somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

দূরপথের ভ্রমন

০৬ ই অক্টোবর, ২০১৫ রাত ১২:২৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কলেজ জীবন থেকে দলবেঁধে দুরপথের ভ্রমনের প্রতি মজা ছিল অন্যরকম। এইত সেদিন রাজশাহি যাচ্ছি বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা দিতে। টিকেটা হাতে নিয়ে বাসের জন্য অপেক্ষা করছি একাকি আর ভাবছি বন্ধুরা সবাই যদি এক সাথে যেতে পারতাম তাহলে কতই না মজা হতো।এই যাত্রায় মোবাইল আর হেডফোন আমার সঙ্গী। ক্ষনিক বাদেই বাস চলে আসল,কাধের ব্যাগটি পাশের সিটে রেখে জানালার পাশের সিটটাতে গা এলিয়ে দিয়ে মোবালের প্লেলিস্ট থেকে রবীন্দ্র সংগীত ছেড়ে ঘুমানোর প্রচেষ্টা,যাতে করে একাকি ভ্রমন ক্লান্তি কিছুটা হলেও কমে আসে।হঠাৎ গানের শব্দ বেধ করে কানের কাছে সুমধুর কণ্ঠে কে জেন বলতে লাগল “এইযে শুনছেন......এইযে,এই ব্যাগটি কি আপানার।আমি চমকিয়া উঠে বলিলাম “ইয়ে মানে হ্যা মানে আমার ,কেন বলুনত?”না মানে এই সিটটা আমার” আমি ব্যাগটি সরিয়ে আমার পায়ের কাছে রেখে ভাবছি, স্রষ্টা তার নিপুন হাতে মেয়েটিকে তৈরি করেছে। যেমন তার কাজল কালো নয়ন খানি তেমন তার মায়াবী বদন খানি।মনে হয় যেন ফুটন্ত গোলাপ মঞ্জরীর কলি হাতের স্পর্শ জন্য অপেক্ষা করছে। আমার হিন মনে চলিতে লাগল দোলাচল আচ্ছা জিজ্ঞাসা করব কি মেয়েটির নাম ,কোথায় যাচ্ছে ?পরমুহুর্তে ভাবি না থাক আগ বারিয়ে কিছু বলতে গেলে সে যদি খারাপ মনে করে।ক্ষনিক বাদে মেয়েটি আমাকে বলছে ,“যদি কিছু না মনে করেন তা হলে একটা কথা বলি,আমি লং জার্নিতে চুপচাপ থাকতে পারিনা ।আমি যদি আপনার সাথে কথা বলি আপনি বিরক্ত হবেন নাত।“ মনে মনে ভাবিলাম (এই দেখি মেঘ না চাইতে বৃষ্টি) এইবারের দূর যাত্রায় তা হলে ভালোভাবে সময় কাটিবে। মেয়েটির কাছে জানতে চাইলাম আপনি কোথায় যাচ্ছেন ?প্রতি উত্তরে মেয়েটি বলল” রাজশাহি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদে ভর্তি পরীক্ষা দিতে যাচ্ছে।“তার সাথে যত কথা বলছি আমি ততই বিমহিত হচ্ছি ক্ষণিকের দেখা হলেও মনে হচ্ছে যেন সে আমার জন্ম জন্মাতর ভাবে চেনা। কথা বলতে বলতে আমাদের বাসটি যমুনা সেতুর কাছে পৌছালে সে তার কাজল কালো চোখ দিয়ে বাহিরের দিকে এক পলকে তাকিয়ে ছিল মনে হচ্ছে বাচ্চা মেয়ে রঙিন বেলুন দেখে নিজের সবকিছুর কথা ভুলে গেছে।কথা বলতে বলতে আমাদের বাসটি হালাকা নাস্তার জন্য একটি খাবারের হোটেলের সামনে অবস্থান নিল ।আমি আমার মত নাস্তা সেরে বাসে উঠতে যাব এমন সময় সেই সুমধুর কণ্ঠের ডাক “বাস ছাড়িতেত কিছু সময় বাকি আছে, আসেন এক কাপ চা খেয়ে নেই দেখবেন মনটা অনেক চাঙা থাকবে,আর শুনেছি এখান কার চায়ের সাধ অন্য কোথাও পাওয়া যায় না।“ একানাদুয়ানা মন নিয়ে গেলাম চা খেতে ।সত্যি বলতে কি এইরকম চায়ের সাধ আমি আর কোথায়ও পাইনি।খাটি মহিশের দুধের সাথে তালের গুর দিয়ে বানানো চায়ের সাধটা ছিল অসাধারন...।চা পান শেষে আমরা বাসে উঠে যাই। মেয়েটি কে চায়ের জন্য ধন্যবাদ দিতেই ।এক গাল হেসে দিয়ে বললো ধন্যবাদটা আমার মামকে দিবেন ,জানেন আমিও না জানতাম না এখানে এইরকম চা পাওয়া যায়,আসার সময় মামা বলেছিলেন বলেই না এই সাধটা পেলাম।“ আমাদের কথা চলতে থাকল অবিরাম ।বাসটি দ্রুত গতিতে রাজশাহীর দিকে যেত লাগিল । কে যেন আমার ডান হাতের কাধে দিয়ে বলছে মামা আমরাত রাজশাহি আইসা পরছি আপনে নামবেন না।“ চোখ মেলে দেখি আসলেই আমরা আমি চলে এসেছি। যাক এবারের ভ্রমণটা একেবারে খারাপ যায় নি ...........।

লেখাঃআব্দুল্লাহ আল-মামুন
সময়ঃ সোমবার ,৫ অক্টোবার, ২০১৫
২০ আশ্বিন ১৪২২, ২০ জিলহজ ১৪৩৬
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই অক্টোবর, ২০১৫ রাত ১২:২৯
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ডাক্তার আসিবার পূর্বে রোগীটি মারা গেলো

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:৩৩



বাংলাদেশে ডাক্তারদের অবহেলায় কি পরিমাণ প্রাণ অকালে ঝরে গিয়েছে তা কল্পনাতীত। এবং আমাদের দেশের ডাক্তার এই অপরাধে নূন্যতম অনুশোচনা বোধ করে না।

ডাক্তারদের অবহেলার কারণে দেশের পাঠ্য বই ইংরেজি... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাজনীতিতে ফেরার টিকিট কি এবার ক্রেমলিনে?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৩:১০


বিশ্বজুড়ে থরথর কম্পন শুরু হয়ে গেছে। মার্কিন মুল্লুক থেকে মহাখালী, সবাই আজ বাকরুদ্ধ। আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন বিস্ফোরণ ঘটেছে। বিশ্বস্ত সূত্রে, অর্থাৎ ভারতীয় কয়েকটি বেনামী ফেসবুক পেজ এবং... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেষের কবিতা

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৪৫


(রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘শেষের কবিতা’ উপন্যাসের প্রেক্ষাপট অবলম্বনে ২০২৬ সালের এক কল্পিত নতুন সংস্করণ)

অমিত রায় সম্পর্কে তার বন্ধু সহিস বলত, "অমিতের বুদ্ধির আলোটা সূর্যের মতো সবাইকে আলো দিতে আসে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার সোভিয়েত শৈশব

লিখেছেন চারাগাছ, ১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৩১





বাংলা ব্লগের জগতে সহব্লগাররা যারা আমাকে অনেকদিন ধরে চেনেন, তারা জানেন—আমার একটা রাশিয়ান শৈশব ছিল।
শুনতে একটু অদ্ভুত লাগে, তাই না?

রাশিয়ায় আমি কোনোদিন যাইনি।

তবু আমার একটা রাশিয়ান শৈশব ছিল।

আমার সেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

সংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণঃ এটা একটা ফাকিবাজি পোষ্ট

লিখেছেন ভুয়া মফিজ, ১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৫



বাংলাদেশে একটার পর একটা বিষয়বস্তু সামনে আসে, আর সবাই সেটা নিয়ে ঝাপায়ে পড়ে। দেখে বিমলানন্দ অনুভবস করি। ''অনুভবস'' বললাম, কারন ছাত্রাবস্থায় আমরা বন্ধুরা কোন বিষয়ে ওভার-ক্যাজুয়ালি ফানি আলাপ করলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×