আমি যখন খুব ছোটো ছিলাম খুব অদ্ভুত কিছু চিন্তা আমার মাথায় ঘুরপাক খেত। যখন আমার বয়স প্রায় ছয় বছর তখন নিজের অস্তত্ব নিয়ে ভাবতে বসেছিলাম ( যদিও তখন "অস্তিত্ব" নামক কোনো শব্দ যে আছে তাই জানা ছিল না
আর একটু বড় হবার পর প্রায় সময়ই নিজেকে প্রশ্ন করতাম " আমি কে এবং কেন?" জিজ্ঞেস করতেই এবার উত্তরটা পেলাম; খুব সহজেই, কিছুটা এভাবে- আমরা মানুষ, তার চেয়ে বড় কথা আমরা মুসলমান এবং আমদের জীবনের লক্ষ্য আল্লাহর ইবাদতের মাধ্যমে বেহেস্তে যাওয়া। উত্তরটা মেনে নেওয়া আমার জন্য খুবই সহজ ছিল। আর এরপর থেকে প্রশ্নের ধরণ বদলাতে থাকল। আমি কেন আল্লাহকে খোদা মানব? আল্লাহর অস্তিত্বটা আসলে কি? এমনি হাজারো প্রশ্ন যার উত্তর খুজে পেতাম কুরান ও হাদিসে। চলত নিজের সাথে তর্ক-বিতর্ক।
এভাবে বছরের পর বছর চলে গেল। হাজারো চিন্তা আর বেশ কিছু মিঠা- তিতা অভিজ্ঞতা নিয়ে স্কুল-কলেজ পার করে ভার্সিটিতে উঠলাম। এত শত বাস্তবতা আমাকে শিখাতে পারে নি যে আমি বড় হয়েছি। আর তাই অন্যদের মত জীবন নিয়ে মত্ত না হয়ে আমি আগের মতই চিন্তা করতাম। সেই ছয় বছর বয়সের প্রশ্নটা আবার মাথা চাড়া দিয়ে উঠল। "আমি আর তুমি এক না কেন? আমি আমার জায়গায় দাড়িয়ে তোমাকে বুঝতে পারব না কেন?"
আমি একদিন এর উত্তর পেলাম।আসলে আমি যেই প্রশ্নে আটকে আছি তা দুটো বিষয়ের দিকে ইঙ্গিত করে: টেলিপ্যাথি ও জীবের সামষ্টিকতা। আমিই প্রথম নই যে এ ধরনের প্রশ্নের উত্তর খুজছিলাম। লেখক হুমায়ন আহমেদ ও এ নিয়ে গবেষণা করেছেন। তার প্রচুর লেখায় তার প্রমাণ পাওয়া যায়। জীবের সামষ্টিকতার ধারণা আমি মূলত সেখান থেকেই পেয়েছি। হুমায়ন আহমেদ স্যারের প্যারানরমাল উপন্যাস "পোকা" এ জীবের সামষ্টিক বুদ্ধি সম্পর্কে বলা হয়েছে। উপন্যাসটি ছিল নিম্নস্তরের প্রাণ পোকাদের বুদ্ধিবৃত্তি নিয়ে। লেখক সেখানে বলেছিলেন নিম্নস্তরের প্রাণীদের পৃথক কোনো জ্ঞান থাকে না, থাকে সামষ্টিক জ্ঞান। অর্থাৎ একটি পোকা আলাদাভাবে কোনো কিছুই জানতে পারে না, তারা যে তথ্য জানতে পারে তা সকলেই জেনে থাকে। একজনের সিদ্ধান্ত সকলেই নিয়ে থাকে। আর টেলিপ্যাথিটাও একটি প্যারাসাইকোলজিকাল তত্ত্ব যা দুই বা ততোধিক মানুষের মস্তিষ্কের মাধ্যমে যোগাযোগ করার ক্ষমতার কথা বলে।
এই দুটি তত্ত্বই বিজ্ঞান অস্বীকার করে থাকে। তবে বেশ কিছু ঘটনা এই তত্ত্বের সত্যতা প্রমাণ করে বলে দাবি করা হ্য়। এবং বিজ্ঞানও মা ও শিশুর মধ্যে টেলিপ্যাথির ব্যপারটা স্বীকার করে থাকে। যদিও এই ঘটনাগুলোর বৈজ্ঞানিক কোনো ভিত্তি নেই তবুও বিজ্ঞানের অগ্রগতির মাধ্যমে ভবিষ্যতে এমন কিছু সম্ভব হওয়াটা অসম্ভব কিছু নয়।

সর্বশেষ এডিট : ০২ রা মার্চ, ২০১৯ দুপুর ১:৪৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




