মানব জীবনের সবচেয়ে মধুময়, আনন্দঘন মূহুর্ত হলো ছেলেবেলা। জীবনের ফেলে আসা সেই মূল্যবান, আনন্দময় সময়টা আর কখনোই ফিরে আসে না, তবে কিছু সৃতি থেকে যায় যা হয়তো আমৃত্যু মানুষ মনে রাখে। সেই সাদা মাটা সরল দিনগুলির কথা মনে করলেই অদ্ভুদ এক ভাল লাগা অনুভব হয় । শৈশবের ১৯ টি বছর কেটেছে সি এন্ড বি কলোনির দোতালা বাসার সেই কোনের ঘরটিতে। দক্ষিণের দুটি জানলা দিয়ে ভেসে আসা শো শো বাতাস - সেই দৃশ্য মনে করলে আজো আমার অবচেতন মন শীতল হয়ে যায়। বাহিরের ঘরের জানালার ঠিক ২০ হাত দুরত্তের মধ্যেই ছিল একটি করই গাছ। জানালার গ্রিলে মাথা রেখে সবুজ আর হলুদের মিশ্রণে ছড়িয়ে থাকা গাছের পাতাগুলির দিকে তাকিয়ে থাকতাম অপলক দৃষ্টিতে। নিজের অজান্তেই এক আন্তরিক সম্পৃক্তি রূপায়িত হোল আমার সাথে ওই করই গাছটির।
গাছের চুড়ায় পাখির বাসাটা আমার জানালা থেকে স্পষ্ট দেখা যেত। বাচ্চা পাখিটা উড়তে পারত না ঠিকমতো । এজন্য মা পাখিটা বাচ্চা পাখিটাকে সবসময় কাছে কাছে রাখত । বৃষ্টির দিনে মা পাখিটা ডানা মেলে বাচ্চা গুলোকে ঢেকে রাখতো আর নিজে ভিজত।
বৃষ্টি থামার পর ভেজা করই গাছটাকে ক্লান্তিহীন নবীন মনে হত। ওই গাছের ছায়ার নিচে লাঠিম, মার্বেল, ডাংগুলি খেলেছি বহুবার। কি শীতল ছায়া- আহা্ ! মাঝে মাঝেই করই গাছটির নিচে বসে মনোযোগ সহকারে দেখতাম পিঁপড়ের গাছে আরোহণ - অবরোহণ।
বাবা বলে –“পরিবেশ বান্ধব গাছ, আমাদের ফুসফুসের ৬০% ঝুলে আছে ওই গাছের মধ্যেই। শ্বাস- প্রশ্বাস এর মাধ্যমে গাছের সাথে মানব দেহের লেনদেন চলছে প্রতিনিয়ত “।
প্রকৃতির অপরূপ সৃষ্টি বৃক্ষের জীবন সম্পূর্ণটাই উত্সর্গীকৃত প্রকৃতির মাঝেই। জানি না আজো ওই জায়গাটিতে দাড়িয়ে আছে কিনা আমার শৈশবের সঙ্গি করই গাছটা, তবে আমার সৃতিতে শ্যামল ছায়া হয়ে আছে সর্বদা । সবুজ মাঠ, সবুজ ঘাস, সবুজে সবুজে ছড়ানো ছিল কলোনির চারপাশ । সব কিছুর মাঝেও জানালার সামনে দাড়িয়ে থাকা করই গাছটির সাথে আমার সম্পর্ক ছিল গভীর।
মানব জীবনের সকল দুঃখ বেদনার মধ্যে ছেলে বেলার এই জীবনটা ফিরে না পাওয়াটাই অনেক বেশী দুঃখের, বেদনার। আমার আনন্দঘন শৈশবের একটি অংশ হোল ওই করই গাছ। ইচ্ছে করে আবারো ওই গাছের ছায়াতলে বসে শীতল বাতাসের স্পর্শে প্রকৃতির সাথে দেহ-মনের সংযোগ স্থাপন করি।
----------
লেখক ও চিত্রকর : সানি মজুমদার
আবু ধাবি, ইউ এ ই


অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


