somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মিলন

০৪ ঠা অক্টোবর, ২০১৭ রাত ৯:২৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



নারী পুরুষের সম্পর্ক মূলত সম্পূর্ণতার সম্পর্ক। আমাদের ব্যক্তি জীবনে আমরা সবসময়ই অপূর্ণতার সূত্রে গ্রথিত। যতক্ষণ আমরা একলা ততক্ষণই আমরা অপূর্ণ। প্রথম অপূর্ণতা আমাদের শরীরে। আমাদের প্রজননের অঙ্গগুলি নারী পুরুষের কারুর শরীরেই সম্পূর্ণ নয়। পরস্পর বিচ্ছিন্ন। আর এই বিচ্ছিন্নতা জনিত মিলনের আর্তিই আমাদের পরস্পরকে পরস্পরের প্রতি আকর্ষণ করে। এই আকর্ষণ যত অমোঘ ততই অনিবার্য। ব্রহ্মচর্য কোনো সুস্থ জীবনচর্চা নয়। আমাদের শরীরের সম্পূর্ণতার জন্যেই যৌনমিলন একান্ত কাম্য। সেখানেই শরীরের সুস্থতার নোঙর। সৌন্দর্যের ভিত্তি। লিঙ্গযোনির পারস্পরিক আলিঙ্গনের মধ্যে দিয়েই সম্পূর্ণতার মূল সেতুটি গড়ে ওঠে। তাই আমাদের সম্পূর্ণতার শরীরী ভারসাম্য ঐ লিঙ্গযোনির আন্তরিক মিলনেই।

যে রক্তের দৌড়ের গতির উপর আমাদের এই জীবনের প্রতিটি মুহুর্ত্ত নির্ভরশীল, সেই রক্তের নিভৃততম কোষের মননেই কিন্তু এই সত্য অস্তিত্বময়। আর তাই আমরা চাই বা না চাই আমাদের শরীর আমাদের অজান্তেই সর্বদা বিপরীত লিঙ্গ প্রার্থনা করে। সেই প্রার্থনা মঞ্জুর হলেই জীবন সার্থক হয় প্রাথমিক ভাবে। প্রাথমিক এই কারণে যে আমাদের শরীর শুধুই যৌনাঙ্গে সীমাবদ্ধ নয়। তার মননের ক্যানভাসে প্রেমের একটা রামধনু সজীব হয়ে ওঠে যৌনাঙ্গের সার্থক মিলনে।

আর তখনই আমাদের একলা একা মনটি পরস্পরের মননে ঘর বাঁধতে চায়। এই যে পরস্পরের মননে ঘর বাঁধার আর্তি, এই অমোঘ টানই আমাদেরকে আমাদের যৌনাঙ্গের পরিমিত সীমার গণ্ডী অতিক্রমে চালিত করে। তখন শরীর মনের এই একাত্মতা আমাদের সম্পূর্ণ করে তোলে। কিন্তু তখনও কি আমরা পরিপূর্ণ ভাবে সম্পূর্ণ হই? না। তখনো বাকি থাকে আমাদের সত্ত্বার মিলন। নারীর নারী সত্ত্বা পুরুষের পুরুষ সত্ত্বায় নিজের অস্তিত্বকে অনুভব করতে চায়। ঠিক যেমন পুরুষের পুরুষ সত্ত্বা নারীর নারী সত্ত্বায় একমাত্র পূর্ণ হতে পারে। এই যে দুই ভিন্ন সত্ত্বার মিলন আকাঙ্খা-এই আকাঙ্খাই তো প্রেম!

আর প্রেমের এই চুড়ান্ত স্বরূপের মধ্যেই আমাদের নারীত্ব ও পৌরুষের সার্থকতা আসলেই। তখন স্বামী আর স্ত্রী প্রেমিক আর প্রেমিকা কেউ আর আলাদা নয়। পৃথক নয়। দুজন নয়, একজন। একটি সম্পূর্ণ আত্মা। এই যে সম্পূর্ণতা হ্যাঁ, এটাই তো বিবাহ। সে বিবাহের রূপ দাম্পত্যই হোক আর বন্ধুত্ব।

----শ্রীশুভ্র
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০১৭ রাত ৯:২৯
৪টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সব হারিয়েও বেঁচে থাকা: একজন রোকসানা রুমার নিঃসঙ্গ গল্প

লিখেছেন ওয়াদুদ সোহেল মোল্লা, ০৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫৬


জীবন আসলে বড় অদ্ভুত এক গোলকধাঁধা। আমরা ভাবি মেধা, ডিগ্রি আর সাফল্য দিয়ে পুরো জীবনটা সাজিয়ে ফেলা যাবে। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস মানুষকে কোথায় এনে দাঁড় করায়, তা কেউ জানে... ...বাকিটুকু পড়ুন

মিটারে টাকা ভরতে গিয়ে এ কি হলো আমার সাথে। না পড়লে চরম মিস।

লিখেছেন নাহল তরকারি, ০৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:১২

বিদুৎ মিটার, দুই প্রকার। এক হচ্ছে প্রিপেইড আরেকটি পোস্ট পেইড। আমার কাছে পোস্ট পেইড ভালো লাগে। কারন এখানে বিলের কপি দিয়ে যায়। ও বিলের কপি নিয়ে ব্যাংকে গিয়ে জমা দিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

=নীলাম্বরী সেজে আছি=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:৩৮



এই এসো না কাছে এসো,
নীল শাড়ীতে নীলাম্বরী
ঠায় দাঁড়িয়ে অপেক্ষাতে
এসে ভাসাও প্রেমের তরী।

নীল সমুদ্দুর ডেকেছে আজ
তাই দাঁড়িয়ে আছি একা
এসো তুমি হাওয়ায় উড়ে
এসে করো একটু দেখা।

হাঁটতে ইচ্ছে বালিচরে,
তুমি আমার - পাশে হাঁটবে?
মনের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মূল্যস্ফীতি বাড়লে বা কমলে আমরা টের পাই না কেন ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:৫১


গ্লোবাল ওয়ার্মিংয়ের কারণে বাংলাদেশে এখন কয়টা ঋতু আছে তা কেউ বলতে পারে না। আমার মনে হয় গ্রীষ্ম আর বর্ষার একটা মিশ্র ঋতু আছে, আর আছে শীত। এই গ্লোবাল ওয়ার্মিংয়ের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মুহাম্মদ আলি জিন্না

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:৩৫



১৮৭৬ সালে করাচিতে এক দুষ্ট বালকের জন্ম হয়।
এবং ৭৬ বছর বয়সে দীর্ঘদিন যক্ষা রোগে ভূগে- দেশ ভাগের পরের বছর মারা যান। এই দুষ্ট বালক'ই পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা। নাম তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×