
জনপ্রিয় ব্লগার অগ্নি সারথি ভাইয়ের "নজরবন্দী" পড়ে শেষ করলাম। তিনি দূর্দান্ত লিখেছেন। একটা গল্পও যে এমন হতে পারে আমার জানা ছিল না। গল্পের প্লট-ঘটনা নির্বাচনে তিনি এতই মনযোগী যে গল্পের নায়ক যুলকারনাইন কে নিয়েও শত শত পৃষ্ঠা লিখে ফেলা যাবে।
তিনি নায়ককে যেই সমাজে নিয়ে গিয়ে হাজির করেছেন সেটি মূলত যোগাযোগ ব্যবস্থা বিবর্জিত প্রান্তিক একটা জন সমাজ। যোগাযোগ ব্যবস্থা বিবর্জিত প্রান্তিক জন সমাজ হলেও সেই সমাজের মানুষের ধ্যান-ধারনা, রীতি-নীতি, আচার বিশ্বাস পুরো বাংলাদেশেরই প্রতিনিধিত্ব করে। মানুষের জ্বীন-ভূত, অশরীরী ইত্যাদি দেখবার অভিজ্ঞতা গুলো সুন্দর ভাবে উপস্থাপন করবার পাশাপাশি তিনি দেখিয়েছেন ঠিক কি উপায়ে একজন তান্ত্রিকের নিকট দ্বৈব ক্ষমতা আসতে পারে। পুরো গল্পটিতে একটা টান টান উত্তেজনার পাশাপাশি রয়েছে বিশদ কিছু ম্যাসেজ। বইটিতে তিনি নারী অবদমনের ইতিহাস নিয়ে কথা বলেছেন, সুফিবাদ নিয়ে কথা বলছেন, সমাজের একেবারে নিচু শ্রেনীর মানুষের কথা বলছেন, দিচ্ছেন স্বপ্ন কিংবা রাশিচক্রের ব্যাখ্যা। এত এত জ্ঞানকে তিনি যে একটা মালার ভেতরে কিভাবে গেঁথে ফেলতে পারলেন সেটাই আমার নিকট আশ্চর্যের একটা বিষয় মনে হয়েছে।

তিনি অগ্নি সারথি! আমার মনে হয় তার দ্বারাই এসব শুধু সম্ভব। আমি সকলকেই বলব! জীবনে অন্তত একবার হলেও "নজরবন্দী" পড়ে দেখা উচিত। এটা শুধু একটা গল্প নয় বরং জ্ঞান! আমি বলছি জ্ঞানের সমষ্ঠি। সমাজকে নতুন ভাবে দেখবার একটা সামষ্ঠিক জ্ঞান।
বইটি পাওয়া যাচ্ছেঃ
একুশে বই মেলার ৪৩৪ নম্বর স্টলে
এক রঙ্গা এক ঘুড়ি প্রকাশনিতে।
রকমারি থেকে পেতে "নজরবন্দীতে" ক্লিক করুন।
ছবি কৃতজ্ঞতাঃ নীল সাধু

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।
