবর্তন আসতে পারে সামাজিক অবকাঠামোর, নীতি-নৈতিকতার। এই পরিবর্তনের ছোঁয়া বহমান নদীর বাক পরিবর্তনের মতই। নদী যেমন কখনো সোজা পথে চলতে পারে না তেমনি সাহিত্যের ধারাও কখনো সোজা পথে চলে নি। সৃষ্টিশীল সাহিত্যিকদের পরশে কখনো কখনো সে গতিপথের পরিবর্তন হয়েছে। যাদের মাধ্যমে সাহিত্যে তথা কাব্যে নতুন ধারার সৃষ্টি হয় বা নতুন গতিপথের সঞ্চার হয় তাদের আমরা বলি প্রধান সাহিত্যিক। প্রশান্ত মৃধাও বর্তমান সময়ের অন্যতম প্রধান কথাসাহিত্যিক।

বর্তমান বাংলা কথাসাহিত্যের এক উজ্জ্বল নক্ষত্রের নাম প্রশান্ত মৃধা।




১৯৭১ সালের ২০ নভেম্বর বাঘেরহাট জেলার কচুয়া মহকুমার অন্তর্গত মঘিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। গত ২০০০ সালে ‘কুহকবিভ্রম’ গল্পগ্রন্থ দিয়ে বাংলা ছোটগল্পের ভুবনে রাজকীয়ভাবে প্রবেশ করেন। এরপর ধীর গতিতে প্রকাশ হতে থাকে তাঁর অপরাপর গল্পগ্রন্থ- ‘১৩ ও অবশিষ্ট ছয়’, ‘আরও দূর জন্ম জন্মান্তর’, ‘বইঠার টান’, ‘করুণার পরিজন’, ‘মিঠে আশার অন্ধকার’ প্রভৃতি।

শিশুতোষ গল্প বা কিশোর গল্প লেখার ক্ষেত্রেও তিনি মোটেও পিছিয়ে নন। প্রমথ চৌধুরী তাঁর ‌‌'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধে জগৎ বিখ্যাত ভাস্কর রোদ্যার সৃষ্টিশীলতা সম্পর্কে বলেছিলেন- ‘‘যিনি গড়তে জানেন, তিনি শিবও গড়তে পারেন, বাঁদরও গড়তে পারেন। আমার কেন যেন মনে হয় আজ এই কথাটি সুপ্রিয় কথাসাহিত্যিক প্রশান্ত মৃধার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। কেননা গল্প রচনায় তিনি যেমন সিদ্ধহসস্থ তেমনি সিদ্ধহস্ত উপন্যাস বা প্রবন্ধ রচনাতেও।

হাঁটি হাঁটি পা পা করে বাংলা সাহিত্যে তাঁর প্রবেশ। নিজের মেধা, প্রজ্ঞা আর নিটোল সৃষ্টিশীলতা দিয়েই তিনি বর্তমানে বাংলা সাহিত্যে অন্যতম প্রধান স্থান দখল করে নিয়েছেন। তাঁর গল্পের বর্ণনাভঙ্গিতে রয়েছে নিজস্ব স্টাইল। ভাষার ক্ষেত্রেও রয়েছে অবিশ্বাস্য সরলীকরণ। প্রতিটি বাক্যবিন্যাসে তাঁর মুন্সিয়ানা চোখে পড়ার মতো।

(চলবে)
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে নভেম্বর, ২০১৪ সন্ধ্যা ৭:০৮
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বেঁচে থাকাই পরম বিস্ময়

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ২৬ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৩


পথেঘাটে ঘুরিফিরি, যেকোনো সময়
পটল তুলতে পারি গাড়ির ধাক্কায়।
মাঝেমধ্যে থাকি এমনও আশঙ্কায়,
নির্মাণাধীন ভবন থেকে ইট পড়ে
মাথা ফেটে রক্তক্ষরণে প্রাণটা যায়!
এমন পরিণতিতে লোকে দুঃখ করে।
গাড়ি, ট্রেন, প্লেন, হয়তোবা ইস্টিমার
দুর্ঘটনায় প্রাণটা চলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ মা'কে লেখা প্রীতিলতার শেষ চিঠি

লিখেছেন ইসিয়াক, ২৬ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:০৯




আমায় তুমি পিছু ডেকো না'গো মা
আমার ফেরা সম্ভব  না।
দেশ মাতৃকায় উৎসর্গিতা আমি
আমি তো সেই ক্ষণজন্মা! 

আমায় তুমি আশীর্বাদ করো মা,
মোছো তোমার চোখের জল।
নিপীড়িতদের আর্তনাদ শুনছো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আল কোরআনের ১১৪ সূরায় হানাফী মাযহাবের সঠিকতার অকাট্য প্রমাণ (পর্ব-২)

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২৭ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ২:০৮



সূরাঃ ২ বাকারা, ২১ নং আয়াতের অনুবাদ-
২১। হে মানব সম্প্রদায়! তোমরা তোমোদের সেই রবের ইবাদত কর যিনি তোমাদেরকে ও তোমাদের পূর্ববর্তীদেরকে সৃষ্টি করেছেন, যেন তোমরা মোত্তাকী হও।

সূরাঃ ২... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিনাশ গ্রহাণুপুঞ্জের অধিবাসী - সাইন্স ফিকশন

লিখেছেন আরাফাত৫২৯, ২৭ শে মার্চ, ২০২৬ ভোর ৫:১০




১/
বিজ্ঞান একাডেমির প্রধাণ মহামতি গ্রাহাম উনার অফিসের বিশাল জানালা দিয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে ছিলেন। সময়টা প্রায় শেষ বিকেল। সন্ধ্যার রক্তিম আভা দূর আকাশে দেখা যাচ্ছে। মনে হচ্ছে পুরো আকাশটাতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইমাম, মুয়াজ্জিন, কুরআনের শিক্ষক ও দ্বীন প্রচারকদের বেতন বা সম্মানী গ্রহণের শরয়ী হুকুম

লিখেছেন নতুন নকিব, ২৭ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ১০:১৪

ইমাম, মুয়াজ্জিন, কুরআনের শিক্ষক ও দ্বীন প্রচারকদের বেতন বা সম্মানী গ্রহণের শরয়ী হুকুম

ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

মসজিদে ইমামতি করা, আযান দেয়া, কুরআন শিক্ষাদান করা কিংবা সাধারণভাবে দ্বীন প্রচারের কাজে বিনিময়,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×