somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ছোটবেলার তারাবী পড়ার স্মৃতি

১৯ শে আগস্ট, ২০১২ দুপুর ২:১৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ছোটবেলার তারাবী নামাজের কথা খুব মনে পড়ে । এখনকার মত এত ফুলবাবু সেঝে সামনের কাতারে গিয়ে নামাজতো আর পড়তামনা ! পিচ্চি পিচ্চি শয়তানের আবির্ভাব হোত যেন মসজিদে । তারাবী নামাজের জন্য ইফতারের পর থেকেই ব্যস্ত হয়ে যেতাম , এশার আজানের সাথে সাথেই কিছু বন্ধু এসে হাজির হত আমাদের বাসায় । তখন ক্লাস ৪-৫ এই পড়ি , তাই পড়া ফাঁকি দিয়ে তারাবী পড়তে যাওয়াটা এককথায় অসাধারন লাগতো ! সব বন্ধুর হাতে থাকতো একটা করে টর্চ লাইট , সেগুলোকে সারা রাস্তায় নাড়িয়ে চাড়িয়ে তবেই পৌছতাম মসজিদে । মাঝে মাঝে টর্চগুলোর আলো সামনে থেকে আসা মানুষের মুখের ওপর ফেলতাম , বকা আর দৌড়ানিও তাই কম খাইনি !
মসজিদে গিয়ে সব গুলো পিচ্চি ওযুখানায় না গিয়ে মসজিদের পুকুরে গিয়ে ওযু করতাম ( পানি ছিটানোর ইচ্ছায় ) । পুকুর থেকে ওযুর বদলে প্রায় গোসল করে মসজিদের গামছায় শরীর মুছে নিতাম । দোতলা মসজিদের নিচতলায় তখনো জায়গা থাকতো , কারণ আমরা খুব তাড়াতাড়ি মসজিদে যেতাম , তবুও আমরা আস্তে আস্তে বড়দের চোখ বাচিঁয়ে সিড়ি বেয়ে উপরতলায় উঠে যেতাম । সেখানে আমাদের দুষ্টমির সাক্ষী শুধু আমাদের মত শয়তান গুলোই !
উপরতলায় দেখতাম আরো কিছু বিচ্চু বাহিনী তাদের মাঝেই গল্প করছে । মসজিদের উপরতলায় ঈমামের মাথার উপরেই একটা ফুটো থাকতো , ঐটা দিয়ে আমরা খুব কাছ থেকে ঈমামকে দেখতাম কি করছে , মাঝে মাঝে ঈমাম উপরে তাকিয়ে দেখতেন এই বাঁদর গুলোর চেহারা । আর ওমনি ঐ জায়গা থেকে পড়ি মড়ি করে দৌড় দিতাম , আর লাইড স্পিকারে শুনতাম ঈমামের গলা ( উপরে বড় কেউ থাকলে বাচ্চা গুলোকে নিচে নামান ) । মাঝে মাঝে বড় কেউ আসত , কিন্তু কোন লাভ হতনা , আমরা ঘুরে ফিরে উপরেই উঠে যেতাম । একটু পর নামাজ শুরু হত , এশার ফরজ নামাজটা খুব শান্ত ভাবেই পড়তাম আমরা ।
সমস্যা শুরু হত তারাবী নামাজের সময় থেকে , এক একটা রাকাত মনে হত এক একটা বছর , তাই ঠেলা-ঠেলি শুরু হয়ে যেত , ২ রাকাতের নামাজে আমরা কেউ ১ম রাকাতে রুকুতে যাবার আগে নিয়ত বাঁধতে পারতামনা । কেউ যদি নিয়ত বাঁধতো আর মুড নিয়ে সামনে তাকিয়ে থাকতো তাহলে বাকি সবাই তার সামনে গিয়ে চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে থাকতো , এতে করে ঐ নিয়ত বাঁধা বেচারা হাসি দিয়ে নিয়ত ভেঙ্গে ফেলত । মাঝে মাঝে নিয়ত বাঁধা বন্ধুকে সবাই ধরা ধরি করে একেবারে বারান্দায় দিয়ে আসতাম , সে ঐখানে একা একা দাড়িয়ে নামাজ পড়ত ।

আর নামাজে বন্ধুরা একসাথে দাড়ালেই কেমন জানি শুধু হাসি পেত । রুকুতে গিয়ে একেক জনের জোরে জোরে ' সুবহানা রাব্বিয়াল আযিম ' পড়া শুনলেই হাসি পেত । একেকটা হাসতে হাসতে ঐখানেই পড়ে যেত , বাকি গুলো মুখ চোখ শক্ত করে সেজদায় যেত । সেজদায় গিয়ে একেক জনের কানটানা শুরু হয়ে যেত , সবাই ওয়েট করতো কে কার আগে সেজদায় যাবে আর তাকে নাস্তানাবুদ করবে । মাঝে মাঝে সেজদা দেয়া অবস্থায় কেউ কারো পা টেনে লম্বা করে দিতো , ফলে সে ঐ অবস্থাতেই একে বারে শুয়ে যেত , রাগ করে আর উঠতনা শুয়েই থাকতো । আর আমরা হাসি চেপে রাখতে পারতামনা । হাসি চাপতে চাপতে পেট ব্যাথা হত ।

একদোস্ত সব সময় একটা ট্রাউজার পড়ে আসতো , খুব ঢোলা সেই প্যান্ট , সবাই টেনে টেনে নামিয়ে দিত , আর সেই বেচারা নিয়ত বাদ দিয়ে প্যান্ট এর দড়ি ধরে দাড়িয়ে থাকত । লম্বা সাড়ির কেউ এক পাশ থেকে ধাক্কা দিলে বাকি সব অন্য পাশে পড়ে যেত , আর যারা পান্জাবী পড়ে আসত , তাদের পিছনে এক জনের সাথে আরেক জনের পান্জাবী গিট্টু দিয়ে দিত । ধাক্কা খেকে ঐ গিট্টুর টানেই পাশের জন পড়ে যেত । নামাযের শেষ বৈঠকে বসে ডান হাতের তর্জনী দিয়ে আমি ইশারা করতাম , আর তাই দেখে পাশের দোস্তরা হাতের ৫ আঙ্গুল এমন ভাবে নাঁচাতো যে না হেসে উপায় থাকতনা । সালাম ফিরানোর সময় হোত আরেক মজা , দান দিকে সালাম ফিরিয়ে এক দোস্ট ওয়েট করত কখন পাশের জন বাম পাশে সালাম ফিরাবে , আর ওয়েট করা দোস্ত চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে থাকত তার দিকে , এতেই আরেক হাসি ।
এমন করে করে নামাজগুলো চলত , মাঝে মাঝে কারো কারো সাথে ঝগড়াও হত , মাঝে মাঝে বড়রা এসে কান টেনে দিত । আবার কিছু দিন মসজিদের ছাদে গিয়ে তাল চুরির রেকর্ডো ছিল । কিছু কিছু পিচ্চি শয়তান এতেকাফে বসা মানুষদের খাবার চুরি করে খেয়ে ফেলত ।

নামায শেষে বাহিরে এসে দেখতাম জুতা নাই , কারোটা পাওয়া যাচ্ছে পুকুরের মাঝখানে , কারোটা ওযুখানায় , অন্য শয়তান বাহিনীর কাজ । এগুলোর প্রতিশোধো নেয়া হত পরে । আবার টর্চ নাড়িয়ে নাড়িয়ে বাসায় ফিরে আসতাম ।
দিন যত যায় দুষ্টমি তত কমতে থাকল , এখনো সব বন্ধুরা নামাজে যাই , কেউ কারো খোঁজ রাখিনা । পাশে দাড়ালে এখন আরো সতর্ক হয়ে নামাজ পড়ি । আগের সেই দুষ্টু বুদ্ধি আসেনা মাথায় ।
এখনো কিছু পিচ্চি মসজিদের ওপরতলায় লাফালাফি করে , চিল্লাচিল্লিতে নামাজ পড়তে পারিনা শান্তিতে , মাঝে মাঝে মনে হয় সবগুলাকে কান ধরে মসজিদ থেকে বের করে দেই । কিন্তু পরক্ষণেই আতীতের কথা মনে হয়ে এক চিলতে হাসি ঠোটের কোণে চলে আসে ।
৭টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ধূসর ওয়ালেট

লিখেছেন মোহাম্মদ সজল রহমান, ১২ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:৪৭

একটা ধূসর রংয়ের ওয়ালেট
সবুজাভ ভ্যানিটি ব্যাগ থেকে বের হলো নীরবে
তার শান্ত হাতের উপর চেপে ধরতেই প্রশ্ন -
এটা আমার জন্য ?
ঘাড় নেড়ে সম্মতি দেখেই চঞ্চলতা ছুঁয়ে গেলো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১

কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×