somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমার এই সব দিনরাত্রী

৩০ শে মে, ২০১৩ দুপুর ১:০১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অনেক দিন ব্লগ থেকে দূরে ছিলাম। সেই বছরের প্রায় শুরু থেকে। আনন্দ, বেদনার জালে জড়িয়ে গিয়ে ব্লগের নেশাটা প্রায় ছুটেই গিয়েছে। রোজই ভাবি, কাল ইন-শা-আল্লাহ লিখবো। কিন্তু তা আর হয়ে উঠেনা। একে তো আমি চরম আলসে! কুড়েমির কারনেই আমার এই দশা।
ফেব্রুয়ারীর ৯ তারিখে ব্লগার মামুনের বাসায় দুপুরের আমাদের চরম আড্ডা ও খাওয়া-দাওয়া ছিলো। আড্ডাটার লোভে বাসা থেকে খেয়ে সেখানে গিয়েছিলাম। পরদিন সারাদিন জানার সাথে আড্ডা, আলাপ, মিটিং সব করে ঘরে ফিরে সামুতে একটি পোস্টও লিখে ফেললাম। ১২তারিখ সকালে মেয়ে ফোনে ভয়ে ভয়ে বলে " মা আপনি তাড়াতাড়ি খেয়ে নেন, দুপুরে ক্লিনিকে ভর্তী হতে হবে"। দিলাম ঝাড়ি! কিন্তু ঠিকই তার কথা মত ক্লিনিকে গেলাম। সার্জন আমায় হড়বড় করে বল্লো, " আপনার ব্লাডে ইনফেকশন আছে তাই এন্টিবায়োটিক শুরু করছি, আর রাত ১০টায় অপারেশন করবো। গলব্লাডার ছোট্ট অপারেশন, ভয়ের কিছুই নেই। আমি বললাম, আমার কিন্তু অনেক এন্টিবায়োটিক কাজ করেনা। কালচারটা করিয়ে নিন। ব্লাড টেষ্টে দেয়া হলো যখন আমি ক্লিনিকে ভর্তী হই, তখন আমার রক্তে সোডিয়াম, পটাসিয়ামের ইনব্যালেন্স ছিলো। একটি স্যালাইন পুশ করে ডাক্তার বললেন, " আমি রাত ১০টায় অপারেশন করবো"। এদিকে ক্লিনিকে ওটিতে অপারেশন-রত অন্য ডাক্তাররা আমার ব্লাড রিপোর্ট দেখে বলছিলো এমন ইনব্যালেন্সে কি করে রুগীকে অজ্ঞান করা হবে? এটা তো অসম্ভব! যিনি এনেস্থিয়া করবেন তিনি আমার পরিচিত। সেই ডাক্তার এলেন কেবিনে। বিভিন্ন প্রশ্ন করলেন, তারপর বললেন ওকে! রাতে অপারেশন হবে। আমি বললাম, কিসের অপারেশন? জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে ডাক্তার আমার দিকে তাকালেন। আমি বললাম, " আমার ইলেক্ট্রোলাইড রিপোর্ট দেখে কি করে বলছেন অপারেশন হবে। আমি তো অপারেশনের জন্য রেডী নই"। এমন সময় সার্জন এসে ঢুকলেন। ডাক্তার সার্জনের দিকে তাকিয়ে বললেন, "রুগী তো এখন অপারেশনে রাজী নয়। সার্জন ভুরু কুঁচকে আমার দিকে তাকালেন। মনে মনে বললাম, " যতই ভুরু কুঁচকে তোমার বিরক্তি দেখাওনা ক্যানো, বিনি পয়সায় তো আমার অপারেশন করবেনা, ঝুকি নিয়ে আমি ক্যানো অপারেশনে রাজী হবো"? মুখে বললাম, আমার সোডিয়াম, পটাসিয়াম নরম্যাল হোক তারপর আমি অপারেশন করাবো। মুখে কোনো কথা না বলে বিরক্তি মুখে ছড়িয়ে কাধ ঝাকিয়ে সার্জন রুম থেকে বের হয়ে গেলেন। অবশেষে ১৩ তারিখ রাত ১০টা ৩০ মিনিটে ওটিতে ঢুকলাম। পোস্ট-অপারেটিভে থাকা কালিন আমার সুগার কি কারনে হঠাৎ হাই হয়ে গেলো। ডিউটি ডাক্তার সার্জনকে ফোনে জানালে তিনি ১০ সিসি ইনসুলিন আমার সেলাইনে পুশ করে দিতে বললেন। আমি ডায়াবেটিসের পেশেন্ট নই, ইনসুলিন দেয়া হয়েছে এটা আমাদের জানানো তাদের উচিত ছিলো। সকাল ৯টার দিকে আমায় কেবিনে আনা হলো। কুম্ভকর্ন লাল টকটকে প্রিন্টের একটি সার্ট পরে রুমে ঢুকলো। আমি আবছা ভাবে তাকে দেখলাম। আমার হাতে লাল গোলাপের কুড়িটি দিলো। তখনও আমি আচ্ছন্ন। ভালোবাসা দিবসের এই স্মৃতিটি মেয়ে আমার মোবাইলে ধরে রাখলো। বাবা, মেয়ে খুব আস্তে আস্তে কথা বলছিলো। ভেবেছিলো আমি ঘুমিয়ে আছি। হঠাৎ আমি জোরে মেয়েকে ডেকে বললাম, আমার কিছুই ভালো লাগছেনা, খুব অস্থির লাগছে। বমি বমি করছে। মেয়ে বল্লো, কাল থেকে কিছু খান নি, এ জন্য হতে পারে। হঠাৎ অনুভব করলাম, আমার পায়ের দিক থেকে আস্তে আস্তে অবশ হয়ে যাচ্ছে, আমার শরীর পাখীর পালকের মত হালকা হয়ে কোথায় যেনো ভেসে যাচ্ছে। আমি বললাম, ডাক্তার ডাকো। মেয়ে ছুটে বেরিয়ে গেলো। তার বাবা কিংকর্তব্য বিমুড় হয়ে বসে থাকলো। ডাক্তার এসে সুগার মেপে দেখে ২ পয়েন্টেরও নিচে। তার মানে আমার হাইপো হয়েছে। আর তখনই জানলাম আমায় ইনসুলিন দেয়া হয়েছিলো। চল্লো যমে মানুষে টানাটানি। কুম্ভকর্ণ বার বার বলছিলো, মিষ্টির রস খেতে দাও ঠিক হবে। কে শোনে তার কথা! গ্লুকোজ ডাইরেক্ট ঢুকিয়ে দিলো হাতের শিরায়। হাত ফুলে ঢোল! সুগার একটু বাড়ে, এক ঘন্টা পরে আবার ২/৩ এ নেমে আসে। এদিকে ফোনে ছেলে, আত্মিয়-স্বজন সবাই ডাক্তারের পিন্ডি চটকাতে শুরু করলো। ছেলে তো ডাক্তারের ঠিকানা চেয়ে বার বার ফোন করতে লাগলো। ( বন্ধুদের দিয়ে ঠ্যাঙ্গানি দেওয়াবে বলে) তাকে অনেক বুঝিয়ে শান্ত করা হলো। অবাক হয়ে গেলাম! সেই সার্জন কিন্তু অপারেশনের পরে একবারও আমাকে দেখতে আসেন নি। কল করা স্বত্তেও আসেন নি। অপারেশনের পরে একবার রুগীকে দেখে যায় প্রায় সব ডাক্তারই। কিন্তু উনি সেটাও করেন নি। একদিন পরে আবার আরেক উপসর্গ শুরু হলো। ব্লাড-প্রেশার কমতে শুরু করলো। কমতে কমতে ৬০/৪০ এ যখন এলো তখন আমার মায়ের শেষ সময়ের কথা মনে পড়েছিলো। ডিম, কফি, খাবার খেতে খেতে আমি ক্লান্ত! বিরক্ত হয়ে শেষে বললাম, " আমাকে বাসায় যেতে দাও। আমি চলাফেরা করলে, নিজের ঘরে সুস্থ থাকবো। একরাশ তিক্ত অভিজ্ঞতা নিয়ে ঘরে ফিরে এলাম। কেলেন্ডারের পাতা তখন ফেব্রুয়ারীর ১৮ তারিখ।
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে মে, ২০১৩ দুপুর ১:০১
২৬টি মন্তব্য ২৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

নান্দাইলের ইউনুস ও স্বপ্নভঙ্গের বাংলাদেশ

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৩ রা মে, ২০২৬ বিকাল ৩:৪০


নব্বইয়ের দশকে বিটিভিতে প্রচারিত হুমায়ূন আহমেদের জনপ্রিয় একটি নাটকে একজন ভাড়াটে খুনীর চরিত্র ছিল। খুনীর নাম ইউনুস - নান্দাইলের ইউনুস। গ্রামের চেয়ারম্যান তার প্রতিদ্বন্দ্বী একজন ভালো মানুষ স্কুল শিক্ষককে হত্যার... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্বনির্ভর অর্থনীতি থেকে ঋণনির্ভর, আমদানিনির্ভর, পরনির্ভর রাষ্ট্রে পরিনত হতে যাচ্ছি।

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৩ রা মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩৪




মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের কাছে নতজানু হয়ে যে রাষ্ট্রগুলো নিজের অর্থনীতি, কৃষি আর ভবিষ্যৎ বিক্রি করে দেয়- তার পরিণতি কী, তার জীবন্ত উদাহরণ পাকিস্তান। কোটি কোটি মানুষকে ভিক্ষুক বানানোর সেই পথেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

এরা খুবই বিপদজনক

লিখেছেন শ্রাবণ আহমেদ, ০৩ রা মে, ২০২৬ রাত ১১:০১

যে তোমার সাফল্য দেখে হিংসে করে,
যে তোমার বিপদ দেখে খুশি হয়,
যে তোমার সামনে এক আর পেছনে আরেক।
তাকে তোমার গোপন কথা কিংবা তোমার কোনো পরিকল্পনার কথা বলতে যেও না।
সবসময় তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

গ্রেট প্রেমানন্দ মহারাজ

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৪ ঠা মে, ২০২৬ সকাল ১১:৪৮



'প্রেমানন্দ' একজন ভারতীয় হিন্দু তপস্বী ও গুরু।
১৯৭১ সালে কানপুরের কাছে 'আখরি' গ্রামে তার জন্ম। দরিদ্র পরিবারে জন্ম। ১৩ বছর বয়সে প্রেমানন্দ সন্ন্যাসী হওয়ার জন্য গৃহ ত্যাগ করেন।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ডোগান- এক রহস্যময় জাতি

লিখেছেন কিরকুট, ০৪ ঠা মে, ২০২৬ বিকাল ৫:১০



আফ্রিকার মালি এর হৃদয়ে, খাড়া পাথুরে পাহাড় আর নির্জন উপত্যকার মাঝে বাস করে এক বিস্ময়কর জনগোষ্ঠী ডোগান। বান্দিয়াগারা এস্কার্পমেন্ট অঞ্চলের গা ঘেঁষে তাদের বসতি । এরা যেন সময় কে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×