বনানী সুপার মার্কেটের গেটের পত্রিকা হকার্সের দোকানটি আমার বইয়ের একজন পরিবেশক। অণুগল্পের বই 'মাইন্ড রিডার' বেশ বিক্রি হলেও কবিতার বই কালেভদ্রে। কয়েকদিন আগে সন্ধ্যায় ইউনিভার্সিটি থেকে ফেরার পথে দোকানটির সামনে দিয়ে যাচ্ছিলাম। দেখি এক পৌঢ় খুব মনযোগ দিয়ে আমার কবিতার বই 'মধ্যাহ্ন খরায় তবু আসে প্রেম' পড়ছেন। প্রায় মিনিট পনেরো পৃষ্ঠা্ উল্টিয়ে পাল্টিয়ে বেশ কয়েকটি কবিতা পড়তে দেখলাম। পড়া শেষ করে বইটি তিনি সযত্নে রেখে দিলেন যথাস্থানে। এবার আমি নিজের পরিচয় দিয়ে তার সাথে আলাপচারিতা শুরু করি-
- তা বইটি কেমন লাগলো?
- আপনার লেখা কবিতাগুলো অন্যরকম। বেশ টানে। তবে সবচেয়ে ভালো লাগলো, আপনার কবিতায় প্রচলিত আরবি শব্দগুলোর অভিনব প্রয়োগ। যেমন 'আমলনামা', 'সুবহে সাদেক', 'পুলসিরাত' শব্দগুলোর প্রয়োগ আমার বেশ লেগেছে ...
বেশ গুছিয়েই কথা বলছিলেন তিনি। বুঝলাম তিনি বেশ বোদ্ধা পাঠক । বেশ শ্লাঘাও বোধ করলাম। এবার আমি তাকে জিজ্ঞেস করি -
- তা ভাই আপনি কি করেন?
- ছোটখাটো বিজনেস করি। তবে আমিও কবিতা লিখি। ৮৩ সালে বইও বের করেছিলাম। এখনো লিখে যাচ্ছি... নোবেল পুরস্কারের জন্য বই সাবমিট করবো বলে ভাবছি।
আমি হাসবো কিংবা কাঁদবো বুঝতে পারলাম না। কবি কিংবা কবিতাপাঠক হামেশাই কি এমনতরো তারছেঁড়া হয়ে থাকে !
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই জানুয়ারি, ২০১৬ রাত ২:৪২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।





