বিগত চারদলীয় জোট সরকারের অন্যতম নীতিনির্ধারক ও প্রভাবশালী অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের পুত্র নাসের রহমান এখনও অনেকের কাছে এক আতংকের নাম। তার দোর্দণ্ড প্রতাপের কাছে হার মেনেছেন রাজনীতিবিদ, ব্যাংকার, আমলা, রাজস্ব বিভাগ, প্রকৃত ব্যবসায়ী ও অনেক সাংবাদিক। রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে বৃহত্তর সিলেট, চট্টগ্রাম ও রাজশাহীর বিভিন্ন স-রে বিস-ৃত ছিল তার লম্বা হাত। কিন' সাইফুর রহমানের ছেলে বলে কেউ নাসের রহমানের ব্যাপারে 'টুঁ-শব্দ' করার সাহস পেত না। তিনি মি. টুয়েন্টি ফাইভ পার্সেন্ট হিসেবে ব্যবসায়ী মহলে পরিচিত ছিলেন। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বাংলাদেশ ব্যাংকসহ বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে খুব দ্রুত টাকা গোনার জন্য 'মানি সর্টিং' মেশিন সরবরাহের জন্য একচ্ছত্রভাবে কাজ করেছেন নাসের রহমান। এর সঙ্গে তিনি যুক্ত করেছিলেন তার ছোট ভাই কায়সার রহমানকে। টেন্ডারের জন্য কাউকে এখানে সুযোগ দেয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।সরকারি ক্রয় সংক্রান- মন্ত্রিসভা কমিটিতে এমন অনেক প্রস-াব অনুমোদন করা হয়েছে, যাতে নাসের রহমান প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সক্রিয় ছিলেন। এ পর্যন- প্রকল্পের অনুমোদন করিয়ে দেয়ার জন্য মোটা অঙ্কের টাকা কমিশন হাতিয়ে নিয়েছেন তিনি।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে নাসের রহমান ও কায়সার রহমানের ছিল একচ্ছত্র দাপট। বদলি করার ভয় দেখিয়ে এমন অনেক কাজ বাগিয়ে নিয়েছেন, যেখানে কোটি কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে বলে বোর্ড সূত্রে জানা গেছে। কোনরকম নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যানের রুমে হাজির হতেন। বের হতেন কাজ আদায় করে। অনুসন্ধানে আরও দেখা গেছে, চিনির মূল্য অস্বাভাবিক বৃদ্ধির নেপথ্যে একটি ব্যবসায়িক সিন্ডিকেট কাজ করেছে। সেই সিন্ডিকেটের অন্যতম হোতা ছিলেন নাসের রহমান। চলতি 2006-07 অর্থবছরের বাজেটে 'র' সুগার আমদানি শুল্ক বাড়ানো হলেও পরে কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যবসায়ীর চাপের মুখে এম সাইফুর রহমান আমদানি শুল্ক কমাতে বাধ্য হন। আর এর নেপথ্যনায়ক ছিলেন নাসের রহমান ও কায়সার রহমান। চট্টগ্রাম বন্দর, ঢাকা কনটেইনার টার্মিনাল, ঢাকা আন-র্জাতিক বিমানবন্দরে একটি সংঘবদ্ধ ও শক্তিশালী চক্র গড়ে উঠেছিল। এসবের মদদদাতাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন নাসের রহমান। জোট সরকারের 5 বছর নিজের প্রভাব বিস-ার করে দু'হাতে কামিয়ে নিয়েছেন অর্থ। কিন' কারও কিছু বলার ছিল না।
শুধু ঢাকায় নয়, বৃহত্তর সিলেটেও নাসের রহমান একচ্ছত্র দাপট দেখান। আর জোট সরকারের পাঁচ বছরের শাসনামলে মৌলভীবাজার জেলার সর্বত্র তার কথাই ছিল আইন। নিজ দলের নেতাকমর্ী, থানার দারোগা থেকে শুরু করে প্রশাসনের সর্বত্র ছিল নাসের আতংক। নিজের পছন্দমতো পোস্টিং ও বদলি করেছেন পুলিশ ও সিভিল প্রশাসনে। হাতিয়ে নিয়েছেন লাখ লাখ টাকা। এ সময় নিজের নির্বাচনী এলাকায় মূর্তিমান ত্রাস হিসেবে পরিচিতি পান তিনি। গাড়ির চালক ও হেলপারকেই শুধু চড়-থাপ্পড় মারেননি, দলের নেতাকমর্ীরাও তার লাথি খেয়েছেন। যারা তা সহ্য করতে পেরেছেন শুধু তাদের দলের ভেতরে ঠাঁই হয়েছে। নাসের রহমানকে 15 থেকে 25 পার্সেন্ট কমিশন দিয়ে দলীয় ক্যাডাররা হাতিয়ে নিয়েছে কোটি কোটি টাকার ঠিকাদারি কাজ। নাসের রহমান এ সময় ছিলেন মৌলভীবাজারের টুয়েন্টি ফাইভ পার্সেন্ট। জোট সরকারের প্রভাবশালী মন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের ছেলে হওয়ার সুবাদে নাসের রহমান স্থানীয় প্রশাসনে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছেন। ঢাকায় জিয়া আন-র্জাতিক বিমানবন্দরের বিভিন্ন সার্কেলে ছিল তার বিচরণ ও গোপন অাঁতাত। তার নিয়োজিত বাহিনীর মাধ্যমে সেখান থেকে প্রতি মাসে লাখ লাখ টাকার উৎকোচ আদায় করেছেন বলে জনশ্রুতি রয়েছে। সর্বদা হাস্যোজ্জ্বল এই 'যুবরাজের' বাইরে কোমল মেজাজ থাকলেও ভেতরে ভয়ংকর এক রূপ। মৌলভীবাজারে জোট সরকারের আমলে গণপূর্ত, স্থানীয় সরকার, পানি উন্নয়ন বোর্ড, শিক্ষা প্রকৌশল, জেলা পরিষদ, জনস্বাস্থ্য বিভাগ, সড়ক ও জনপথ বিভাগ, উত্তর-দক্ষিণ সেচ প্রকল্প, বন বিভাগ, পৌরসভাসহ সরকারি উদ্যোগের প্রায় 1 হাজার কোটি টাকার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ প্রকাশ্য টেন্ডার ছাড়া হাতিয়ে নিয়েছে তার অনুগত বাহিনী। তাকে পার্সেন্টেজ দেয়া ছাড়া কেউ কাজ পায়নি। কাজ পাইয়ে দিয়ে ঠিকাদার নামধারী দলীয় ক্যাডারদের কাছ থেকে তিনি পেয়েছেন 15 থেকে 25 পার্সেন্ট কমিশন। শহরের কালেক্টরেট ভবনের পাশে নির্মিত সৈয়দ শাহ মোস-ফা ফোয়ারা নির্মাণ কাজের 14 লাখ টাকার প্রকল্প ছিল। সেখানে নিজের প্রভাব বিস-ার করে অতিরিক্ত বরাদ্দ করানো হয় আরও 10 লাখ টাকা। তার এক নিকটাত্দীয় ঠিকাদারি কাজ পান। সেখান থেকেও তিনি বড় অঙ্কের কমিশন নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। কিন' ফোয়ারার সৌন্দর্য বর্ধিতকরণ এবং আশপাশ এলাকায় নিবিড় ফুল বাগান ও গাছ লাগানোসহ বহু কাজ বাকি রেখেই বিল তুলে নেয়ার অভিযোগ রয়েছে। 3 কোটি 27 লাখ টাকা ব্যয়ে মৌলভীবাজার-কুলাউড়া সড়কের লংগুছড়ার ওপর নির্মিত সেতুর ঠিকাদারের কাছ থেকে টুয়েন্টি পার্সেন্ট কমিশন নিয়েছেন। এই সেতুর কাজ চলাকালে নির্মিত বিকল্প সেতু ও রাস-া নির্মাণে 8 লাখ টাকার কাজের জন্য 30 লাখ টাকা বরাদ্দ করিয়ে নেয়া হয় নাসেরের প্রভাবে। ঠিকাদারি কাজের ভাগবাটোয়ারা ও কমিশন নিয়ে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এবং মৌলভীবাজার পৌরসভার চেয়ারম্যান মোঃ ফয়জুল করিম ময়ূনের সঙ্গে সৃষ্ট বিরোধ নিয়ে কানাঘুষা এখনও চলছে দলের ভেতরে ও বাইরে। সুবিধাবঞ্চিত দলের নেতারা অভিযোগ করে যুগান-রকে জানান, সবক'টি সেক্টরে নিজের চাচা, চাচাত ভাইসহ নিকটাত্দীয় ও দলীয় আস্থাভাজনদের দিয়ে ঠিকাদারি নিয়ন্ত্রণ করেছেন নাসের। এক্ষেত্রে 15 থেকে 25 পার্সেন্ট কমিশন বাগিয়ে নিয়েছেন। শুধু ঠিকাদারের কমিশন থেকে 5 বছরে হাতিয়ে নিয়েছেন কয়েক কোটি টাকা। 8 কোটি টাকা ব্যয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগের অধীনে মৌলভীবাজার পৌর এলাকায় রাস-া বর্ধিতকরণ ও সোডিয়াম বাতি নির্মাণ প্রকল্পের কাজ হাতে নিতে কতর্ৃপক্ষ তাকে প্রায় 30 লাখ টাকা কমিশন দিয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা অভিযোগ করেছেন। 8 কোটি টাকার এই প্রকল্পের মধ্যে মৌলভীবাজারের এক ঠিকাদার 3 কোটি 43 লাখ এবং খুলনার এক বিএনপি নেতার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান 4 কোটি 57 লাখ টাকার কাজ পেয়েছে। সদর উপজেলার গিয়াসনগর ইউপির নিতেশ্ব এলাকায় তাদের বাগান বাড়িতে দুটি আলিশান দালান ও নিজ বাড়ি বাহার মর্দনে আরও দুটি বিলাসবহুল বাড়ি এবং হাইল হাওরে নিজের ফিশারিতে প্রায় 15 বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে সরকারি টাকার শ্রাদ্ধ করে কাঁটাতারের বেড়া দেয়া ও পিলার নির্মাণ করা হয়েছে। তাছাড়া এলজিইডির নামে রাস-া দেখিয়ে সরকারি টাকায় হাইল হাওরে নিজের ফিশারিতে পাকা রাস-া করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে খোদ নিজ দলের নেতাদের কাছ থেকে।
2001 সালের 1 অক্টোবর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে সাইফুর রহমান দুটি আসনে নির্বাচিত হওয়ার পর মৌলভীবাজার-3 আসন ছেড়ে দেন। তার ছেড়ে দেয়া আসনে তার ছেলে নাসের দলের মনোনয়নে 12 নভেম্বর অনুষ্ঠিত উপনির্বাচনে এমপি নির্বাচিত হন। এরপর 2002 সালের 26 ফেব্রুয়ারি জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট এবাদুর রহমান চৌধুরীকে সরিয়ে নাসের রহমান সভাপতির পদ বাগিয়ে নেন। 2003 সালের ডিসেম্বর মাসে এ বিরোধ প্রকাশ্য রূপ নেয়। 2003 সালের 14 ডিসেম্বর জেলা বিএনপির এক জরুরি সভায় সিনিয়র সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট জুনেদ আহমদকে তার পদ থেকে অব্যাহতি ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেন মাতুককে 7 দিনের মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশ এবং জেলা বিএনপি সদস্য জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মতিন বখসকে বহিষ্কার করা হয়। 13 ডিসেম্বর সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সিনিয়র সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট জুনেদ আহমদ স্বাস্থ্যগত কারণে জেলা বিএনপি থেকে পদত্যাগ করেন। পদত্যাগী, অব্যাহতি দেয়া ও বহিষ্কৃত নেতাদের বাদ দিয়ে পরবতর্ী সময়ে 2004 সালের 29 মে জেলা বিএনপির সংশোধিত কমিটি করেন। টেন্ডারবাজির ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনগর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও রাজনগর সদর ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান সরওয়ার খান খোকন ও জেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মতিন বখসকে নিজ বাড়ি বাহার মর্দনে ডেকে পাঠিয়ে চড়-থাপ্পড় দেন গত বছরের প্রথমদিকে। শহরের পয়েন্টে কোস্টার চালককে ড্রাইভিং সিট থেকে নামিয়ে রাস-ায় ফেলে চড়-থাপ্পড় ও লাথি মারেন। এ ঘটনার কয়েক মাস পর শহরতলির চাঁদনীঘাট বাসস্ট্যান্ড এলাকায় আরেক চালককে বেধড়ক প্রহার করেন। তখন ওইসব ঘটনা নিয়ে মৌলভীবাজারে ব্যাপকভাবে আলোচনা হয়েছে সাধারণ মানুষের মাঝে। 2003 সালের 26 ফেব্রুয়ারি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নিজ প্রভাব খাটিয়ে সদর উপজেলার মোস-ফাপুর ইউনিয়নে তার চাচা রফিকুল ইসলাম মানি মিয়াকে ভোট কারচুপি করে চেয়ারম্যান পদে জিতিয়ে নেয়ার অপচেষ্টা করলে জুতা ও ঝাড়- মিছিল করে এলাকাবাসী। এ ঘটনায় নির্বাচিত চেয়ারম্যান শাহেদ আহমদকে প্রধান আসামি করে 800 জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। শাহেদ তখন দেশ ছেড়ে লন্ডনে গিয়ে আশ্রয় নেন। রাজনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মিছবাউদ্দোজা ভেলাইসহ আওয়ামী লীগ সমর্থক কয়েকজন ইউপি চেয়ারম্যানকে মিথ্যা অভিযোগের মামলা দিয়ে হয়রানি করা হয়। 2004 সালের 5 এপ্রিল অনুষ্ঠিত মৌলভীবাজার পৌরসভা নির্বাচনে তার বিরুদ্ধে ভোট কারচুপির গুরুতর অভিযোগ ওঠে। নাসের রহমান হস-ক্ষেপ করে ভোট কারচুপির মাধ্যমে দলীয় প্রাথর্ী জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ ফয়জুল করিম ময়ূনকে জিতিয়ে নিতে উঠেপড়ে লাগলে ভোটের দিন বেলা 11টায় প্রতিদ্বন্দ্বী 5 প্রাথর্ী একত্রিত হয়ে নির্বাচন বয়কট করেন।
ঠিকাদার নুরুজ্জামানের কাহিনী
ঠিকাদার নুরুজ্জামান ফেঞ্চুগঞ্জ-রাজনগর-মৌলভীবাজার-জগদীশপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের উন্নয়ন কাজ পাওয়ার পর 2003 সালের 24 অক্টোবর ঢাকায় রিপোর্টার্স ইউনিটি কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে অভিযোগ করেন, এমপি এম নাসের রহমান তার কাছে 2 কোটি টাকা চাঁদা দাবি করেছেন। এ খবর পরদিন দেশের সব জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় ছাপা হলে নাসের রহমান ক্ষিপ্ত হয়ে শ্রীমঙ্গল থানায় তার বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার আইনে মিথ্যা অভিযোগে মামলা দিয়ে একই বছরের 17 নভেম্বর রাতে নুরুজ্জামানকে সিলেটের বাসা থেকে গ্রেফতার করানোর পর শ্রীমঙ্গলে এনে ছাত্রদলের ক্যাডাররা তাকে নির্যাতন করলে তিনি গুরুতর অসুস্থ হন।
200 একর জমি 1 হাজার টাকায়
নাসের রহমান প্রশাসনে প্রভাব খাটিয়ে ছোট ভাই শফিউর রহমানের নামে শ্রীমঙ্গল উপজেলার মাইজদিহি পাহাড়ের খাস জমি চা বাগান করার জন্য বরাদ্দ নেন। প্রতি একর জমির দাম 5 টাকা হিসাবে 1 হাজার টাকায় 200 একর ভূমি কিনে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। এখানে প্রায় 600 একর উঁচু ভূমি রয়েছে। 35-40 বছর ধরে ভূমিহীন দরিদ্র মানুষ এসব জমির ওপর ঝুপড়ি ঘরবাড়ি বানিয়ে বসবাস করছে। তার ভাই কায়সার রহমানের পরিচালনাধীন শাহজালাল হ্যাচারি এন্ড ফিশারি লিমিটেডের অধীনে দু'দফায় 200 একর উঁচু ভূমি বন্দোবস- চাওয়া হয়। এর মধ্যে 100 একর ভূমি 2004 সালের প্রথমদিকে বন্দোবস- দেয়া হয়েছে। বাকি 100 একর পরবতর্ী সময়ে বন্দোবস- নেয়ার প্রক্রিয়া চালানো হয়। 100 একর ভূমির জন্য মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন জানালে তৎকালীন জেলা প্রশাসক বর্তমানে চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার এম মোখলেসুর রহমান স্বউদ্যোগে আরও 100 একর ভূমি লিজ দেয়া যেতে পারে বলে সুপারিশ করে ভূমি মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে দেন। 2002 সালের 9 মার্চ শাহজালাল হ্যাচারি এন্ড ফিশারি লিমিটেড, ঠিকানা_ বাহার মর্দন, মৌলভীবাজার, ঢাকা অফিস জালালাবাদ হাউজ, রোড নং-47 বাসা নং-সিডাবি্লউএন-21 এ, গুলশান-2, ঢাকা_ এই ঠিকানায় শ্রীমঙ্গল উপজেলার কালাপুর ইউনিয়নের মাইজদিহি পাহাড়ের খাস জমি বন্দোবস- নেয়ার জন্য শাহজালাল হ্যাচারি এন্ড ফিশারি লিমিটেডের পরিচালক সফিউর রহমান আবেদন করেন। তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শ্রীমঙ্গলের মাইজদিহি টিই মৌজার জেএল নং 51-এর 735, 672, 685, 666, 681, 357, 675, 690, 658 এবং 356 দাগে এবং নারায়ণছড়া টিই মৌজার জেএল নং 53-এর অধীন 406, 303, 410, 332, 432, 409 এবং 401 দাগে সর্বমোট 524 দশমিক 59 একর এবং নাসের রহমান তার ভাই কায়সার রহমানের নামে 2004 সালের 25 ফেব্রুয়ারি ওই দুই মৌজার জেএল নং 513, 53 এবং 692, 693, 694, 713, 676, 695, 696, 699, 700, 702, 704, 685, 406 এবং 410নং দাগের 100 একর ভূমি বন্দোবস- নেয়ার জন্য আবেদন করেন বলে ভূমি মন্ত্রণালয়ের 27/02/2003 তারিখের 1588 ডাইরিতে উল্লেখ রয়েছে। অপরদিকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে মৌলভীবাজার শহরতলির সড়ক ভবন এলাকায় 2 কেদার (60 শতক) মূল্যবান জমি সিএনজি স্টেশন নির্মাণের নামে ভুয়া দলিলের মাধ্যমে নিজের দখলে নিয়েছেন। নিজের প্রভাব খাটিয়ে সরকারি খরচে দখল করা ওই জমিতে মাটি ভরাট ও বাউন্ডারি দেয়াল নির্মাণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ওই এলাকায় প্রতি শতক জমির দাম 5 থেকে 6 লাখ টাকা বলে এলাকাবাসী জানায়। এ হিসাবে শুধু এখানেই তিনি প্রায় 4 কোটি টাকার জমি নিজের দখলে নিয়েছেন। শহরতলির নিতেশ্ব এলাকায় সাইফুর রহমানের ব্যক্তিগত মালিকানায় তৈরি বাগানবাড়িতে গণপূর্ত ও এলজিইডির মাধ্যমে সরকারি কোষাগারের কোটি টাকা খরচ করে ভুয়া প্রজেক্টের নামে বাগানবাড়ির সৌন্দর্য বর্ধন ও আলিশান বাড়ি নির্মাণ কাজ করেছেন।
নাসের রহমানের বক্তব্য
এ প্রসঙ্গে নাসের রহমান জানান, তিনি বদমায়েশ, চাঁদাবাজ, ইতর, ছোটলোকদের কাছে আতংক হতে পারেন। যারা তার সম্পর্কে কুৎসা রটিয়েছে তারা কিছুই করতে পারবে না। যারা গত পাঁচ বছরে সুবিধা করতে পারেনি তারাই অভিযোগ করছে।
তিনি নিজেকে বদমেজাজি হিসেবে স্বীকার করে বলেন, তিনি মূলত একজন ব্যবসায়ী, রাজনীতিতে এসেছেন মাত্র পাঁচ বছর। বিগত পাঁচ বছর মৌলভীবাজারে অনেক উন্নয়ন করেছেন, আইন-শৃংখলা পরিস্থিতি ভালো করেছেন। তিনি নিজেকে একজন ব্যবসায়ী হিসেবে দাবি করে বলেন, রাজনীতি করে আখের গোছানোর তার কোন প্রয়োজন নেই। ব্যবসার জন্য বাবার কাছ থেকে একটি টাকাও নেননি। যা কিছু করেছেন নিজের একক প্রচেষ্টায় করেছেন।
ঠিকাদারি প্রসঙ্গে বলেন, মৌলভীবাজারে 20 জন ঠিকাদার ছিল, যার মধ্যে 18 জন ছিল আওয়ামী লীগার। তিনি নিজে কিছু বিএনপির ঠিকাদার বানিয়েছেন। কথা প্রসঙ্গে তিনি জানান, হারিছ চৌধুরী একজনকে ঠিকাদার বানাতে চেয়েছিলেন, তা হতে দেয়া হয়নি। দুনর্ীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কেউ যদি প্রমাণ দিতে পারেন তাহলে সেটা মেনে নেয়া যায়। কিন' আজগুবি বললে মানা যায় না।
তার ছোট ভাই শফিউর রহমানের নামে শ্রীমঙ্গলে পাহাড়ের খাস জমি চা বাগানের নামে বরাদ্দ দেয়া প্রসঙ্গে নাসের রহমান বলেন, এতে তিনি কোন প্রভাব খাটাননি। ছোট ভাই নিজেই আবেদন করে নিয়েছেন।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।






