somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

হুমায়ূন আহমেদ কে নিয়ে এত , এত , এত লেখা চোখে পরছে যে কোথাও human লেখা থাকলে সেটাকেও হুমায়ূন পড়ে যাই :(

২৭ শে আগস্ট, ২০১২ সকাল ৯:৫১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বেশ কয়দিন যাবত হুমায়ূন জ্বরে ভুগছে জাতি । হুমায়ূন যখন ক্যান্সারে আক্রান্ত ছিলেন তখনো জাতির এত মাথা ব্যাথ্যা ছিলোনা হুমায়ূনকে নিয়ে । মরলেই যেন মানুষের কদর বেড়ে যায় ( মাইকেল জ্যাকশনের বেলায় যেমন পৃথিবীর মানুষ দেখাইছে ) । আমরা বাঙ্গালীরা তাই দেখালাম হুমায়ূনের বেলায় ।
আহা , আমি তাকে অশ্রদ্ধা করে কিছু বলছিনা । আমাদের দরদ যখন এত ছিলো ? তখন জীবিত থাকা কালিন তাকে নিয়ে এত টানা হ্যাচরার দরকারটা কি ছিলো ? আমার ছোট্ট মাথায় ঢোকেনা ।

কিছু কিছু মানুষ আবার হুমায়ূনকে পচাঁই মজা লুটে , আরে ব্যাটা হুমায়ূন তো হুমায়ূন , তার সাথে অন্য কারো তুলনা দিয়ে লাভ আছে ?
নাকি কান্ধের উপরে চাইপা ঝগড়া করতে চাও ?
তাদের ঝগড়া শেষ হয় হুমাঊনের ফ্যামিলীতে গিয়া ।


কিছু মানুষরে দেখলাম হুমায়ূন মরার পর থেকে হুমায়ূন ভক্ত হোই গেছে । বন্ধু বান্ধবের কাছ থেকে হুমায়ূনের ব-ই খোঁজ করে নিয়ে আসতেছে । তার পর সেগুলা পরতে পরতেই কোন একটা লাইন ফেইসবুকে স্ট্যাটাস মারতেছে । তাও আবার স্ট্যাটাস মারা বেশিরভাগ ব-ই হোইলো '' হিমু '' ভাইয়ের ।
দুই একটা ভালুবাসার লাইন অথবা মহা দার্শনীক লাইন তুইলা দিতাছে । তাদের ঐ ফ্যাশনটাও হুমায়ূনের কাছ থেকেই শেখা , হুমায়ূন যেমন কথা বার্তা ছাড়া হুট কোইরা এক্ষাণ ইংলিশ কবিতা ঢুকাই দিতো ব-ই এর সামনের পাতা অথবা লাষ্টের পাতায় , তারাও কথা বার্তা ছাড়াই হুমায়ূনের লাইন তুলে দেয় ।


নাস্তিক আস্তিকের মাঝেও ক্যাচাল বাঁধাই গেছেন হুমায়ূন আহমেদ । মানুষটা জানতো কি করে রহস্য বানাই রাখা যায় নিজেরে , তাই নাস্তিকের পক্ষেও কথা বলতেন আবার আস্তিকের পক্ষেও বলতেন । আবার বিড়াট রহস্য রাইখা গেছেন মরার আগে শেষ কি জানি বলবেন বোইলা না বলেই চলে গিয়ে ।
এই সবের কারণেও তিনি অনেক দিন আলোচনায় থাকবেন এইটাই স্বভাবিক । কিন্তু আমরা সব বুইঝাও না বুঝার ভান কোইরা আলোচনা করতেই থাকি ।


আমি তার মিসির আলীর একটু ভক্ত ছিলাম । আগে হিমুও পরছি , তবে তার সংলাপ চয়ন আমার কাছে ভালো লাগতোনা । সব চরিত্র গুলা ক্যান জানি মুখের কাছে আইসা কথা কয় মনে হয় (আমি কোইলাম সাহিত্য সমালোচনা করতেছিনা )। প্রত্যেকটা চরিত্রের এই রকম গায়ে পরা ভাব ভালো লাগতো না । যদিও তার ভালো ভালো উপন্যাস গুলো ভালোই আনন্দ দিত । কিন্তু তসলিমা নাসরিনের মত-ই বলতে হয় '' যখন একটু বড় হয়ে অন্য ব-ই গুলো পড়তে শুরু করলাম , বাঙ্গলা সাহিত্যের মুল স্রোতে গেলাম , তখন থেকে আর হুমায়ূন টানেনি ''


আবার আমার এক দোস্ত নালিশ কোইরা কোইলো , আচ্ছা ? হুমায়ূনরে সবাই এখন স্যার স্যার কয় ক্যান ? তারে কি স্যার উপাধি দেওয়া হোইছেনি ?
সব জায়গায় দেখি স্যার এই করছেন , স্যার সেই করছেন ?
সে কি জাতীয় অধ্যাপক হোইছেন?
আমি এর জবার দিতে পারলামনা ! তাও বলছিলাম একটু '' তিনি তো ভার্সিটির স্যার আছিলো , তাই ডাকে '' উত্তর শুইনা
দোস্ত আমার এমন কোইরা তাকাইলো যে আমার বয়র নিমেষেই ৫-৬ হোইয়া গেল ।


হুমায়ূন আহমেদের মরে যাবার পর সব চাইতে বেশী পেইন দিছে ফেইসবুক পেইজগুলা । একেকটার লাইক চাওয়ার স্ট্যাইলতো আপনাদের অজানা নয় । *গত ৭ দিনে স্যারের ৭০০০ ভক্ত লাইক দিছে , আপনি দিয়েছেন তো ? * এই হোইলো ভক্ত আর পীরের সম্পর্ক । আর ফেইসবুকের সুশীল সমাজের সবার ওয়ালেই এখন দেখতে পাওয়া যায় *নাউহাশ হুমায়ূন * কে ৫-৬ দিন আগেই সাবস্ক্রাইব করছেন । ভাবখানা অনেকটাই এমন এখন নুহাশ হুমায়ুন লেখার হাল ধরবেন ।

শেষ কথাঃ এই অগোছালো লেখার জন্য ক্ষমা পার্থী । আমরা (বাঙ্গালীরা) জ্ঞানীর কদর দিতে জানিনা , তাই আসুন হুমায়ূন আহমেদকে তাঁর প্রাপ্য সম্মান টুকু দেই । তার ভালো ভালো ব-ই গুলো নিয়ে আলোচনা করি , অনুরোধে রাইস মিল গেলা ব-ই গুলোর বিজ্ঞাপন থেকে বিরত থাকি । এবং সর্বোপরি তার মৃত্যু পরবর্তী তাকে নিয়ে করা ব্যাবসা গুলোয় ধিক্কার জানাই ।
৫টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ধূসর ওয়ালেট

লিখেছেন মোহাম্মদ সজল রহমান, ১২ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:৪৭

একটা ধূসর রংয়ের ওয়ালেট
সবুজাভ ভ্যানিটি ব্যাগ থেকে বের হলো নীরবে
তার শান্ত হাতের উপর চেপে ধরতেই প্রশ্ন -
এটা আমার জন্য ?
ঘাড় নেড়ে সম্মতি দেখেই চঞ্চলতা ছুঁয়ে গেলো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১

কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×