somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

করই গাছ

২৮ শে এপ্রিল, ২০২০ দুপুর ২:০২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মানব জীবনের সবচেয়ে মধুময়, আনন্দঘন মূহুর্ত হলো ছেলেবেলা। জীবনের ফেলে আসা সেই মূল্যবান, আনন্দময় সময়টা আর কখনোই ফিরে আসে না, তবে কিছু সৃতি থেকে যায় যা হয়তো আমৃত্যু মানুষ মনে রাখে। সেই সাদা মাটা সরল দিনগুলির কথা মনে করলেই অদ্ভুদ এক ভাল লাগা অনুভব হয় । শৈশবের ১৯ টি বছর কেটেছে সি এন্ড বি কলোনির দোতালা বাসার সেই কোনের ঘরটিতে। দক্ষিণের দুটি জানলা দিয়ে ভেসে আসা শো শো বাতাস - সেই দৃশ্য মনে করলে আজো আমার অবচেতন মন শীতল হয়ে যায়। বাহিরের ঘরের জানালার ঠিক ২০ হাত দুরত্তের মধ্যেই ছিল একটি করই গাছ। জানালার গ্রিলে মাথা রেখে সবুজ আর হলুদের মিশ্রণে ছড়িয়ে থাকা গাছের পাতাগুলির দিকে তাকিয়ে থাকতাম অপলক দৃষ্টিতে। নিজের অজান্তেই এক আন্তরিক সম্পৃক্তি রূপায়িত হোল আমার সাথে ওই করই গাছটির।

গাছের চুড়ায় পাখির বাসাটা আমার জানালা থেকে স্পষ্ট দেখা যেত। বাচ্চা পাখিটা উড়তে পারত না ঠিকমতো । এজন্য মা পাখিটা বাচ্চা পাখিটাকে সবসময় কাছে কাছে রাখত । বৃষ্টির দিনে মা পাখিটা ডানা মেলে বাচ্চা গুলোকে ঢেকে রাখতো আর নিজে ভিজত।
বৃষ্টি থামার পর ভেজা করই গাছটাকে ক্লান্তিহীন নবীন মনে হত। ওই গাছের ছায়ার নিচে লাঠিম, মার্বেল, ডাংগুলি খেলেছি বহুবার। কি শীতল ছায়া- আহা্ ! মাঝে মাঝেই করই গাছটির নিচে বসে মনোযোগ সহকারে দেখতাম পিঁপড়ের গাছে আরোহণ - অবরোহণ।

বাবা বলে –“পরিবেশ বান্ধব গাছ, আমাদের ফুসফুসের ৬০% ঝুলে আছে ওই গাছের মধ্যেই। শ্বাস- প্রশ্বাস এর মাধ্যমে গাছের সাথে মানব দেহের লেনদেন চলছে প্রতিনিয়ত “

প্রকৃতির অপরূপ সৃষ্টি বৃক্ষের জীবন সম্পূর্ণটাই উত্সর্গীকৃত প্রকৃতির মাঝেই। জানি না আজো ওই জায়গাটিতে দাড়িয়ে আছে কিনা আমার শৈশবের সঙ্গি করই গাছটা, তবে আমার সৃতিতে শ্যামল ছায়া হয়ে আছে সর্বদা । সবুজ মাঠ, সবুজ ঘাস, সবুজে সবুজে ছড়ানো ছিল কলোনির চারপাশ । সব কিছুর মাঝেও জানালার সামনে দাড়িয়ে থাকা করই গাছটির সাথে আমার সম্পর্ক ছিল গভীর।

মানব জীবনের সকল দুঃখ বেদনার মধ্যে ছেলে বেলার এই জীবনটা ফিরে না পাওয়াটাই অনেক বেশী দুঃখের, বেদনার। আমার আনন্দঘন শৈশবের একটি অংশ হোল ওই করই গাছ। ইচ্ছে করে আবারো ওই গাছের ছায়াতলে বসে শীতল বাতাসের স্পর্শে প্রকৃতির সাথে দেহ-মনের সংযোগ স্থাপন করি।

----------
লেখক ও চিত্রকর : সানি মজুমদার
আবু ধাবি, ইউ এ ই

সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে এপ্রিল, ২০২০ রাত ৮:৩২
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

নতুন মসজিদের কাজ শুরু করলাম

লিখেছেন প্রামানিক, ২৫ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৬


শহীদুল ইসলাম প্রামানিক

আলহামদুলিল্লাহ্, নতুন মসজিদের কাজ আজ থেকে শুরু হলো। আজ সকাল দশটায় গ্রামের কয়েকজন ধর্মপ্রাণ উদ‍্যোগী মানুষ নিজ উদ‍্যোগেই মাটি কেটে দিয়েছে।

আজ থেকে প্রায় কুড়ি বছর পূর্বে আমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রিয় কন্যা আমার- ৯২

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৫ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০০



প্রিয় কন্যা আমার-
ফাজ্জা তোমার স্কুল বন্ধ। তুমি তোমার নানা বাড়ি গেছো। এবার অনেকদিন থাকবে নানা বাড়ি। নার্সারি থেকে কেজি ওয়ানে উঠলে। বেতন বেড়েছে। খরচ বেড়েছে। আমি নিশ্চিত... ...বাকিটুকু পড়ুন

হাসাহাসি থেকে সাফল্যের ইতিহাস: বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১

লিখেছেন মাথা পাগলা, ২৫ শে জুন, ২০২৬ রাত ৯:৫২



এক সময় অনেক সমালোচনার মুখে ছিল বাংলাদেশ স্যাটেলাইট-১ (সাবেক বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১)। তখন অনেকেই বলেছিল, এত টাকা খরচ করে এসব করে কোনো লাভ হবে না। কিন্তু আজ ধীরে ধীরে সেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

গোসাইপুর ১৯৭১

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ২৬ শে জুন, ২০২৬ ভোর ৪:৫০



জুন মাসের পড়ন্ত বিকেল, ভ্যাপসা গরমে আগন্তুক ঘেমে একাকার। গায়ে ময়লা হাফ শার্ট আর নীল ফুলপেন্ট। শার্টের রঙ কোনো এক সময় হয়তো সাদা ছিলো, ময়লা হতে হতে এখন প্রায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ মোহমায়া

লিখেছেন ইসিয়াক, ২৬ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৪৬



খরস্রোতা নদীও একসময়
ক্ষীণ নালায় পরিণত হয়
কালের পরিক্রমায়,সময়ের চাহিদায় ।
তবু আশা বেঁধে রাখি।

ফিরবে সব আগের মত
চলবে জীবন অবিরত
কোন একদিন।


হারানো মুহুর্তরা কি সত্যিই  ফিরে আসে?
শত ব্যস্ততায়- মায়ের মত... ...বাকিটুকু পড়ুন

×