
আমি যখন মাটিতে পা দেই,আমার মেয়ে আমাকে প্রশ্ন করে, “বাবা গ্রাম কোথায়”?
আমি হামাগুড়ি দিতে শুরু করি,আর বাতাসে আমার মেয়ের চুল উড়তে শুরু করে।
গ্রামটাকে কে যেন বদলে দিয়েছে।ঠিক যেন এক তৈলচিত্রের উপর আর একটি তৈলচিত্র,
ভেরমিয়ার অবশ্য তার বিখ্যাত ছবি এভাবে আঁকেনি।–সময় ভেরমিয়ারের চেয়েও বড় শিল্পী।
চলন বিলের বুক চিড়ে বেরিয়ে গিয়েছে পাকা রাস্তা।
আমি হামাগুঁড়ি দিতে থাকি সময়ের বুকে
আর পীচ ঢালা পাকা রাস্তা কোথায় যেন হারিয়ে যায়
আর ঘন বাঁশ ঝাড় ফিরে আসে রাস্তা জুড়ে
আর ফিরে আসে ধুতি পড়া মানুষগুলি কীর্তন গাইতে গাইতে
আর ফিরে আসে মাছ ধরা খরা
আর ফিরে আসে ছোট্ট স্রোতস্বিনী নদী।
“বাবা,গ্রাম কোথায়”?- সময়ের বুকে ধাক্কা খায় প্রশ্নটি
আর জয়নুল আবেদিনের চিত্রকর্ম হতে বেরিয়ে আসে
এক গাড়োয়ান,-ঠেলছে সর্বশক্তিতে
কাদায় আটকে যাওয়া গরুর গাড়ির কাঠের চাকা।
পীচ ঢালা পথটি কি ভুলে গিয়েছে তার অতীত ইতিহাস?-
শুষ্ক মৌসুমে ধুলো-ধূসোরিত মেঠো পথ।বর্ষায় এক হাঁটু কাদা
শীতের নরম নরম বাতাস বয়ে আনে সরিষা ফুলের ঘ্রাণ।
সন্ধ্যায় পথটি ভুলে যেতো তার কষ্ট, হাটুরে মানুষদের পদভারে।
আমি মাটিতে পা দিই আর খুঁজতে শুরু করি আমার গ্রামটিকে
সবুজে শ্যামলে ঘিরে থাকা আমার প্রিয় গ্রামকে
আমার শিশুকালের গ্রামটিকে
আমার শৈশবের গ্রামকে।
আমি স্মৃতিস্বপ্ন ভেঙ্গে উঠে আসি,আর নিজেকে বন্দী করি ইট-পাথরের দেয়ালে।
০১/০১/২০১৮
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা জানুয়ারি, ২০১৮ রাত ১১:৪১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


