somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ঝালমুড়ি (পর্ব -৩)

৩০ শে ডিসেম্বর, ২০১৫ সকাল ১০:৪৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

(ঘটনা -১)
- এই শুনসো ?
- কি ?
- তুমিতো আমাকে নিয়ে কখনো সেলফি তুললানা ।
- কি করব বল, এই সেলফি তোলাটাই তো শিখতে পারলামনা !
- সেলফি তোলা কি শিখতে হয়, মোবাইল হাতে নিলেই তোলা যায়। আমার বান্ধবীরা তাদের স্বামীদের নিয়ে সারাদিনই সেলফি তুলে আপলোড করে। ওরাতো তোমার লিস্টেও আছে, ফেসবুক খুললেইত দেখা যায়....
- কথা সত্যি দেখা যায়। এই সেলফি দেখতে দেখতে তোমার বান্ধবীদের খাবার ছবি, গল্পের ছবি, রান্নার ছবি, ঘুমানোর ছবি, গোছলের ছবি, রোমান্টিক ছবি, মোটামুটি সব ছবিই দেখা হয়ে গেছে। তাদের সাথে সংসার না করলেও তারা সকাল থেকে রাত পর্যন্ত এমনকি রাতেও মাঝে মাঝে কি করে সব কিছু জানা হয়ে গেছে !
- তোমার শুধু বাকা বাকা কথা ! দেখনা ওরা যখন রোমান্টিক ভাবে সেলফি তুলে আপলোড দেয় তখন ওদের দেখতে কি সুখী মনে হয় !
- তুমি কি আমারে নিয়া বাস্তব জীবনে অসুখে আছো ?
- না, তো ! আমি অসুখী থাকব কেন, আল্লাহত আমারে ভালই রাখসে ।
- বাস্তবে যদি সুখেই থাক তাইলে ভার্চুয়ালি সেটা ঢোল পিটাইয়া প্রচার করার দরকার কি ?
- এখানে প্রচারের কথা আসে কেন ? এটা হচ্ছে নিজের আনন্দময় মুহুর্ত্ব অন্যের সাথে শেয়ার করা।
- সেই শেয়ার করার মানে কি নিজেদের একান্ত বা অন্তরঙ্গ মুহুর্ত্বের ছবি মানুষকে দেখানো ?
- একটা সেলফি তুলার কথা বলসি তাই বলে এত গুলি কথা শুনাইলা ? লাগবেনা আমার ছবি তুলা !
- ঠিক আছে, রাগ করোনা সোনা ! আমরা এখুনি সেলফি তুলব, তবে সেটা নিজেদের জন্য, মানুষকে দেখানোর জন্য না। দেখি একটু ক্যামেরার দিকে তাকাওতো.......




(ঘটনা -২)
সন্ধ্যায় বাসায় ফিরে,
- শোন কাল থেকে আমি ডায়েট করবো, খবরদার আমারে আর কখনো খাবার নিয়ে কোন কথা বলবা না।
- তোমারে খাবারের কথা কে বলতে যায়, তুমিইতো মাঝ রাত্রে কিছু বানাইয়া দেয়ার জন্য ঘ্যাঙ ঘ্যাঙ করো।
- আগে যা ঘটসে সেগুলি এখন অতীত !
- এগুলি কি আমারে বল, না নিজেরে শুনাইতেসো...
- নিজেরে শুনাব কেন, কাল থেকে যা ঘটবে সেটাই বললাম !
- তো, কাল থেকে কি ঘটবে ?
- কাল থেকে আমি খাবারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করবো। আমি হব গেরিলা যোদ্ধা !
- গেরিলারা তো অতর্কিতে আক্রমন করে, তুমিও কি খাবারের উপর ঝটিকা আক্রমন চালাবা ?
- এই সমস্ত আজে বাজে কথা শুনাইয়া লাভ নাই, কাল থেকে আমি হব এক বদলে যাওয়া তানভীর।
- তোমার এই কথারে সত্যি ধরে নিলে, এই জীবনে কতবার বদলাইসো, গুনে শেষ করতে পারবা ?
- দেখ এত কথা ভাল্লাগেনা, কাল থেকে শসা ছাড়া আমি আর কিছু মুখে দিবনা এটাই ফাইনাল।
- আচ্ছা দেখা যাবে কয়দিন এই ডায়েট চলে, আর কে আগে খাবারের কথা বলে।
- ঠিক আছে ! তবে আমার মনে হয় এই লম্বা ডায়েটিঙে যাওয়ার আগে দিনটাকে একটু স্মরণীয় করে রাখা উচিৎ, কি বল?
- এতক্ষনে লাইনে আসছ, মনের মধ্যে কি আছে বইলা ফেলো...
- না মানে আজকে সারাদিন যেই রকম বৃষ্টি হল, একটু ভুনা খিচুড়ি খাইতে পারলে মনের সুখে ডায়েটিঙে যাইতে পারতাম আর কি ! মনে আর কোন আফসোস থাকতো না। সাথে একটু হাস ভুনা, খাসির মাংস আর ডিম ভাজা। ডায়েটেই যেহেতু যাইতেসি একটু ভাল মন্দ খাইয়া যাওয়াটাই ভালো কি বল ?
- না আমি আর কি বলমু, তুমি ডায়েটে গিয়ে আমাদের সবাইরে উদ্ধার করবা, আজকে একটু ভালো মন্দ না খাওয়াইলে কি চলে !
- ইয়ে, তাইলে একটা কথা, সাথে একটু বেগুন ভাজা কইরো, কল্পনা করো শুভ্র সাদা প্লেটের উপর উঁচু করে রাখা ঝরঝরে হলুদ খিচুড়ি, পাশে রাখা গারো সবুজ রঙের কাঁচামরিচ, অর্ধেক করে কাটা দেশি পেয়াজ, সাথে রসুনের ঝাল আর আমের মিষ্টি আচার। এর চেয়ে সুন্দর কোন ছবি কি পৃথিবীতে আর একটিও আছে ?
- ইশ ! আর কিছু ?
- আর আবার কি তবে খিচুড়ি প্লেটে বাড়ার পর একটু ঘি ছিটাইয়া দিলে... এক দিনই তো !!!



(ঘটনা -৩)
- মোজা খুলে ঠিক মত রাখো।
- রাখসি..
- আমিতো দেখতেসি ফ্লোরে পরে আসে
- এটা আমার দোষ না, মোজার দোষ, আমি ছুড়ে মারসি ঠিকই, মোজা গিয়ে বাস্কেটে পড়ে নাই !

- এত গুলি গল্পের বই বিছানার উপর রাখস কেন ? যেটা পড়বা সেটা রেখে, বাকি গুলি তুলে রাখো ।
- তুমি রেখে আসো, আমি কঠিন জায়গায় আসি এখন উঠতে পারবনা.....

- টুথ পেস্টের মুখ লাগানোর কথা প্রতিদিন বলতে হয় কেন ?
- আমিতো বাথরুমে গিয়ে শুধু দাত মজিনা, আমাকে চিন্তা করতে হয় তাই ভুল হওয়াটা স্বাভাবিক।
- ওরে আমার চিন্তাবিদ, এত চিন্তা করে কি করলা ?
- আজ সারাদিন কোন বিষয় নিয়া ভাবমু সেটা বের করলাম......

- গোসল করার পর তোয়ালেটা বিছানার উপর ফেলো কেন, বারান্দায় মেলে দিলে কি হয় ?
- শক্তির অপচয় হয় !

- পানিটাও ঠিক মত ঢালতে পারোনা ? পরে কিভাবে ?
- আম জনতার পরে না, ক্রিয়েটিভ লোকজনদের পরে।
- এত বড় ক্রিয়েটিভ যে পানি ঢাইলা খাইতে পারেনা !
-ক্রিয়েটিভ দেইখাই পানি ঢাইলা খাইতে পারিনা !

- মশারিতো কোনো দিন টানাবানা, একটু গুজে দিতেও কি কষ্ট লাগে ?
- একজন সৃষ্টিশীল লোকেরে তুমি মশারি টানাইতে বললা !
- চুপ থাক, তোমার কথা আমার অসয্য লাগে।
- যার কথা শুনতে অসয্য লাগে তারে কাজ করার হুকুম কর কোন মুখে ?

- গত চার দিন ধরে বেকিং পাউডার আনার কথা বলতেসি। কানে তুলনা, কালকে যেন আর বলতে না হয়।
- শোনো বাংলাদেশের বহুত মানুষ আছে যারা এক বেলা না খাইয়া থাকে, আর তুমি বেকিং পাউডার, বেকিং পাউডার করতে করতে মইরা যাইতেস.......
- রাত দুপুরে যখন ফ্রিজ খুইলা কেক খাও তখন এই নীতি কথা গুলি স্বরণ কইর, দেশের কামে লাগব.....

এগুলি আমাদের দাম্পত্য জীবনের প্রতিদিনের চিত্র। এরকম ছোটো খাটো ঝগড়া মনে হয় আমাদের প্রত্যেকের জীবনেই প্রতিনিয়ত ঘটে। এসব দেখে কি বিবাহিত জীবনটাকে খুব এক্ঘিয়েমি আর বিরক্তিকর মনে হয় ? তাহলে অন্য রূপটাও দেখুন.....
-এই একটু উঠো তো, উঠোনা !
- ডিস্টার্ব কইরোনাতো, মাত্র চোখটা একটু লাগসে, ঘুমাইতে দাও।
- একটু উঠো প্লিজ....
- এই ১ টা বাজে কি শুরু করলা ? চোখ মেলে দেখি, প্লেটের মধ্যে ছোটো একটা কেকের উপর মোমবাতি জালিয়ে বউ দাড়িয়ে আছে।
- হেপি বার্থ ডে..... ডাইনিংএ আসো, মা ডাকতেসে....
খাবার ঘরে গিয়ে দেখি আমার মা আর বউ মিলে দুনিয়ার খাবার রান্না করে এই মাঝ রাতে বসে আছে।
- খুশিতে চোখটা ভিজে উঠে, চিত্কার করে বলতে ইচ্ছা করে, "জীবন এত সুন্দর কেন ?

সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে মে, ২০১৬ বিকাল ৫:২৮
৪টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

১ কোটি চাকরি: শর্ত প্রযোজ্য, মেধার প্রবেশ নিষেধ !

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৩:২৫


ভোটের আগে বলা হয়েছিল, ক্ষমতায় এলে প্রথম আঠারো মাসেই এক কোটি মানুষকে চাকরি দেওয়া হবে। কথাটা শুনে দেশের বেকার তরুণেরা তো মহাখুশি, কেউ ভাবল সরকারি চাকরি হবে, কেউ ভাবল... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিশ্বে ঋণ খেলাপিতে বাংলাদেশ ১ নম্বর এবং দেশে ঋণ খেলাপিতে শীর্ষ ২০ জনের ১৯ জনই ওনাদের!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:০৫



শাস্ত্রীয় কথায় না গিয়ে সোজা কথায় কেউ ঋণ নিয়ে তা পরিশোধ না করলে তাকে ঋণ খেলাপি বলা হয়। আপনি জানলে অবাক হবেন যে শীর্ষ ২০ ঋণ খেলাপির ১৯ জনই... ...বাকিটুকু পড়ুন

তৌহিদি জনতা কি ডার্ক জাস্টিসকে ফলো করছেন?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:১০



ছোটবেলায় দেখা একটি টিভি সিরিয়াল তুমুল জনপ্রিয় হয়েছিলো। একজন বিচারক যিনি দিনের বেলায় কোর্ট রুমে অপরাধের বিচার করতেন, আর, রাতেরবেলা আইনের ফাঁক -ফোকর গলে বেরিয়ে যাওয়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

একদিন আমরা ক’জনা মিলে …….

লিখেছেন আহমেদ জী এস, ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:১২



ব্লগের একাধারে নম্র ও প্রাজ্ঞ এবং গবেষক সহ-ব্লগার শ্রদ্ধেয় ডঃ এম এ আলীর “ব্লগের সুদিন ফিরিয়ে আনতে ব্লগ টিমের প্রতি বিনীত আবেদন”... ...বাকিটুকু পড়ুন

জুলাই আগস্ট সেপ্টেম্বর কোন মাসেই নয় দুর্নীতি সেদিনই বন্ধ হবে-----

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:৫৪



জুলাই আগস্ট সেপ্টেম্বর কোন মাসেই নয় ..।

দুর্নীতি সেদিনই বন্ধ হবে
যেদিন মানুষ নিজের কাছে
মিথ্যে বলা বন্ধ করবে
অন্যায়ের সঙ্গে আপস না করে
সত্যের পথে দৃঢ় পায়ে চলবে।

যেদিন বিবেক জাগবে মনে
লোভ হারাবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×