*পথে বের হবার সময় কোন কিছুর সাথে ধাক্কা লাগছে তার মানেই অমংগল? আমি অনেকবার দেখেছি. ওই দিন গুলা আমার আরো ভালো গেছে।
* যতই জরুরি কথা থাক না কেন পিছন থেকে ডাকা যাবে না, তাইলেই পথে এক্সিডেন্ট নিশ্চিত !
*সন্ধা বেলা ঘরে লাইট জালাইতে একটু দেরী হইলে অনেক মুরুব্বির মাথা গরম হয়ে যায়। পোলাপানরে অলক্ষী বইলা বকা দেয়।অথচ তারা নামায না পড়লেও তাদের মাথা এতোটা গরম হয় না।
যেহেতু কল্যাণ-অকল্যাণ আল্লাহর পক্ষ থেকেই আসে তাই জাগতিক কোন বস্তুকে লক্ষণ মনে না করে, প্রত্যেকের উচিত আল্লাহর উপরই ভরসা করা।
পাঁচ টাকার একটা সিঙ্গারা কিনলেও আমার যাচাই করি। অথচ আমাদের রিচুয়াল, কাস্টম যেটা আপনার ব্যক্তিত্বের সাথে যুক্ত , আপনার মূল্যবান সময় খরচ হবে,সবচেয়ে বড় কথা ধর্মীয় রিচুয়াল হলে এর উপর আপনার পরকালীন মুক্তির বিষয় জড়িত সেটা মানার বেলায় কনো প্রশ্ন/যাচাই বাছাই করি না।
আমরা বাংলাদেশী তথা ভারতীয় উপমহাদেশের অধিবাসী মুসলমানরা ভৌগোলিক কারণে বিজাতীয়দের কালচারে প্রভাবিত।ইসলাম অনেক স্মার্ট একটা ধর্ম, এখানে কুসঙ্কারের কোন ঠাই নাই।অগ্যতাবশ্যত প্রায়ই আমরা করে ফেলি শিরক এবং বিদআত এর মত মারাত্নক গুনাহ ।
অনেক স্মার্ট মেয়েকেও দেখি পশ্চিমাদের অনুকরনে বিয়ের পর জামাইয়ের বংশীয় নাম নিজের নামের সাথে জুড়ে দিতে। এটা বিদাত।ইসলাম ধর্মে মেয়েরা নিজের যোগ্যতায়ই সম্মানিত, এবং পরিপূর্ন।পুরুষ যেমন নিজ নাম এবং কখনো নিজ বংশীয় নামে পরিচিতি পায়, নারীর বেলাতেও তাই। বিয়ের আগে ও পরে তার পরিচয় একই থাকে।
রাসূল(সাঃ)বলেন, "যারা স্বজ্ঞানে নিজের পিতা ছাড়া অন্য কারো অধিনস্ত দাবি করে, তাদের জন্য জান্নাত বাতিল ঘোষনা করা হল।(আহামাদ,বূখারীও মুসলিম)
রাসূল(সাঃ) এর কন্যাদের বিয়ের আগে ও পরে সকল সময়ই 'ফাতমা বিনতে মুহাম্মদ', 'জয়নব বিনতে মুহাম্মদ' এভাবে ডাকা হতো।
রাশিফল, পড়তে মজা হতে পারে কিন্তু এটায় বিস্বাস করা মহাপাপ । প্রকিত মুমিন তার ভাগ্য নির্ধারনে একমাত্র আল্লাহ ছাড়া আর দৃশ্য অদৃশ্য কোন কিছুতে ভরসা করে না। এটা শিরক। রাসূল (সাঃ) বলেছেন,
”যে একজন ভবিষ্যতদ্রষ্টা গণকের নিকট গেল এবং সে যা বলে তা বিশ্বাস করল,মুহাম্মদের নিকট যা অবতীর্ণ হয়েছিল সে তা অবিশ্বাস করল।”
[আবু হুরায়রা কর্তৃক বর্নিত এবং আহামাদ ও আবু দাউদ ]
নিম্নলিখিত পরিচিত শব্দ না ?
“মদিনা মসজিদের ইমাম স্বপ্নে দেখেছেন, তারপর খুব ভাল ভাল কথা লেখা থাকবে। তারপর এই লেখাটি কপি করে ১৫ জনকে পাঠলে ১৫ দিনের মধ্যে সুখবর পাবেন আর না পাঠালে ১৫ বছরের জন্য কোন সুখবর পাবেন না। এক ব্যক্তি ১৫ জনকে সেন্ড করার ৩ দিন পরেই লটারি জিতেছে। আর আরেকজন অস্বীকার করায় তা একমাত্র ছেলের এক্সিডেন্টএ মারা গেছে।”
যখন ফেসবুক ছিল না তখনো এসব কথা লিখে লিফলেট বিলি করা হত,বলা হত এটা ফটোকপি করে না বিলালে দুর্ভাগ্য নিশ্চিত! আমাদের ইসলাম শিক্ষা স্যারকে একদিন এমন একটা কগজ দেখানো হলে উনি সবার সামনে এটা ছিড়ে ফেলেছিলেন।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-
“আমি তোমাদের যা কিছু করতে বলেছি সেই সব ব্যতীত আর কোন কিছুই তোমাদের জান্নাতের নিকটবর্তী করবে না, এবং যে সকল বিষয়ে সতর্ক করেছি সেগুলো ব্যতীত কোন কিছুই তোমাদের জাহান্নামের নিকটবর্তী করবে না”। (মুসনাদে আস শাফেয়ীই এবং অন্যান্য)
আমাদের জীবনে কল্যাণ কিংবা অকল্যাণ কিছু ভুয়া/বানোয়াট SMS আর চিঠি ফটোকপি করে বিলি করার সাথে বিন্দু মাত্র সম্পৃক্ত নয়। বরং এগুলোতে বিশ্বাস করলে ভাগ্য গণনায় বিশ্বাস স্থাপন করা হয়, যা স্পষ্টত কুফরি। SMS আর চিঠি অন্যকে ছড়িয়ে দেয়ার ফলে ভাগ্যের উন্নতি হবে না দিলে খারাপ হবে এরকম নিশ্চিত জ্ঞান সেই ব্যক্তিকে কে দিয়েছে? আল্লাহ তা’আলা স্পষ্ট করে বলে দিয়েছেন-
আর তাঁর কাছে রয়েছে গায়েবের চাবিসমূহ, তিনি ছাড়া এ বিষয়ে কেউ জানে না। (সূরা আনআমঃ ৫৯)
দেখি কতজন মুসলিম ভাই আছেন নিচের কালিমাটিতে লাইক দেন। লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ।ভাই, কালিমা অত্যন্ত দামী জিনিস। এটার স্থান যেখানে সেখানে না। কমেন্টে স্থাপন না করে আপনার অন্তরে যদি একটুও স্থাপন করতে পারেন, তাহলেই অনেক লাভবান হবেন।
স্বামী মারা যাওয়ার পরে তাদের সাদা বা হালকা রঙের কাপড় পরা বিদ’আত। কুরআনের কোথাও বা কোন সহীহ হাদিসে এর উল্লেখ নেই।
নানা দাদার মৃত্যুরর পর দেখেছি স্ত্রীর নাকফুল খোলানোর জন্য পড়শীরা ব্যস্ত হয়ে যান,আর বিয়ের পর যদি কেউ নাকফুল না পরে তাহলেও কতিপয় আত্নীয়দের চিন্তার শেষ নাই। কিন্তু ইসলামের কোনখানে এমন কথা বলা নাই। নাকফুল আপনার সাজের অংশ হতে পারে কিন্তু এর সাথে বিয়ের চিহ্নের কোন সম্পর্ক নাই। ইসলামে নারী পুরুষ কারো জন্যই বিয়ের চিহ্নের কোন উল্লেখ নেই।
আধুনিক মায়েরা এখন আর বাচ্চাকে কালো টিপ পরাতে চান না। আপনাদের জন্য সুখবর।বাচ্চাকে সাজানোর উদ্দেশ্য ছাড়া, মন্দ চোখ থেকে তাদের সন্তানদের ' সুরক্ষিত ' রাখতে কপালে কালো বিন্দু পরানো এবং বিশ্বাস করা যে এটা তার শিশুকে কুনজর থেকে রক্ষা করবে(একটা কালো টিপ এর এতই ক্ষমতা !!!) এটা শিরক এর সমতুল্য।এর পরিবর্তে সূরা নাস , সূরা ইখলাছ এবং ফাতিহা সহ সূরা আল ফালাক তেলাওয়াত করতে হবে। আলাহ আমাদের মায়েদের ক্ষমা করুন।
কুরআনের প্রথম কথাটাই হচ্ছে “পড়(জ্ঞান আহরন কর)”। যেখানে বলা হয়েছে এক মূহূর্ত আল্লাহর নিয়ামত নিয়ে চিন্তা করা সত্তর বছরের নফল ইবাদতের চাইতেও উত্তম সেই চিন্তার দরজাটাই আমরা বন্ধ করে রাখছি?
ফেসবুকে কোন ইসলামের বানী দেখে খটকা লাগ্লে সেটা Google করে মিলিয়ে দেখুন, এর শানে-নজুল পড়ে বুঝে নিন
তার পর মানুন।
আরেক দল গোরা পাবলিক আছে এরা কিছুতেই কিছু মানবে না ; আমার আম্মা/আব্বায় কইছে এটাই ঠিক।আমার দাদা দাদী সারাজীবন এই কাজ কইরা আসছে আমাকেও করতে হবে, আরে আপনি বড় হইছেন কই তাদের ভূল দিবেন তা না নিজেই অন্ধকারে পরে আছেন।
কোরআন পড়ুন ইসলাম সম্পর্কে জানুন। আলোচনা, গবেষনা বই পড়ার আগে সহীহ কুরান, হাদীসের বই পড়ুন। শুধু পড়ার মাধ্যমেই আপনি জানতে পাড়বেন। কাউকে ফলো করে কিছুই জানবেন না। পীর ফকির সমাবেশ এ আবালমি কথা বার্তা বইলা নিজেদের দুনিয়া গোছাবে আর সাথে আপনার আখেরাতের ফিউজ কাইট্টা রাইখা দিবে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


