২০১২ সালে যারা এইচ , এস , সি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে তাদেরকে নিয়ে একটু বিশ্লেষণ করতে ইচ্ছে করল । আমি এইচ , এস , সি পরীক্ষার্থী না , বা আমার ছোট ভাইবোনো এইচ , এস , সি দেয়নি । আমি কোন কোচিং সেন্টারের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিও না , শুধুমাত্র আমার অনুজদের জন্য খারাপ লাগা থেকেই এই লেখা ।
ইংরেজীতে একটা প্রবাদ আছে '' Misfortune never comes alone '' , এই উক্তিটি বর্তমান প্রেক্ষাপটে অনেকের সাথেই মানায় , তবে ২০১২ সালের এইচ , এস , সি পরীক্ষার্থীদের জন্য যেন একটুখানি বেশীই মানান স-ই । একটা ছাত্র অথবা ছাত্রীর ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্নে রং লাগে এই এইচ , এস , সি পরীক্ষায় । কে ডাক্তার ? কে ইন্জিনিয়ার ? কে হবেন বিখ্যাত আইনজীবী ? স্বপ্নের শুরু হয় এই এইচ , এস , সির রেজাল্ট দিয়েই । কিন্তু ২০১২ সালের মত দুর্দশায় হয়ত পরতে হয়নি কোন ব্যাচকে ।
এই ব্যাচটাই সৃজনশীল পদ্ধতির প্রথম গিনিপিগ ।
'' আমরা সবাই জানি বিজ্ঞান বিভাগের পরীক্ষা একটু দীর্ঘ সময় ধরে হয়ে থাকে । আর্স , কমার্সের স্টুডেন্টদের চাইতে তাদের পরীক্ষা শেষ হয় আরো ১৫-২০ দিন পরে ,শুধুমাত্র তাদের প্র্যাকটিক্যালের কারণে । কিন্তু ২০১২ সালেই সরকার বিজ্ঞান বিভাগের পরীক্ষার রুটিন এত সংক্ষিপ্ত করেছিল !!! যা ইতিহাসে বিরল । তবে কি সরকার জানত এই পরীক্ষার্থীদের ভোগান্তি হবে সামনেই ?
শিক্ষার্থীরা এই রুটিনের প্রতিবাদ করল । মানব বন্ধন করল , প্রেস কন্ফারেন্স করল । তারপর সরকার রুটিন পরিবর্তন করল । শিক্ষার্থীরা নিজেদের জয়ে খুশি হল , কিন্তু তারা জানতনা তাদেরকে নিয়ে খেলা সবে শুরু !!!
কিছুদিন পর শিক্ষার্থীরা বুঝতে পারল তাদের পুর্বের রুটিনে পরীক্ষা হলেই বরং ভালো হত । হরতালের কারণে এপ্রিলের পরীক্ষা পেছালো মে মাসের ২৩ তারিখ । আরো কিছু পরীক্ষা হল শুক্রবারে । ২০১২ সালের এইচ , এস , সি ব্যাচ ই হয়ত প্রথম যারা শুক্রবার এইচ , এস , সি পরীক্ষা দিল ।
ছাত্র-ছাত্রীরা মুখিয়ে থাকত বিভিন্ন নিউজ সোর্সের দিকে । কাল কি হরতাল হবে ? পরবর্তী পরীক্ষার তারিখ কবে হবে ? এই সব জানতে । তারা প্রস্তুতি কখন নেবে ???
এমনিতেই প্রতিবছরের ন্যায় তীব্র গরম আর লোড শেডিং এর বিড়ম্বনায় তারা তাদের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি নিতে পারছিলোনা , তার ওপর আবার রাজনৈতিক চালের বলির পাঠা হচ্ছিল তারা ।
এমন অনেক ছাত্র-ছাত্রী ছিল যারা সারাবছর ভালো করে পড়েও দীর্ঘসূত্রতার কারণে পরীক্ষায় নিজের সেরাটা দিতে পারল না । তাদের ছন্দচ্যুত করে তাদের কাছ থেকেই তো আর ভালো রেজাল্ট আশা করা যায়না !
তবুও বিধাতার রহমতে তাদের জেলাল্ট ভালোই হোল । জি পি এ ৫ এর রেকর্ড করল । কিন্তু বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র-ছাত্রীদেরওপর যেন রাগ তখনো কমেনি বিধাতার । তাই সবাই যখন বিভিন্ন কোচিং এ ভর্তী হয়ে স্বপ্ন দেখছে ডাক্তার , ইন্জিনিয়ার হবার , তখন ই সরকার ঘোষণা করল মেডিকেল ভর্তী পরীক্ষা বাতিলের অযোক্তিক ঘোষণা । অন্যদিকে বুয়েটের ভি , সি মুখ গোমড়া করে এখনো ভর্তী পরীক্ষার সময় না দিয়ে শিক্ষার্থীদের ধৈর্য্যের শেষ সীমানায় পৌছে দিয়েছেন ।
আমরা এই ছোট ছোট ছেলে-মেয়ে গুলোকে এখন ই দাবী আদায়ে রাস্তায় যাওয়ার সাথে পরিচিত করে দিচ্ছি , এরা কেউ খারাপ ছাত্র-ছাত্রী নয় । সকলেই জি পি এ ৫ অথবা এর আশে পাশের স্টুডেন্টরাই । তো এরাই যখন ছোট্ট ঘটনায় রাস্তায় নেমে গাড়ি ভাঙ্গবে , বড় হয়ে দুর্নীতির আশ্রয় নিবে তখন আমরা কাকে দোষটা দেব ?
২ দিন আগে ঢাকা ভার্সিটির ছাত্র নিহত হবার পর স্টুডেন্টদের গাড়ি ভাঙ্গচুরে ব্লগে অনেক গালাগালি দিতে দেখলাম ঐ সব স্টুডেন্টদের । কিন্তু এরা যে নিজেরাই ঐ পরিবেশের শিকার তা কেউ খূঁজে দেখবেনা ।
এই যখন অবস্থা , তখন ২০১২ সালের এইচ , এস , সি ব্যাচকে বলতে ইচ্ছে করে '' যাও ভাইয়েরা আমার , তোমরা এই বয়সেই জাতির অন্ধকার গোলির অনেক নিদর্শন দেখেছো , এরপর যদি তোমাদের ভেতর থেকেই কেউ জাতির পেটে লাথি দিতে চাও , তবে তোমাদেরকে থামানোর ভাষা আমাদের নেই ''

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


