"ইয়ে মানে তুমি কি এখানেই গান শিখো?"
সন্ধ্যা ঘুরে তাকালো। ভ্রু কুচকে গেলো তার। এই ছেলেটাকে কেন জানি একেবারেই সহ্য হয় না তার। সন্ধ্যা প্রতি শুক্রবার করে এখানে গান শিখতে আসে পাড়ার এক আন্টির কাছে। তিন বাড়ি পরেই ছেলেটার বাসা। সন্ধ্যার পরিবার মোটে ৩ মাস হল নতুন এসেছে এলাকায়। কিন্তু গত কয়েক দিন হল সে খেয়াল করছে ছেলেটা তার দিকে কেন জানি তাকিয়ে থাকে। খুব রাগ লাগে সন্ধ্যার।
-গান না শিখলে আমি এখানে কেন এসেছি?
-ইয়ে মানে, ঠিক আছে! আমি শিশির।
-ইয়ে মানে ইয়ে মানে করবে না বলে দিলাম! আর নাম জেনে আমি কি করব?
-তুমি আমার ছোট, আমি না হয় তোমাকে তুমি করে বললাম, কিন্তু তুমি 'তুমি' করে বলছো কেন?
-আমি কাউকে 'আপনি' করে বলতে পারি না, দুঃখিত। আর আমি লক্ষ্য করছি ক'দিন ধরেই তুমি আমাকে ফলো করছো, ব্যপার কি?
-আচ্ছা, এখন আসি!
বলেই ছেলেটি চলে গেল। সন্ধ্যা ঠিক করল, আর কখনও কথা বলবে না। অথচ ওর ছোট বোন দুটো মোটেই এমন নয়।রাইদা আর রিদ্ধি। খুব ভালো। সন্ধ্যার সাথে রীতিমত ভালো বন্ধুত্ব। এরপরে আর কখনও এমন করলে সোজা তাদের বলে দিবে ঠিক করল সে।
পরের সপ্তাহে একই ঘটনা আবারও ঘটল।
-তুমি তাহলে এখানে গান শিখো?
-না। নাচ শিখি।
-কিন্তু এটাতো গান শিক্ষার স্কুল। তুমি এখানে কিভাবে নাচ শিখো?
-তাহলে তুমি আমাকে জিজ্ঞাসা কেন করছো?
-আচ্ছা বলেই ফেলি। তোমার গান শুনলাম। ভালো গাও।
-ধন্যবাদ। আর কিছু?
-ইয়ে মানে, তোমাকে নিয়ে গান লিখব একটা।
-কি গান শুনি?
-"তুমি কি হবে আমার সন্ধ্যাতারা?
হবে আমার ভালোবাসার ইতিকথা?"
-আমি আসি। আমার মা দেখলে খবর আছে!
-কিন্তু বললে না তো গানটা কেমন?
-দেখো, আর কখনো আমাকে বিরক্ত করবে না। তাহলে কিন্তু আমি খুব রাগ করব।
-আচ্ছা, তোমার ইচ্ছা!
সন্ধ্যা মেয়েটা কেবল ক্লাস এইটে পড়ে। ভালোবাসার কিছুই বোঝে না। শিশিরের ভালোবাসার প্রকাশ বুঝলো না সন্ধ্যা। উল্টো বিরক্ত হল। ওদিকে শিশির রইল অপেক্ষায়। একদিন না একদিন তো মেয়েটা বুঝবেই, তাই না?
(চলবে)
(আমার প্রথম লেখা। গল্পটা বেশ বড়। এবং অনেকেই বড় লেখা দেখে ভয় পান।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




