প্রশ্ন ১ : জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনারটি কি গলির কোণে?
প্রশ্ন ২ : শহীদ মিনারটি কি তার মুখ দেখানোর জন্য মুখিয়ে ছিল বা আছে?
প্রশ্ন ৩ : গাছগুলো কি বিজ্ঞাপনের মতো বাণিজ্যিক চরিত্র বহন করেছিল?
প্রশ্ন ৪ : শহীদ মিনার কি বলেছিল আমার প্রিয় প্রণয়িনী কেন্দ্রীয় ফটকের মুখচ্ছবি আমারে দেখতে দাও গো?
প্রশ্ন ৫ : কিংবা একই প্রশ্ন কি কেন্দ্রীয় ফটকও করেছিল?
আমার মনে হয় এখন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়কে সবাই ফটকের বাইরে থেকেই চিনতে পারবেন। এটা খুব একটা ভালো উদ্যোগ। আমাদের জাবি প্রশাসনের মগজকুপে বেশ বুদ্ধি আছে বলা যায়। সারা ঢাকা শহর যখন বিপুল জনমানুষের চাপে দিশেহারা তখন তার দায়ভার কেন অযথাই জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় নেবে। কেউ হয়তো বলতে পারেন সত্যি কি নিচ্ছে নাকি? হ্যাঁ সেটা তো অনেকাংশে সত্যই বটে। প্রায় প্রতিদিন, বিশেষত বন্ধের দিন, নগরের জীর্ণ জীবন ছেড়ে মানুষ এখানে পূর্ণ জীবনের স্বাদ নিতে আসে। বহুজনের মুখে এ ক্যাম্পাসের স্তুতিবাক্য শুনে একটু দেখার পিয়াস মেটায়। এবং দেখা শেষে বলে- আহ্ ঢাকা শহরটা যদি এমনই হতো! কিন্তু এখন আর তাদের সেটা বলার সুযোগ নেই। কারণ আমাদের কেন্দ্রীয় ফটক থেকে বিশ্ববিদ্যালয়কে চর্ম চক্ষে দেখার সুযোগ করে দিয়েছেন এখানকার স্বনামধন্য মানব ও সময়প্রেমী প্রশাসন। তাদের প্রধান ধ্যান ও জ্ঞান হল মানুষের সেবা করা। তাই কাউকেই আর কষ্ট করে প্রধান ফটকের এঁতি-উঁতি তাকাতে হবে না। ওখানে ঠাঁয় দাঁড়িয়ে শুরুতেই আপনি আকাশের দিকে চেয়ে দেখবেন পৃথিবীর সবচেয়ে বৈচিত্র্যময় আকাশ। একটু চোখগুলো ট্যারা করলেই দেখতে পাবেন একটা লাল টাওয়ার। সাবধান! ওটাকে টাওয়ার ভেবে ভুল করবেন না যেন। তাহলেই খিস্তিখেউর শুরু করে দিতে পারে লালপ্রেমীরা। ওটা হল এ ক্যাম্পাসের সবচেয়ে জনপ্রিয় স্থান- শহীদ মিনার! যেখানে দ্বিঅধিক বহুপদীরা তো বটেই দ্বিপদীরাও জুতো পায়ে দিয়েই ওঠে। বাইরের দর্শনার্থীরাও তাই করে। হঠাৎ করে সেটাকে ফকিরাপুলের পানির ট্যাঙ্কি ভেবে বসে। এই তো কিছুদিন আগে নতুন বছরের ভর্তি পরীক্ষার ফরম তুলতে এসে দেশশ্রেষ্ঠ কলেজ নটরডেমের তিন ছোকড়া শাহুরুখের চ্যালো ছাইয়া ছাইয়া'র স্টাইলে পোজ দিয়ে ছবি তু৯লতে শুরু করে দিয়েছিল। ভাগ্যিস ওরা শহীদমিনার প্রেমী প্রশাসনের কোন কর্তাব্যক্তির হাতে না পড়ে আমার মতো অজ্ঞ-অধমের কাছে পড়েছিল। ওখানে ওঠার কারণ জিজ্ঞেস করাতে ওরা এমন উত্তর দিয়েছিল যে আমার পায়ের তলার মাটি মনে হচ্ছিল সরে যাচ্ছিল। ফলে ওদের চেয়ে ওদের মহান কলেজকেই অপমানটা বেশি সহ্য করতে হয়েছে। যারা নটরডেমের ছাত্র তারা হয়তো বেশ পিড়া পাচ্ছেন। কিন্তু সেদিন আমার পিড়াও যে কম হয়নি সেটা নিশ্চয়ই বুঝেছেন। নটরডেমের ছাত্ররা এমন কাজ করে আবোল-তাবোল বকবে সেটা কেউ মেনে নিতে চায় না। কিন্তু আমি মেনে নিয়েছিলাম। কেননা ওদের শরীর থেকে তো সেদিনও আমি কলেজের গন্ধ পাচ্ছিলাম। ভাগ্যিস ওরা জাবি প্রশাসনের কোন কর্তার হাতে পড়েনি! পড়ে অবশ্য ওরা বুঝেছে যে ওদের কলেজে যিশুকে কোলে নিয়ে মাদার মেরির যে স্মৃতিফলকটি রয়েছে সেটা ওদের কাছে (অবশ্যই সর্বস্তরের মানুষের কাছেও) যতটা শ্রদ্ধাজাগানিয়া আমাদের কাছে এ শহীদ মিনারটিও তেমনি। তার ওপর আবার দেশের সবচেয়ে উঁচু শহীদ মিনার বলে কথা। কিন্তু ঐ বেচারিরা নতুন বিশ্বের সাধারণ জ্ঞানের বইতেও কি এমন তথ্য পড়েনি? যে শহীদ মিনারকে দেখানোর জন্য আমাদের প্রশাসনের এতো আয়োজন সেটা সম্বন্ধে পাঁচটা শব্দ্ও ওরা পড়েনি।ওরা তো আমাকে এটা বলেই পায়ের তলা থেকে মাটি খসিয়ে দিয়েছিল। ওদের কি সৌভাগ্য ওরা বেফাঁস লোকের হাতে ধরা পড়েনি। হয়তো ওরা পরীক্ষাও দিয়েছিল!
আর যদি এখন মহামান্য হাইকোর্টের আদশের কারণে স্থগিত হয়ে যাওয়া খ ও গ ইউনিটের পরীক্ষায় ওরা অংশগ্রহণ করতে আসে তবে দেখতে পাবে ওদের সেই শহীদ মিনারটিকে এখন বাস থেকে নেমে পাঁচ কদম এগোলেই দেখা যায়। সুন্দর দেখা যায়। বিজ্ঞাপনের মতো জঞ্জাল হয়ে থাকা এদ্দিনকার গাছ ও শাখাপ্রশাখাকে কেটে ফেলা হয়েছে। ফলে শহীদ মিনার ও কেন্দ্রীয় ফটকের প্রেমভাব এখন আরও বেশি জমবে বলে মনে লয়।
আমরা অবশ্য প্রেমটা থিতিয়ে ওঠার আগেই এই কংক্রিটের উপাদান দ্বয়ের শুভ বিবাহ সম্পন্ন করে ফেলব। আপনি সাদরে আপন্ত্রিত। আপনি সবান্ধব আমন্ত্রিত। ডিজিটালি নিমন্ত্রণে ত্রুটি মার্জনীয়। এবং সেই সাথে টাল না ভাবার জন্য আপনি বিশেষভাবে অনুরোধিত! ভালো থাকবেন।
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে নভেম্বর, ২০১০ সকাল ৮:৫৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


