মধ্যযুগের ইসলামিক রীতি দ্বারা কিছুটা প্রভাবিত হলেও ইসলামিক স্টেট তথা সংক্ষেপে আইএস মুসলিম সম্প্রদায়ের কালচার,অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক তাগিদে গঠিত হয় ।
নানান সময়ে জিহাদ অথবা অবিশ্বাসীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ সংগঠিত হয়েছিল মুহম্মদ সঃ এর জীবদ্দশায় , এমনকি ওনার মৃত্যুর পরে খলিফাদের আমলেও এরকম ঐতিহাসিক কিছু যুদ্ধ হয় । কিন্তু অন্তত সুসংগঠিত এবং দুপক্ষের চুক্তিসাপেক্ষেই এবং সাধারন মুসলিম অথবা অমুসলিম সম্প্রদায়ের জ্ঞাতেই । কিন্তু অবশ্যই নিরপেক্ষদের এর বাইরে রেখে বর্তমান সময়ের চুক্তিসম্মত সৈন্যপরিচালিত যুদ্ধের মতোই ।
তো যাই হোক , বিংশ শতাব্দীর গোঁড়ার দিকে আবুল আল মওদুদি (জামায়াত-এ ইসলাম এর প্রতিষ্ঠাতা) , আয়তুল্লাহ রহল্লা খোমেনী , ইশরার আহমেদ এবং সায়েদ কুতুব ইসলামিক স্টেট এর ধারণা দেন ।
এরপরে আলকায়েদা, বোকো হারাম, হিজবোল্লাহ, ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ ,জামায়াতে ইসলাম পাকিস্তান, মুসলিম ব্রাদারহুড , তালিবান এবং আরও কিছু সংগঠন আই এসএর অন্তর্গত হয় ।
যদিও বিভিন্ন সময়ে সংগঠিত নানান জঙ্গিহামলা , অমুসলিম অধ্যুষিত রাষ্ট্রের উপরে অতর্কিত এমনকি মাঝেমাঝে ঘোষণা দিয়েও হামলা হলেও এক সংগঠনের সাথে অন্য সংগঠনের কোন সম্পৃক্ততার স্পষ্ট প্রমাণ মেলে নি ।
তবে সমর্থন থাকে এটা নিশ্চিত । কেননা এদের প্রত্যেকেরই কমন শত্রুদেশ এবং প্রতিষ্ঠান রয়েছে ।
মজার ব্যাপার হল, এই সংগঠনগুলো কখনই একইসাথে কোন কার্যক্রম করেনি । পরিকল্পনা যে একসময়ে হয়নি তা বলা দুষ্কর ।
কথা হল , নাম ইসলামিক স্টেট হলেও ইসলাম মূলত একে সমর্থন করে কিনা অথবা ইসলামের মূল একটি নীতির সাথেও এর যেকোনো ভিত্তির সম্পৃক্ততা আছে কিনা । প্রথমত, ইসলাম আইএসের মতো সংগঠন সমর্থন করে না । কিন্তু আইএসের মূলনীতির সাথে ইসলামের কিছু নিয়মরীতির সম্পৃক্ততা আছে । কিন্তু তাও পরোক্ষ ।
কেননা , চারটা মূলনীতি (জিহাদ,শারিয়াহ,সুন্নাহ,উম্মাহ) আইএস অনুসরণ সংগঠিত হওয়ার সময়ে দিয়েছিল , তা এখন জিহাদেই আটকে গেছে । এমনকি , ইসলামে যেই জিহাদের উল্লেখ আছে সেই ধারণা থেকেও অনেকখানি সরে গিয়েছে আইএস ।
জিহাদ কখনই কোনপ্রকার অমুসলিম কিংবা অবিশ্বাসীকে হত্যা করাকে সমর্থন করেনি ।
হ্যাঁ , এমন নয় যে , ইসলাম প্রতিষ্ঠার সময় কাউকে হত্যা করা হয়নি । তখন সিচুয়েশন ছিল ওরকম । কেননা তখন অমুসলিমরা সরাসরি মুসলমানদের আঘাত করত । আর আঘাতের প্রতিবাদ করাকে ইসলাম জায়েজ করেছে ।
এমনকি , যুদ্ধ পরবর্তী সময়ে বন্দীদের সাথেও অত্যন্ত মার্জিতভাবে কথা বলার অথবা জবানবন্দি নেওয়ার প্রচলন করেছে ইসলাম ।
মুহম্মদ সঃ এর সময়ে এমনকি খিলাফতের সময়েও বন্দীদের হত্যা করা হত না । অপহরণ করে হত্যা করা তো অনেক দূরের কথা ।
ইসলাম সবসময়ই শান্তি অনুসরণ করতে বলেছে , ফ্যাসাদ নয় । সুখে থাকতে বলেছে, অকারণে যুদ্ধ করতে নয় । ইসলাম আপনাকে সৃষ্টির সেরা জীব বলেছে । সুতরাং আপনার বিবেক দিয়েই আপনি মানুষকে সুখের পথে শান্তির দিকে ধাবিত করবেন , নিজেও সেদিকেই যাবেন । কখনই অকারণে অস্ত্র হাতে নিবেন না ।
অস্ত্র শুধু ব্যবহৃত হোক দেশমাতৃকাকে রক্ষা করার কাজে ।
বিধাতা আইএস কে শান্তির পথ দেখাক ।

সর্বশেষ এডিট : ১২ ই এপ্রিল, ২০১৫ রাত ২:২৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।






