somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

"কাঁদতে আসিনি; ফাঁসীর দাবী নিয়ে এসেছি রাজপথে"

১৯ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ সকাল ১০:৫১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


শিক্ষার্থী হত্যার বিচারের দাবীতে সিলেট দক্ষিণ সুরমা সরকারি কলেজের শিক্ষক, অবিভাবক ও শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন।


সহপাঠীদের বিচার ও আরো কিছু দাবী আদায়ের লক্ষে একপর্যায়ে শিক্ষার্থীরা রাজপথে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে নামে।

আবারো "ওভারটেক"। এবার দু'টি বাস নিজেদের মধ্যে ওভারটেক নামের মানুষহত্যার প্রতিযোগিতা করতে গিয়ে কেড়ে নিয়েছে আরো তিনটি মেধাবী চাঞ্চল প্রান। গত ১৬ তারিখ সিলেটে দুটি বাস ওভারটেক করতে গিয়ে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাকে চাপা দেয়। অটোরিকশায় থাকা সিলেট দক্ষিণ সুরমা সরকারি কলেজের ইসলামের ইতিহাস ও সাংস্কৃতি বিভাগের অনার্স ১ম বর্ষের শিক্ষার্থী মাহফুজা আনজুম তাসনিম, ইন্টারমিডিয়েট ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী সৈয়দা রহিমা লিয়া ও নূরজাহান মেমোরিয়াল কলেজের শিক্ষার্থী আয়শা সিদ্দিকা চাঁদনী মর্মান্তিকভাবে প্রান হারায়।

দুর্ঘটনার সাথেসাথে রাজপথ গরম হয়ে উঠে। চলতে থাকা আন্দোলনে সবার মুখে স্লোগান ছিল, "কাঁদতে আসিনি; ফাঁসীর দাবী নিয়ে এসেছি রাজপথে(!)"
আন্দোলনের এক পর্যায়ে গতকাল তারা প্রশাসন বরাবর কিছু স্পষ্ট দাবী জানান। সিলেট দক্ষিণ সুরমা সরকারি কলেজের মাননীয় প্রিন্সিপাল সেই দাবীগুলো পূরণের জন্য ৪৮ ঘণ্টার সময় বেঁধে দেন।
জানা গেছে, ইতিমধ্যে বাস চালককে আটক করা হয়েছে এবং মার্ডার মামলা হিসেবে হাজতে নেয়া হয়েছে।

দাবীগুলো হচ্ছেঃ
* চন্ডিপুল চত্বরের পাশের অবৈধ সিএনজি স্ট্যান্ড উচ্ছেদ করতে হবে
• মহাসড়কে সিএনজি নিষিদ্ধ করতে হবে।
• ওভারটেক করা চলবে না, যারা ক্ক্রবে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।
• নির্দিষ্ট গতির মধ্যে গাড়ি চালাতে হবে।



প্রাসঙ্গিক কথাঃ
নিরাপদ সড়ক চাই নামে একটি সংগঠনের তথ্যানুসারে ২০১৭ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি হয়েছে ৫ হাজার ৬৪৫ জনের। প্রতিবছর এটা ২০ শতাংশের হিসেবে বেড়েই চলেছে। এতো এতো আন্দোলন মানববন্ধন সব কিছু যেন বাসি ফালুদার মত কাজ করছে।
কই বেশিদিন লাগেনি, আমরা ভুলে গেছি রাজীব, রাসেল, জিসাদ, আরিফুলের মত হারিয়ে যাওয়া আরো শত মেধাবী প্রাণের কথা। গুগলে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত লিখে সার্চ দিলেই বেড়িয়ে আসে শতশত সাধারণ পদযাত্রীর মৃত্যুর খবর। এদেরকে আমরা ভুলে যাই, কিন্তু ভুলতে পারে না তাদের নিয়ে যারা স্বপ্ন দেখেছিল তারা; তাদের মা বা আত্মীয়স্বজনেরা। তারা আজও কুঁকড়ে কেঁদে উঠে। তাদের কান্না এখন আর কেউ দেখে না।

কিছুদিন আগে গাড়িচালকদের নিয়ন্ত্রণ করার বিধান তৈরির নামে সরকার একটা খেলা পেতেছিল। যার প্রতিক্রিয়া স্বরুপ আমরা তাদের থেকে ধর্মঘটের নামে পুড়ামবিলের নির্যাতনে স্বীকার হয়েছি। তখন তাদের হিংস্রতার আক্রমণে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পেয়েছে সাধারনত শিক্ষার্থীরা।

আসলে আমাদের দেশে চালক ও মালিক সমিতি হচ্ছে সবচেয়ে ভয়ংকর হত্যাকারী বাহিনী। যাদের বিরুদ্ধে না পারি আমরা কিছু বলতে, না কিছু করতে। মূলত এরা একটা বিশাল চক্রের দ্বারা সাধারণ মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করে যেভাবে ইচ্ছে সেভাবে সেবার নামে মানুষের প্রাণ নিয়ে খেলা করছে। সবকিছুর পর মনে হয়, দেশটা যেন মগের



ছবি ও তথ্য কৃতজ্ঞতাঃ মাসুম আহমেদ, শিক্ষার্থী, সিলেট দক্ষিণ সুরমা সরকারি কলেজ।
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ সকাল ১০:৫১
৫টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমার স্বপ্ন

লিখেছেন রাজীব নুর, ২১ শে নভেম্বর, ২০১৯ সকাল ৯:৩৪




১। সোমাবার রাতের ঘটনা।
রাত ১১ টায় বিছানায় গেলাম। ঠিক করলাম আজ ঘুম না এলেও চোখ বন্ধ করে পড়ে থাকব। ঘুমের দরকার আছে- সুন্দর এবং সুস্থভাবে বেঁচে থাকার জন্য।... ...বাকিটুকু পড়ুন

গ্রামটির নাম ঢাকুয়া

লিখেছেন রমিত, ২১ শে নভেম্বর, ২০১৯ সকাল ১০:০২

গ্রামটির নাম ঢাকুয়া
------------------- রমিত আজাদ



ঢাকা থেকে অনেক দূরে, গ্রামটির নাম ঢাকুয়া।
সবুজ ছায়ার মায়ার দেশে প্রাণ ভরেছে আকুয়া।
মশগুল তায় টিয়া পাখী, রঙ ছড়াতে আশমানে,
তেপান্তরের মাঠ ছাপিয়ে ফিঙে নাচে গুলশানে!
ফুলবনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসসালামু আলাইকুম। কারও বিরক্তি উদ্রেক করলে ক্ষমা প্রার্থী

লিখেছেন শের শায়রী, ২১ শে নভেম্বর, ২০১৯ দুপুর ২:০৫



ম্যায় আপনে ঘর মে হী আজনবী হো গয়্যা হু আকর
মুঝে ইয়া দেখকর, মেরি রুহ ডর গয়্যি হ্যায়
সহমকে সব আরজু কোনে মে যা ছুপী হ্যায়
লবে বুঝা দি আপনে চেহেরো কি হসরতোনে
কি... ...বাকিটুকু পড়ুন

শ্রাউড অভ তুরিন অথবা যীশুর কাফন (প্রথম পর্ব)

লিখেছেন শের শায়রী, ২১ শে নভেম্বর, ২০১৯ রাত ১১:৫৩



সন্ধ্যা তখন ঘনিয়ে এসেছে, সেদিন ছিল প্রস্ততির দিন অর্থ্যাৎ সাব্বাথের দিনের আগের দিন। সে জন্য আরিম্যাথিয়া নিবাসী জোসেফ সেখানে এলেন। ইনি ছিলেন ধর্ম সভার একজন সন্মানিত সদস্য। তিনি ঐশী... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগ ডে- ২০১৯

লিখেছেন শায়মা, ২২ শে নভেম্বর, ২০১৯ রাত ১২:০৮


"ব্লগ ডে" এ দু'টি শব্দ মনে পড়লে আমার চোখে ভাসে কৌশিকভাইয়ার অসাধারণ কন্ঠে উপস্থাপনার ছবিটি। চোখে ভাসে জানা আপুর ছিপছিপে শাড়ি পরা চেহারাটা। চোখে ভাসে প্রায় তুষার কন্যা টাইপ ধপধপে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×