somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নোয়াখালী কলেজে এক সন্ধ্যা

১৩ ই আগস্ট, ২০১৮ রাত ২:৫৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অনেক দিন লেখা হয় না। লেখে কি হবে ? পরিবর্তন হবে ? তা ঠিক না জানলেও একটা আক্ষেপ প্রকাশ ছাড়া লেখুনিটা কিছুই নয়। কারণ বর্তমান তথ্য প্রযুক্তির যুগে কাউকে নতুন কিছু জানানোর নেই। আছে শুধু সর্বশেষ ঘটনা বলার প্রতিযোগিতা। প্রযুক্তির দিক থেকে বিশ্ব এগিয়ে যাচ্ছে। দক্ষিণ এশিয়া আগের গৌরব, প্রাচুর্য্য ফিরে পেতে চলেছে। বিশ্ব রাজনীতিতে উলট পালট হচ্ছে। সে সব বড় মানুষের বড় চিন্তার কথা।


ছবি সূত্র: কলেজ ওয়েবসাইট

আমি গত মঙ্গলবার (০৯ মে ২০১৭) বিশেষ কাজে নোয়াখালী গিয়েছিলাম ঢাকা থেকে। উদ্দেশ্য বাড়ি যাব। সন্ধ্যায় পৌঁছালাম জেলা শহর মাইজদিতে। তখন গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছিল। খুব ইচ্ছে করছিল নোয়াখালী সরকারি কলেজে যেতে। জানি কেউ নেই। আছে শুধু শূন্য একটা মাঠ আর দরজায় খিল দেয়া কতগুলো ভবন। সন্ধ্যার পর না থাকারই কথা। কিন্তু সেখানে আমি দেখেছি ভিন্ন কিছুর ছাপ। অবাক হয়েছি। তবে উচিৎ হয়নি অবাক হওয়া। কারণ সমাজ এখন এমন একটি জায়গায় দাঁড়ানো যেখান থেকে ফিরে আসার পথ আমরাই রুদ্ধ করে দিচ্ছি। প্রতিদিন প্রতি মুহুর্তে। আমরা নিজের প্রতিই অবিচার করি সব থেকে বেশি।

এইত সেদিন ২০১১ সালের কথা। কলেজের পুকুরে গোসল করা, মাঠে ফুটবল খেলা, ক্রিকেট খেলা, মারামারি, আড্ডা, দৌড়ছুট কতকি। কখনো মাঠের এক কোনে বসে থাকা আবার কখনো গাছে উঠে বেসুরো গলায় গান গাওয়া। কি ছেলে কি মেয়ে। সবাই যেন ক্লাসের মাঝে অথবা অবসরে হারিয়ে যেতাম এক অনন্যতায়। আর এসবের ছাপ পড়ে থাকতো মাঠের আনাছে কানেছে। ঘাসের মাঝে। মাঠের ‍বুকে। ভবনগুলোর দেয়ালে দেয়ালে। গাছগুলোর ঢালে ঢালে।



কিন্তু এদিন আমি সেখানে এসবের কিছুই দেখিনি। কলেজের সামনে গিয়েই বন্ধু সালা উদ্দিনকে আমার ফোন। ও বাসায় আছে ভাবিনি। ভেবেছিলাম হয়তবা ঢাকায়। কিন্তু না তাকে পেয়ে গেলাম। এবার জনমানব শূন্য এই কলেজ এলাকেতে ঘুরছিলাম আর অবাক হচ্ছিলাম। আমরা যা করেছি মাত্র ৪-৫ বছরের ব্যবধানে সেখানে এসবের কোন চিহ্নই নেই। এখনকার ছেলে মেয়েরা করে কি? এখনকার ছেলে-মেয়েরা এসব করেই না ! কারণ এখন ইন্টারনেট ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করেছে। এখন মোবাইল গেম, ফেসবুক, ইউটিউব ইত্যাদির ব্যপক চাহিদা। এসবরে কণ্যানে একটি ইন্ট্রোভাট (অন্তর্মুখী) জাতি তৈরি হচ্ছে। সমাজের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে ভাবার সময় এখন তরুণদের হাতে খুব একটা নেই। ভার্সুয়ার আড্ডায় সময় কাটে। প্রেমও হয় এখন ভার্সুয়াল জগতে। আর তাতে প্রতারণা, আর অপরাধ প্ররবণতাও নেহাত কম নয়।

আগের কার দিনে (৪-৫ বছর আগেও) কলেজ মাঠে বৃষ্টির পানিতে ফুটবল, কাবাডি খেলা হত। তখন কাদায় হাঁটা দায় হতো। আর এখন হাটু পরিমান লম্বা ঘাস। এখন কেউ খেলা ধুলা করেনা এমনই দৃশ্যপট। নিখাঁদ কাঁচ আর রঙ্গিন মশৃণ ভবনগুলো। দেয়ালগুলোতে নেই ছুটে এসে পড়া কোন ফুটবলের দাগ। অথবা ক্রিকেটের ছয় হওয়া বলের আঘাতে ভেঙ্গে যাওয়া কাছের চিহ্ন।

তবে তরুণরা ইন্ডোর গেমের প্রতি বেশি আকৃষ্ট হয়ে যাওয়া কখনোই ভালো খবর নয়। কারণ সেখানে জুয়ার সম্ভাবনা খুবই বেশি থাকে। যা সমাজের আরেক অসুখ বিহেবে বিবেচিত। রাত বিরাত কার্ড খেলার সময় জমে ণেশার আসরও। ভার্সুয়াল গেমে বা আড্ডাটাও আমি খুব ক্ষতিকর হিসেবেই দেখি। কারণ এসবের কারণে সমাজের কাছের মানুষগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ খুব একটা হয় না। যেটি সমাজ গঠনে বিপরিত ভূমিকা রাখে।

এমন দৃশ্যের জন্য শুধু তরুণদের দায়ি করলে চলবে না। একটা সময় এই তরুণরা ধোকা খেতে খেতে ভালো পথ ছেড়ে দিয়েছে। কারণ খেলার মাঠে মারামারিকে কেন্দ্র করে মার্ডার হতেও দেখেছি। বড় ঘটনা হয়ে যাচ্ছে হর হামেশেই। তাই হয়ত অনেকের এখন অনিহা। আবার টুর্নামেন্টগুলোতে স্বজন প্রীতি করে দল হারানো ইত্যাদি সমস্যা তরুণদের ভিষণ অনিহার কারণ। রয়েছে বর্তমানে ক্রিকেট এবং বিশেষ করে ফুটবলের প্রতি অনিহা। অন্যদিকে মাঠ সমস্যা ত রয়েছেই।



আবার এক শ্রেণির অভিভাবকের মধ্যে এই বাসার বাহিরে যাবানা টাইপের উক্তিই বেশি প্রচলিত। যার জন্য একটি অলস আর নির্দয় জাতি তৈরি হচ্ছে দেশে। তাদের সন্তান আসলে কি করে বড় হবে তা তারা নিজেরাই ঠিক করতে পারেন না। এটা করা যাবে না, ওটা করা যাবে না, এই রোদে যাবা না, মাঠে খেলবা না কত নিয়ম তারা আবিষ্কার করে তার কোন হিসেব নেই। আর এসব নিয়মের সুফল হিসেবে একটা সময় দেখেছি ঐসকল পিতা মাতা সন্তানের সঙ্গে শেষ বয়সে খারাপ সম্পর্কের মাধ্যমে দুনিয়া ছাড়ে।

তাই তরুণ সমাজকে আগের মত প্রাণবন্ত করতে হলে অবশ্যই সমাজ পতিরা ছোট খাট এ বিষয়গুলোর প্রতি নজর দিতে হবে। সবার আগে অভিভাবকদের মাঝে সচেতনতা তৈরি করতে হবে। তারা সন্তানকে কি বলতে শেখাবেন কি করতে শেখাবেন সে বিষয়ে সুস্পষ্ট জ্ঞান তাদের নিজের থাকতে হবে। আপনার সন্তান কোন কাজটা করবে সেটি আপনাকে যেমন জানতে হবে। আবার কেন করবে না তাও ঠিক ভাবে বুঝতে হবে। নইলে জাতির সর্ব নাশ হয়ে যাবে। সমাজে মমত্ববোধ আর সম্মান বোধ থাকবে না। যদিও এখনও খুব একটা নেই বললেই চলে।
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই আগস্ট, ২০১৮ রাত ৩:০০
২টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আপনার একান্ত মুহূর্ত কি লুকানো ক্যামেরায় বন্দি হচ্ছে, জেনে নিন শনাক্তের উপায়

লিখেছেন নতুন নকিব, ২৩ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১:৩৬

আপনার একান্ত মুহূর্ত কি লুকানো ক্যামেরায় বন্দি হচ্ছে, জেনে নিন শনাক্তের উপায়

USB Charger এর ভেতরে লুকানো ক্যামেরার ছবিটি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

ভূমিকা

ভ্রমণ মানেই নতুন জায়গা দেখা, প্রিয়জনের সাথে সময় কাটানো... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের সেই মানুষগুলো কোথায় গেলো

লিখেছেন অর্ক, ২৩ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ২:২৬



স্বাধীনতা পরবর্তী, পচাত্তর পরবর্তী সময়ের ঘটনা। পচাত্তরের পনেরোই আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে নৃশংসভাবে সপরিবারে হত্যা করা হয়েছে। ক্যু হয়েছে দেশে। সামরিক বাহিনীতে সংঘাত। বহু সদস্য হতাহত। জেনারেল জিয়া অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভুটান ও বাক স্বাধীনতা!

লিখেছেন সাহাদাত উদরাজী, ২৩ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ২:৪৪

ভুটানের নাগরিকদের জন্য দেশটির সরকার সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত শিক্ষা নিশ্চিত করেছে, যা দেশটির "গ্রস ন্যাশনাল হ্যাপিনেস" (GNH) দর্শনের মূল ভিত্তি। ভুটানের সাধারণ মানুষ মূলত যে সমস্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঝাঝা

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৩ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:০৬



বর্তমানে জনসংখ্যার বিচারে 'বিহার' ভারতের তৃতীয় বৃহত্তম রাজ্য।
বিহারের রাজধানী পাটনা। বিহার মূলত দরিদ্র অঞ্চল বলা যেতে পারে। এখানে নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় আছে। অনেক পুরাতন বিশ্ববিদ্যালয়। নালন্দা ছিলো মূলত... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশ কি ক্যাশলেস সোসাইটি এর জন্য কি পারফেক্ট?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ২৩ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:৪০



এটা বাংলা কিউ আর কোড। বাংলাদেশ ব্যাংক সকল ব্যাবসায়ীদের বাংলা কিউ আর কোড বাধ্যতামূলক করেছেনভ এটার ভালো দিক ও খারাপ দিক দুইটাই আছে। বাংলাদেশের সিস্টেম, কারিগরি দক্ষতা,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×