চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুবাধেই আজকের এই লিখাটা , ক্যাম্পাসটার পরিবেশ যে কাউকেই মুগ্ধ করবে ,তবে এর ভেতর রাজনিতীর যে দুষ্ট চর্চা হচ্ছে ,তা হয়তো কারো ছোখ এড়িয়ে যায়নি , এইতো এই মাসের ৮ তারিখেই মাত্র ২টা লাশ পরলো , হ্যা , মাত্র'ইতো , আরো বেশী হতে পারতো , সেই দিন ক্যাম্পাসে আমিও ছিলাম , আমার মত করেই সেই দিনের ঘটনার বর্নণা করবো আজ
রসায়ন বিভাগে পড়ি বলেই ক্যাম্পাসের যাবতীয় সকল কর্মকান্ড থেকে আমাকে আমার প্র্যাকটিক্যাল'ই দুরে সরিয়ে রাখে , ঘটনার দিনও প্র্যাকটিক্যাল ছিলো , আমরা প্র্যাকটিক্যাল খতা লিখছিলাম সেমিনারে বসে , হঠাৎ পাশের বন্ধুর ফোন বেঝে উঠলো, ফোন রিসিভ করেই তার মুড চেন্জ হয়ে গেল , কি ? তিনটা লাশ পড়ে আছে চাকসুর সামনে?
কয়টায় ? কিভাবে?, , , , , , , , , ,
কথা শেষে আমরা বিশ্বাস করতে পারলামনা ব্যাপারটা , আরো কিছু বন্ধুকে ফোন দিয়ে নিশ্চিত হলাম , ততক্ষনে ল্যাবের ডাক পরলো , সারা ক্যাম্পাসে ঝড় বোইছে , আর আমরা ল্যাবে বোইসা আছি !
স্যার আমাদের করতে দিয়ে চলে গেছেন বাইরে,
কোথা থেকে যেনো এক দোস্ত খবর আনলো , দাড়ি ওয়ালা ছেলেদের শিবীর সন্দেহে পিটাইতেছে লীগের পোলাপাইন , এই শুনে আমার এক দাড়ি ওয়ালা দোস্ত দৌড় দিলো কাছের ক্যান্টিনে , ফিরে আসতেই দেখি তার হাতে নতুন কেনা রেজার , দোস্ত ? টয়লেটে আয়না আছেনা ? আমি এক দৌড়ে সেভ করে আসি ,তোরা স্যারকে ম্যানেজ কর , নাইলে আজকে আমিও বাসায় জাইতে পারবো নারে !!!বলে টয়লেটের দিকে ছুটে গেল , আমরা সবাই কথা হারিয়ে ফেললাম , বুজলাম ঘটনার গুরত্ব |
৩ টায় ল্যাব শেষ করে বাইরে আসলাম , দেখি ক্যাম্পাসে কাক পক্ষিও নাই , সবাই ভয়ে ভয়ে দল বেধে হাটলাম , শুনছিলাম চাকসুর সামনে লাশ পড়ে আসে !
কোই ? কিছুই দেখলামনা , হাটতে হাটতে মেইন গেইটে চলে আসলাম প্রায় , তখন'ই শুনি মিছিলের আওয়াজ, দুরে লাঠি হাতে দা বটি হাতে গেইট পাহারা দিচ্ছেন আমাদের শ্রদ্ধেয় বড় ভাইরা , ঘটনা ততক্ষনে শেষ পর্যায় চলছে , আমরা ল্যাবে থাকতেই সব শেষ ,এখন পরিস্থিতি কন দিকে বোঝা যাচ্ছেনা । আমরা হেটে হেটে লাঠিয়াল বাহিনীর দিকে এগিয়ে গেলাম , ১৯৯৯ সালে শেষ আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছিলো এই ক্যাম্পাসের মাঝে, তাই এত দিন পড়ে আবার আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করা হবে ভাবিনি, এবং সেই দিন কারো হাতে দেখিনি , তবে পরে শুনছিলাম লাশ দুইতা গুলির আঘাতেই মরছে
বড় ভাইদের থেকে নিরাপদ দুরুত্বে থেকে পথ চললাম , আর কৌতুহলী চোখে পুলিশ খুজছিলাম , অবাক করা বিষয় ,একটাকেও চোখে পড়লো না , এত সুন্দর চেনা জানা ভাইয়াদের হাতে রাম দা, লাঠি ভালো লাগছিলো না , তাও দাড়িয়ে দাড়িয়ে কিছুক্ষন দেখলাম , বহিরাগত কিছু ছেলে কেও দেখলাম , আমি পুলিশ ছাউনিতে আসলাম , যেখানে প্রতিদিন ট্রেন থেকে নেমেই তাদের দেখা পাই , আজ একটাও নাই , বসে আসে এক বড় ভাই , হাতে লাঠি , শার্টের পেছোনে পেন্টের মাঝে দা লুকানো , সবাই ওয়েট করসে হলে আটকে থাকা শিবীরদের উদ্দেশে ,, যাই হোক আমাদের আর কাজ নেই ভেবে ট্রেনের দিকে গেলাম , দেখি ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দিছে ক্যাডার ভাইরা , আগ্যতা হাটাই শুরু করে দিলাম , মাঝে মাঝে ফেইসবুকে ঢুকে দেকছিলাম কিছু হলে আটকে থাকা বন্ধুদের দোয়া চেয়ে স্টেটাস , বাসাতেও ফোন করে জানাইনি কিছুই ,কারন আম্মু খুব চিন্তা করবেন তাই , , , ,
অনেক কষ্টে বাসায় এসে টিভি অন করেই নিশ্চিত হলাম , খুব খারাপ লাগছিলো খবরটা শুনে,
এই ঘটনাটা হয়তো তেমন কিছুইনা, আমার মতো গোবেচারা মানুষের সংখ্যাই বেশী , যারা এই সব থেকে দুরে থাকে , কিন্তু যখন দেখি এই ২ টা লাশকে প্রতিশোধের বলি বলে , ঠিক কাজটি হোইছে বলে ব্লগে লেখালেখি করে , আর ভালো লাগেনা, এর বিরুদ্ধে কথা বলতে গেলে এক সুশিল সমাজের মানুষ থেকে গালি শুনতে হয় 'মানবতা দুরে গিয়া চু**ন ' , কি আর বলবো ?
এরাই সুশীল ,এরাই শিবীর , এরাই লীগ , এরাই আমাদের প্রিয় বন্ধু ,বড় ভাই ,সবাইতো মানুষ, কিছুই বলার নাই ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


