বাংলাদেশী কমেন্টেটর আতাহার আলী খানের কথা গুলো শুনতে ভালো লাগছিলো , তিনি সুযোগ পেলেই একটু একটু করে গুণ গান গাইছেন বাংলাদেশের । মাথায় , হাতে , মুখে যে যেভাবে পেরেছেন নিজ দেশের লাল সবুজ পতাকায় নিজেকে সাজিয়েছেন । টসে জীতেই আমরা অনেকটা নির্ভার থাকি , এবং শুরুটা ভালোই করি ,মাশরাফি ,নাজমুল খুব ভালো বল করেন, শাহাদাত হোসেনও ভালোই বল করছিলেন আজকে , কিন্তু তার মনোযোগে সুক্ষ চাল দিলেন ওমর আকমল , পেসারদের অনেকটুকু দৌড়ে এসেই বল করতে হয় আর শাহাদাত হোসেনতো একটু বেশী'ই দৌড়ান , তো এমন এক রানাপ শেষে বল করবেন এই মুহুর্তেই ঐ পাকিস্থানি বেয়াদবটা সরে দাড়ায় ব্যাটিং থেকে , এইটা একটা সুক্ষ চাল শাহাদাত কে রাগানোর এবং আকমল তাতে সফলও হোয়েছেন , পরের বলেই নো বল , ফ্রী হিট ও শাহাদাতের আবার খেই হারানো ।
তবুও নিয়ন্ত্রিত বলিংএ আমরা তাদের ২৩৬ এই আটকে ফেলেছিলাম , শেষ ওভারটা বাংলাদেশের কেউ ভালো করে না , একবার জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে শেষ ওভারের শেষ বলে ৬ রান দরকার ছিলো , মাশরাফি বল করছিলেন এবং টেইলর শেষ বলে ৬ মেরেই জীতিয়ে ছিলেন জীম্বাবুয়েকে , সেইদিন মাশরাফি হোয়েছিলেন কালপ্রিট । আর কাল হোলেন শাহাদাত , তাই আলাদা করে শাহাদাত কে এতটা বলার কিছুই নাই । এই রান চেজ করা ব্যাপারনা ।
কিন্তু অভিজ্ঞতা বলে একটা শব্দ আছে যাতে আমরা মাত্র'ই খাতা খুল্লাম তাকে তো ছোট করে দেখা যাবেনা এবং পাকিস্থান সেই আভিজ্ঞতার'ই স্বদ ব্যবহার করলো । শুরুতেই স্পীন দিয়ে বাংলাদেশের মন ভাঙ্গতে লাগলো । সারা দেশের মানুষের হোয়ে খেলাটা অনেক চাপের , আরো কালকের খেলাটাও সাধারণ কোনো খেলা ছিলোনা , সব বড় বড় রাজনৈতিক দলের নেতারা স্টেডিয়ামে , সব নামি দামি মানুষ চেয়েন আছে তাদের দিকে , তারা ৭১ এর প্রতিনিধীত্ব করছেন যে !!!
তাই নার্ভ দুর্বল হোয়ে যাওয়াটা স্বভাবিক । তবে তামিম এর নার্ভ দেখার মত , সাকিবও ভুগছেন স্নায়ু চাপে তবুও তিনি পরে ফিরে পেয়েছেন নিজেকে । কাল নাসিরের সেই আত্মবিশ্বাসী ব্যাটিং টাও হারিয়ে যায় স্নায়ু চাপে , ঐ যে অভিজ্ঞতার খাতা যে মাত্র'ই খুল্লাম বলে । তাও অনেক স্নায় যুদ্ধ শেষে ম্যাচটা বের করে এনেছিলেন সাকিব , মাশরাফিরা কিন্তু শেষ হাসিটা হাসতে পারলাম না ।
তবে কাল সব খেলোয়ারের মাঝে জয়ের তীব্র ক্ষুধা দেখেছি । তাদের চোখের জল আমাদেরও কাঁদিয়েছে , এটা যেনো একটি নিছক খেলায় হেরে যাওয়া কান্না না । এ যেনো মুক্তিযোদ্ধাদের একটি প্রায় সফল মিশনের শেষ ব্যার্থতার কান্না । আমাদের দেশের মাটিতে পাকিস্থানীদের জয়ের নৃত্য দেখে কান্না । আমরাতো হারিনি তাদের কাছে , তো আমরা কাঁদবো কেনো? আমরা কেঁদেছি আমাদের ভেতরের প্রতিশোধের আগুনে ঝলছে , আমরা কেঁদেছি তীব্র বাংলাদেশী আত্মসম্মানবোধে , কাল তার দাঁত ভাঙ্গা জবাব দেয়ার একটা সুযোগ পেয়েছিলাম বলেই কেঁদেছি । আমাদের মাঝে আজো কিছু মুক্তিযোদ্ধা বেঁচে আছেন , আমরা যেনো তাদের একজন কেও একবার দেখিয়ে যেতে পারি আমরা পাকিস্থান কে উড়িয়ে দিতে পারি যেমনটি পেরেছিলেন আপনারা।
খেলা শেষে ট্রফী হাতে পাকিস্থানিদের উল্লাস দেখে ভাবলাম সত্যি কি আজকের এই যুদ্ধে আমরা হেরে গেলাম ? পরক্ষণেই মনে পড়লো , এটাতো মার্চ মাস , এই মাসে তো যুদ্ধ শুরু হোয়েছিলো , এখন'ই কি আমরা জীতেছিলাম ইতিহাসে ? না তো !!! এই মাসেই পাকিরা আমাদের উপর মরণ কামড় বসিয়েছিলো , এর শোধ আমরা দিয়েছি দীর্ঘ ৯ মাসে । তার পর থেলেই মুশফিকের ওই কথাটাই কানে বাজতে থাকলো '' এটা একটা শুরু মাত্র , সামনে আরো আরো রেজাল্ট অপেক্ষা করছে ''
হ্যা , আমরাও তাকিয়ে আছি তোমাদের দিকে , এই নতুন যুদ্ধে তোমরা জীতবেই ,বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের ১৬ ডিসেম্বর যে এখনও বহু দূরে ,সেই দিনে যাবার পথে যুদ্ধ শুরু করলে , সেই দিনের অপেক্ষায় থাকলাম ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


