
আমাদের হুমায়ুন আহমেদ এবং হুমায়ুন আজাদ দুইজন খুব ভালো বন্ধু ছিলেন। তো হুমায়ুন আজাদ হুমায়ুন আহমেদ এর উপন্যাস গুলিকে বলতেন " অপন্যাস "! আরও বলতেন, এতে গভীরতা নেই!
এ কথা শুনতে শুনতে হুমায়ুন আহমেদ এর কান খারাপ হওয়ার দশা মানে ভালো লাগছিল না। এদিকে হুমায়ুন আজাদ বন্ধু মানুষ তাই লজ্জায় হুমায়ুন আহমেদ কিছু বলতে পারছেন না।
তাই তিনি একবার করলেন কি বিখ্যাত ঔপন্যাসিক মানিক বন্দোপাধ্যায়ের একখানা উপন্যাসের হুবহু কপি করলেন শুধু নাম গুলি মুসলিম করে দিলেন।
তারপর হুমায়ুন আজাদ সাহেবকে পড়তে দিলেন। হুমায়ুন আজাদ সাহেব পড়ে বললেন, ঠিক আছে কিন্তু গভীরতা নাই ! এ শোনার পর হুমায়ুন আহমেদ আর হুমায়ুন আজাদ সাহেব এর সাথে কোনরকম যোগাযোগ রাখেন নি!
এ গল্প বলার উদ্দেশ্য আছে। অনেকে ধরে ফেলেছেন কেন এই গল্প বর্ননা করলাম। অনেকে আছেন বা কেউ আছেন যিনি বা যাহারা আজকের ব্লগ পড়ে গভীরতা খুঁজতে যাবেন শেষমেশ হতাশ হয়ে বলবেন গভীরতা নাই !
তাদের কে বা তাকে বলছি, আমি ভাই! অত গভীরে যেতে চাই না। গভীরে না হয় গেলাম সেখান থেকে টেনে তুলবে কে? তুলবেন আপনারা বা আপনি? কেউ নাই!
আর আপনারা বা আপনি হুমায়ুন আজাদ হলে না হয় বুঝতাম ! আপনারা বা আপনি তো উনার বাল কি নজদিক ভি গায়ি নেহি! হিন্দি টেরাই করলাম। ভুল হলে ঠিক কইরা লইয়েন নিজ দায়িত্বে !
এরচেয়ে ভালো আমি হালকার উপর দিয়া ঝাপসা দেখে চলে ফিরে খাচ্ছি, ঘুমাচ্ছি, প্রেম করছি শুধু গভীরে যেতে পারছি না দুঃখিত তাই !
আচ্ছা, একটা প্রশ্ন করি বলেন তো ১৯৭২ সনে দেশে কোটিপতি কতজন ছিলেন ? নানান জায়গা ঘেঁটে যাহা পাইলাম তাতে তো শরীরের বাল দাঁড়ায় গেছে গা !
দাঁড়ান আমি বলে দিচ্ছি মাথা চুলকাবেন না মাথায় খুসকি থাকলে আরেক বিপদ! শ্যাম্পুর কিন্তু দাম আছে মাথায় রাইখেন! কত ছিল জানেন, মাত্র পাঁচজন!
এরপর ১৯৭৫ এ দাঁড়ায় ৪৭জন , ১৯৮০ তে দাঁড়ায় ৯৮জন , ১৯৯০ এ ৯৪৩ জন , মাত্র দুই বছরে এই হাল! ১৯৯৬ এ ২,৫৯৪ জন, পাঁচ বছরে এই হাল! ২০০১ সালে ৫,১৬২ জন,২০০৬ সালে ৮,৮৮৭ জন ২০০৮ সালে ১৯,১৬৩ জন এবং ২০১৫ সালে ৫৭,৫১৬ জন! আর এখন? সংখ্যা জানা নাই তবে আগের রেকর্ড ব্রেক মানে বহুগুণ !
এখন দেখছেন এ সংখ্যা কেমন লাফ দিয়া লাফ দিয়া বাড়ছে আর ওদিকে গরীবের সংখ্যা ও লাফ দিয়া লাফ দিয়া বাড়ছে !
গত ১২ বছরে দেশে কোটিপতি ব্যাংক হিসাবধারীর সংখ্যা তিনগুণেরও বেশি বেড়েছে।করোনা'র কারণে কিছু মানুষ যেমন গরিব হয়েছে, তেমনি ধনীরা আরও বেশি ধনী হয়েছেন। এ হচ্ছে দেশের হাল !
এমন একটা ভারসাম্যহীন রাষ্ট্রে যার পয়সা আছে সে মেলা কিছু করতে পারে খুন, গুম, ধর্ষণ, মাদক ব্যবসা আরও মেলাকিছু। যা খুবই ভয়ের ব্যাপার !
এই যে এসব নয়া কোটিপতি দিনকে দিন বাড়ছে এরা সবাই রাজনীতির সাথে জড়িত বা রাজনীতি নেতাদের আত্মীয় স্বজন অথবা কোন না কোনভাবে এদের সাথে জড়িত!
আবার অনেকে আছেন পিছন থেকে খেলছেন এবং নানান প্রজেক্টে ইনভেস্ট করে আরও মাল কামিয়ে নিচ্ছেন। মনে করছেন, এতে কি মন্ত্রী মহোদয়রা কিছু টু পাইস পাচ্ছেন না? আলবত পাচ্ছেন! এত সাধু কেউ না!
তাইতো ফকরউদ্দিন সরকার এর সময় দেখছি দামী গাড়ি রাস্তায় পড়ে ছিল কোন মালিক নাই। লেপ তোষক বালিশের ভেতর টাকা !
এখনো সরকার যদি অমন একখান চিরুনি অভিযান চালায় দেখবেন একই সিন আবার কিন্তু সরকারের আদৌ কি সেই হিম্মত আছে?
মনে হয় নাই ! এ জায়গায় আইসা গাব্বার এর ডায়ালগ মনে পড়ল " জো ডর গায়া সামঝো মর গায়া! "
সরকার আরো নাড়া দেয় না কারণ এতে নিজেদের লোকজন ধরা খাবে বেশী ! আবার যে একদম দেয় না তা কিন্তু না নাড়া দেয় যেমন শাহেদ, সম্রাট, হেলেনা, পাপিয়া এসব কিন্তু খোঁয়াড়ে আছে।
তবে বাতাসে ভাসে খবর এরা কারো চোখের কাঁটা হয়ে গিয়েছিল বা কাউরে মানতে চাইছিল না তাই সিস্টেমে ফালায় দিছে বা বলা যায় ফাঁটা বাঁশের চিপায় অন্ডকোষ আটকে গেছে একটু নড়াচড়া করলেই এখন আহ ঃ উহঃ ও মাগো লাগছে শোনা যায়!
কিন্তু হেলেনা, পাপিয়ার তো অন্ডকোষ নাই। তাইলে কোন চিপায় পড়ছে?এ রহস্য হয়তো বারমুডা ট্রায়াংগেল এর মতন। শোনা যাবে কিন্ত ধরা বা ছোঁয়া যাবে না!
দেখছেন কত গভীরতা ! যাক মেলা রাইত হইছে নয়া কোটিপতিদের শুভেচ্ছা! ভালো থাকবেন সকলে।
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই অক্টোবর, ২০২১ ভোর ৪:৩০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



