
পৃথিবীতে কল্যাণকর সকল বস্তুতেই পুরুষের সাথে সাথে নারীর সমান অংশি আছে। আপনি বিষয়টা মানতে অস্বীকৃতি জানাতে পারেন। তবে মানুন আর না-ই মানুন এটাই অকাট্য সত্য। এই চিরাচরিত বিষয়কে খন্ডন করার সক্ষমতা পৃথিবীর কোন পুরুষতান্ত্রিক সমাজের নেই। আমাদের দেশের সমাজের পর্দা ব্যবস্থার অবস্থা বিচক্ষণের মাধ্যমে আমাদের নারী সমাজকে তিন শ্রেণীতে বিভক্ত করতে পারি।
১। অতিশয় পর্দানশীন
২। মধ্যম স্তর অবলম্বনকারী পর্দানশীন
৩। পর্দাহীন
নিম্নে তিন প্রকারের সংক্ষেপ পরিচিত বিদ্যমান:-
১. এমন প্রকার স্তন্যজীবী প্রাণী যারা ধর্মীয় বিশ্বাসে প্রবল ভাবে আকর্ষিত। তাকওয়ার সর্ব্বোচ্য স্তর অবলম্বনকারীনি। ধর্মগুরুদের গৃহের শোভন। দুনিয়াবি কর্মকান্ডের প্রতি অনীহা পোষণকরে। যে কারণে জাতি, সমাজ, রাষ্ট্রের সকল উন্নতিকল্প থেকে নিজেদেরকে বিরত রেখে গৃহকোণে বন্দি রাখেন।
২. এরা ধর্মকে মনে প্রাণে বিশ্বাস করে এবং তা জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে পূর্ণমাত্রায় অনুসরণের চেষ্টা করে। অবস্থার প্রেক্ষিতে তাকওয়া অবলম্বনপূর্বক দেশ, সমাজ, জাতির উন্নয়নে পুরুষদের সাথে একত্রে কাধে কাধ মিলিয়ে অংশগ্রহণ করে। এবং তারা এটাও বিশ্বাস করে যে ইসলাম সর্বযুগের সর্বসম্মত আধুনিক ও বিজ্ঞানময় একটি ধর্ম। গৃহকোণে অযথা আবদ্ধ কভূ থাকে না।
৩. এই স্তরের বর্ণনা প্রদান একেবারেই বাহুল্য। আধুনিকতার সংজ্ঞা সম্পর্কে একেবারেই অবগত নয়। পশ্চিমা সভ্যতা অথবা হিন্দুস্তানি সভ্যতার মানসে এদের উৎপত্তি। সম্প্রতি উদ্ভাবিত এই সম্পদায়ের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে কারো কিছু জানা নেই। সেহেতু জাতীয় উন্নয়নে এদের ভুমিকার কথা এখানেই শেষ হয়ে যায়। সহজ ভাষায় বিজাতীয় সভ্যতার কৃতদাসী।
পৃথিবীর প্রতিটি উন্নত জাতি আজকে তাদের অর্জিত উন্নতি নিয়ে গর্ব করতে পারে এবং অন্য জাতির উপর ধ্বংসযজ্ঞ চালাতে পারে এই কারণে যে তারা তাদের জাতির উন্নতির পিছনে মেয়েদেরকে পুরুষের সাথে সমানভাবে কাজে লাগিয়েছে। পশ্চিমাদেরকে আমরা যতই বস্তুবাদী, জড়বাদী, ভোগবাদী সমাজ হিসেবে আখ্যা দিই না কেন আর যতই বলি না কেন যে তারা তাদের জাতির মেয়েদেরকে ঘর থেকে বের করে এনে উন্মুক্ততারর সাথে ভোগের পণ্য হিসেবে ব্যবহার করেছে, কিন্তু এটা লক্ষ করতে ভুলে যায় যে তারা তাদেরকে ভোগের পাশাপাশি কাজে লাগিয়েও ষোল আনাই কার্য হাসিল করেছে।
তার বিপরীতে মুসলিম সমাজে আমরা আমাদের নারী সমাজকে জাতীয় উন্নয়নে কতটুকু সুযোগ দিয়েছি সেটি প্রত্যেক বিবেকবান মানুষের নিকট প্রশ্নবোধক। আমাদের দেশে কিছু অসাধু ধর্ম ব্যবসায়ী আছে। যারা ধর্মের বিষয়ে বিশেষ ভাবে অজ্ঞ। প্রাণের ধর্ম ইসলামের অপব্যাখ্যা প্রদানের মাধ্যমে মানুষের সামনে ইসলামকে একটি প্রাচীন, কুসংস্কারে আচ্ছন্ন, গোড়ামিতে ভরপুর একটি অচল ধর্ম হিসেবে প্রমাণে সক্ষম হয়েছেন। এবং তার বেড়াজালে নারী শ্রেণীর এক বৃহৎ অংশকে আবদ্ধ করে রেখে এ সকল কিছু থেকে দূরে সরিয়ে রেখেছেন।
আর বাকি দুই শ্রেণীর মধ্যে এক শ্রেণী শরীয়তের বিধিবিধান পালনের মধ্য দিয়ে তাদের আমরণ সংগ্রাম অব্যাহত রেখেছেন আর সর্বশেষ শ্রেণী যদিও কিছু করে থাকেন তা একান্তই তাদের মনিবের খুশি করতে। আর মুসলিম জাতীর এই সকল বিভেদ ও নির্বুদ্ধিতার পরিচয় দেওয়ার পিছনে পশ্চিমাদের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সংস্কৃতিক ষড়যন্ত্র বিদ্যমান। তারা আমাদের এতটাই কাবু করতে সক্ষম হয়েছে যে মাথা তুলে দাড়াবার শক্তিটুকু পর্যন্ত অবশিষ্ট নেই।
তাদের নারীরা যখন ন্যাশনাল সিকিউরিটি ক্লিয়ারেন্স( জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার হয়ে কাজ করার অনুমতিপত্র) হাতে নিয়ে মুসলমানদের বিনাশ সাধনে পুরুষ এজেন্টদের পাশাপাশি সক্রিয় হয়ে কাজ করে অথবা ধর্মপ্রচারক হিসেবে নিজেদেরকে উৎসর্গ করে। এমনকি ধর্মের স্বার্থে নিজের সতীত্বটুকু বিলিয়ে দিতেও পিছপা হয় না।
আর আমাদের নারীদের কেউ হয়ত তখন বাহিরে বের হওয়ার সুযোগটুকু ও পায় না অথবা কেউ শিক্ষাক্ষেত্রে হোক অথবা কর্মক্ষেত্রে নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে হিনমন্যতায় ভোগে। আর শেষের শ্রেণী হয়ত যৌবনের তাড়নায় কোন নরাধমের কাছে নিজের সতীত্বটুকু উৎসর্গ করে।
যারা এটাই বিশ্বাস করতে চায় না যে ইসলাম নারীদেরকে রাজনীতি, শিক্ষা, সংস্কৃতি সকল কিছুতেই অংশগ্রহণের উন্মুক্ত সুযোগ দিয়েছে অথচ তাদের মুখ দিয়েই আবার উচ্চারিত হয় হযরত আয়েশা, সুমাইয়া (রা.)-এর যুদ্ধক্ষেত্রের বীরত্বগাঁথা। তখন এদের কীর্তিকলাপ দেখে বিদ্রুপের কোৎ কোৎ হাসি ছাড়া আর কিছুই প্রকাশ পায় না।
একক ভাবে হয়ত ঘুণে ধরা এ সমাজ, জাতির পরিবর্তন আনায়ন সম্ভব নয়। তবে সকলের সম্মিলিত ঐকান্তিক প্রচেষ্টা দ্বারা সম্ভবত তৈরি হতে পারে একটি ধর্মীয় পরিবেশ। যেখানে শরীয়তের হুকুম আহকাম রক্ষা করে নারীরা সকলেই স্বতঃস্ফূর্তভাবে জাতীয় অগ্রগতি সাধনে পুরুষের সমান ভুমিকা রাখবে। এবং মুসলিম জাতিকে নিয়ে যাবে এক অনন্য উচ্চতায়।
...... মহা কবি ইকবালের ভাষায়:-
→ পৃথিবীর তসবীরকে রঙিন করেছে নারী,
→জীবন চিত্তের উঞ্চতা তারই সেতারের ধ্বনি।
ও সেই সকল ধর্ম ব্যবসায়ীদের শত ধিক জানিয়ে আসুন কবি নজরুলের সাথে কন্ঠ মিলিয়ে বলি:-
→ হায়রে ভজনালয়,
→ তোমার মিনারে চড়িয়া ভন্ড গাহে স্বার্থের জয়।
একটু বাড়িয়ে একত্রে:-
→ তোমাদের লয় হবে নিশ্চয়।
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ সন্ধ্যা ৬:১৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।





