সোয়স ইউনিভার্সিটিতে শেখ হাসিনা।
৯ মাসে যদি একটি দেশের স্বাধীনতা অর্জন সম্ভব হয় তাহলে কেন একটি দেশের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্পন্ন করতে ১৮ মাস সময় লাগবে? তাছারা তত্বাবধায়ক সরকারের ১২০ দিনের মেয়াদ উত্তীর্ন হয়ে গেছে ১২ এপ্রিল , এখন দেশে একটি অর্নিবাচিত এবং অসাংবিধানিক সরকার বিরাজ করছে। নির্বাচিত সরকার ব্যতিত কোন দেশেই গনতন্্র কায়েম সম্ভব নয় । তাই অনতিবিলম্বে বর্তমান সরকারকে রোড ম্যাপ দিতে হবে, কবে এবং কিভাবে তারা নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্পন্ন করবেন বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামীলীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা। তিনি আরো বলেন
কোন কোন সংবিধান বিশেষজ্ঞ মনে করেন রোজ কেয়ামত পর্যন্ত জরুরী অবস্থা চলতে পারে, কিন্তু সংবিধানের ১২৩ ধারা অনুযায়ী জরুরী অবস্থা চলতে পারে ৯০ দিন। তাই তত্বাবধায়ক সরকারকে স্পষ্ট করতে হবে কতদিন এভাবে চলবে বুধবার সোয়াস ইউনিভার্সিটিতে আয়োজিত সেমিনারে বক্তৃতা কালে এমন মন্তব্য করেন শেখ হাসিনা ।
আওয়ামীলীগের সভানেত্রী বলেন, তত্বাবধায়ক সরকার তাদের দেয়া প্রতিশ্র“তি অনুযায়ী ভোটার তালিকা প্রনোয়নের কাজ শুরুকরতে ব্যর্থ হয়েছেন, সেই সাথে ব্যর্থ হয়েছেন বিচার ব্যাবস্থাকে স্বাধীন করতে। তাই জন মনে সন্দেহ জাগছে তারা আদৌ কতটুকু দেশের হয়ে কাজ করছেন! কারো কারো ব্যক্তি গত লোভ লালসা কখনো কখোনো একটি দেশের জন্য তির কারন হয়ে দ্বাড়ায় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
সোয়াস ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর এথনিক মাইনরিটি স্টাডিজের উদ্যোগে আয়োজিত সেমিনারের মূল আলোচ্য বিষয় ছিলো বাংলাদেশের গনতন্ত্র এবং মানবাধিকার।আলোচনায় জেরমি করবিন এমপি বলেন , যদি কোন ব্যাক্তির বিরুদ্ধে মামলা থাকে তাহলে একই সময়ে যদি ঐব্যক্তিকে দেশে প্রবেশের ব্যপারে সরকার নিষেধাজ্ঞা প্রদান করে তাহলে বুঝতে হবে সেখানে কোন কিন্তু আছে। তাই শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরতে বাধা দিয়ে তত্বাবধায় সরকার প্রমান করেছে এটি উদ্দেশ্য মূলক এবং এর পিছনে একটি পরিকল্পনা কাজ করছে। এ্যমনেষ্টি ইন্টার ন্যশনালের আব্বাস ফয়েজ বলেন বাংলাদেশে বিগত সরকারের আমলে বিচার বর্হিভুত হত্য কান্ডের বহু প্রমান তাদের কাছে আছে। এবং ২০০৫ সনে প্রকাশিত প্রতিবেদনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন বাংলাদেশে নির্বাচনের পর ৮/৯ বছরের শিশুদের উপর নির্যাতন চালালোর তথ্য তার দপ্তরে রয়েছে।তিনি আরো বলেন বিএনপি এবং আওয়ামীলীগ উভয়ের শাসনামলে রাজনৈতিক দলের নেতারা মতার অপব্যবহার করে স্বজনপ্রীতি করে বিচার ব্যবস্থাকে কলুষিত করেছে, এতে করে সাধারন মানুষ আইনের শাষন থেকে বঞ্চিত হয়েছে।তাই বিচার বিভাগ হতে রাজনৈতিক হস্তপে কমালে মানবাধিকার অর্জনের পথ পরিস্কার হয়। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ সংগঠনের চারু লতা বলেন বর্তমান সময়ে মিডিয়া একটি কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে দিন যাপন করছে। দেশের অসংখ্য সাংবাদিক , সম্পাদক অহেতুক টেলিফোন হুমকির শিকার হচ্ছেন। এবং সামারিক বাহিনীর বিরুদ্ধে কোন সংবাদ প্রকাশ নাকরার ব্যপারেও নিষেধাজ্ঞা আসছে। যেটি একটি গনতান্ত্রিক দেশে মেনে নেয়া যায়না।
প্রফেসর ওয়ের্নার ম্যানাস্কির পরিচালনায় সেমিনার শেষে শেখ হাসিনা প্রায় একঘন্টা যাবৎ সরাসরি প্রশ্নেত্তোর পর্বে অংশ নেন। তিনি বলেন সংস্কার প্রশ্নে তার দল যথেষ্ট আগ্রহী তবে সংস্কার শব্দ টির সংজ্ঞা নিয়ে তিনি সন্দিহান , কোথায় সংস্কার কার সংস্কার কিভাবে সংস্কার বিষয় গুলো সরকাকে স্পষ্ট করতে হবে। বিএনপির উদাহরন দিয়ে তিনি বলেন আমরা কাউকে কলমের খোঁচায় মহাসচিব বানাইনি। আমার বোন শেখ রেহানাকে পারলে আমি পার্টির পদ দিয়ে দিতে পারতাম কিন্তু আমরা তা করি নাই। আমরা নেতা নির্বাচন করি কাউন্সিলের মাধ্যমে।
আগামী ৭ মে শেখ হাসিনা এমিরাত এয়ার লাইন্সের একটি বিমান যোগে ঢাকা পৌছাবেন। তবে নিরাপত্তার কারনে দলের নেতা কর্মীর এখন ফাইট নম্বর নিশ্চিত করে বলছেননা। দেশে ফিরে গেলে আপনাকে যদি গ্রেফতার করা হয় তাহলে আপনি কি করবেন এমন প্রশ্ন করলে শেখ হাসিনা বলেন আমি দেশের মানুষের কাছে ফিরতে পারছি এটাই আমার বড় পাওয়া, দেশের মানুষের জন্য যদি আমাকে জেলে যেতে হয় তাহলেও আমি প্রস্তুত আছি।
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই মে, ২০০৭ রাত ১১:৩২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


