somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বিসমিল্লাতেই গলদ X( X( X( X(

১২ ই নভেম্বর, ২০১০ সকাল ৯:২৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


রাতের সেই ভিড়ও নেই, আলোর রোশনাইও নেই। সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজার সামনে নীরব দাঁড়িয়ে থাকা বিশ্বকাপের মাসকটটাকে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখছিল কয়েকজন পথচারী। এক ভদ্রলোক খুবই আগ্রহ নিয়ে দেখার চেষ্টা করছিলেন মাসকটের বুকে লাগানো ‘কাউন্টডাউন’ ঘড়িটা। কিন্তু ঘড়িতে সময় দেখতে না পেয়ে শেষ পর্যন্ত পাশের জনকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘ভাই, আমার চোখে সমস্যা নাকি!’
না, সমস্যা কারও চোখে নয়। সমস্যা ব্যবস্থাপনায়। কাল রাতে বেশ অব্যবস্থাপনার মধ্যে শুরু হয়েছে বিশ্বকাপের ক্ষণগণনা। ঢাকায় তিনটি জায়গায় মাসকটের বুকে লাগানো ঘড়িতে ১০০ দিন ধরে এই ক্ষণগণনা চলার কথা। কিন্তু সকাল হতে না-হতেই আসল ঘড়ি, মানে সংসদ ভবনের সামনের ঘড়িটাই অচল!
সমস্যা শুধু সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজার ঘড়িতে নয়, বাকি দুই জায়গায়ও আছে। প্রতিটি মাসকটের নিচে দুটি তারিখ লিখে বিশ্বকাপের শুরু ও শেষের দিনটা চিহ্নিত করা হয়েছে। সংসদ ভবনের সামনের মাসকটটি ছাড়া বাকি দুই জায়গার তিনটি মাসকটেই ভুল। সেখানে বিশ্বকাপের সমাপনী দিনের তারিখ লেখা—২ মার্চ; মানে প্রকৃত তারিখের এক মাস আগেই বিশ্বকাপ শেষ!
এই ভুলটা ঢাকার জন্য বিজয় সরণিতে একটি ও সার্ক ফোয়ারার দুটি মাসকটের পাদদেশে কাগজ সেঁটে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সার্ক ফোয়ারার সাইনবোর্ডের কাগজ উঠে গেছে।
শুধু মাসকট নিয়ে কথা বলায় মনে হচ্ছে, কাউন্টডাউন শুরু করায় যাবতীয় অব্যবস্থাপনা হয়েছে এখানে। আসলে অনুষ্ঠানটি জুড়েই ছিল অব্যবস্থাপনা। অনুষ্ঠানে জাতীয় ক্রিকেটাররা কে আসছেন, কোথায় বসছেন, তাঁরা আদৌ বসার সুযোগ পাচ্ছেন কি না—এসব দেখার মতো আগ্রহ কর্মকর্তাদের ছিল না।
এসব দেখা তো অনেক পরের ব্যাপার। স্থানীয় আয়োজক কমিটি (এলওসি) ক্রিকেটারদের ব্যাপারে এতটাই উদাসীন ছিল যে জাতীয় দলের দুই ক্রিকেটারকে গেটে আটকে দেওয়া হলেও কারও কোনো ভ্রূক্ষেপ ছিল না।
ক্রিকেটারদের কথা কী বলবেন? রাত ১১টার কিছু পর অনুষ্ঠানে পৌঁছে গিয়েছিলেন জেমি সিডন্স ও অন্য কোচরা। কিন্তু তাঁদের সঙ্গে সামান্য সৌজন্যমূলক কথা বলা বা ডেকে নিয়ে একটু বসানোর মতো লোকও পাওয়া যায়নি।
এখানে অবশ্য আয়োজকেরা আপত্তি করতে পারেন। তাঁরা বলতে পারেন, আমরা দেশের সাবেক-বর্তমান ক্রিকেটারদের খেয়াল রাখলাম না, আর তো কোচ! সাবেক ক্রিকেটারদের তো আমন্ত্রণ-প্রক্রিয়াটাই পছন্দ হয়নি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সাবেক অধিনায়ক বললেন, ‘আগের দিন রাত নয়টা বা সাড়ে নয়টার দিকে ফোন করা হয়েছে। আমাদের উপস্থিতি আন্তরিকভাবে চাইলে একটু আগে থেকে বলা যেত।’
আরেক সাবেক অধিনায়ক একটু উষ্মাই প্রকাশ করলেন, ‘ক্রিকেটাররা কে! সাবেক বলুন আর বর্তমান, কোনো ক্রিকেটারের মূল্য এই আয়োজকদের কাছে আছে বলে মনে হলো না।’
ব্যক্তিগত কারণে অনুষ্ঠানে যেতে পারেননি রকিবুল হাসান। কিন্তু টেলিভিশনে অনুষ্ঠানটা দেখেই বেশ কষ্ট পেয়েছেন তিনি, ‘আমার সবচেয়ে খারাপ লেগেছে মঞ্চে নাঈমুর রহমানকে না দেখে। দিনটা ১০ নভেম্বর ছিল, বাংলাদেশের টেস্ট অভিষেকের দিন। এই দিন সৌরভের সঙ্গে সে প্রথম টেস্টের টস করতে নেমেছিল। সেই দিনেই বিশ্বকাপের কাউন্টডাউন শুরু হলো। সৌরভের সঙ্গে মঞ্চে নাঈমুরকে হাজির করতে পারলে কী অসাধারণ একটা ব্যাপার হতো! সাবেক ক্রিকেটারদের আমন্ত্রণ করায় বিলম্ব, তাঁদের আপ্যায়নে ত্রুটি সব আমি ভুলে যেতাম ওকে মঞ্চে দেখলে। কিন্তু ওকে আনার বিশেষ কোনো উদ্যোগ কি নেওয়া হয়েছিল?’
স্থানীয় আয়োজক কমিটির এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশে অনিচ্ছা জানিয়ে বলেছেন, ‘আসলে আমন্ত্রিতরা সবাই ব্যক্তিগত অতিথি সঙ্গে নিয়ে আসায় অনুষ্ঠানটা এলোমেলো হয়ে গেছে।’
এই একটু একটু অব্যবস্থাপনা, একটু একটু ত্রুটি; এর সবকিছুই হয়তো সমাধানযোগ্য। কিন্তু এসব যাঁরা করছেন, তাঁরা কি বুঝতে পারছেন, বিশ্বকে কী বার্তা এতে দেওয়া হলো?

সূত্র : প্রথম আলো
৮টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কবিতাঃ পাখির জগত

লিখেছেন ইসিয়াক, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:০০



টোনাপাখি লেজ নাচিয়ে গাইছে মধুর গান।
গান শুনে টুনিপাখি আহ্লাদে আটখান।

টোনা যখন উড়ে ঘুরে অন্য ডালে বসে।
টুনি এসে ঠিক তখনই বসে তারই পাশে।

বুলবুলিদের পাড়ায় আজ দারুণ শোরগোল।
নানা শব্দের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মোহভঙ্গ!

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:৪৮



পদ্মা সেতু নিয়ে কত অপবাদই না দেয়া হয়েছিলো! বলা হয়েছিলো- বাংলাদেশ কখনো নিজস্ব অর্থায়নে এত বড় প্রকল্প করতে পারবে না। দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিশ্বব্যাংক সরে দাঁড়ায়। অথচ শেষ পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

একাত্তর বাঙালির অভিজ্ঞতা এবং গর্জিয়াস প্রকাশনা উৎসব

লিখেছেন রোকসানা লেইস, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৯:১৭


পহেলা মে বিকেলে একটি আমন্ত্রণ ছিল। অনুষ্ঠানটি ছিল বই প্রকাশনার। এই আয়োজনটি শুরু হয়েছিল বলা যায় এক বছর আগে। যখন একটি লেখা দেওয়ার আমন্ত্রণ এসেছিল। লেখাটি ছিল বিদেশের জীবনযাপনের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৯ ই মে, ২০২৬ দুপুর ১:৪৪



কথা হচ্ছিলো একজন আর্ট সমঝদার মানুষের সাথে। তিনি আক্ষেপ করে বলছিলেন, জীবিতবস্থায় আমাদের দেশে আর্টিস্টদের দাম দেওয়া হয় না। আমাদের দেশের নামকরা অনেক চিত্র শিল্পী ছিলেন, যারা জীবিতবস্থায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

মানুষ মারা যাবার পর আবার পৃথিবীতে আসবে?

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১০



আমার মনে হয়, আমরা শেষ জামানায় পৌছে গেছি।
পুরো পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে খুব শ্রীঘই। চারিদিকে অনাচার হচ্ছে। মানুষের শরম লজ্জা নাই হয়ে গেছে। পতিতারা সামনে এসে, সে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×