somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বিচার করার অধিকার একমাত্র মহান আল্লাহর আপনার নয়।

৩১ শে মার্চ, ২০১৫ দুপুর ১:০৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


ভেবে দেখুন ক্ষমতায় আওয়ামীলীগ। যারা প্রকাশ্যে অন্তত নিজেদের অসাম্প্রদায়িক বলে দাবী করে। ঠিক এই সময়েই এভাবে একের পর এক ব্লগাররা খুন হচ্ছে।
আবার ভাবুন সরকার নির্লিপ্ত না হলেও খুব যে তৎপর তাও মনে হচ্ছে না।
ইসলামের দোহাই দিয়ে খুন করা হচ্ছে অথচ ইসলাম এভাবে খুন করাকে সমর্থন করে এটা যেমন কেউ বলছেন না ঠিক তেমনি এর বিরুদ্ধে কোন ইসলামী দল এবং বিএনপিও সোচ্চার হচ্ছেনা।
ঠাণ্ডা মাথায় ভাবুন আজ ধরা পড়া দুজন বলেছে, ‘ব্লগ কি বুঝি না, আর তার লেখাও আমরা দেখিনি। হুজুরের পরামর্শ, সে ইসলামবিরোধী। তাকে হত্যা করা ঈমানই দায়িত্ব। আর সেই ঈমানই দায়িত্ব পালন করতে ওয়াশিকুরকে হত্যা করেছি’।”
প্রশ্ন হচ্ছে সেই হুজুর তাহলে কে?
আরও একবার ভাবুন টিভি টক শো জুড়ে আজও নির্বাচন ছাড়া কেন আর কিছু নেই। এই হত্যাকাণ্ডগুলি কি তবে গ্রহণযোগ্য?
ভাববার বোধহয় অনেক কিছুই রয়েছে। আমরা কি যেভাবে ভাবা উচিৎ সত্যিই সেভাবে ভাবছি?

ওয়াশিকুর বাবু’র প্রোফাইল পিকচারে এখনো ‘I am Avijit’ লেখা আছে। এটা আর কেউই কখনো পরিবর্তন করবে না। এভাবেই হয়ত সব বাবু’রা মিলে একদিন একটি অভিজিৎ হয়ে যাবে। কিন্তু তারপরে কি হবে?
আমার প্রশ্নটা তাদের কাছে যারা এই হত্যা মিশন চালাচ্ছেন, শিয়া-সুন্নিতে কেন এত বিবাদ, এত হত্যাকাণ্ড? সেই উত্তরটি কি আপনাদের কাছে আছে?
যে নবীজীর (সঃ) অবমাননার দায়ে আপনারা খুন করছেন বলে দাবী করছেন সেই নবীজী কি বুড়ি মা’কে খুন করেছিলেন অথবা তায়েফ বাসিদের?
তাহলে আপনারা আসলে কাঁর অনুসারী?
খুন করে পালিয়ে যাবেন নতুন খুনের ছক কষবেন!
ইসলাম যার হাত ধরে এসেছে তিনি কি এই চোরাগোপ্তা হামলা করেছিলেন বা তার সাহাবী? এমনকি তাঁবেই, তাবেঈন? যাদের পরে মুসলমানদের আর কাউকে অনুসরণের সুযোগই নেই।

পবিত্র কুরআনে সুরা আশ সুরার আয়াত ৫ এ আল্লাহ পাক বলছেন, “যারা আল্লাহ ব্যতীত অপরকে অভিভাবক হিসাবে গ্রহণ করে,আল্লাহ তাদের প্রতি লক্ষ্য রাখেন। আপনার উপর নয় তাদের দায়-দায়িত্ব।”
একই সুরার আয়াত ১৫ এ আল্লাহ পাক বলেন, “সুতরাং আপনি এর প্রতিই দাওয়াত দিন এবং হুকুম অনুযায়ী অবিচল থাকুন; আপনি তাদের খেয়ালখুশী র অনুসরণ করবেন না। বলুন, আল্লাহ যে কিতাব নাযিল করেছেন, আমি তাতে বিশ্বাস স্থাপন করেছি। আমি তোমাদের মধ্যে ন্যায় বিচার করতে আদিষ্ট হয়েছি। আল্লাহ আমাদের পালনকর্তা ও তোমাদের পালনকর্তা। আমাদের জন্যে আমাদের কর্ম এবং তোমাদের জন্যে তোমাদের কর্ম। আমাদের মধ্যে ও তোমাদের মধ্যে বিবাদ নেই। আল্লাহ আমাদেরকে সমবেত করবেন এবং তাঁরই দিকে প্রত্যাবর্তন হবে।”
সুরা আশ সুরার আয়াত ৪৮ এ মহান আল্লাহ বলেন, “যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে আপনাকে আমি তাদের রক্ষক করে পাঠাইনি। আপনার কর্তব্য কেবল প্রচার করা। আমি তাদের রক্ষক করে পাঠাইনি। আপনার কর্তব্য কেবল প্রচার করা। আমি যখন মানুষকে আমার রহমত আস্বাদন করাই, তখন সে উল্লসিত, আর যখন তাদের কৃতকর্মের কারণে তাদের কোন অনিষ্ট ঘটে, তখন মানুষ খুব অকৃতজ্ঞ হয়ে যায়।”
উপরোক্ত আয়াত সমূহের ব্যাখ্যায় আপনারা কি বলবেন? আলোচ্য বিষয়ে সুরা আশ শূরায় মহান আল্লাহ্‌র সুস্পষ্ট নির্দেশনা পাওয়া যায় বলেই মনে করি। কাজেই সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সঠিক জ্ঞানের বিকল্প নেই। প্রয়োজন সঠিক বিচার বিশ্লেষণ।

তবে এটাও ঠিক উদ্ভূত সমস্যা মোকাবেলায় ব্লগ এবং ব্লগার সম্পর্কে যে নেতিবাচক ধারনা তৈরি হয়েছে সর্বাগ্রে তা দুর করাটা বেশী জরুরী। সেইসাথে ব্লগারদেরও অনেক বেশী দায়িত্ববান হওয়া জরুরী বলে মনে করি। কারো বিশ্বাসকে আঘাত করে সাময়িক ফায়দা লাভ করা যেতে পারে। তবে তা কোনভাবেই আপনাকে সামান্যতমও উচ্চতায় নিতে যেতে সক্ষম নয়। আর সে অধিকারও আপনার নেই।

যারা নিজেদের মুক্তমনা বলা মনে করেন তাদের সর্বাগ্রে অন্যের মত ও বিশ্বাসের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করতে হবে। মুক্তমত প্রকাশ মানে যুক্তি তর্ক তুলে ধরা হতে পারে কোনভাবেই অন্যের মতকে ব্যঙ্গ করা নয় এটা মনে রাখা উচিৎ।
মহান আল্লাহ আমাদের বিবেক দিয়েছেন। বিবেচনা বোধ দিয়েছেন। দিয়েছেন পবিত্র কুরআন আর রসুল (সঃ) এর সুন্নাহ। আমরা যেন আগে পরিপূর্ণভাবে জানার চেষ্টা করি তারপরে মতামত ব্যক্ত করি।

ঠিক একইভাবে বলব ‘ব্লগ কি বুঝি না, আর তার লেখাও আমরা দেখিনি। হুজুরের পরামর্শ, সে ইসলামবিরোধী। তাকে হত্যা করা ঈমানই দায়িত্ব। আর সেই ঈমানই দায়িত্ব পালন করতে ওয়াশিকুরকে হত্যা করেছি’।” এটা কোন সুস্থ মস্তিষ্কের মানুষের কথা হতে পারে না। আপনি যাকে নাস্তিক বলে মনে করছেন আসলেই তিনি কি তাই? আপনি তো তাও জানেন না। তিনি কতটুকু ইসলামের আলোর সংস্পর্শে আসার সুযোগ লাভ করেছেন বা আপনিই কি তাকে শোধরানোর চেষ্টা করেছিলেন?
সব কিছুর পড়েও তার বিচার করার অধিকার একমাত্র মহান আল্লাহর আপনার নয়।

ইসলামের কোথায় আছে ইসলামের বিরুদ্ধে কথা বললেই তাকে খুন কর। যারা এই কাজগুলো করছে তারা এ পর্যন্ত কজন মানুষের কাছে ইসলামের আদর্শ পৌঁছে দিয়েছে? তারা নিজেরাই কি ইসলামী আদর্শে আলোকিত? মহানবী (সঃ) ইসলাম বিরোধী কথা বলায় কজন মানুষ খুন করেছেন?

এই হত্যাকারীরা এই সব হত্যাকাণ্ডের সাথে সাথে একটু একটু করে যে ইসলামকেও খুন করছে তা কি তারা জানে? যদিও ইসলামের হেফাজত আল্লাহ নিজেই করবেন তথাপি এরা ইসলামের শান্তি বাদী রূপটিকে ক্রমশই ভয়ঙ্কর জঙ্গিবাদে পরিণত করছ।

এই যে ধারা এ দেশে শুরু হয়েছে সহসা এর থেকে নিস্তার মিলবে না সে কথা সেদিনই বলেছিলাম যেদিন হেফাজতের আমীর তার অনুসারীদের হাতে “ব্লগারদের ফাঁসি চাই” লেখা প্ল্যাকার্ড তুলে দিয়েছিলেন।

ব্যবহার শেখানোর পূর্বেই হাতে মারণাস্ত্র তুলে দেবেন আর পরে তা প্রতিরোধে নামবেন। এসব নাটক ছেড়ে সঠিক কাজটি করুন।

খুঁজে বার করুন ছেলেদেরকে কারা এসব তত্ত্ব শেখাচ্ছে। তাদের উদ্দেশ্যই বা কি? প্রথমে তাদের ধরুন তারপরে এই ছেলেদের সঠিক জ্ঞান দানের ব্যবস্থা করুন। নয়ত এই বিষবৃক্ষ একদিন সব জ্বালিয়ে পুড়িয়ে সব ছাই করে দিবে!

[email protected]
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে মার্চ, ২০১৫ বিকাল ৩:৩৫
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দেয়ালের ছবি আর বই এর পাতায় আধিপত্য দেখে ! অথচ বন্দর আর কড়িডোরের অসম চুক্তিতে সব শিয়ালের এক রা॥

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৭:১২


দেশ বিক্রির পরীক্ষিত ঠিকাদার....



দেয়ালের ছবি দেখলেই ভারতীয় আধিপত্য, আর বন্দর বেচে দিলে নীরবতা কেন?

দেয়ালে একটা ছবি আঁকা দেখলেই যাদের মুখে ফেনা উঠে যায় - "বাংলাদেশ... ...বাকিটুকু পড়ুন

মার্কিন সেনা কর্মকর্তা কর্মকর্তার মেজর নিদাল্ল হাসানের মৃত্যুদণ্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:৩২



নিদাল হাসান (পুরো নাম: নিদাল মালিক হাসান) হলেন মার্কিন সামরিক বাহিনীর একজন সাবেক মেজর এবং মনোরোগ বিশেষজ্ঞ (Psychiatrist)।

২০০৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের ফোর্ট হুড সামরিক ঘাঁটিতে সংগঠিত এক... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপার ফিরে আসার পদ্ধতি কি?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৩



আপা কেন ভারতে বেড়াতে গেলেন সেটা সবাই জানে। আগামী ডিসেম্বরে আপা দেশে ফিরে আসার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন সেটাও সবাই জানে। আপা কিভাবে দেশ থেকে রাষ্ট্রীয় সফরে ভারতে গেলেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কি আসলেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:৪৪



“রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন “, “মূর্খের দেশে আবার কীসের বিশ্ববিদ্যালয়” – এসব প্রচারণা আমাদের দেশে অনেকদিন ধরেই হয়ে আসছে। বিশেষ করে ফেসবুকে আকছারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১ঃ নদী-নালায় ভেসে থাকা স্বদেশের কান্নাঃ শহীদদের প্রতি নিবেদিত একটি কাব্যগাথা জাতির রক্ত, অশ্রু ও স্বাধীনতার অমর ইতিহাস

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:০৫


পঁচিশে মার্চ ১৯৭১
রাত্রি তখন গভীর, নগরীর বাতিগুলো
যেন অনাগত বিপদের সামনে অসহায়
ঢাকার আকাশে হঠাৎ গর্জে উঠল কামান
ট্যাংকের চাকার নিচে কেঁপে উঠল রাজপথ
গুলি ছুটে গেল মানুষের ঘুমন্ত জানালায়
আগুন ছড়িয়ে পড়ল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×