somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কওমি মাদ্রাসার সনদের স্বীকৃতি শিক্ষা ও চাকরিতে বিশৃঙ্খলা বয়ে আনবে-সিদ্ধানত্দ নিছক রাজনৈতিক স্বার্থে : বিশেষজ্ঞ মহল

২২ শে আগস্ট, ২০০৬ রাত ৯:২৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

দেশে মৌলবাদী শিক্ষার চারণক্ষেত্র হিসেবে পরিচিত কওমি মাদ্রাসার সনদের স্বীকৃতি ঘোষণা করেছে সরকার। জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোট ও জোটের বিবেচনা থেকে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে কওমি মাদ্রাসার সর্বোচ্চ ডিগ্রি দাওরায়ে হাদিসকে মাস্টার্সের (ইসলামি শিক্ষা/আরবি সাহিত্য) সমমান দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া সোমবার তার কার্যালয়ে জোট সমর্থক আলেমদের ডেকে এনে তাদের উপস্থিতিতে এ ঘোষণা দেন। এসময় তিনি শিগগিরই আলিয়া মাদ্রাসা শিক্ষার ফাজিলকে ডিগ্রি এবং কামিলকে মাস্টার্সের সমমানের করারও আশ্বাস দেন। সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞজনেরা সরকারের এ সিদ্ধানত্দের কঠোর সমালোচনা করেছেন। তারা মনে করেন, এর ফলে শিক্ষাক্ষেত্রে চরম অরাজকতা-বিশৃঙ্খলা ও মানগত অবনমনের সৃষ্টি হবে। যার পরিণতিতে চাকরিক্ষেত্রেও দেখা দেবে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি। কারণ প্রাচীন ধারার আরবি শিক্ষার ওপর ভিত্তি করে কওমি মাদ্রাসার পাঠ্যক্রম ও প্রায়োগিক মূল্য শিক্ষার্থীদের জাগতিক জ্ঞানলাভের ক্ষেত্রে অবদান রাখে সামান্যই। কার্যক্ষেত্রে মূলধারার শিক্ষার মানের তুলনায় কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার মান অনেক বেশি পশ্চাৎপদ এবং অকার্যকর। ফলে কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের জাগতিক জ্ঞানের এই ঘাটতি পূরণের লক্ষ্যে পাঠ্যবই, পাঠ্যক্রম ও পরিচালনা পদ্ধতি আধুনিকায়ন না করে শুধুমাত্র কাগুজে স্বীকৃতি প্রদান সুফলের চেয়ে কুফলই বেশি বয়ে আনবে বলে শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও সমাজতাত্তি্বকরা মনে করেন।
বর্তমান বিএনপি জামাত জোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই চারদলীয় জোটের অন্যতম শরিক ইসলামী ঐক্যজোট কওমি মাদ্রাসা সনদের স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য সরকারের ওপর জোরালো চাপ সৃষ্টি করে। পরবর্তী সময়ে ইসলামী ঐক্যজোট চারখণ্ডে বিভক্ত হলেও কওমি মাদ্রাসা সনদের স্বীকৃতি প্রশ্নে তাদের অবস্থান অভিন্নই আছে। জোট শরিকদের জোরালো চাপ সত্ত্বেও নানা বিতর্ক থাকায় তাদের অবাসত্দব এ দাবি কার্যকর না করে সরকার আশ্বাস দিয়ে সময় পার করছিল। কিন' ভোটের রাজনীতি বিবেচনায় রেখে সাজানো আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে ক্ষমতার মেয়াদের শেষ পর্যায়ে এসে তাদের দাবি পূরণ করলো সরকার।
মূলত ধর্মীয় আরবি শিক্ষাকে ভিত্তি করে ব্রিটিশ শাসনামলেই কওমি মাদ্রাসার যাত্রা শুর" হয়। এ ধারার শিক্ষায় 90 শতাংশ আরবি এবং বাকি 10 শতাংশ বাংলা, ইংরেজি ও অংক পড়ানো হয়ে থাকে। সরকারের কোনো রকম আর্থিক সহযোগিতা ছাড়াই মূলত দান-খয়রাত থেকে প্রাপ্ত অর্থে পরিচালিত হয়ে আসছে এসব কওমি মাদ্রাসা। দেশে কওমি মাদ্রাসার সঠিক সংখ্যা নিরূপণ করা যায়নি। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে দেশে বর্তমানে কওমি মাদ্রাসার সংখ্যা প্রায় 20 হাজার, শিক্ষক লাখখানেক এবং ছাত্র সংখ্যা 25 লাখের মতো। তবে কওমি মাদ্রাসা বোর্ডের হিসাব অনুযায়ী দেশে কওমি মাদ্রাসা রয়েছে 10 হাজার। আর শিক্ষক সংখ্যা 70 হাজার। আবার খেলাফত মজলিশের মতে কওমি মাদ্রাসার সংখ্যা হবে 15 হাজার, ছাত্র সংখ্যা 25 লাখ। অন্যদিকে ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলন বলেছে দেশে 20 হাজারের বেশি কওমি মাদ্রাসা রয়েছে।
এ প্রসঙ্গে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও লেখক শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যলয়ের কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ জাফর ইকবাল বলেন, কওমি মাদ্রাসা সনদের স্বীকৃতি প্রদানের যে সিদ্ধানত্দ নিয়েছে সরকার তা কোনো একাডেমিক সিদ্ধানত্দ নয়। এটা একটা রাজনৈতিক সিদ্ধানত্দ। এ সিদ্ধানত্দ আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা ও সমাজের ওপর অত্যনত্দ বিরূপ প্রভাব ফেলবে বলে তিনি মনে করেন। তিনি বলেন, দেশের শিক্ষক সমাজ ও বিশিষ্ট শিক্ষাবিদদের সঙ্গে আলোচনা বা মতবিনিময় না করে এ ধরনের সিদ্ধানত্দ গ্রহণ শুধু বাংলাদেশেই সম্ভব, বিশ্বের আর কোথাও নয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রফেসর শরিফ উল্লাহ ভুঁইয়া ও সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর মোঃ আখতার"জ্জামান গতকাল এক বিবৃতিতে এ ব্যাপারে বিস্ময় ও উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, সরকারের একক ও অনিয়মতান্ত্রিক এ সিদ্ধানত্দ শিক্ষা ব্যবস্থায় চরম অরাজকতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবে। তারা বলেন, কোনো শিক্ষাধারার পাঠ্যসূচি ও সময়কাল, শিক্ষার ধরন ও মান, প্রায়োগিক মূল্য প্রভৃতির পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ ও আলোচনা ছাড়া শুধু ক্ষমতার জোরে একতরফা ঘোষণার মাধ্যমে সরকার বিভিন্ন ধারার শিক্ষার ডিগ্রির যে সমতা প্রদান করেছে তা দেশের সামগ্রিক শিক্ষা ও বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চাকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করবে এবং কালক্রমে জাতিকে মেধাশূন্য করে পরনির্ভরশীলতার দিকে ঠেলে দেবে।
নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে এ ধরনের হঠকারী সিদ্ধানত্দ দেশ ও জাতিকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেবে বলেও তারা মনত্দব্য করেন। শিক্ষক নেতারা শিক্ষা ব্যবস্থা ও পদ্ধতির সমতা আনয়ন, সংস্কার, পরিমার্জন, সংযোজন, সংশোধন প্রভৃতি সংক্রানত্দ যে কোনো গুর"ত্বপূর্ণ সিদ্ধানত্দ নেওয়ার আগে এসব বিষয়ে খোলামেলা আলোচনা এবং শিক্ষক ও শিক্ষাবিদদের মতামত ও সুপারিশ গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি আহবান জানান।
11 দলের পরিচালনা পরিষদের এক সভায় ক্ষমতার মেয়াদের শেষলগ্নে প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক কওমি মাদ্রাসার সনদের স্বীকৃতি দানের ঘোষণাকে রাজনৈতিক ও দেশের আলেম-ওলামাদের খুশি করে নির্বাচনী কাজে ব্যবহার করার হীন উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে অভিহিত করা হয়েছে। রাশেদ খান মেননের সভাপতিত্বে এ সভায় গৃহীত প্রসত্দাবে বলা হয়, কওমি মাদ্রাসা শিক্ষাকে এভাবে সরকারি স্বীকৃতিদান সংবিধান, শিক্ষানীতি এবং বিশ্বমানের শিক্ষার পরিবেশ বিরোধী।
11 দল আরো বলেছে, দেশের কওমি মাদ্রাসাগুলোর ওপর সরকারের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। আর এই অনিয়ন্ত্রিত শিক্ষাক্রম ইতিমধ্যেই এসব মাদ্রাসাকে জঙ্গি সৃষ্টির কারখানায় পরিণত করেছে। সে কারণে ওই শিক্ষাকে সংস্কার এবং আধুনিক যুগোপযোগী না করে স্বীকৃতি দান সমগ্র শিক্ষা ব্যবস্থার ভবিষ্যৎকেই বিপর্যসত্দ করে তুলবে। এ বিষয়ে রাজনৈতিক ও একাডেমিক পর্যায়ে আরো বিসত্দারিত আলোচনার ওপর গুর"ত্বারোপ করে নির্বাচনের আগে এ ব্যাপারে আর কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহবান জানিয়েছে 11 দল।
The Daily Bhorer Kagoj
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গুম আর গুপ্ত

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৩:১৫


খোঁজ করলে দেখাি যাবে, কুকুর-বিড়াল পালকদের অনেক কাছের আত্মীয়-পরিজন অনেক কষ্টে জীবন কাটাচ্ছে। তাদের প্রতি কোনও দয়া-মায়া নেই; অথচ পশুদের জন্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ১৮৯

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০৫



মসজিদে বসে মদ খেতে দাও, অথবা সেই জায়গাটা দেখাও যেখানে আল্লাহ নেই।

বহুদিন ধরে গল্প লেখা হয় না!
অথচ আমার গল্প লিখতে ভালো লাগে। সস্তা প্রেম ভালোবাসা বা আবেগের... ...বাকিটুকু পড়ুন

=পাতার ছাতা মাথায় দিয়ে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৯


মনে আছে ছেলেবেলায়
ঝুমঝুমিয়ে বৃষ্টি এলে,
পাতার ছাতা মাথায় দিয়ে
হাঁটতাম পথে এলেবেলে।

অতীত দিনের বৃষ্টির কথা
কার কার দেখি আছে মনে?
শুকনো উঠোন ভিজতো যখন
খেলতে কে বলো - আনমনে?

ঝুপুর ঝাপুর ডুব দিতে কী
পুকুর জলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

তালেবান ঢাকায়, রাষ্ট্র ঘুমায়

লিখেছেন মেহেদি হাসান শান্ত, ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৮:৩২

জুলাই অভ্যুত্থানের পরে বাংলাদেশে অনেক কিছু নতুন হইছে। নতুন সরকার, নতুন মুখ, নতুন বুলি। কিন্তু একটা জিনিস খুব চুপচাপ, খুব সাবধানে নতুন হইতেছে, যেইটা নিয়া কেউ গলা ফাটাইতেছে না। তালেবানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মুখোশ খুলে গেছে ও আয়না ভাঙ্গা শুরু হয়েছে!

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২৬ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ৮:৫৬

মুখোশ খুলে গেছে ও আয়না ভাঙ্গা শুরু হয়েছে!

image upload problem

বাংলাদেশে একসময় খুব জনপ্রিয় একটা পরিচয়-“আমি সুশীল”, “আমি নিরপেক্ষ”, “আমি কোনো দলের না”। এই পরিচয় ছিল আরামদায়ক, নিরাপদ, সম্মানজনক। এর... ...বাকিটুকু পড়ুন

×