somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ক্ষমা করবেন হে গুনী....।

২৭ শে আগস্ট, ২০২১ রাত ১২:৩৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ছবি গুগল ।

আমরা এতদিন পরীমনি এবং আফগান নিয়া লাফালাফি করছি অথচ পাশের বাড়ির খোঁজ খবর রাখি না।
রবি ঠাকুর এর মতন বলতে হয়,
"দেখা হয় নাই চক্ষু মেলিয়া, ঘর হতে দুই পা ফেলিয়া একটি ধানের শিষের ওপরে একটি শিশিরবিন্দু।"

সত্যি!আমরা সেইরম লোক মশাই। ভাবতেই সিনা চওড়া হয়ে যায়।

এ দেশটা দিন কে দিন কেমন জানি হয়ে উঠছে। এদেশের মানুষগুলি খুব দ্রুত বদলে যাচ্ছে। কেউ খুব দ্রুত ধার্মিক হয়ে যাচ্ছে আবার কেউ ধার্মিক হয়ে ধান্ধা শুরু করছে।
কেউ কেউ ধর্ম কর্ম ছেড়ে দিচ্ছে। কেউ চুপচাপ কিছুতেই চার্ম খুঁজে পাচ্ছে না।কেউ আবার অল্পতেই মারতে আসে। মানে কেমন জানি খাপছাড়া সব। তবে একটা রোগ কমন। সবার টাকা দরকার যেভাবে হোক বৈধ কিংবা অবৈধ ব্যাপার না!

আর দেশপ্রেম ? কী জিনিস ? দেশপ্রেম থাকলে দেশের বাইরে এত অর্থ পাচার হতো না। অনেক কিছুই হতো না। এখন একটু পিছনে চলি একটা ঘটনা বলি। দেশপ্রেমের কথা আর কি !

স্থপতি সৈয়দ মাইনুল হোসেন উনাকে আমরা কয়জন চিনি বা উনার নাম কয়জন শুনেছি? সত্যি বলছি আমি বহু পরে উনার নাম শুনেছি।এ আমার ব্যর্থতা বলব কিন্তু যাদের দরকার ছিল তাঁকে আমাদের সামনে উপস্থিত করা তারা তাঁকে পর্যাপ্ত সম্মান এমন কি প্রয়োজনীয় খোঁজ খবর টুকু কেউ নেন নি! এই সত্যি!

স্থপতি সৈয়দ মাইনুল হোসেন হলেন এক অমর স্রষ্টা। যিনি সাভার জাতীয় স্মৃতি সৌধ তৈরী করেছিলেন।

মুক্তিযুদ্ধের শহীদের স্মৃতি ধরে রাখতে সরকার সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধ নির্মাণের পরিকল্পনা নিলে ১৯৭৮ সালে নকশা আহ্বান করা হয়। জমা পড়া ৫৭টি নকশার মধ্যে বাঙালির স্মৃতির মিনারের জন্য নির্বাচিত হয় ২৬ বছরের তরুণ মাইনুল হোসেনের পরিকল্পনা।

তাঁর নকশা অনুযায়ী স্মৃতিসৌধের বেদীমূল থেকে উঠে দাঁড়িয়েছে সাতটি ত্রিকোণ কলাম, যার মধ্যে সবচেয়ে বড়টি ১৫০ ফুট উঁচু। এই সাতটি কলামে বাংলাদেশের মুক্তি সংগ্রামের সাতটি পর্যায় সূচিত হয়েছে। আকার আকৃতিতে ভিন্নতা থাকায় একেক দিক থেকে স্মৃতিসৌধকে দেখায় একেক রকম।
তিনি একবার বলেছিলেন,

" চারদিকে প্রচণ্ড চাপ। সেই চাপে কিছু একটা উঠে যাচ্ছে। বায়ান্ন থেকে একাত্তর পর্যন্ত সাতটা বড় বড় আন্দোলন হয়েছিল। সবচেয়ে নিচের খাঁজটা বায়ান্ন, সবচেয়ে উঁচুটা একাত্তর। "

১৯৮২ সালে তক্ষনকার সরকার মানে এরশাদ সাহেব এই অমর সৃষ্টি টি উদ্বোধন করেন। অবাক ব্যাপার হচ্ছে তাঁকে সে অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ পর্যন্ত জানানো হয়নি। ছিঃ! কি হারামি আমরা।

সকল ভিভিআইপি রা চলে যাবার পর তিনি সাধারণ মানুষের সাথে দাঁড়িয়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা সেই সাতটি স্তম্ভ দেখতে থাকেন। এরপর আরও কাহানী আছে

" স্মৃতিসৌধের ডিজাইন করার সম্মানী পাবার কথা ছিল ২ লাখ টাকা, আয়কর চাওয়া হয়েছিল এর ৫০%, অর্থাৎ এক লাখ টাকা! " এই হলো ব্যাপার।

শেষজীবনে তিনি প্রায় একাকী নিভৃতে ছিলেন এমন কি তাঁর চিকিৎসা এবং সামান্য খোঁজ খবর কেউ নেননি।

আমাদের মুরব্বিরা চোখে আংগুল দিয়ে দেখিয়েছেন দেশপ্রেম কি?এই আমাদের শিখিয়েছেন।এরাই আবার দেশপ্রেমের বুলি আউরায় রাত দিন।সত্যি! সেলুকাস কি বিচিত্র এখানকার নেতাগন !

ক্ষমা করবেন হে গুনী !




সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে আগস্ট, ২০২১ রাত ১২:৩৭
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

নিউইয়র্কের ডায়েরী ২: এভাবেই জীবন কেটে যাচ্ছে জীবনের নিয়মে

লিখেছেন কাছের-মানুষ, ০৪ ঠা জুলাই, ২০২৬ রাত ১১:৩৯


লং আইল্যান্ডের একটি রাসবেরি ফার্মে গত সপ্তাহে

এক লোক একটা মাছি মারার জন্য পেপার গোল করে তাড়া করছে। মাছিটি উড়ে গিয়ে দেয়ালে বসল। লোকটা যেই মারতে যাবে, মাছিটি হাতজোড় করে... ...বাকিটুকু পড়ুন

হোমিওপ্যাথি হচ্ছে একটি ধাপ্পাবাজ কিবিরাজি চিকিৎসা পদ্ধতি এর বৈজ্ঞানিক কোন ভিত্তি নেই

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ০৫ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১:০৪



হোমিওপ্যাথি যে একটি ভাঁতাবাজি চিকিৎসা পদ্ধতি তা আমি আগেও জানতাম কিন্তু আমি কখনো এর বিরুদ্ধে কথা বলিনি বা কোথাও কিছু লিখিনি- তবে আজ কি মনে করে চ্যাটজিপিটির কাছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছোট গল্পঃ ভ্রম

লিখেছেন সামিয়া, ০৫ ই জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৩



চোখ বন্ধ করলেই আমি ধোঁয়া দেখি। ঘন, ধূসর ধোঁয়া। যেন কেউ ভেজা কাঠ জ্বালিয়েছে। তার সঙ্গে মিশে থাকে পোড়া কাপড়ের গন্ধ। কখনও মনে হয় প্লাস্টিক, কখনও মনে হয় পুরোনো... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড় আমি ভালোবাসি

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ০৫ ই জুলাই, ২০২৬ দুপুর ২:৪৩

পাহাড় আমি ভালোবাসি
...........................................



চললাম তবে তোমার সাথে,
হাতটি রেখে হাত বাড়াতে।
পিছুটানের বাঁধন ছিঁড়ে,
হারাবো ওই মেঘের ভিড়ে।

পাহাড় চূড়ায় রোদের হাসি,
শুনছো ! তোমায় ভালোবাসি।
চলবে নদী আপন বেগে,
নতুন কোনো আশার মেঘে।

ইচ্ছেগুলো পাক না ডানা,
আজকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

পৃথিবীতে শ্রেষ্ঠ সম্পদ কি?

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৫ ই জুলাই, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২১



এই মুহুর্তে আমি গাজীপুর যাচ্ছি।
সময় সকাল দশটা। রবিবার। রাস্তায় জ্যাম যেতে অনেক সময় লাগবে। লাগুক। সমস্যা নেই, হাতে অনেক সময় আছে। আজ আমার কোনো কাজ নেই। বউ বাচ্চা বাসায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×