
শিক্ষার্থী হত্যার বিচারের দাবীতে সিলেট দক্ষিণ সুরমা সরকারি কলেজের শিক্ষক, অবিভাবক ও শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন।

সহপাঠীদের বিচার ও আরো কিছু দাবী আদায়ের লক্ষে একপর্যায়ে শিক্ষার্থীরা রাজপথে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে নামে।
আবারো "ওভারটেক"। এবার দু'টি বাস নিজেদের মধ্যে ওভারটেক নামের মানুষহত্যার প্রতিযোগিতা করতে গিয়ে কেড়ে নিয়েছে আরো তিনটি মেধাবী চাঞ্চল প্রান। গত ১৬ তারিখ সিলেটে দুটি বাস ওভারটেক করতে গিয়ে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাকে চাপা দেয়। অটোরিকশায় থাকা সিলেট দক্ষিণ সুরমা সরকারি কলেজের ইসলামের ইতিহাস ও সাংস্কৃতি বিভাগের অনার্স ১ম বর্ষের শিক্ষার্থী মাহফুজা আনজুম তাসনিম, ইন্টারমিডিয়েট ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী সৈয়দা রহিমা লিয়া ও নূরজাহান মেমোরিয়াল কলেজের শিক্ষার্থী আয়শা সিদ্দিকা চাঁদনী মর্মান্তিকভাবে প্রান হারায়।
দুর্ঘটনার সাথেসাথে রাজপথ গরম হয়ে উঠে। চলতে থাকা আন্দোলনে সবার মুখে স্লোগান ছিল, "কাঁদতে আসিনি; ফাঁসীর দাবী নিয়ে এসেছি রাজপথে(!)"
আন্দোলনের এক পর্যায়ে গতকাল তারা প্রশাসন বরাবর কিছু স্পষ্ট দাবী জানান। সিলেট দক্ষিণ সুরমা সরকারি কলেজের মাননীয় প্রিন্সিপাল সেই দাবীগুলো পূরণের জন্য ৪৮ ঘণ্টার সময় বেঁধে দেন।
জানা গেছে, ইতিমধ্যে বাস চালককে আটক করা হয়েছে এবং মার্ডার মামলা হিসেবে হাজতে নেয়া হয়েছে।
দাবীগুলো হচ্ছেঃ
* চন্ডিপুল চত্বরের পাশের অবৈধ সিএনজি স্ট্যান্ড উচ্ছেদ করতে হবে
• মহাসড়কে সিএনজি নিষিদ্ধ করতে হবে।
• ওভারটেক করা চলবে না, যারা ক্ক্রবে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।
• নির্দিষ্ট গতির মধ্যে গাড়ি চালাতে হবে।
প্রাসঙ্গিক কথাঃ
নিরাপদ সড়ক চাই নামে একটি সংগঠনের তথ্যানুসারে ২০১৭ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি হয়েছে ৫ হাজার ৬৪৫ জনের। প্রতিবছর এটা ২০ শতাংশের হিসেবে বেড়েই চলেছে। এতো এতো আন্দোলন মানববন্ধন সব কিছু যেন বাসি ফালুদার মত কাজ করছে।
কই বেশিদিন লাগেনি, আমরা ভুলে গেছি রাজীব, রাসেল, জিসাদ, আরিফুলের মত হারিয়ে যাওয়া আরো শত মেধাবী প্রাণের কথা। গুগলে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত লিখে সার্চ দিলেই বেড়িয়ে আসে শতশত সাধারণ পদযাত্রীর মৃত্যুর খবর। এদেরকে আমরা ভুলে যাই, কিন্তু ভুলতে পারে না তাদের নিয়ে যারা স্বপ্ন দেখেছিল তারা; তাদের মা বা আত্মীয়স্বজনেরা। তারা আজও কুঁকড়ে কেঁদে উঠে। তাদের কান্না এখন আর কেউ দেখে না।
কিছুদিন আগে গাড়িচালকদের নিয়ন্ত্রণ করার বিধান তৈরির নামে সরকার একটা খেলা পেতেছিল। যার প্রতিক্রিয়া স্বরুপ আমরা তাদের থেকে ধর্মঘটের নামে পুড়ামবিলের নির্যাতনে স্বীকার হয়েছি। তখন তাদের হিংস্রতার আক্রমণে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পেয়েছে সাধারনত শিক্ষার্থীরা।
আসলে আমাদের দেশে চালক ও মালিক সমিতি হচ্ছে সবচেয়ে ভয়ংকর হত্যাকারী বাহিনী। যাদের বিরুদ্ধে না পারি আমরা কিছু বলতে, না কিছু করতে। মূলত এরা একটা বিশাল চক্রের দ্বারা সাধারণ মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করে যেভাবে ইচ্ছে সেভাবে সেবার নামে মানুষের প্রাণ নিয়ে খেলা করছে। সবকিছুর পর মনে হয়, দেশটা যেন মগের
ছবি ও তথ্য কৃতজ্ঞতাঃ মাসুম আহমেদ, শিক্ষার্থী, সিলেট দক্ষিণ সুরমা সরকারি কলেজ।
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ সকাল ১০:৫১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




