somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

খেলা নয় ,যেনো একটি মুক্তিযুদ্ধ

২৩ শে মার্চ, ২০১২ রাত ১০:১৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কেমন জানি মুক্তিযুদ্ধের আনুভূতি পেলাম ,খেলাটা শুধুই আর খেলা থাকেনি , এই মার্চ মাসে আমরা পাকিস্থানের বিরুদ্ধে একটি বিজয় আশা করেছিলাম , আমাদের খেলোয়াড় ভাইয়েরা নিজেদের সবটুকু দিয়েই খেলেছেন তবুও আমরা ২ রানে হেরে গেছি । খেলা শুরুর আগেই মনে মনে এই ম্যাচটাকে মুক্তিযুদ্ধের একটি অংশ ভেবেই খেলা দেখতে বসেছি , আর ফেইসবুকের হোম পেইজটা বার বার রিফ্রেশ করে সবার আনন্দ আর আশার কথা পড়েছি ।


বাংলাদেশী কমেন্টেটর আতাহার আলী খানের কথা গুলো শুনতে ভালো লাগছিলো , তিনি সুযোগ পেলেই একটু একটু করে গুণ গান গাইছেন বাংলাদেশের । মাথায় , হাতে , মুখে যে যেভাবে পেরেছেন নিজ দেশের লাল সবুজ পতাকায় নিজেকে সাজিয়েছেন । টসে জীতেই আমরা অনেকটা নির্ভার থাকি , এবং শুরুটা ভালোই করি ,মাশরাফি ,নাজমুল খুব ভালো বল করেন, শাহাদাত হোসেনও ভালোই বল করছিলেন আজকে , কিন্তু তার মনোযোগে সুক্ষ চাল দিলেন ওমর আকমল , পেসারদের অনেকটুকু দৌড়ে এসেই বল করতে হয় আর শাহাদাত হোসেনতো একটু বেশী'ই দৌড়ান , তো এমন এক রানাপ শেষে বল করবেন এই মুহুর্তেই ঐ পাকিস্থানি বেয়াদবটা সরে দাড়ায় ব্যাটিং থেকে , এইটা একটা সুক্ষ চাল শাহাদাত কে রাগানোর এবং আকমল তাতে সফলও হোয়েছেন , পরের বলেই নো বল , ফ্রী হিট ও শাহাদাতের আবার খেই হারানো ।


তবুও নিয়ন্ত্রিত বলিংএ আমরা তাদের ২৩৬ এই আটকে ফেলেছিলাম , শেষ ওভারটা বাংলাদেশের কেউ ভালো করে না , একবার জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে শেষ ওভারের শেষ বলে ৬ রান দরকার ছিলো , মাশরাফি বল করছিলেন এবং টেইলর শেষ বলে ৬ মেরেই জীতিয়ে ছিলেন জীম্বাবুয়েকে , সেইদিন মাশরাফি হোয়েছিলেন কালপ্রিট । আর কাল হোলেন শাহাদাত , তাই আলাদা করে শাহাদাত কে এতটা বলার কিছুই নাই । এই রান চেজ করা ব্যাপারনা ।


কিন্তু অভিজ্ঞতা বলে একটা শব্দ আছে যাতে আমরা মাত্র'ই খাতা খুল্লাম তাকে তো ছোট করে দেখা যাবেনা এবং পাকিস্থান সেই আভিজ্ঞতার'ই স্বদ ব্যবহার করলো । শুরুতেই স্পীন দিয়ে বাংলাদেশের মন ভাঙ্গতে লাগলো । সারা দেশের মানুষের হোয়ে খেলাটা অনেক চাপের , আরো কালকের খেলাটাও সাধারণ কোনো খেলা ছিলোনা , সব বড় বড় রাজনৈতিক দলের নেতারা স্টেডিয়ামে , সব নামি দামি মানুষ চেয়েন আছে তাদের দিকে , তারা ৭১ এর প্রতিনিধীত্ব করছেন যে !!!

তাই নার্ভ দুর্বল হোয়ে যাওয়াটা স্বভাবিক । তবে তামিম এর নার্ভ দেখার মত , সাকিবও ভুগছেন স্নায়ু চাপে তবুও তিনি পরে ফিরে পেয়েছেন নিজেকে । কাল নাসিরের সেই আত্মবিশ্বাসী ব্যাটিং টাও হারিয়ে যায় স্নায়ু চাপে , ঐ যে অভিজ্ঞতার খাতা যে মাত্র'ই খুল্লাম বলে । তাও অনেক স্নায় যুদ্ধ শেষে ম্যাচটা বের করে এনেছিলেন সাকিব , মাশরাফিরা কিন্তু শেষ হাসিটা হাসতে পারলাম না ।


তবে কাল সব খেলোয়ারের মাঝে জয়ের তীব্র ক্ষুধা দেখেছি । তাদের চোখের জল আমাদেরও কাঁদিয়েছে , এটা যেনো একটি নিছক খেলায় হেরে যাওয়া কান্না না । এ যেনো মুক্তিযোদ্ধাদের একটি প্রায় সফল মিশনের শেষ ব্যার্থতার কান্না । আমাদের দেশের মাটিতে পাকিস্থানীদের জয়ের নৃত্য দেখে কান্না । আমরাতো হারিনি তাদের কাছে , তো আমরা কাঁদবো কেনো? আমরা কেঁদেছি আমাদের ভেতরের প্রতিশোধের আগুনে ঝলছে , আমরা কেঁদেছি তীব্র বাংলাদেশী আত্মসম্মানবোধে , কাল তার দাঁত ভাঙ্গা জবাব দেয়ার একটা সুযোগ পেয়েছিলাম বলেই কেঁদেছি । আমাদের মাঝে আজো কিছু মুক্তিযোদ্ধা বেঁচে আছেন , আমরা যেনো তাদের একজন কেও একবার দেখিয়ে যেতে পারি আমরা পাকিস্থান কে উড়িয়ে দিতে পারি যেমনটি পেরেছিলেন আপনারা।

খেলা শেষে ট্রফী হাতে পাকিস্থানিদের উল্লাস দেখে ভাবলাম সত্যি কি আজকের এই যুদ্ধে আমরা হেরে গেলাম ? পরক্ষণেই মনে পড়লো , এটাতো মার্চ মাস , এই মাসে তো যুদ্ধ শুরু হোয়েছিলো , এখন'ই কি আমরা জীতেছিলাম ইতিহাসে ? না তো !!! এই মাসেই পাকিরা আমাদের উপর মরণ কামড় বসিয়েছিলো , এর শোধ আমরা দিয়েছি দীর্ঘ ৯ মাসে । তার পর থেলেই মুশফিকের ওই কথাটাই কানে বাজতে থাকলো '' এটা একটা শুরু মাত্র , সামনে আরো আরো রেজাল্ট অপেক্ষা করছে ''

হ্যা , আমরাও তাকিয়ে আছি তোমাদের দিকে , এই নতুন যুদ্ধে তোমরা জীতবেই ,বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের ১৬ ডিসেম্বর যে এখনও বহু দূরে ,সেই দিনে যাবার পথে যুদ্ধ শুরু করলে , সেই দিনের অপেক্ষায় থাকলাম ।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ধূসর ওয়ালেট

লিখেছেন মোহাম্মদ সজল রহমান, ১২ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:৪৭

একটা ধূসর রংয়ের ওয়ালেট
সবুজাভ ভ্যানিটি ব্যাগ থেকে বের হলো নীরবে
তার শান্ত হাতের উপর চেপে ধরতেই প্রশ্ন -
এটা আমার জন্য ?
ঘাড় নেড়ে সম্মতি দেখেই চঞ্চলতা ছুঁয়ে গেলো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১

কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×