নবাব ওয়াজেদ কলকাতায় নির্বাসিত হওয়ার সময় তাঁর মনে একটা আক্ষেপ ছিল। আহা, ওই ওউধি বিরিয়ানি ছেড়ে চলে আসতে হবে! নবাবের আবদারে তাই কলকাতা আসতে হয়েছিল তাঁর পেয়ারের খানসামা-বাবুর্চিদেরও। নবাব যায় বঙ্গে, নবাবি যায় সঙ্গে!
শাহবাগীদের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকারের বিরিয়ানিপ্রীতি, বিশেষত শাহবাগ আন্দোলনের সেই সোনালি অতীতে শাহবাগে ব্যাপক বিরিয়ানি-ভোজন নিয়ে যেসব কথা অনলাইনে চালু আছে, সেগুলো ওই বিরিয়ানির চেয়ে কম মুখরোচক নয় মোটেও! অনেকে শাহবাগের নামও দিয়ে বসেছিলেন বিরিয়ানি চত্বর! এমন কি, শাহবাগ আন্দোলন বিলীন হয়ে যাওয়ার পরও সেই বিরিয়ানির দায় মেটাতে হচ্ছে ইমরানপন্থীদের। এখন সেই স্বাদের বিরিয়ানির ফান্ড নিয়ে অনেক বিস্বাদ কথাবার্তা খোদ শাহবাগী বিদ্রোহী গ্রুপই বলছে। পরাণের বান্ধব ছাত্রলীগই এখন ইমরানকে পেটাচ্ছে! পুলিশও এখন আর ছেড়ে কথা বলে না!
আসলে বিরিয়ানিপ্রিয় ব্যক্তিদের নিয়তিই বোধ হয় বড় বিচিত্র। যে ফিরিঙ্গিদের দালালি করে দুই শতাধিক স্ত্রীর হেরেমের আয়েশ ও গান-নৃত্য-ফুর্তিতে জিন্দেগি গুজার করতে চেয়েছিলেন বিরিয়ানিপ্রিয় ওয়াজেদ আলী শাহ, সেই ফিরিঙ্গিরাই সিপাহি বিদ্রোহের উষালগ্নে নবাবকে পাততাড়ি গুটিয়ে কলকাতা পাঠিয়ে দেয়।
এই প্রজন্মের বিরিয়ানিপ্রিয় নেতাটি শাসকের দালালি করেও 'রূপসী বাংলা'র আয়েশ বা গান-নৃত্য-ফুর্তির জিন্দেগি টিকিয়ে রাখতে পারছেন না। কাজ ফুরিয়ে যাওয়ার পর ইমরানকেও হয়তো তার পেয়ারের খানসামা-বাবুর্চিদের নিয়ে কলকাতামুখোই হতে হবে।
.... .... ....
পুনশ্চ: কিংবদন্তি আছে, নবাব ওয়াজেদের দাঁত ছিল না - তাই তাঁর জন্য নরম 'গলাওয়াতি কাবাব' বানাতে হতো, যেন তিনি দাঁত ছাড়াই কাবাব খেতে পারেন। কাবাবের লোভ ছাড়বেন কেন দন্তহীন নবাব!
http://tinyurl.com/oe8e8l3
এসব বিরিয়ানিপ্রিয় লোক আসলে নিজেদের অওকাতের চেয়েও বেশি খেতে চায়। একটা মঞ্চই ঠিকমতো চালাতে পারে না, তবু নতুন পার্টি খোলার বাবুগিরি মারতে চায়!
![]()

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




