চিঠি লেখার একটা অভ্যাস ছিল। ডায়েরীও লিখতাম নিয়মিত। এখন আর সেসব দিন নেই। নেই বলতে আসলেই নেই। ডিজিটাল জমানা চলছে। অবচেতন মনে কবে যেন স্বীকার করে নিয়েছি সে শিকার। বুঝতেও পারি নি, অনবরত সম্পর্কের বিচ্যুতি ঘটছে আমাদের। দ্রুততার সাথে প্রিয়জনের সাথে যোগাযোগ হচ্ছে বটে, তবে সেটা শুধুমাত্র ফরমায়েসী যোগাযোগ। একটা সময় চিঠি ছিল। চিঠিতে ব্যক্তি মানুষকে দেখা যেত না, তার স্বরও শোনা যেত না। এখন স্বর শোনা যায়। দেখা যায় না সেই চিঠিযুগের মতোই। চিঠিযুগ বলে যেটাকে আখ্যা দিচ্ছি, সেটার গতমান হয়ে যাওয়াকে অনেকেই মেনে নাও নিতে পারেন। এবং অনেকেই আমার বিশ্বাস মানবেন। মেনে নেওয়াদের সংখ্যাটা বেশি হবে এটাও বিশ্বাস থেকেই বলছি। তার মানে আমি আমার সিদ্ধান্তে অটল থাকতে পারি যে, চিঠিযুগ আদতেই গত হয়েছে। তাতে লাভ কী হয়েছে? ক্ষতিই বা কী হয়েছে? লাভ হয়েছে শুধুমাত্র এই যে দ্রুততার সাথে তথ্যাদি আদান-প্রদান করা সম্ভব হচ্ছে। এতে আমরা তৃপ্ত। মনে হয় তৃপ্ত। দীর্ঘসূত্রিতার মতো জায়গা থেকে আমরা সরে আসতে পেরেছি। এও বা কম কি! কিন্তু ক্ষতি যে কম হয় নি তাওতো উচ্চারণ করতে পারি। হৃদ্যতা কমেছে। চিঠির মধ্যে যে আবেগ সে আবেগ যন্ত্র চালিত 'আকাশ' মাধ্যমে স্বর বা বার্তায় প্রকাশ পায় না। এসএমএস -গুলো হয় সব হিসেব করে লেখা। যেন নির্দিষ্ট ক্যারেক্টারের বাইরে গিয়ে অতিরিক্ত অর্থ আক্কেল সেলামি দিতে না হয়। ওতে কি আর আবেগ প্রকাশ পায়! বলা কথা কি ধারণ করে রাখা যায়? চিঠি যেতো। ২০০৪ সালের দিকে সর্বশেষ লেখা বা পাওয়া কিছু চিঠি এখনও আমার সংগ্রহে আছে। মাঝে মাঝে পড়ি। আবেগের সাথে পুরনো স্মৃতি মনে পড়ে। এখন হাজার কথা বলি, গুরুত্ব মেনে বলি, গুরুত্বপূর্ণগুলো মনে রাখি। বাকিগুলো আস্তাকুঁড়ে নিক্ষেপ করি! প্রয়োজন কী ওসব মনে রাখার। তাই আমাদের সম্পর্কের বৃত্তে এখন অবিশ্বাস জমা হচ্ছে। মানুষ এখন অন্যকে বিশ্বাস করে না। করলেও খুব কম। যন্ত্রে বলা কথার আলোকে কাউকে বিশ্বাসই বা করা যায় কীভাবে? ওসবে তাই হয় না। হৃদ্যতা আসে না। যা আসে তা হল দূরত্বের মাঝে কাছে টানার ব্যর্থ প্রয়াস। যান্ত্রিকতার ধর্মে, পুঁজি বাজারের ধর্মে মানুষকে দূরে রেখেই কাছাকাছি রাখার বিধান লিপিবদ্ধ। মানুষে মানুষে বিশ্বাস, সম্পর্ক ও হৃদ্যতার তারা কী বুঝবে!
আলোচিত ব্লগ
'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!
প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন
মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন
জীবন চালাতে শহরে থাকা কিন্তু বেঁচে থাকা যেন বাড়িতেই
ঈদের ছুটিটা কেমন যেন চোখের পলকে শেষ হয়ে গেল। মনে হচ্ছিল, এই তো সেদিন বাড়ি গেলাম—মায়ের হাতের রান্না, বাবার গল্প, ছোট মেয়ের হাসি, আর স্ত্রীর সেই নীরব অভিমান… সবকিছু মিলিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন
আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন
ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!
ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!
সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।