
নারী পুরুষের সম্পর্ক মূলত সম্পূর্ণতার সম্পর্ক। আমাদের ব্যক্তি জীবনে আমরা সবসময়ই অপূর্ণতার সূত্রে গ্রথিত। যতক্ষণ আমরা একলা ততক্ষণই আমরা অপূর্ণ। প্রথম অপূর্ণতা আমাদের শরীরে। আমাদের প্রজননের অঙ্গগুলি নারী পুরুষের কারুর শরীরেই সম্পূর্ণ নয়। পরস্পর বিচ্ছিন্ন। আর এই বিচ্ছিন্নতা জনিত মিলনের আর্তিই আমাদের পরস্পরকে পরস্পরের প্রতি আকর্ষণ করে। এই আকর্ষণ যত অমোঘ ততই অনিবার্য। ব্রহ্মচর্য কোনো সুস্থ জীবনচর্চা নয়। আমাদের শরীরের সম্পূর্ণতার জন্যেই যৌনমিলন একান্ত কাম্য। সেখানেই শরীরের সুস্থতার নোঙর। সৌন্দর্যের ভিত্তি। লিঙ্গযোনির পারস্পরিক আলিঙ্গনের মধ্যে দিয়েই সম্পূর্ণতার মূল সেতুটি গড়ে ওঠে। তাই আমাদের সম্পূর্ণতার শরীরী ভারসাম্য ঐ লিঙ্গযোনির আন্তরিক মিলনেই।
যে রক্তের দৌড়ের গতির উপর আমাদের এই জীবনের প্রতিটি মুহুর্ত্ত নির্ভরশীল, সেই রক্তের নিভৃততম কোষের মননেই কিন্তু এই সত্য অস্তিত্বময়। আর তাই আমরা চাই বা না চাই আমাদের শরীর আমাদের অজান্তেই সর্বদা বিপরীত লিঙ্গ প্রার্থনা করে। সেই প্রার্থনা মঞ্জুর হলেই জীবন সার্থক হয় প্রাথমিক ভাবে। প্রাথমিক এই কারণে যে আমাদের শরীর শুধুই যৌনাঙ্গে সীমাবদ্ধ নয়। তার মননের ক্যানভাসে প্রেমের একটা রামধনু সজীব হয়ে ওঠে যৌনাঙ্গের সার্থক মিলনে।
আর তখনই আমাদের একলা একা মনটি পরস্পরের মননে ঘর বাঁধতে চায়। এই যে পরস্পরের মননে ঘর বাঁধার আর্তি, এই অমোঘ টানই আমাদেরকে আমাদের যৌনাঙ্গের পরিমিত সীমার গণ্ডী অতিক্রমে চালিত করে। তখন শরীর মনের এই একাত্মতা আমাদের সম্পূর্ণ করে তোলে। কিন্তু তখনও কি আমরা পরিপূর্ণ ভাবে সম্পূর্ণ হই? না। তখনো বাকি থাকে আমাদের সত্ত্বার মিলন। নারীর নারী সত্ত্বা পুরুষের পুরুষ সত্ত্বায় নিজের অস্তিত্বকে অনুভব করতে চায়। ঠিক যেমন পুরুষের পুরুষ সত্ত্বা নারীর নারী সত্ত্বায় একমাত্র পূর্ণ হতে পারে। এই যে দুই ভিন্ন সত্ত্বার মিলন আকাঙ্খা-এই আকাঙ্খাই তো প্রেম!
আর প্রেমের এই চুড়ান্ত স্বরূপের মধ্যেই আমাদের নারীত্ব ও পৌরুষের সার্থকতা আসলেই। তখন স্বামী আর স্ত্রী প্রেমিক আর প্রেমিকা কেউ আর আলাদা নয়। পৃথক নয়। দুজন নয়, একজন। একটি সম্পূর্ণ আত্মা। এই যে সম্পূর্ণতা হ্যাঁ, এটাই তো বিবাহ। সে বিবাহের রূপ দাম্পত্যই হোক আর বন্ধুত্ব।
----শ্রীশুভ্র
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০১৭ রাত ৯:২৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



