এ কে খন্দকারের ‘মুক্তিযুদ্ধের পূর্বাপর : কথোপকথন’ সঠিক ইতিহাসচর্চা নাকি দীর্ঘমেয়াদী কোন ষঢ়যন্ত্রের অংশ! বিষয়টা নিয়ে ভাবার যথেষ্ঠ অবকাশ রয়েছে।
পঁচাত্তর পরবর্তী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে উদ্দেশ্যমূলকভাবে প্রজন্মকে বিকৃত ইতিহাস পাঠে বাধ্য করা হয়েছিল। সে সময়ে আমরা যারা ছাত্র তখন আমাদের স্কুল/কলেজ পাঠে মহান মুক্তিযুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর অবদানকে খাটো করে দেখানো হয়েছিল। বিকৃত ইতিহাসে মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণা পাঠককে মুক্তিযুদ্ধের ঘোষক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। রাজনৈতিক নেতৃত্বকে পাশ কাটিয়ে সেনাবাহিনীর ভূমিকাকেই মুখ্য হিসেবে দেখানো হয়েছিল। আমাদের ইতিহাস বইয়ের পাতায় সুকৌশলে একাত্তরের ঘাতক দালাল রাজাকারদের ইতিহাস ধামাচাপা দেওয়া হয়েছিল। যার ফলশ্রুতিতেই স্বাধীন বাংলাদেশে ঘাতক-দালালরা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার কাছাকাছি এমনকী মন্ত্রীত্বের আস্বাদ নিতে পেরেছিল।
এ কে খন্দকার নিজে একজন মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তিযুদ্ধের উপ-অধিনায়ক। স্বভাবতঃই প্রশ্ন জাগে তার মতোন ব্যক্তির কলমে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করা কীভাবে সম্ভব হলো? ৭ই মার্চের ভাষণের শেষে আমরা 'জয় বাংলা' উচ্চারণই শুনে এসেছি। তবে তর্কের খাতিরে বলা যায় বঙ্গবন্ধু জয় বাংলার পরে যদি কিছু বলে থাকেন তা হতে পারে 'পাকিস্তান জিন্দাবাদ' সেটিই তো ছিল প্রচলিত। আর যদি ৭-ই মার্চে যদি তিনি 'পাকিস্তান জিন্দা্বাদ' বলেও থাকেন তাহলেও মহাভারত অশুদ্ধ হয়ে যায় না। তখন পর্যন্ত তিনি কথা বলছেন পাকিস্তানের নির্বাচিত 'ভাবী প্রধানমন্ত্রী' হিসেবে।
বিতর্কিত বইটিতে বলা হয়েছে রাজনৈতিক নেতৃত্ব যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত ছিল না। বিষয়টি অর্ধসত্য। বঙ্গবন্ধুর ভাষণ, " প্রত্যেক ঘরে ঘরে দূর্গ গড়ে তোলো", এ আহ্বানটুকুই তো যুদ্ধের আগামবার্তা হিসেবে ধরে নেয়া যায়। তবে হ্যা, একটি নিয়মিত বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য যতটুকু প্রস্তুতির প্রয়োজন ছিল তা যে রাজনৈতিক নেতৃত্বের মাঝে ছিল না তা নিদ্বিধায় বলা যায়।
বইটিতে আরেকটি বিষয় যুদ্ধকালীর মুক্তিবাহীনি বনাম মুজীব বাহিনী দ্বন্দ্ব। প্রসঙ্গতঃ বলা সঙ্গতঃ আওয়ামী লীগ পাতি বুর্জোয়ার দল, এবং আওয়ামী লীগ কোনক্রমেই চায়নি যুদ্ধের নেতৃত্ব বামদের হাতে চলে যাক। সে কারণেই শেখ মণির নেতৃত্বে মুজীব বাহিনীর জন্ম। মুক্তিযুদ্ধ যদি বামদের হাতে চলে যায় তবে মুজীব বাহিনী কাউন্টার করতো তা। যুদ্ধ যদি দীর্ঘায়িত হতো তা হলে এমন ঘটনা হয়তো ঘটতে পারত।
আলোচ্য বইটির প্রকাশক যেহেতু প্রথম আলো গ্রুপের এবং আমাদের ১/১১ রাজনীতিতে প্রথম আলো/ ডেইলি স্টারের সম্পাদকদের সন্দেহজনক ভূমিকা ছিল, সেই প্রেক্ষিতে আমজনতা্র ভাবনায় স্বাভাবিকভাবেই আসতে পারে খন্দকারের এ বইটি প্রকাশ কি কোন ষঢ়যন্ত্রেরই অংশ কী না!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।