
“চিৎকার দিয়ে নামতেছি- আগুন লাগছে সাহায্য করেন। বাঁচান বাঁচান। গায়ে তো আগুন। তিন আর চার নম্বর ফ্লোর থেকে দরজা খুলছে। আমাদের দেখে দরজা বন্ধ করে দিছে। স্পষ্ট মনে আছে। সাত তলা থেকে নামছি। তিন তলার লোকেরা একটা তোষক দিয়ে যদি জড়ায়া ধরতো। একটা তোষক না হয় পুড়তো। আমার বাচ্চাগুলো তো বাঁচতো” ।
-“আমি আর শার্লিনের আব্বু নামছি। আগুন জ্বলতেছে গায়ে। চিৎকার দিয়ে নামতেছি- আগুন লাগছে সাহায্য করেন। বাঁচান বাঁচান। তিন আর চার নম্বর ফ্লোর থেকে দরজা খুলছে। আমাদের দেখে দরজা বন্ধ করে দিছে। একটা তোষক দিয়ে যদি জড়ায়া ধরতো। একটা তোষক না হয় পুড়তো। আমার বাচ্চাগুলো তো বাঁচতো। কত মানুষ সব তাকায়া আছে। কেউ আগায়না”।
-
“পরে নীচে নেমে, কাপড় তো পুড়ে গেলো। নীচে ছিলো ছালার চট। টাইনা গায়ে দিছি। কত মানুষ, সবাই তাকায়া আছে, কেউ আগায়না”।
-“বলছি আমি মহিলা একটা চাদর দেন। কেউ দেয়না। বিল্ডিং এর মহিলারা কেউ দেয়না... আল্লাহ মাফ করুক সবাইকে”।
-“পরে নীচে নেমে চিৎকার দিয়ে দারোয়ানকে বললাম আমার দু ছেলে ওপরে আটকা পড়ছে, আপনারা তাড়াতাড়ি যান। তারা যেতে যেতে শালীন পুড়ে গেছে”।
-“শার্লিন পুড়েছে বেশি, গায়ে পা থকথক হয়ে গেছে। শার্লিন বলে আমি তো বাঁচবোনা আমাকে মাফ করে দিয়ো আম্মু। আমি বলি বাবা তুই বাঁচিস, আমি মইরা যাই। মানুষ এরকম হয়। একি খারাপ না? কেউ কাউরে একটু সাহায্য করেনা। এটা কি কথা”?
উপরের লাইনগুলো সদ্য আগুনে পুড়ে স্বামী সন্তান হারানো মহিলার কথাবার্তা।
অভিজিৎ রায়কে কুপিয়ে ফেলে রেখে গেল টি এস স্যার হাজার হাজার লোকের মধ্যে। এরকম দেখেছিলাম। কেউ এগিয়ে আসেনি। ছবি দেখছিলাম সে রাতেই। রক্তাক্ত বন্যা সাহায্য চাইছেন। কেউ এগিয়ে আসেনি। বিশ্বজিৎ কে কুপিয়ে মারা হয়েছিল প্রকাশ্যে। কেউ এগিয়ে আসেনি।
বিক্ষিপ্ত মস্তিষ্কে পোষ্ট দিলাম। বানানে ভূল থাকতে পারে।
যারা পোষ্ট দেখছেন তাদের সবার বিবেকের কাছে প্রশ্ন রেখে গেলাম। কি করতেন আপনি ঘটনাস্থলে থাকলে?
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা মার্চ, ২০১৬ রাত ২:২২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



