
একটা মানুষ যদি পুরা পরিবার নিয়া ঢাকা শহরে থাকে আনুমানিক কত খরচ পড়বে? এই বাসা ভাড়া, অফিস থেকে বাসায় আসা যাওয়া বাবদ যাতায়াত ভাড়া, ফোন বিল স্বামী স্ত্রীর,ছেলেমেয়েদের পড়াশোনার খরচ, ডিশ বিল, কারেন্ট বিল, মাসে একটা দুইটা নেমন্তন্ন থাকলে কত খরচ হতে পারে? দশ হাজার? বিশ হাজার?ত্রিশ হাজার? আসলে কত? ধরে নিলাম মাঝামাঝি সংখ্যা বিশ হাজার।
এখন যে লোক বেতন পায় ১৫,০০০ টাকা সে এই বাকী ৫,০০০ টাকা কোথা থেকে দিবে? প্রতিমাসে এই কলিগ সেই কলিগের কাছ থেকে ধার নিবে। বউ এর গহনা বন্ধক দিবে? টাকা ম্যানেজ হলেও শোধ করবে কিভাবে?
ধরেন আল্লাহ না করুক এর মধ্যে অসুখ বিসুখ হলে আরও বাড়তি খরচ কিভাবে আসবে?কেউ কি এসব বিষয়ে ভাবেন?
আমরা ব্লগার গন ভেবেও কিচ্ছু করতে পারব না। এ সত্যি! ভাবতে হবে কাকে? যারা দেশ পরিচালনা করেন তারা ভাববে।
ভাববে শিক্ষিত বুদ্ধিজীবি গন যারা দেশে বুদ্ধি বেঁচে খেয়ে পড়ে থাকেন। টিভিতে টক শোতে দেশপ্রেম দিয়ে আমাদের ভাসিয়ে দেন।
দেশে এমনও শ্রেণীর লোক আছে যারা চালের দাম কেজি প্রতি ৫০,০০০ টাকা হলেও দিব্যি খেয়ে পড়ে চলতে পারবে। বহাল তবিয়তে থাকবে কারণ তাদের অঢেল সম্পদ অঢেল টাকা পয়সা।
এদের অঢেল টাকা কামানোর রাস্তা করে দেয় যারা দেশ পরিচালনায় থাকে তারা। কিভাবে? উত্তর খুব সোজা।
এই সকল বিত্তবান শ্রেণী পার্টি চালাতে ইলেকশন করতে কোটি কোটি টাকা ইনভেস্ট করে। এরা চায় এদের মন মতন সরকার বা পছন্দের মানুষ জন ক্ষমতায় থাকুক। এতে করে কি হবে? সে আরও বিত্তবান হবে একচেটিয়া ব্যবসা করবে বানিজ্যের প্রসার ঘটাবে।
সাথে ঐ সকল পলিটিশিয়ান ও অঢেল টাকা কামাবে। সে ওসব বিত্তবানদের সাথে পার্টনারশিপ ব্যবসা করবে। এই হলো বিষয়। আর এগুলা বুঝতে এত শিক্ষিত হতে হয় না। পি এইচ ডি ধারী হতে হয় না। চোখ কান খোলা থাকলে জানা যায়।
শেষ করছি ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নিকোলাস সারকোজির উদাহরণ দিয়ে। তিনি ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে ২০০৭ সালের নির্বাচনী প্রচারের জন্য লিবিয়া থেকে অর্থ সাহায্য নেয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত হন।
সেই তদন্তের সূত্র ধরে ২০১৩ সাল থেকে সাবেক প্রেসিডেন্ট এবং তার আইনজীবী থিয়েরি হারজগের কথোপকথনে আড়ি পাততে শুরু করেন তদন্তকারীরা। সেই তদন্তে উঠে আসে, ভুয়া পরিচয়ে কেনা মোবাইলে কথা হয় দুজনের।
তদন্তকারীরা জানান, সারকোজির মোবাইলটি রেজিস্ট্রি করা ছিল পল বিসমুথ নামে।
তদন্তে আরও উঠে আসে, বেটেনকোর্টের থেকে অর্থ সংগ্রহের মামলা সম্পর্কিত গোপন তথ্য আজিবার্টের থেকে নেয়ার বিষয়ে বহুবার আলোচনা হয় সারকোজি-হারজগের।
নিজের রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে একটি তদন্তের গোপন তথ্যের বিনিময়ে ম্যাজিস্ট্রেট গিলবার্ট আজিবার্টকে বিদেশে লোভনীয় চাকরি পাইয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন সারকোজি।
অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ম্যাজিস্ট্রেট গিলবার্ট আজিবার্ট এবং সারকোজির সাবেক আইনজীবী থিয়েরি হারজগকেও তিন বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বিশ্ব বিখ্যাত কসমেটিক কোম্পানি লরেলের সাথেও একটা অর্থ কেলেংকারীর ঘটনা রয়েছে।
অথচ এই নিকোলাস সারকোজি এক সময় ফ্রান্সের হিরো ছিলেন। এক স্কুলে এক সন্ত্রাসী বোম নিয়ে স্কুলের বাচ্চাদের মেরে ফেলার হুমকি দেয়। নিকোলাস সারকোজি তখন নিজের প্রাণের কথা চিন্তা না করে সেই সন্ত্রাসীর সাথে কথা বলেন এবং নিজে যেয়ে বাচ্চাদের উদ্ধার করেন। যদিও এখন সবাই বলছে এসব ছিল তাঁর নির্বাচনে জেতার কৌশল!
আসলে সময় এত নিষ্ঠুর কাতিল যার কাছে সবাই অসহায়। এই ধরেন ২১ আগস্টে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আল্লাহ বাঁচায় দিছে যদি মারা যেতেন!
তাহলে আজ হয়তো তারেক দেশে থাকত, খালেদা দিব্যি বাইরে ঘুরাফেরা করত। চন্দ্র মানব ওয়াজ কইরা যাইত আরও অন্য গ্রহে কেমনে যাওয়া যায় ইত্যাদি।
যাক ওসব কথা ঐ যে শুরুতে বললাম ১৫,০০০ টাকা বেতন পাওয়া নিম্নমধ্যবিত্ত সেও কিন্তু গোটা একটা মানব শরীর ! এদেশের অংশ। বিষয়টা মাথায় রাইখেন। নইলে সময় কারে যে কি করে টের পাবেন না।
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই জানুয়ারি, ২০২৫ সন্ধ্যা ৬:৪৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


