somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ইহা পুরোপুরি কাল্পনিক ঘটনা অবলম্বনে কাল্পনিক একটা পোষ্ট

২২ শে এপ্রিল, ২০১৭ দুপুর ২:৫৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অফিসে যাওয়ার জন্য রাস্তায় বেরোতেই দেখি রিকশা নেই। ব্যাপার কী? আজ কি তাহলে রিকশা ধর্মঘট? তা হতেই পারে! দেশের যা অবস্থা! অস্বাভাবিক কিছুই নয়। কী আর করা, অগত্যা হাঁটা শুরু করাই ভালো। দুই কিলোমিটার পথ। কম কথা? গ্রামের লোকেরা যে কেমনে পাঁচ-সাত কিলোমিটার হাঁটে, শুনলেও গায়ে ব্যথা হয় আমার। নাহ্, রাস্তাগুলো কেমন যেন নতুন নতুন মনে হচ্ছে আজ। রাস্তায় কোনো ময়লা নেই। কয়েকজন বলাবলি করছে, দোকানমালিক সমিতি নাকি বলেছে, যার দোকান সে তার সামনেটার পরিষ্কার রাখবে! তা না রাখলে জরিমানা! এমনকি রাস্তায়ও ময়লা ফেলতে পারবে না দোকানিরা! ধরা পড়বে প্রতি দোকানের সামনে সেট করা ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরায়। দোকান বা বাড়ির সামনের ফুটপাত সংরক্ষণ ও মেরামত করবে দোকানের বা বাড়ির মালিকেরা। দোকানমালিক সমিতির কড়াকড়ি নির্দেশ। দোকানের সামনে ইট, খোয়া রাখলে পুলিশি জরিমানা।
.
কী ব্যাপার, কোনো দেয়ালে আজ কোনো পোস্টার নেই কেন? এত দিনে বিজ্ঞাপনওয়ালারা কি বুঝেছে, বাড়ির মালিক টাকা খরচ করে বাড়িতে রং করেন? তা আর আঠা মেরে নষ্ট করবে না! সৌন্দর্য নষ্ট করবে না! ওহ্, বুঝেছি! বিজ্ঞাপনের জন্য একটি নির্দিষ্ট স্থান করা হয়েছে। খুব ভালো উদ্যোগ। এ মা! এটা আবার কী! প্রতি দোকানের সামনে মধ্যম সারির একটি করে ডাস্টবিন! এটা আবার কবে বসাল? বোধহয় অনেক দিন! রিকশার হুডের নিচে বসে যাতায়াত তো! ‘দেখা হয় নাই চক্ষু মেলিয়া।’ সবাই উচ্ছিষ্ট রাখছে ডাস্টবিনে। ব্যাপারখানা কী? আজ যানজট খুব কম কেন? বিষয়টা কী? কোনো বিল্ডিংয়ের সামনের রাস্তায় পার্কিং নেই। লোকেরা বলাবলি করছে, আন্ডারগ্রাউন্ড নাকি গাড়িতে পূর্ণ হয়ে যায় প্রতিদিন। গাড়ি রাখার জন্য আরও জায়গা প্রয়োজন। তাই তো গ্রাউন্ড ফ্লোরে কোনো ব্যবসা নয়। মালিকের নির্দেশ। ওখানে তৈরি করতে হবে পার্কিং প্লেস। ব্যস! রাতারাতি নির্দেশ আর পালন। এ কারণে বোধহয় যানজট অনেক কম। অনেক দিন পর হলেও মালিকদের বোধোদয় হয়েছে। খুব ভালো, খুব ভালো। একি! রাস্তায় লাল, হলুদ, সবুজ বাতি জ্বলছে! এটা আবার কবে লাগাল। এসব বাতি তো রাস্তায় কোনো দিন দেখেছি বলে মনে পড়ে না। কী ব্যাপার ঘটছে আজ সকাল থেকে? আমি কি স্বপ্ন দেখছি নাকি? নাহ্! আমি তো রাস্তা ধরেই হাঁটছি। কী তাজ্জব! লাল বাতি জ্বলার সঙ্গে সঙ্গে গাড়ি থেমে গেল কেন? নাহ্! আশপাশে কোনো ট্রাফিক পুলিশও তো নেই! নিশ্চিত কোথাও না কোথাও ঘুষ নিতে ব্যস্ত তারা। যাক গে! আদার ব্যাপারির কি জাহাজের খবর নিয়ে লাভ আছে? এত লম্বা লাইন কিসের? মহিলাদের আবার আলাদা! তাদের জন্য আলাদা বাস যে! চালক, সুপারভাইজার সবাই মহিলা! বাহ্! খুব ভালো তো! কোনো তাড়াহুড়ো নেই। রাস্তায় ভিড় থাকলেও যে যার মতো হাঁটছে নিজের সুবিধামতো। ভালোই! একটু আগে বের হলে মর্নিং ওয়াকটা হয়ে যেত। হায় হায়, অফিস টাইম হয়ে গেছে? বড় কষ্ট ওভারব্রিজ পার হওয়া। দরকার নেই কষ্ট করার। জেব্রা ক্রসিং! সেটা আবার কী? এখান দিয়েই পার হই। ওহ্, মাগো! দৈত্যমার্কা বড় ট্রাক কাছে এসেই জোরে হর্ন দিল। ট্রাকের হর্ন নয়, বালিশের নিচে রাখা ঘড়িটি প্যাকপ্যাক করছে। তাকিয়ে দেখি, আটটা। হায় হায়, অফিসে যেতে হবে যে........
বিঃদ্রঃ ইহা পুরোপুরি কাল্পনিক ঘটনা অবলম্বনে কাল্পনিক একটা পোষ্ট।
-ধন্যবাদ
ফেসবুকে আমি
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে এপ্রিল, ২০১৭ দুপুর ২:৫৫
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

"নিজেদের কেলেঙ্কারিই যখন নিরাপদ নয়, প্রধানমন্ত্রী কতটা নিরাপদ"

লিখেছেন রিয়াজ হান্নান, ১৮ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:২৭


মাননীয় প্রধানমন্ত্রী প্রিয় তারেক রহমান রাহিমাহুল্লাহ,আপনাকে সবার আগে বাংলাদেশের জন্য ভালোবাসি। কিন্তু আমরা দেখতে পাচ্ছি আপনার আশেপাশের লোকেরা কেলেংকারির সাথে জড়িত,এরা আবার ইলিয়াসের আগেই নিজেকে নিজে এক্সপোজ করে দেয়।

এরা নিজেরাই... ...বাকিটুকু পড়ুন

দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের আধিপত্যবাদী নীতি

লিখেছেন ওয়াসিম ফারুক হ্যাভেন, ১৮ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:৫২

নেপাল সেনাবাহিনীর সম্মানসূচক জেনারেল পদমর্যাদা সম্প্রতি ভারতের সেনাপ্রধান জেনারেল ধীরাজ শেঠকে দেওয়াকে কেন্দ্র করে আমাদের দেশের কিছু সংবাদ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি করেছে ।
গত ১৭ আগস্ট নেপালের রাজধানী... ...বাকিটুকু পড়ুন

গোলাপী এখন বাসে ....

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১:২০


দেশে আজ থেকে পিংক বাস সার্ভিস চালু হয়েছে। ঢাকা সহ আরও তিনটি বড় শহরে এই বাস চলবে। খবরটা শুনে মনে হলো, দেশ যেন হঠাৎ করেই এক ধাপ আধুনিক হয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

"বহু দিন পর বন্ধু"

লিখেছেন সনজিত, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:১৮


বহু বছর পর হঠাৎ তোর সঙ্গে দেখা।
প্রথমে চিনতেই পারিনি।
তারপর একচিলতে হাসি-
মনে হলো,
সময় আমাদের চেহারা বদলেছে,
কিন্তু শৈশবের মুখটা এখনো একই রয়ে গেছে।

চোখের কোণে ক্লান্তির রেখা,
চুল অর্ধেকটা সাদা রং,
কাঁধে সংসার,... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্বিচারিতার এক অদ্ভুত মহাকাব্য

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:২৩



দ্বিচারিতার এক অদ্ভুত মহাকাব্য

যতদিন যাচ্ছে, ততই মনে হচ্ছ -এই দেশের তরুণ প্রজন্মের একটা বড় অংশকে নিয়ে আশাবাদী হওয়াটা রীতিমতো বিলাসিতা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
সেদিন দেখলাম, এক ছাত্রশিবির নেতা মঞ্চে দাঁড়িয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×