দীপু যাবার সময় এক পলক উপরের দিকে তাকায়
শিল্পী উদাস ভঙ্গিতে আকাশ দেখছে।
মটর সাইকেল স্টার্ট দেয় দীপু।আর একবার তাকায়।
চোখাচোখি হয়। দীপু বেরিয়ে পড়ে।
ইউনুস সাহেবের বড় মেয়ে শিল্পী।
ডিগ্রীতে পড়ে।দীপু কখন যায় কখন আসে,সব
তার মুখস্ত। যদিও তারা কখনও কথা বলেনি।ম্যাচের
সবাই দীপুকে খ্যাপায়।তার নাম রাখা
হয়েছে নীরব
প্রেমিক।মাঝে মাঝে কোন উৎসবে
তাদের কাছে খাবার পাঠিয়ে দেয় ইউনুস
সাহেবের স্ত্রী। তখন হেসে
রমিজ বলে
-দীপু তোর শ্বাশুরি খাবার পাঠাইছে।
খাবিনা দোস্ত?
দীপু খুব লজ্জা পায়।
ধ্রুব ম্যাচে ফিরে আসে।রমিজ এখনও
আসেনি। দীপু আর আসাদ দশটায় ফিরে
আসে। ফ্রেশ হয়ে বেলকনিতে গিয়ে
বসে।গত দুইদিন মেয়েটি আর ফোন
করেনি।
তবু কানে ভাসে মেয়েটির কন্ঠ।-ধ্রুব
নামটি
খুব মিষ্টি।ধ্রুবর কখনও প্রেম করা হয়ে
উঠেনি।যদিও সে সুপুরুষ, তবুও।মেয়েদের
সামনে পড়লেই কোথা হতে একরাশ লজ্জা
এসে জড়ো হতো।আর মনের জোড় কমে
যেত।কলেজে ওর বন্ধুরা যখন প্রেমে
হাবুডু্বু
খেতো ও তখন তাদের গল্প শুনে সময়
কাটাতো।এভাবে ছাব্বিশটি বসন্ত পার
করেছে সে।গেলো ঈদে মা যখন বিয়ের
কথা
বললো, ও কোন জবাব না দেওয়াতে, মা
আর কথা বাড়ায়নি।
তাস খেলতে বসে ধ্রুব আজ খুব ভুল চাল
দেওয়া শুরু করে।দীপু বিরক্ত হয়।
- সত্যিই প্রেমে পড়লে নাকি ধ্রুব?এভাবে
ভুল চাল দিলে জিতবো কিভাবে?
-আজ খেলতে ভাল লাগছে না।
ধ্রুবর ঘুম আসেনা।মনের মধ্যে খচখচ করতে
থাকে।এক সময় ঘুমিয়ে যায়।রিংটোনের
শব্দে ঘুম ভাঙ্গে।
-ঘুমিয়ে পড়েছেন?
- রাত কী জেগে থাকবার জন্য?
-আমার না আজ ঘুম আসছে না।তাই
আপনাকে ফোন করলাম।
-আমাকে কেন?
মেয়েটি হাসে।উত্তর করেনা।
-বললেন না?
-কি বলবো?
-আমাকে কেন?
-আপনার সাথে কথা বলতে ভাল লাগলো
তাই।
-আপনার নাম আমাকে এখনও বলেননি।
-নাই বা জানলেন।আপনি আমার কথাবন্ধু
হবেন।
-কথাবন্ধু?সে কেমন ধরনের?
-এই যারা সারারাত ফোনে গল্প করে
কাটায়।
-সারারাত জাগলে দিনে মানুষ কাজ
করবে
কিভাবে?
-করিনাতো।
-আশ্চর্য।
-আশ্চর্য কেন?
-আপনি এখনও নাম বলেননি।পরিচয়ও
দেননি।
-না জানলে কি হবে?
-বন্ধু হবো কিভাবে?
-আমার নাম হোসনে লা সানি।
-আপনি কী খুব সুন্দরী?
-কেন?
-এই যে, বললেন হোসনে লা সানি যার
অর্থ
অদ্বিতীয় সুন্দরী।
অপরপ্রান্ত হতে হাসির শব্দ ভেসে আসে।
০১/১০/২০১৫
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা অক্টোবর, ২০১৫ রাত ১২:১৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




